ঢাকা ১২:৫৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ডেঙ্গু প্রতিরোধে সাপ্তাহিক পরিচ্ছন্নতা অভিযানের ডাক প্রধানমন্ত্রীর পেশোয়ারে স্কুলের ছাদ ধসে ১৬ শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে মানহানির মামলা ইসরাইলের সাবেক গোয়েন্দাপ্রধানের ক্যানসারের ওষুধ পাচারের চেষ্টা: চীনা নাগরিকসহ গ্রেপ্তার ৪ পাতার বাঁশিতে সুর তোলা গোলাম রাব্বানীর অনন্য জাদু দুর্গাপূজা নির্বিঘ্নে আয়োজনে সিসিকের বিশেষ প্রস্তুতি শান্ত-মারিয়াম ইউনিভার্সিটিতে উপাচার্য পদে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি যুদ্ধে ৬ মাসে কাতারের রাজস্ব কমেছে ৪২ শতাংশ হোপের সেঞ্চুরি ও পলের বোলিং তোপে ভারতের হার মাদারগঞ্জে শসার বাম্পার ফলন: দুই হাজার টন উৎপাদনের সম্ভাবনা

নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে মানহানির মামলা ইসরাইলের সাবেক গোয়েন্দাপ্রধানের

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১১:৩০:৫৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে
(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ইসরাইলের অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থা শিন বেতের সাবেক প্রধান রোনেন বার প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে একটি মানহানির মামলা দায়ের করেছেন। বুধবার দায়ের করা এই মামলায় তিনি প্রায় তিন মিলিয়ন শেকেল বা ১০ লাখ মার্কিন ডলার ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার দায় নিজের কাঁধ থেকে সরিয়ে অন্যের ওপর চাপানোর চেষ্টার অভিযোগ তুলে এই আইনি পদক্ষেপ নিয়েছেন রোনেন বার। মামলার নথিতে দাবি করা হয়েছে যে, হামলার আগে বারবার সতর্কবার্তা দেয়া সত্ত্বেও প্রধানমন্ত্রী তা আমলে নেননি। মামলার নথিতে সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরের শুরুর দিকে হামাসের ক্রমবর্ধমান সক্ষমতা নিয়েও একাধিক সতর্কবার্তার উল্লেখ রয়েছে। গাজায় তিনি ‘যেকোনো মূল্যে শান্ত’ বজায় রাখার নীতি অনুসরণ করছিলেন বলেও অভিযোগ করেছেন বার।

হামলার দিনে শিন বেতের কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হয়েছে মামলার আবেদনে। ৬ অক্টোবর গভীর রাত থেকেই হামাসের অস্বাভাবিক তৎপরতার গোয়েন্দা তথ্যগুলো সেনাবাহিনীর সঙ্গে ভাগাভাগি করছিল শিন বেত। ৭ অক্টোবর ভোর ৩টা ৩ মিনিটে আনুষ্ঠানিক সতর্কবার্তা দেয়ার পর ৩টা ৫৫ মিনিটে তা নেতানিয়াহুর সামরিক সচিবালয়ে পৌঁছায়। এরপর সকাল ৬টার কিছু পরে রোনেন বারের চিফ অব স্টাফ সামরিক সচিবকে বিষয়টি অবহিত করেন। তবে ওই রাতে সেনাপ্রধান বা সামরিক গোয়েন্দাপ্রধানের সঙ্গে সরাসরি কথা বলার যে দাবি নেতানিয়াহু করেছেন, তা কঠোরভাবে অস্বীকার করেছেন রোনেন বার।

নেতানিয়াহুর পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে, রোনেন বার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করেছিলেন এবং নোভা সংগীত উৎসবে অংশ নেয়া ব্যক্তিদের সরিয়ে নিতে বা সেনাদের সতর্ক করতে ব্যর্থ হয়েছিলেন। এছাড়া গাজায় কাতারি অর্থ সহায়তা প্রবেশের অনুমতি অব্যাহত রাখা নিয়েও নেতানিয়াহু-বার পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করেছেন। বারের অভিযোগ, হামাসের জ্যেষ্ঠ নেতাদের টার্গেট করার প্রস্তাব নেতানিয়াহু বারবার প্রত্যাখ্যান করেছেন বা সিদ্ধান্ত নিতে বিলম্ব করেছেন। অন্যদিকে, নেতানিয়াহু দাবি করেছেন যে, বার তার সঙ্গে জরুরি যোগাযোগ রক্ষা করেননি, যদিও বার জানিয়েছেন নেতানিয়াহু কখনোই তাকে ব্যক্তিগত ফোন নম্বর দেননি। তার বক্তব্য, জরুরি যোগাযোগের জন্য নির্ধারিত সুরক্ষিত ফোন লাইনের মাধ্যমে বার চাইলে তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারতেন।

রোনেন বার হামাসের হামলার ভয়াবহতা ও সময় সম্পর্কে আগাম পূর্বাভাস দিতে ব্যর্থ হওয়ার দায় স্বীকার করেছেন। তবে তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতেই তিনি দেশের অভ্যন্তরীণ বিভাজন ও ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে অস্থিতিশীলতা নিয়ে সতর্ক করে চিঠি দিয়েছিলেন। একই বছরের জুলাই মাসে তিনি ব্যক্তিগতভাবেও বড় ধরণের হামলার আশঙ্কার কথা প্রধানমন্ত্রীকে জানিয়েছিলেন। এই ব্যর্থতা ও পরিস্থিতির দায় নিয়ে শেষ পর্যন্ত তাকে পদ ছাড়তে হয়েছিল। বারের দাবি, হামলার দায় এড়াতেই নেতানিয়াহু এখন তাকে লক্ষ্যবস্তু করছেন এবং তার বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলছেন। এ প্রসঙ্গে তিনি ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে পাঠানো একটি চিঠির কথা উল্লেখ করেছেন।

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের ওই হামলায় প্রায় ১২০০ ইসরাইলি নিহত হয় এবং ২৫১ জনকে জিম্মি করা হয়। এর প্রতিক্রিয়ায় গাজায় ইসরাইলের অভিযানে এখন পর্যন্ত ৭৪ হাজার ৩০০-এর বেশি ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের মার্চে নেতানিয়াহু সরকার আস্থার সংকটের কারণ দেখিয়ে রোনেন বারকে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেয়। সেই সময় শিন বেত নেতানিয়াহুর সহযোগীদের কাতারি স্বার্থ নিয়ে কাজ করার বিষয়ে তদন্ত করছিল। সুপ্রিম কোর্ট ওই বরখাস্তের সিদ্ধান্তকে বেআইনি ঘোষণা করলে, পরবর্তীতে জুন মাসে রোনেন বার পদত্যাগ করেন।

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে মানহানির মামলা ইসরাইলের সাবেক গোয়েন্দাপ্রধানের

আপডেট সময় : ১১:৩০:৫৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬

ইসরাইলের অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থা শিন বেতের সাবেক প্রধান রোনেন বার প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে একটি মানহানির মামলা দায়ের করেছেন। বুধবার দায়ের করা এই মামলায় তিনি প্রায় তিন মিলিয়ন শেকেল বা ১০ লাখ মার্কিন ডলার ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার দায় নিজের কাঁধ থেকে সরিয়ে অন্যের ওপর চাপানোর চেষ্টার অভিযোগ তুলে এই আইনি পদক্ষেপ নিয়েছেন রোনেন বার। মামলার নথিতে দাবি করা হয়েছে যে, হামলার আগে বারবার সতর্কবার্তা দেয়া সত্ত্বেও প্রধানমন্ত্রী তা আমলে নেননি। মামলার নথিতে সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরের শুরুর দিকে হামাসের ক্রমবর্ধমান সক্ষমতা নিয়েও একাধিক সতর্কবার্তার উল্লেখ রয়েছে। গাজায় তিনি ‘যেকোনো মূল্যে শান্ত’ বজায় রাখার নীতি অনুসরণ করছিলেন বলেও অভিযোগ করেছেন বার।

হামলার দিনে শিন বেতের কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হয়েছে মামলার আবেদনে। ৬ অক্টোবর গভীর রাত থেকেই হামাসের অস্বাভাবিক তৎপরতার গোয়েন্দা তথ্যগুলো সেনাবাহিনীর সঙ্গে ভাগাভাগি করছিল শিন বেত। ৭ অক্টোবর ভোর ৩টা ৩ মিনিটে আনুষ্ঠানিক সতর্কবার্তা দেয়ার পর ৩টা ৫৫ মিনিটে তা নেতানিয়াহুর সামরিক সচিবালয়ে পৌঁছায়। এরপর সকাল ৬টার কিছু পরে রোনেন বারের চিফ অব স্টাফ সামরিক সচিবকে বিষয়টি অবহিত করেন। তবে ওই রাতে সেনাপ্রধান বা সামরিক গোয়েন্দাপ্রধানের সঙ্গে সরাসরি কথা বলার যে দাবি নেতানিয়াহু করেছেন, তা কঠোরভাবে অস্বীকার করেছেন রোনেন বার।

নেতানিয়াহুর পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে, রোনেন বার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করেছিলেন এবং নোভা সংগীত উৎসবে অংশ নেয়া ব্যক্তিদের সরিয়ে নিতে বা সেনাদের সতর্ক করতে ব্যর্থ হয়েছিলেন। এছাড়া গাজায় কাতারি অর্থ সহায়তা প্রবেশের অনুমতি অব্যাহত রাখা নিয়েও নেতানিয়াহু-বার পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করেছেন। বারের অভিযোগ, হামাসের জ্যেষ্ঠ নেতাদের টার্গেট করার প্রস্তাব নেতানিয়াহু বারবার প্রত্যাখ্যান করেছেন বা সিদ্ধান্ত নিতে বিলম্ব করেছেন। অন্যদিকে, নেতানিয়াহু দাবি করেছেন যে, বার তার সঙ্গে জরুরি যোগাযোগ রক্ষা করেননি, যদিও বার জানিয়েছেন নেতানিয়াহু কখনোই তাকে ব্যক্তিগত ফোন নম্বর দেননি। তার বক্তব্য, জরুরি যোগাযোগের জন্য নির্ধারিত সুরক্ষিত ফোন লাইনের মাধ্যমে বার চাইলে তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারতেন।

রোনেন বার হামাসের হামলার ভয়াবহতা ও সময় সম্পর্কে আগাম পূর্বাভাস দিতে ব্যর্থ হওয়ার দায় স্বীকার করেছেন। তবে তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতেই তিনি দেশের অভ্যন্তরীণ বিভাজন ও ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে অস্থিতিশীলতা নিয়ে সতর্ক করে চিঠি দিয়েছিলেন। একই বছরের জুলাই মাসে তিনি ব্যক্তিগতভাবেও বড় ধরণের হামলার আশঙ্কার কথা প্রধানমন্ত্রীকে জানিয়েছিলেন। এই ব্যর্থতা ও পরিস্থিতির দায় নিয়ে শেষ পর্যন্ত তাকে পদ ছাড়তে হয়েছিল। বারের দাবি, হামলার দায় এড়াতেই নেতানিয়াহু এখন তাকে লক্ষ্যবস্তু করছেন এবং তার বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলছেন। এ প্রসঙ্গে তিনি ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে পাঠানো একটি চিঠির কথা উল্লেখ করেছেন।

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের ওই হামলায় প্রায় ১২০০ ইসরাইলি নিহত হয় এবং ২৫১ জনকে জিম্মি করা হয়। এর প্রতিক্রিয়ায় গাজায় ইসরাইলের অভিযানে এখন পর্যন্ত ৭৪ হাজার ৩০০-এর বেশি ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের মার্চে নেতানিয়াহু সরকার আস্থার সংকটের কারণ দেখিয়ে রোনেন বারকে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেয়। সেই সময় শিন বেত নেতানিয়াহুর সহযোগীদের কাতারি স্বার্থ নিয়ে কাজ করার বিষয়ে তদন্ত করছিল। সুপ্রিম কোর্ট ওই বরখাস্তের সিদ্ধান্তকে বেআইনি ঘোষণা করলে, পরবর্তীতে জুন মাসে রোনেন বার পদত্যাগ করেন।

Facebook Comments Box