বিশ্ববিদ্যালয়ে যৌন হয়রানির অভিযোগ আমলে না নিলে কঠোর ব্যবস্থা নেবে ইউজিসি
- আপডেট সময় : ০৮:৪০:৪৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬ ১৭ বার পড়া হয়েছে
বিশ্ববিদ্যালয়ে যৌন হয়রানির অভিযোগ আমলে না নিলে কঠোর ব্যবস্থা নেবে ইউজিসি
দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে যৌন হয়রানি ও লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধে শুধু কমিটি গঠন করাই যথেষ্ট নয়, বরং এসব কমিটিকে দায়িত্ব পালনে আরও সক্রিয় ও কার্যকর হতে হবে। কোনো অভিযোগ পাওয়া গেলে তা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। দায়িত্ব পালনে কোনো বিশ্ববিদ্যালয় ব্যর্থ হলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক মামুন আহমেদ। বৃহস্পতিবার আগারগাঁওয়ের ইউজিসি ভবনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে যৌন ও লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধে ইউজিসি এবং ইউএন উইমেনের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে পরিচালিত একটি প্রকল্পের আওতায় এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইউজিসির সচিব মো. ফখরুল ইসলাম এবং ইউএন উইমেনের বাংলাদেশ প্রতিনিধি গীতাঞ্জলি সিং নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন।
পড়ুন>>চট্টগ্রামে রবির এলিট পার্টনার নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ: নতুন অংশীদার ও অ্যাওয়ার্ড প্রদান
এই চুক্তির মাধ্যমে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি এবং আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি-বাংলাদেশসহ পাঁচটি প্রতিষ্ঠানে প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধির কাজ করা হবে।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ২০২৪ সালের জাতীয় জরিপের তথ্য তুলে ধরে জানানো হয়, ২০ থেকে ২৪ বছর বয়সী তরুণীদের মধ্যে ১৬ শতাংশ প্রযুক্তির মাধ্যমে লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতার শিকার হয়েছেন।
এই প্রেক্ষাপটে ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ কমিটি থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে সেগুলো প্রত্যাশা অনুযায়ী কাজ করছে না। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, কোনো নারী অভিযোগ করার পর দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি এটি এড়িয়ে যেতে পারেন না।
পড়ুন>>তুরস্ক-কাতার দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ৫ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্য
যৌন হয়রানি ও লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কার্যক্রম সমন্বয় ও তদারকির জন্য জাতীয় পর্যায়ে একটি বিশেষ কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এই কমিটিতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং ইউজিসির প্রতিনিধিরা অন্তর্ভুক্ত থাকবেন। প্রস্তাবিত এই কমিটি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অভিযোগ গ্রহণ প্রক্রিয়া, প্রতিকার ব্যবস্থা এবং প্রতিরোধমূলক কার্যক্রমের ওপর নজরদারি করবে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিদলের ডেপুটি হেড বেইবা জেরিনা অনুষ্ঠানে বলেন, উচ্চশিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করতে এবং শিক্ষাঙ্গনকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে যৌন হয়রানি ও লিঙ্গভিত্তিক বৈষম্য নিরসন অপরিহার্য। তিনি কর্মক্ষেত্র ও উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নারী শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মীদের জন্য একটি নিরাপদ ও সহায়ক পরিবেশ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানে ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক মো. আবদুল্লাহ আল মামুন, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বিভাগের পরিচালক সুলতান মাহমুদ ভূঁইয়া, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. খায়রুল ইসলাম এবং প্রকল্প বাস্তবায়ন টাস্ক টিমের আহ্বায়ক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
Social Media
Communication
Bookmarking
Developer
Entertainment
Academic
Finance
Lifestyle
নিউজটি শেয়ার করুন
-
সর্বশেষ সংবাদ
-
জনপ্রিয় সংবাদ

























