সিকৃবিতে সিনিয়রদের বিরুদ্ধে জুনিয়রদের ওপর হামলার অভিযোগ, আহত ২
- আপডেট সময় : ০১:৩২:৩৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে
সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেটেরিনারি অনুষদের ৩১ ও ৩২ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ফুটবল খেলা কেন্দ্রিক বিরোধের জেরে দুই শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (সিকৃবি) ভেটেরিনারি, অ্যানিমেল অ্যান্ড বায়োমেডিক্যাল সায়েন্সেস অনুষদের ৩১ ব্যাচের সিনিয়র শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে ৩২ ব্যাচের জুনিয়র শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে। শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সকালে একটি ফুটবল ম্যাচের বাদানুবাদকে কেন্দ্র করে একই দিন রাতে দুই ব্যাচের শিক্ষার্থীদের মধ্যে এই উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হয়। এই ঘটনায় ৩২ ব্যাচের অন্তত দুইজন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী ও ৩২ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের অভিযোগ অনুযায়ী, শুক্রবার সকালে একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচ চলাকালীন ৩১ ব্যাচের হুমায়ুন নামের এক শিক্ষার্থীর সঙ্গে জুনিয়র ব্যাচের মিনহার ধাক্কাধাক্কি হয়। জুনিয়ররা জানান, এটি একটি অনিচ্ছাকৃত ঘটনা হলেও হুমায়ুন গালিগালাজ করেন এবং শারীরিকভাবে চড়াও হন। ফলে ৩২ ব্যাচের শিক্ষার্থীরা খেলা বন্ধ করে মাঠ থেকে চলে যান। পরবর্তীতে মাঠের বিরোধ মেটানোর চেষ্টা করা হলেও সিনিয়ররা বিষয়টি আমলে নেননি এবং রাত ১০টার দিকে অডিটোরিয়ামে সমাধানের জন্য ৩২ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের ডেকে পাঠানো হয়। ৩১ ব্যাচের শিক্ষার্থীরা জানান, আজকে ফুটবল খেলার সময় ৩১ ব্যাচের হুমায়ুন ভাইকে পাঁচ পাস করার সময় একটু ধাক্কাধাক্কি হয়। মিনহার হাতটা অনিচ্ছাকৃতভাবে ভাইয়ের গায়ে লাগে। এরপর হুমায়ুন ভাই চুল বা গলা ধরে ঘুরায় এবং গালিগালাজ করে। এতে সে মাঠ থেকে উঠে যায়, আমরাও উঠে যাই।
জুনিয়রদের দাবি, অডিটোরিয়ামে আলোচনার একপর্যায়ে ৩১ ব্যাচের সিফাত নামের এক শিক্ষার্থী তাদের লক্ষ্য করে আক্রমণাত্মক আচরণ ও গালিগালাজ শুরু করেন। গালি দেওয়ার কারণ জানতে চাইলে সিনিয়রদের কয়েকজন মারমুখী হয়ে ওঠেন। অভিযোগ রয়েছে, এ সময় হুমায়ুন, পার্থ ও গালিবসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী জুনিয়রদের ওপর চড়াও হন। তাদের হামলায় নাহিদ ও রাফি নামের দুই শিক্ষার্থী আহত হন। এর মধ্যে নাহিদের মাথায় ও বুকে আঘাত করায় সে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। পরে ২৮ ও ৩০ ব্যাচের জ্যেষ্ঠ শিক্ষার্থীরা এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
তবে হামলার এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন ৩১ ব্যাচের শিক্ষার্থীরা। তাদের দাবি, শুক্রবার সকালের প্রীতি ম্যাচে ৩২ ব্যাচের এক জুনিয়র পেছন থেকে তাদের এক সিনিয়রকে ঘাড়ে ঘুষি মারেন এবং ক্ষুব্ধ হয়ে মাঠ ত্যাগ করেন। এরপর ওই জুনিয়র ফেসবুকে প্রাণনাশের হুমকি ও উগ্র পোস্ট দেন, যার প্রমাণ তাদের কাছে রয়েছে। পরে ছাত্রসমিতির সম্মতিতে রাতে দুই পক্ষ বসলে জুনিয়ররা আবারও অশালীন আচরণ করেন। তখন বাগ্বিতণ্ডার একপর্যায়ে নাহিদ ও মিনহা তেড়ে এলে সিনিয়ররা কেবল তা প্রতিহত করেন। ফেসবুকে প্রচারিত জখমের বিষয়টি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও অসত্য বলে দাবি করেন তারা। পরে বিষয়টি মাঠেই সমাধান করার জন্য ভাইদের বললেও তারা বলে, তোদের সাথে কোনো সলভ হবে না, তোরা চলে যা।
সার্বিক বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক জসিম উদ্দিন আহমেদ জানান, উদ্ভূত পরিস্থিতি নিরসনে তারা উভয় পক্ষকে নিয়ে আলোচনায় বসবেন। আহত যে শিক্ষার্থী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন, তিনি সুস্থ হয়ে ফিরে আসার পরপরই সুবিধাজনক সময়ে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে বলে নিশ্চিত করেছেন তিনি। সেখানে উভয় পক্ষের মধ্যে বাদানুবাদ হয়।
সূত্র: রাইজিংবিডি
Social Media
Communication
Bookmarking
Developer
Entertainment
Academic
Finance
Lifestyle
নিউজটি শেয়ার করুন
-
সর্বশেষ সংবাদ
-
জনপ্রিয় সংবাদ
























