কল্যাণীয়া (টিএস-৭২)সরিষা চাষ পদ্ধতি : দৈনিক সৃষ্টি নিউজ
  1. admin@sristy.net : admin :
 কল্যাণীয়া (টিএস-৭২)সরিষা চাষ পদ্ধতি : দৈনিক সৃষ্টি নিউজ
শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ০৩:২৭ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
পটিয়ায় কলা চুরির প্রতিবাদে মুন্সি সমিতির নেতাকে পিটিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তার ১ ভূরুঙ্গামারীতে মাদকবিরোধী ক্যাম্পেইনে মাদক কারবারির হামলায় আহত ১ ১ আগস্ট ২০২৬ শনিবার; আজকের রাশিফল: জেনেনিন কেমন কাটবে দিনটি ১ আগস্টের আবহাওয়া: দেশের অধিকাংশ অঞ্চলে বৃষ্টি, কোথাও হতে পারে ভারী বর্ষণ আজ শনিবার ১ আগষ্ট ২০২৬: আজকের নামাজের সময়সুচী শুভ সকাল; আজ শনিবার ১ আগষ্ট ২০২৬: আজকের পূর্ণাঙ্গ পঞ্জিকা আজ ১ আগস্ট: আজকের দিনে ঘটে যাওয়া ঐতিহাসিক ঘটনাপঞ্জি কাউনিয়ায় ১৫০ পিস ইয়াবা ও নগদ টাকাসহ ২ মাদক কারবারি গ্রেফতার ভূরুঙ্গামারীতে দক্ষতা উন্নয়ন ওয়ার্কশপ অনুষ্ঠিত মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির দাবিতে ভূরুঙ্গামারীতে মানববন্ধন

 কল্যাণীয়া (টিএস-৭২)সরিষা চাষ পদ্ধতি

সৃষ্টি কৃষি ডেস্ক
  • প্রকাশিত : বৃহস্পতিবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২২
 কল্যাণীয়া (টিএস-৭২)সরিষা চাষ পদ্ধতি

 কল্যাণীয়া (টিএস-৭২)সরিষা চাষ পদ্ধতি

 

 কল্যাণীয়া (টিএস-৭২)   সরিষা : সরিষা বাংলাদেশের প্রধান ভোজ্য তেল ফসল। বর্তমানে প্রায় সাড়ে ৩ লক্ষ হেক্টর জমিতে এর চাষাবাদ করা হয় এবং প্রায় আড়াই লক্ষ টন তেল পাওয়া যায়।

বিভিন্ন জাতরে সরিষার বীজে প্রায় ৪০-৪৪% তেল থাকে। খৈলে প্রায় ৪০% আমিষ থাকে। তাই খৈল গরু ও মহিষের জন্য খুব পুষ্টিকর খাদ্য।

বাংলাদেশে ৩ প্রকার সরিষার চাষ বেশি করা হয়। এ গুলো হলো-টরি, শ্বেত ও রাই। এখন  কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহার করে নতুন নতুন সরিষার জাত বের করা হয়েছে।

এসব নতুন জাত গুলোর আগের জাত গুলোর তুলনায় ফলন বেশি এবং রোগ বালাই সহনশীল।

বৈশিষ্ঠ্য:

বীজ গোলাকার।প্রতি হাজার বীজের ওজন ২.৫-৩.০ গ্রাম। বীজে তেলের পরিমাণ ৪০-৪২%। ফসল পাকতে ৭৫-৮৫ দিন সময় লাগে।

উন্নত পদ্ধতিতে চাষ করলে প্রতি হেক্টরে ১.৪৫-১.৬৫ টন ফলন পাওয়া যায়। কল্যাণীয়া জাতটি স্বল্প মেয়াদী উচ্চ ফলনশীল আগাম জাত।

বপন পদ্ধতি:

সরিষা বীজ সাধারণত ছিটিয়ে বপন করা হয়। লাইন করে বুনলে সার, সেচ ও নিড়ানী দিতে সুবিধা হয়। লাইন থেকে লাইনের দূরত্ব ১ ফুট রাখতে হয়। বপনের সময় জমিতে প্রয়োজনীয় রস থাকা দরকার।

 

বপনের সময়:

বিভিন্ন অঞ্চলের তারতম্য এবং জমির জো অবস্থা অনুযায়ী টরি-৭, কল্যাণীয়া, সোনালী সরিষা, বারি সরিষা-৬, বারি সরিষা-৭ ও বারি সরিষা-৮ এর বীজ মধ্য আশ্বিন থেকে মধ্য কার্তিক মাস পর্যন্ত বোনা যায়।

 

রাই-৫ এবং দৌলত কার্তিক থেকে অগ্রহায়ণ মাস পর্যন্ত বপন করা যেতে পারে।

নিড়ানী দেয়া:

বীজ বপনের ১৫-২০ দিন পর একবার এবং ফুল আসার সময় দ্বিতীয়বার নিড়ানি দিতে হয়।

 

সেচ প্রয়োগ:

বীজ বপনের ২৫-৩০ দিনের মধ্যে (গাছে ফুল আসার সময়) প্রথম সেচ এবঙ ৫০-৫৫ দিসের মধ্যে (ফল ধরার সময়) দ্বিতীয় সেচ দিতে হবে।

বপনের সময় মাটিতে রস কম থাকলে চারা গজানোর ১০-১৫ দিনের মধ্যে একটি হালকা সেচ দিতে হয়।

 

সারের পরিমান (প্রতি শতকে):

মাটি এ মাটিতে রসের তারতম্য অনুসারে সার দিতে হয়। সারের পরিমান নিম্নরুপ)

ইউরিয়া -১১০০ গ্রাম; টিএসপি=৬২৫গ্রাম, এমওপি- ৩২৫ গ্রাম; জিপসাম- ৬২৫ গ্রাম।জিংক সালফেট- ১৫ গ্রাম; বোরাক্স/বরিক এসিড- ২৫ গ্রাম; পচা গোবর- ১৫ টন।

 

ইউরিয়া সার অর্ধেক ও অন্যান্য সমুদয় সার বপনের আগে এবং ১ বাকি অর্ধেক ইউরিয়া গাছে ফুল আসার সময় উপরি প্রয়োগ করতে হয়। সার উপরি প্রয়োগের সময় মাটিতে রস থাকা দরকার।

সরিষার জাব পোকা :

লক্ষণ: পূর্ণবয়স্ক ও বাচ্চা পোকা উভয়ই সরিষার পাতা, কান্ড, ফুল ও ফল হতে রস শোষণ করে। আক্রমণের মাত্রা বেশি হলে ফুল ও ফলের বৃদ্ধি বাধাপ্রাপ্ত হয় এবং পাতা কুঁকড়ে যায়।

 

জাব পোকা এক ধরনের রস নিঃসরণ করে, ফলে তাতে সুটিমোল্ড ছত্রাক জন্মে এবং আক্রান্ত অংশ কালো দেখায়।

এজন্য ফল ঠিকমত বাড়তে পারে না, বীজ আকারে ছোট হয়। বীজে তেলের পরিমাণ কমে যায়। ফল ধারণ অবস্থায় বা তার আগে আক্রমণ হলে এবং প্রতিকার ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে সম্পূর্ণ ফসল নষ্ট হওয়ার আশংকা থাকে।

 

প্রতিকার:

১. আগাম চাষ আশ্বিনের শেষ ভাগ ও মধ্য-কার্তিক (অক্টোবর) অর্থাৎ আগাম সরিষা বপন করলে জাব পোকার আক্রমণের আশংকা কম থাকে।

২. প্রতি গাছে ৫০ টির বেশি পোকা থাকলে ম্যালাথিয়ন-৫৭ ইসি বা সুমিথিয়ন-৫৭ ইসি বা ফলিথিয়ন-৫৭ ইসি বা একোথিয়ন-৫৭ ইসি ডায়াজিনন ৬০ ইসি প্রতি লিটার পানিতে ২ মিলি হারে মিশিয়ে বিকালে সেপ্র করতে হবে।

 

সরিষার পাতা ঝলসানো রোগ  

লক্ষণ: প্রাথমিক অবস্থায় সরিষা গাছের নীচে বয়স্ক পাতায় এ রোগের লক্ষণ পরিলক্ষিত হয়।

পরবর্তীতে এ ছত্রাকের আক্রমণে গাছের পাতা, কান্ড ও ফলে চক্রাকার কালচে দাগের সৃষ্টি হয়। আক্রমণের মাত্রা বেশি হলে পাতা ঝলসে যায়। ফলে সরিষার ফলন খুব কমে যায়।

 

প্রতিকার:

১. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সম্পন্ন জাতের সরিষার চাষ করতে হবে। ধলি, দৌলত, বারি সরিষা-৭, বারি সরিষা-৮ ইত্যাদি জাত কিছুটা পাতা ঝলসানো রোগ সহনশীল।

২. রোগমুক্ত বীজ বপন করতে হবে।
৩. বীজ বপনের আগে ভিটাভেক্স-২০০ দিয়ে (২-৩ গ্রাম ছত্রাকনাশক/কেজি বীজ) বীজ শোধন করে বপন করতে হবে।

 

৪. এ রোগ দেখা দেওয়ার সাথে সাথে রোভরাল-৫০ ডব্লিউপি বা ডাইথেন এম-৪৫, ০.২% হারে (প্রতি লিটার পানির সাথে ২ গ্রাম) পানিতে মিশিয়ে ২০-১২ দিন পরপর ৩-৪ বার সেপ্র করতে হবে।

পরজীবী উদ্ভিদজনিত রোগ

লক্ষণ: সরিষার পরজীবী উদ্ভিদের মধ্যে অরোবাংকিই প্রধান। সরিষা গাছের শিকড়ের সাথে এ পরজীবী উদ্ভিদ সংযোগ স্থাপন করে খাদ্য সংগ্রহ করে বেঁচে থাকে।

এর ফলে পরজীবী আক্রান্ত সরিষার গাছ দুর্বল হয়, বৃদ্ধি কমে যায় এবং ফলন হ্রাস পায়। অরোবাংকি এক প্রকার সপুষ্কক পরজীবী উদ্ভিদ এবং এর বংশবৃদ্ধি সরিষা গাচের উপর নির্ভরশীল।

এর বীজ মাটিতেই অবস্থান করে। মাটি, ফসলের পরিত্যক্ত অংশ, সেচের পানি প্রভৃতির মাধ্যমে অরোবাংকির উৎপত্তি ও বিস্তার ঘটে। বারবার একই জমিতে সরিষা পরিবারের ফসল চাষ করলে এ পরজীবীর বিস্তার ঘটে।

 

প্রতিকার:

১. ফুল আসর আগে পরজীবী উদ্ভিদ জমি হতে তুলে ধ্বংস করে ফেলতে হবে।
২. পরিমিত হারে টিএসপি সার ব্যবহার করতে হবে।
৩. আগে এ রোগে আক্রান্ত জমি গভীরভাবে চাষ করতে হবে।

জেনে নিন>>উচ্চ ফলনশীল বিনা সরিষা-১০ চাষ পদ্ধতি

>>সূর্যমুখী চাষ করে অধিক লাভবান হউন

 >>টরি-৭ সরিষা চাষ

>>সরিষার বিভিন্ন জাত থেকে বেছে নিন আপনার পছন্দের জাত

>> পেরিলা চাষ পদ্ধতি

>>বারি সরিষা-১১ সরিষা চাষ পদ্ধতি

>> বারি সরিষা-১৪ চাষ পদ্ধতি

 

Please Share This Post in Your Social Media

2 responses to “ কল্যাণীয়া (টিএস-৭২)সরিষা চাষ পদ্ধতি”

  1. […] জেনে নিন>> কল্যাণীয়া (টিএস-৭২)সরিষা চাষ পদ্ধতি […]

  2. […] জেনে নিন>> কল্যাণীয়া (টিএস-৭২)সরিষা চাষ পদ্ধতি […]

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরও খবর















error: Content is protected !!