ঢাকা ১১:০১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
টেকনাফে মানবপাচারের হাত থেকে ১৭ ব্যক্তি উদ্ধার নেত্রকোনায় নিখোঁজের ছয় দিন পর প্রাক্তন স্ত্রী উদ্ধার নিউইয়র্কে চার দিনে ৩০ কর্মসূচি পালন করলেন প্রধানমন্ত্রী ইউসিবি ব্যাংকে অ্যাগ্রি সেলস অফিসার পদে নিয়োগ ট্রাম্পের আমন্ত্রণে নিউইয়র্কে বিশ্বনেতাদের বৈঠকে কাতারের আমীর ম্যানসিটির ১১৫টি আর্থিক অনিয়মের ১১৪টিতেই অভিযোগ প্রমাণিত অপ্রতীম মৃত্যুর ঘটনা মামলা: তদন্ত কর্মকর্তার বড় পরিবর্তন দুধের পর এবার ডিম খেয়ে অসুস্থ ঠাকুরগাঁওয়ের ২০ শিক্ষার্থী রাণীশংকৈলে জামিনের ৫ দিন পর ফের ইয়াবাসহ গ্রেফতার মাদক কারবারী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতেই আগামীর বিশ্ব গড়বে: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

দেশ মেরামতে ‘থ্রি-আর’ কৌশল অনুসরণ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

ঢাকা মহানগর প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৭:০৩:১৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৪ বার পড়া হয়েছে
(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

 

দেশ মেরামতে ‘থ্রি-আর’ কৌশল অনুসরণ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

 

নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে ভাষণ দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, দীর্ঘ দেড় দশকের ফ্যাসিবাদের জাঁতাকল থেকে মুক্ত হয়ে ২০২৪ সালে বাংলাদেশ নতুন পথে যাত্রা শুরু করেছে। তিনি বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশ মেরামতের জন্য সরকার ‘রিকভারি, রেস্টোরেশন ও রিকনস্ট্রাকশন’ বা ‘থ্রি-আর’ কৌশল বাস্তবায়ন করছে। বাংলাদেশের সামনে এখন অপার সম্ভাবনার দুয়ার খোলা রয়েছে এবং কর্মক্ষম তরুণ জনশক্তিকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তরের কাজ চলছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনে জনগণ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপিকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমরা শুধু ভোটের গণতন্ত্র চাই না, বরং অর্থনৈতিক গণতন্ত্রায়ন নিশ্চিত করতে চাই, যাতে উন্নয়নের সুফল প্রতিটি নাগরিকের দোরগোড়ায় পৌঁছায়। নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে ফ্যামিলি কার্ডগুলোকে একটি সমন্বিত ইউনিভার্সাল কার্ডে রূপান্তরের পরিকল্পনাও রয়েছে সরকারের।’

 

পড়ুন>>সোনারগাঁয়ে মেঘনায় ট্রলারডুবি: নারী নিহত, নিখোঁজ চার

বিশ্বশান্তি ও নিরাপত্তা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যেকোনো সংঘাতের সমাধান আলোচনা ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় হওয়া উচিত। তিনি সামরিক খাতের বাজেট না বাড়িয়ে তা উন্নয়নের জন্য ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি শান্তি রক্ষা মিশনে বাংলাদেশের নারী সদস্যদের অংশগ্রহণকে তিনি অত্যন্ত ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করেন।

রোহিঙ্গা সংকটের সমাধানে প্রধানমন্ত্রী ৫ দফা প্রস্তাব তুলে ধরে বলেন, গত নয় বছর ধরে বাংলাদেশ মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত ১২ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে আসছে, যা দেশের অর্থনীতি ও পরিবেশের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করেছে। তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এই সংকট নিরসনে কার্যকর ও দৃঢ় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।

পড়ুন>>ভূরুঙ্গামারীতে গ্রাহকদের অধিকার আদায়ের দাবিতে ইসলামী ব্যাংক গ্রাহক ফোরামের বিক্ষোভ মিছিল

জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। সরকার পরিবেশ রক্ষায় আগামী পাঁচ বছরে সারাদেশে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের কর্মসূচি নিয়েছে। এছাড়া সুন্দরবনের মিঠা পানির প্রবাহ বৃদ্ধি ও তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে পানি সংরক্ষণের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

শিক্ষার মানোন্নয়নের বিষয়ে তিনি জানান, আগামী ৫ বছরের মধ্যে পর্যায়ক্রমে শিক্ষাখাতে জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে সরকারের। নৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন কর্মমুখী শিক্ষাব্যবস্থা গড়ার পাশাপাশি প্রাইমারি শিক্ষার্থীদের জন্য বিনামূল্যে দুপুরের খাবার ও স্কুল ইউনিফর্ম প্রদানের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

সবশেষে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিজ্ঞানের অগ্রযাত্রায় কোনো দেশ যেন পিছিয়ে না থাকে। ডিজিটাল বিভাজন যেন আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্ষেত্রে না ঘটে, সেদিকে বিশ্ব নেতাদের সচেতন হতে হবে।’ তিনি বাংলাদেশের স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের পথযাত্রাকে টেকসই করতে সবার সহযোগিতা কামনা করেন।

 

 

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

দেশ মেরামতে ‘থ্রি-আর’ কৌশল অনুসরণ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

আপডেট সময় : ০৭:০৩:১৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 

 

দেশ মেরামতে ‘থ্রি-আর’ কৌশল অনুসরণ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

 

নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে ভাষণ দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, দীর্ঘ দেড় দশকের ফ্যাসিবাদের জাঁতাকল থেকে মুক্ত হয়ে ২০২৪ সালে বাংলাদেশ নতুন পথে যাত্রা শুরু করেছে। তিনি বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশ মেরামতের জন্য সরকার ‘রিকভারি, রেস্টোরেশন ও রিকনস্ট্রাকশন’ বা ‘থ্রি-আর’ কৌশল বাস্তবায়ন করছে। বাংলাদেশের সামনে এখন অপার সম্ভাবনার দুয়ার খোলা রয়েছে এবং কর্মক্ষম তরুণ জনশক্তিকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তরের কাজ চলছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনে জনগণ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপিকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমরা শুধু ভোটের গণতন্ত্র চাই না, বরং অর্থনৈতিক গণতন্ত্রায়ন নিশ্চিত করতে চাই, যাতে উন্নয়নের সুফল প্রতিটি নাগরিকের দোরগোড়ায় পৌঁছায়। নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে ফ্যামিলি কার্ডগুলোকে একটি সমন্বিত ইউনিভার্সাল কার্ডে রূপান্তরের পরিকল্পনাও রয়েছে সরকারের।’

 

পড়ুন>>সোনারগাঁয়ে মেঘনায় ট্রলারডুবি: নারী নিহত, নিখোঁজ চার

বিশ্বশান্তি ও নিরাপত্তা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যেকোনো সংঘাতের সমাধান আলোচনা ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় হওয়া উচিত। তিনি সামরিক খাতের বাজেট না বাড়িয়ে তা উন্নয়নের জন্য ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি শান্তি রক্ষা মিশনে বাংলাদেশের নারী সদস্যদের অংশগ্রহণকে তিনি অত্যন্ত ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করেন।

রোহিঙ্গা সংকটের সমাধানে প্রধানমন্ত্রী ৫ দফা প্রস্তাব তুলে ধরে বলেন, গত নয় বছর ধরে বাংলাদেশ মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত ১২ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে আসছে, যা দেশের অর্থনীতি ও পরিবেশের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করেছে। তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এই সংকট নিরসনে কার্যকর ও দৃঢ় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।

পড়ুন>>ভূরুঙ্গামারীতে গ্রাহকদের অধিকার আদায়ের দাবিতে ইসলামী ব্যাংক গ্রাহক ফোরামের বিক্ষোভ মিছিল

জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। সরকার পরিবেশ রক্ষায় আগামী পাঁচ বছরে সারাদেশে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের কর্মসূচি নিয়েছে। এছাড়া সুন্দরবনের মিঠা পানির প্রবাহ বৃদ্ধি ও তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে পানি সংরক্ষণের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

শিক্ষার মানোন্নয়নের বিষয়ে তিনি জানান, আগামী ৫ বছরের মধ্যে পর্যায়ক্রমে শিক্ষাখাতে জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে সরকারের। নৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন কর্মমুখী শিক্ষাব্যবস্থা গড়ার পাশাপাশি প্রাইমারি শিক্ষার্থীদের জন্য বিনামূল্যে দুপুরের খাবার ও স্কুল ইউনিফর্ম প্রদানের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

সবশেষে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিজ্ঞানের অগ্রযাত্রায় কোনো দেশ যেন পিছিয়ে না থাকে। ডিজিটাল বিভাজন যেন আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্ষেত্রে না ঘটে, সেদিকে বিশ্ব নেতাদের সচেতন হতে হবে।’ তিনি বাংলাদেশের স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের পথযাত্রাকে টেকসই করতে সবার সহযোগিতা কামনা করেন।

 

 

Facebook Comments Box