ঢাকা ০৬:২৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ডিমলায় ভারতীয় পণ্য জব্দ, পালিয়ে গেল চোরাকারবারিরা সাপাহারে মাদ্রাসার নিয়োগ বাণিজ্য ও অনিয়মের অভিযোগ ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনে ছয় প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ, ভোট ২৯ অক্টোবর বাবার ধার করা টাকা আর প্রত্যাখ্যান পেরিয়ে সাফল্যের চূড়ায় গোবিপ্রবিতে ১৯ প্রভাষক নিয়োগ, বেতন ৪৪ হাজার টাকা নির্মাণ চুক্তিভঙ্গের দায়ে কোম্পানিকে ১২ লাখ রিয়াল পরিশোধের নির্দেশ পাবনায় নকল দুধ উৎপাদন: গৃহবধূকে এক লাখ টাকা জরিমানা দুর্গাপূজায় সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য টানা পাঁচ দিনের ছুটি একনেকে ১৫ হাজার ৮২৩ কোটি টাকার ১৩ প্রকল্প অনুমোদন গাজায় ইসরায়েলকে অস্ত্রের যন্ত্রাংশ সরবরাহ ভারতের: প্রতিবেদন

কওমি ধারার সাত দলকে এক করার উদ্যোগ হেফাজতে ইসলামের

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১০:১২:১৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬ ২১ বার পড়া হয়েছে
(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

দীর্ঘদিন ধরে বিভক্ত থাকা কওমি ধারার ইসলামি রাজনৈতিক দলগুলোকে এক ছাতার নিচে আনার নতুন উদ্যোগ নিয়েছে অরাজনৈতিক সংগঠন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। সাম্প্রতিক জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াত, বিএনপি ও স্বতন্ত্র—এই তিন ধারায় দলগুলোর বিভক্তি মাদ্রাসা পরিচালনা, সাংগঠনিক সম্পর্ক এবং আলেম-ওলামাদের পারস্পরিক অবস্থানে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে বলে মনে করছে হেফাজতের শীর্ষ নেতৃত্ব। এই বাস্তবতায় সাতটি নিবন্ধিত ইসলামি দলকে নিয়ে একটি অভিন্ন প্ল্যাটফর্ম গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির জামেয়া আজিজুল উলুম বাবুনগর মাদ্রাসায় হেফাজতের আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় এই ঐকমত্য তৈরি হয়। সভায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি, খেলাফত আন্দোলন এবং ইসলামী ঐক্যজোটের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

বৈঠক সূত্র জানায়, প্রতিটি দলকে আগামী আগস্টের শুরুতে নিজ নিজ ফোরামে আলোচনা করে লিখিত প্রস্তাব জমা দিতে বলা হয়েছে। হেফাজতের লক্ষ্য আপাতত নতুন কোনো দল গঠন নয়, বরং সমন্বিত অবস্থান তৈরি করা। হেফাজতের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মীর ইদ্রিস জানান, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ভিন্ন ভিন্ন রাজনৈতিক বলয়ে চলে যাওয়ায় যে কাদা ছোড়াছুড়ির পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তা নিরসনে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের অভিজ্ঞতায় দেখা যায়, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, খেলাফত মজলিস ও বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি জামায়াতের নেতৃত্বাধীন জোটের সঙ্গে, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটের সঙ্গে এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এককভাবে নির্বাচনে অংশ নেয়। হেফাজতের নেতাদের দাবি, নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন দলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে প্রকাশ্যে মতবিরোধ ও মাদ্রাসাকেন্দ্রিক বিরোধ বেড়ে যাওয়ায় কওমি অঙ্গনের ঐক্য দুর্বল হয়েছে।

বৈঠকে রাজনৈতিক জোট নিয়ে খোলামেলা আলোচনা হয়েছে। জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের পক্ষ থেকে জামায়াতের বলয় থেকে বেরিয়ে আসার প্রস্তাব দেওয়া হলে, অন্য দলগুলো জমিয়তকেও বিএনপির বলয় থেকে বেরিয়ে আসার শর্ত দেয়। যদিও নেতারা এটিকে আল্টিমেটাম বলতে রাজি নন, তবে হেফাজত-সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের মতে, অভিন্ন প্ল্যাটফর্ম কার্যকর করতে হলে বিদ্যমান রাজনৈতিক জোট থেকে দলগুলোকে বেরিয়ে আসতে হবে।

জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মহাসচিব মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী জানান, সাতটি দল ঐক্যবদ্ধভাবে থাকার বিষয়ে একমত হয়েছে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান জানান, দলগুলোর আকিদা-বিশ্বাসে মিল থাকায় ঐক্যের ভিত্তি তৈরি সম্ভব। তবে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক ও খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমির আহমদ আলী কাসেমী জানান, এখন পর্যন্ত নতুন জোটের কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম জানান, জামায়াত সব সময় অন্য ইসলামি দলগুলোকে সম্মানের দৃষ্টিতে দেখে এবং যে কোনো নতুন জোটের উদ্যোগকে তারা স্বাগত জানাবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দলগুলোর ভিন্ন ভিন্ন সাংগঠনিক স্বার্থ ও কৌশলের কারণে সবাইকে এক প্ল্যাটফর্মে আনা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তবে হেফাজতের এই উদ্যোগ কওমি রাজনীতির সমীকরণে নতুন বাস্তবতার জন্ম দিতে পারে কি না, তা আগস্টের বৈঠকের পর স্পষ্ট হবে।

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

কওমি ধারার সাত দলকে এক করার উদ্যোগ হেফাজতে ইসলামের

আপডেট সময় : ১০:১২:১৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬

দীর্ঘদিন ধরে বিভক্ত থাকা কওমি ধারার ইসলামি রাজনৈতিক দলগুলোকে এক ছাতার নিচে আনার নতুন উদ্যোগ নিয়েছে অরাজনৈতিক সংগঠন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। সাম্প্রতিক জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াত, বিএনপি ও স্বতন্ত্র—এই তিন ধারায় দলগুলোর বিভক্তি মাদ্রাসা পরিচালনা, সাংগঠনিক সম্পর্ক এবং আলেম-ওলামাদের পারস্পরিক অবস্থানে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে বলে মনে করছে হেফাজতের শীর্ষ নেতৃত্ব। এই বাস্তবতায় সাতটি নিবন্ধিত ইসলামি দলকে নিয়ে একটি অভিন্ন প্ল্যাটফর্ম গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির জামেয়া আজিজুল উলুম বাবুনগর মাদ্রাসায় হেফাজতের আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় এই ঐকমত্য তৈরি হয়। সভায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি, খেলাফত আন্দোলন এবং ইসলামী ঐক্যজোটের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

বৈঠক সূত্র জানায়, প্রতিটি দলকে আগামী আগস্টের শুরুতে নিজ নিজ ফোরামে আলোচনা করে লিখিত প্রস্তাব জমা দিতে বলা হয়েছে। হেফাজতের লক্ষ্য আপাতত নতুন কোনো দল গঠন নয়, বরং সমন্বিত অবস্থান তৈরি করা। হেফাজতের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মীর ইদ্রিস জানান, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ভিন্ন ভিন্ন রাজনৈতিক বলয়ে চলে যাওয়ায় যে কাদা ছোড়াছুড়ির পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তা নিরসনে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের অভিজ্ঞতায় দেখা যায়, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, খেলাফত মজলিস ও বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি জামায়াতের নেতৃত্বাধীন জোটের সঙ্গে, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটের সঙ্গে এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এককভাবে নির্বাচনে অংশ নেয়। হেফাজতের নেতাদের দাবি, নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন দলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে প্রকাশ্যে মতবিরোধ ও মাদ্রাসাকেন্দ্রিক বিরোধ বেড়ে যাওয়ায় কওমি অঙ্গনের ঐক্য দুর্বল হয়েছে।

বৈঠকে রাজনৈতিক জোট নিয়ে খোলামেলা আলোচনা হয়েছে। জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের পক্ষ থেকে জামায়াতের বলয় থেকে বেরিয়ে আসার প্রস্তাব দেওয়া হলে, অন্য দলগুলো জমিয়তকেও বিএনপির বলয় থেকে বেরিয়ে আসার শর্ত দেয়। যদিও নেতারা এটিকে আল্টিমেটাম বলতে রাজি নন, তবে হেফাজত-সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের মতে, অভিন্ন প্ল্যাটফর্ম কার্যকর করতে হলে বিদ্যমান রাজনৈতিক জোট থেকে দলগুলোকে বেরিয়ে আসতে হবে।

জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মহাসচিব মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী জানান, সাতটি দল ঐক্যবদ্ধভাবে থাকার বিষয়ে একমত হয়েছে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান জানান, দলগুলোর আকিদা-বিশ্বাসে মিল থাকায় ঐক্যের ভিত্তি তৈরি সম্ভব। তবে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক ও খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমির আহমদ আলী কাসেমী জানান, এখন পর্যন্ত নতুন জোটের কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম জানান, জামায়াত সব সময় অন্য ইসলামি দলগুলোকে সম্মানের দৃষ্টিতে দেখে এবং যে কোনো নতুন জোটের উদ্যোগকে তারা স্বাগত জানাবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দলগুলোর ভিন্ন ভিন্ন সাংগঠনিক স্বার্থ ও কৌশলের কারণে সবাইকে এক প্ল্যাটফর্মে আনা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তবে হেফাজতের এই উদ্যোগ কওমি রাজনীতির সমীকরণে নতুন বাস্তবতার জন্ম দিতে পারে কি না, তা আগস্টের বৈঠকের পর স্পষ্ট হবে।

Facebook Comments Box