৩০ নভেম্বরের মধ্যে সারা দেশে পৌঁছাবে নতুন পাঠ্যবই
- আপডেট সময় : ১১:১৩:২৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে
নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরুর আগেই দেশের প্রায় চার কোটি শিক্ষার্থীর হাতে পরিমার্জিত পাঠ্যবই তুলে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে সরকার। জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) জানিয়েছে, আগামী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে দেশের প্রতিটি উপজেলায় শতভাগ মানসম্মত ও নির্ভুল বই সরবরাহ নিশ্চিত করতে কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী কার্যক্রম এগিয়ে চলছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও এনসিটিবির তথ্যমতে, প্রাক-প্রাথমিক, প্রাথমিক, মাধ্যমিক, দাখিল, ভোকেশনাল ও কারিগরি স্তর মিলিয়ে এবার মোট ৩০ কোটি ৭১ লাখ ৯৮ হাজার ১০১ কপি বই ছাপানো হচ্ছে। উৎপাদন প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, গত ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রাক-প্রাথমিক স্তরের ৫৭ লাখ ৩০ হাজার ৬৪০টি বইয়ের মধ্যে প্রায় ৭৪.৪৫ শতাংশ বা ৪২ লাখ ৬৬ হাজার ২৫৩টি বইয়ের মুদ্রণ সম্পন্ন হয়েছে। এছাড়া প্রাথমিক স্তরে প্রায় ৩৭ শতাংশ এবং মাধ্যমিক স্তরে সাত শতাংশ বই ছাপা শেষ হয়েছে। বর্তমানে ১১৩টি চুক্তিবদ্ধ প্রেসের মধ্যে ৯১টিতে বই ছাপার কাজ চলছে।
বইয়ের গুণমান নিশ্চিত করতে সরকার এবার কঠোর অবস্থানে রয়েছে। ইতোমধ্যে মানদণ্ড পূরণ না হওয়ায় বিভিন্ন প্রেসের প্রায় সাড়ে চার লাখ ছাপানো ফর্মা এবং ২৭ হাজার নিম্নমানের বই বাতিল ও বিনষ্ট করা হয়েছে। এনসিটিবির চেয়ারম্যান প্রফেসর মোহাম্মাদ গোলাম ফখরুল মাওলা জানিয়েছেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বই সরবরাহ করতে প্রেস মালিকদের কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
তদারকি ব্যবস্থা জোরদার করতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়, এনসিটিবি এবং বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সমন্বয়ে ৫৩টি মনিটরিং টিম মাঠে কাজ করছে। এছাড়া এনসিটিবির ৩৩টি এবং মন্ত্রণালয়ের সাতটি টিমসহ সচিব ও সদস্যদের নেতৃত্বে পাঁচটি বিশেষ টিম সরাসরি ছাপাখানায় উপস্থিত থেকে মুদ্রণকাজ তদারকি করছে। কর্মকর্তারা প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে রাত পর্যন্ত কারখানায় অবস্থান করে কাগজের উজ্জ্বলতা (জিএসটি মান) ও মুদ্রণমান যাচাই করছেন।
শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন স্পষ্ট জানিয়েছেন, উপজেলা পর্যায়ে নিম্নমানের কাগজে ছাপা কোনো বই গ্রহণ করা হবে না। বই গ্রহণের দায়িত্ব এবার সরাসরি প্রতিষ্ঠানপ্রধান এবং জেলা-উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাদের দেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে কোনো ত্রুটি পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় বড় প্রেসগুলোতে জেনারেটর ব্যাকআপ বাধ্যতামূলক করার পাশাপাশি স্থানীয় বিদ্যুৎ বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা হচ্ছে। কাগজের মান যাচাইয়ের জন্য ল্যাব টেস্ট ও প্রি-ডেলিভারি ইন্সপেকশন (পিডিআই) করা হচ্ছে। বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদে (বিসিএসআইআর) পরীক্ষা করা নয়টি নমুনার সবগুলোই মানসম্মত বলে প্রমাণিত হয়েছে।
ইতিমধ্যেই বাঞ্ছারামপুর ও সরাইলসহ কয়েকটি উপজেলায় বই সরবরাহ শুরু হয়েছে। এনসিটিবির সদস্য (পাঠ্যপুস্তক) প্রফেসর মোহাম্মদ আবু নাসের টুকু জানান, শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বছরের প্রথম দিনেই পূর্ণ সেট বই পৌঁছে দেওয়াই বোর্ডের মূল লক্ষ্য। ইংরেজি ভার্সন ও ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর বইগুলো জেলা পর্যায়ে পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: প্রাথমিক স্তরের ৭ কোটি ৬০ লাখ ৯৭ হাজার ৯৬টি বইয়ের মধ্যে ২ কোটি ৮০ লাখ ৭৮ হাজার ৯৯৬টি বা ৩৬ দশমিক ৯৬ শতাংশ এবং মাধ্যমিক স্তরের ২২ কোটি ১১ লাখ ৮২ হাজার ৫৯২টি বইয়ের মধ্যে ১ কোটি ৫২ লাখ ৬৪ হাজার ৪০০টি বা ৭ শতাংশ ছাপা শেষ হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: পাঠ্যবইয়ের মুদ্রণ ও সরবরাহে অনিয়ম, অস্বচ্ছতা কিংবা কৃত্রিম সংকট ঠেকাতে এনসিটিবির বিশেষ টিমের পাশাপাশি একাধিক গোয়েন্দা সংস্থাকেও মাঠে রাখা হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বইয়ের কাগজের উজ্জ্বলতা ৮৫ শতাংশসহ অন্যান্য মানদণ্ডও পরীক্ষা করা হচ্ছে।
সূত্র: ডেইলি বাংলাদেশ
Social Media
Communication
Bookmarking
Developer
Entertainment
Academic
Finance
Lifestyle
নিউজটি শেয়ার করুন
-
সর্বশেষ সংবাদ
-
জনপ্রিয় সংবাদ

























