এশিয়ান গেমসের হতাশাজনক ফলাফল পর্যালোচনায় কমিটি গঠনের নির্দেশ
- আপডেট সময় : ০১:৩০:৩৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে
এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের বিভিন্ন ফেডারেশনের পারফরম্যান্স মূল্যায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক। এছাড়াও স্টেডিয়ামের ভাড়া ও অনিয়মের বিষয়েও নেওয়া হচ্ছে কঠোর পদক্ষেপ।
এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের বিভিন্ন ফেডারেশনের পারফরম্যান্স পর্যালোচনার জন্য একটি মূল্যায়ন কমিটি গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়। রবিবার (৪ অক্টোবর) সচিবালয়ে ক্রীড়াবিদদের ‘ক্রীড়া কার্ড’ সুবিধা সংক্রান্ত সভায় যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। এরই মধ্যে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের নির্বাহী পরিচালককে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এশিয়ার বিভিন্ন ফুটবল টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়া ফেডারেশনগুলোর কার্যক্রমও পর্যালোচনার আওতায় থাকবে।
এশিয়ান গেমসে ফুটবল দলের ফলাফলকে ‘হতাশাজনক’ হিসেবে অভিহিত করেন প্রতিমন্ত্রী। তবে তিনি বলেন, নতুন একটি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, যার সুফল পেতে সময় প্রয়োজন। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন তাদের কার্যক্রম পর্যালোচনার মাধ্যমেই বর্তমান কোচ নিয়োগ দিয়েছে। শুধু ফুটবল নয়, এশিয়ান গেমসে অংশগ্রহণকারী প্রতিটি ফেডারেশনের খেলোয়াড়দের প্রস্তুতি ও পারফরম্যান্স নিয়ে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন তৈরি করা হবে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর ভবিষ্যতের জন্য প্রয়োজনীয় কর্মপরিকল্পনায় পরিবর্তন আনা হবে। প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা যে প্রক্রিয়া শুরু করেছি, সেটার ফল সামনে আরো ভালোভাবে পেতে চাই।
স্টেডিয়ামের দোকান বরাদ্দ ও ভাড়ার ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের অনিয়ম দূর করার বিষয়েও জোর দিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি জানান, গত সাত মাসে দেশের ৬৪টি স্টেডিয়াম পরিদর্শন করা সম্ভব না হলেও সিলেটসহ বেশ কিছু স্টেডিয়ামে গিয়ে বড় ধরনের অসঙ্গতি নজরে এসেছে। তিনি উল্লেখ করেন, সরকার যেখানে মাসিক ১ হাজার ২০০ টাকা ভাড়া পায়, সেখানে দোকানদারদের কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে। এর বড় একটি অংশ সরকারি কোষাগারে জমা হচ্ছে না। খেলোয়াড়দের সঙ্গে কাজ করার পাশাপাশি দর্শক ও দেশের মানুষের খেলাধুলা নিয়ে যে প্রত্যাশা রয়েছে, সেটিও মাথায় রাখা হচ্ছে।
এ ধরনের অনিয়ম রোধে কমলাপুর, ঢাকা ও মিরপুরের শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামসহ প্রতিটি স্টেডিয়ামের ভাড়া কাঠামো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ডিসেম্বরের মধ্যে এ ক্ষেত্রে একটি দৃশ্যমান পরিবর্তনের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে মন্ত্রণালয়। এছাড়াও স্টেডিয়ামের পরিবেশ ক্রীড়াবান্ধব করতে কমলাপুর স্টেডিয়াম থেকে অবৈধ রিকশা গ্যারেজ উচ্ছেদ করা হয়েছে এবং অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগও বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ না করার প্রসঙ্গটি পুনরায় সামনে আনেন প্রতিমন্ত্রী। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে এটি একজন ব্যক্তির ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের ফল হিসেবে উঠে এলেও, এর দায়ভার ও শাস্তির প্রশ্নে তিনি বলেন, শুধু শাস্তি দিয়ে সমস্যার সমাধান হয় না। ভবিষ্যতে যাতে একক সিদ্ধান্তে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের কড়া সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। কোথায় ভুল হয়েছে, সেখান থেকে শিক্ষা নিয়ে সামনে আরও ভালো করার চেষ্টা করতে হবে। শুরুতে ফল ভালো বা খারাপ— দুই ধরনেরই হতে পারে।
ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কার বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগ সম্পর্কে প্রতিমন্ত্রী জানান, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বর্তমানে বিষয়টি তদন্ত করছে। তদন্তকারী সংস্থাগুলো মন্ত্রণালয়ের কাছে যে ধরনের তথ্য-উপাত্ত চাইছে, মন্ত্রণালয় তা সরবরাহ করে পূর্ণ সহযোগিতা করছে। তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কাউকে দোষী সাব্যস্ত করা বা কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে চান না তিনি। তবে শুরুতেই এ নিয়ে অতিরিক্ত হতাশ হওয়ার কারণ নেই। এশিয়ান গেমস বা ফুটবলের সাম্প্রতিক ফলাফল নিয়ে তিনি এখনই খুব বেশি হতাশ হতে চান না।
সূত্র: রাইজিংবিডি
Social Media
Communication
Bookmarking
Developer
Entertainment
Academic
Finance
Lifestyle
নিউজটি শেয়ার করুন
-
সর্বশেষ সংবাদ
-
জনপ্রিয় সংবাদ






















