ঢাকা ১০:৪৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
পোশাক শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশ শীতের অতিথি পাখিতে মুখর চলনবিল, নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা দিনমজুরি করেও এইচএসসিতে জিপিএ-৫ পেলেন সংগ্রামী আরাফাত ৩৪ বছরের পুরনো ভবন ভেঙে নতুন কারখানা গড়বে প্যাসিফিক জিন্স বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী বোর্ডে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হরমুজ প্রণালী ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের উত্তরের অপেক্ষায় ইরান ট্রেনের শেষ বগিতেই ৩৫ বছরের জীবন কাটিয়ে দিলেন সিরাজ মিয়া খুলনায় ১৫ মাস বকেয়া বেতনে ৩০ কর্মীকে ছাঁটাই বিমান কর্মকর্তা তাহসিফ হত্যায় দিশার চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর সাজেকে ইউপিডিএফ ও জেএসএসের মধ্যে দেড় ঘণ্টা গোলাগুলি

প্রয়োজনভিত্তিক উপবৃত্তি চালুর ইঙ্গিত প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর

সৃষ্টি শিক্ষা ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৫:০০:৫০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৭১ বার পড়া হয়েছে
(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

 

প্রয়োজনভিত্তিক উপবৃত্তি চালুর ইঙ্গিত প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর

 

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেছেন, বৃত্তি ও উপবৃত্তি বিতরণে বিদ্যমান সমতার ধারণার পরিবর্তে এখন থেকে শিক্ষার্থীর আর্থিক প্রয়োজনীয়তা ও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) ঢাকার বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র মিলনায়তনে ‘প্রমাণ থেকে কার্যকর পদক্ষেপ: বিদ্যালয় পর্যায়ের উন্নয়ন পরিকল্পনা (SLIP)-এর কার্যকারিতা বিষয়ক গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন’ শীর্ষক কর্মশালায় তিনি এই কথা জানান। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, পিপিআরসি ও ইউনিসেফের যৌথ আয়োজনে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, সব শিক্ষার্থীকে ঢালাওভাবে সহায়তা করলেই শিক্ষায় প্রকৃত সমতা আসে না। তার মতে, সরকারি সহায়তার অর্থ এমন শিক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছানো জরুরি যারা প্রকৃতপক্ষেই তা পাওয়ার যোগ্য। বিশেষ করে দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের শিশুদের জন্য সামান্য আর্থিক সহায়তাও শিক্ষাজীবন ধরে রাখতে বড় ভূমিকা পালন করে। এ কারণে শিক্ষা থেকে ঝরে পড়ার ঝুঁকি এবং পরিবারের অর্থনৈতিক সক্ষমতাকে বিবেচনায় নিয়ে নতুন করে বৃত্তি নীতি প্রণয়নের ওপর তিনি জোর দেন।

 

পড়ুন>>নওগাঁয় মিথ্যা সংবাদের প্রতিবাদে অটোরিকশা-ভ্যান মালিক সমিতির সংবাদ সম্মেলন

ববি হাজ্জাজ আরও উল্লেখ করেন, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বিনামূল্যে শিক্ষার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও যারা আর্থিক সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও সন্তানদের বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে পড়াচ্ছেন, তাদের সরকারি সহায়তার বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন। অন্যদিকে, যে পরিবার সন্তানের পড়াশোনার ব্যয় মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে, তাদেরকেই সরকারি সহায়তায় সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। সরকারের সীমাবদ্ধ সম্পদ যাতে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন রয়েছে এমন শিশুদের কাছে পৌঁছায়, তা নিশ্চিত করাই বর্তমান সরকারের অন্যতম লক্ষ্য।

বিদ্যালয়ে কেবল ভর্তি নিশ্চিত করাই সরকারের একমাত্র উদ্দেশ্য নয় জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দারিদ্র্য বা আর্থিক সংকটের কারণে যেন কোনো শিক্ষার্থী ঝরে না পড়ে, সে বিষয়ে সতর্ক দৃষ্টি রয়েছে। এ লক্ষ্যে উপবৃত্তি, স্কুল ফিডিং ও শিক্ষা উপকরণসহ সব সহায়তা কর্মসূচিকে আরও সমন্বিত ও লক্ষ্যভিত্তিক করার তাগিদ দেন তিনি। সরকারি সহায়তার কার্যকারিতা বাড়াতে তথ্যনির্ভর সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও প্রকৃত সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থী চিহ্নিত করার সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

পড়ুন>>নওগাঁয় মিথ্যা সংবাদের প্রতিবাদে অটোরিকশা-ভ্যান মালিক সমিতির সংবাদ সম্মেলন

প্রতিমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন এক জীবনদক্ষতার ওপর আলোকপাত করেন। তিনি বলেন, দেশের নদী ও জলাশয়বেষ্টিত অঞ্চলের শিশুদের নিরাপত্তার জন্য সাঁতার শেখা অপরিহার্য। তাই সাঁতারকে কেবল একটি ক্রীড়া হিসেবে না দেখে, জীবনরক্ষাকারী দক্ষতা হিসেবে প্রাথমিক শিক্ষার অংশ করার পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। শিশুকে বইয়ের শিক্ষার পাশাপাশি নিজের জীবন রক্ষার প্রয়োজনীয় দক্ষতা শেখানোও আমাদের দায়িত্ব বলে তিনি মনে করেন।

অনুষ্ঠানে ইউনিসেফের শিক্ষা বিশেষজ্ঞ জয় মিলান মালের সূচনা বক্তব্য দেন এবং গবেষণার ফলাফল তুলে ধরেন পিপিআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. হোসেন জিল্লুর রহমান। এতে অন্যদের মধ্যে ইউনিসেফ বাংলাদেশের চিফ অব এডুকেশন দীপা শংকর, গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে. চৌধুরীসহ মন্ত্রণালয়ের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

 

 

 

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

প্রয়োজনভিত্তিক উপবৃত্তি চালুর ইঙ্গিত প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর

আপডেট সময় : ০৫:০০:৫০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 

 

প্রয়োজনভিত্তিক উপবৃত্তি চালুর ইঙ্গিত প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর

 

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেছেন, বৃত্তি ও উপবৃত্তি বিতরণে বিদ্যমান সমতার ধারণার পরিবর্তে এখন থেকে শিক্ষার্থীর আর্থিক প্রয়োজনীয়তা ও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) ঢাকার বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র মিলনায়তনে ‘প্রমাণ থেকে কার্যকর পদক্ষেপ: বিদ্যালয় পর্যায়ের উন্নয়ন পরিকল্পনা (SLIP)-এর কার্যকারিতা বিষয়ক গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন’ শীর্ষক কর্মশালায় তিনি এই কথা জানান। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, পিপিআরসি ও ইউনিসেফের যৌথ আয়োজনে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, সব শিক্ষার্থীকে ঢালাওভাবে সহায়তা করলেই শিক্ষায় প্রকৃত সমতা আসে না। তার মতে, সরকারি সহায়তার অর্থ এমন শিক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছানো জরুরি যারা প্রকৃতপক্ষেই তা পাওয়ার যোগ্য। বিশেষ করে দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের শিশুদের জন্য সামান্য আর্থিক সহায়তাও শিক্ষাজীবন ধরে রাখতে বড় ভূমিকা পালন করে। এ কারণে শিক্ষা থেকে ঝরে পড়ার ঝুঁকি এবং পরিবারের অর্থনৈতিক সক্ষমতাকে বিবেচনায় নিয়ে নতুন করে বৃত্তি নীতি প্রণয়নের ওপর তিনি জোর দেন।

 

পড়ুন>>নওগাঁয় মিথ্যা সংবাদের প্রতিবাদে অটোরিকশা-ভ্যান মালিক সমিতির সংবাদ সম্মেলন

ববি হাজ্জাজ আরও উল্লেখ করেন, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বিনামূল্যে শিক্ষার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও যারা আর্থিক সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও সন্তানদের বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে পড়াচ্ছেন, তাদের সরকারি সহায়তার বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন। অন্যদিকে, যে পরিবার সন্তানের পড়াশোনার ব্যয় মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে, তাদেরকেই সরকারি সহায়তায় সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। সরকারের সীমাবদ্ধ সম্পদ যাতে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন রয়েছে এমন শিশুদের কাছে পৌঁছায়, তা নিশ্চিত করাই বর্তমান সরকারের অন্যতম লক্ষ্য।

বিদ্যালয়ে কেবল ভর্তি নিশ্চিত করাই সরকারের একমাত্র উদ্দেশ্য নয় জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দারিদ্র্য বা আর্থিক সংকটের কারণে যেন কোনো শিক্ষার্থী ঝরে না পড়ে, সে বিষয়ে সতর্ক দৃষ্টি রয়েছে। এ লক্ষ্যে উপবৃত্তি, স্কুল ফিডিং ও শিক্ষা উপকরণসহ সব সহায়তা কর্মসূচিকে আরও সমন্বিত ও লক্ষ্যভিত্তিক করার তাগিদ দেন তিনি। সরকারি সহায়তার কার্যকারিতা বাড়াতে তথ্যনির্ভর সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও প্রকৃত সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থী চিহ্নিত করার সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

পড়ুন>>নওগাঁয় মিথ্যা সংবাদের প্রতিবাদে অটোরিকশা-ভ্যান মালিক সমিতির সংবাদ সম্মেলন

প্রতিমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন এক জীবনদক্ষতার ওপর আলোকপাত করেন। তিনি বলেন, দেশের নদী ও জলাশয়বেষ্টিত অঞ্চলের শিশুদের নিরাপত্তার জন্য সাঁতার শেখা অপরিহার্য। তাই সাঁতারকে কেবল একটি ক্রীড়া হিসেবে না দেখে, জীবনরক্ষাকারী দক্ষতা হিসেবে প্রাথমিক শিক্ষার অংশ করার পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। শিশুকে বইয়ের শিক্ষার পাশাপাশি নিজের জীবন রক্ষার প্রয়োজনীয় দক্ষতা শেখানোও আমাদের দায়িত্ব বলে তিনি মনে করেন।

অনুষ্ঠানে ইউনিসেফের শিক্ষা বিশেষজ্ঞ জয় মিলান মালের সূচনা বক্তব্য দেন এবং গবেষণার ফলাফল তুলে ধরেন পিপিআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. হোসেন জিল্লুর রহমান। এতে অন্যদের মধ্যে ইউনিসেফ বাংলাদেশের চিফ অব এডুকেশন দীপা শংকর, গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে. চৌধুরীসহ মন্ত্রণালয়ের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

 

 

 

Facebook Comments Box