অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট ক্রিকেটে ফিরছে বাংলাদেশ: রেকর্ডের হাতছানি ও কঠিন চ্যালেঞ্জ
- আপডেট সময় : ০৮:৩২:৫৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬ ৯ বার পড়া হয়েছে
অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট ক্রিকেটে ফিরছে বাংলাদেশ: রেকর্ডের হাতছানি ও কঠিন চ্যালেঞ্জ
দীর্ঘ ২৩ বছরের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে আবারও অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট ক্রিকেটের লড়াইয়ে নামছে বাংলাদেশ। ২০০৩ সালের পর দেশটিতে আর কোনো টেস্ট ম্যাচ খেলার সুযোগ হয়নি টাইগারদের। সেই দীর্ঘ বিরতি শেষে আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) ডারউইনের মারারা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়া।
বাংলাদেশ সময় ভোর সাড়ে ৬টায় শুরু হবে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজের প্রথম ম্যাচ। সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টটি অনুষ্ঠিত হবে ২২ আগস্ট ম্যাকাইয়ে। দীর্ঘ সময় পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের ফেরার এই সিরিজে দুই দলের বেশ কয়েকজন ক্রিকেটারের সামনে ব্যক্তিগত মাইলফলক স্পর্শের দারুণ সুযোগ রয়েছে।
পড়ুন>>কুড়িগ্রামে গণশুনানিতে জনতার কথা শুনছে প্রশাসন: সেবার দুয়ারে নতুন আস্থার বার্তা
বাংলাদেশের অভিজ্ঞ ব্যাটার মুশফিকুর রহিমের সামনে অপেক্ষা করছে এক ঐতিহাসিক মাইলফলক। প্রায় ২১ বছরের দীর্ঘ টেস্ট ক্যারিয়ারে ১০৩ ম্যাচের ১৯০ ইনিংসে তার সংগ্রহ ৬ হাজার ৮০৬ রান। এর মধ্যে রয়েছে ১৪টি সেঞ্চুরি ও ২৯টি হাফসেঞ্চুরি। আর মাত্র ১৯৪ রান করতে পারলেই বাংলাদেশের প্রথম ব্যাটার হিসেবে টেস্টে ৭ হাজার রানের ক্লাবে প্রবেশ করবেন তিনি।
তবে অস্ট্রেলিয়ার কঠিন কন্ডিশনে ব্যাটিং করে সেই মাইলফলকে পৌঁছানো মুশফিকের জন্য সহজ হবে না। দীর্ঘ অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে তাকে সামলাতে হবে স্বাগতিকদের শক্তিশালী বোলিং আক্রমণ। অন্যদিকে, অস্ট্রেলিয়ার সাবেক অধিনায়ক স্টিভেন স্মিথেরও এই সিরিজে রয়েছে ব্যক্তিগত মাইলফলক অর্জনের সুযোগ। বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নেওয়া দলগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের বিপক্ষেই এখনো টেস্ট সেঞ্চুরি করতে পারেননি তিনি।
পড়ুন>>বন্ধ থাকা তিন রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল চালুর উদ্যোগ: বেসরকারি খাতে লিজ চুক্তি স্বাক্ষর
২০১৭ সালে বাংলাদেশের বিপক্ষে দুই টেস্ট খেলেছিলেন স্মিথ। সেই সিরিজে ২৯.৭৫ গড়ে তার সংগ্রহ ছিল ১১৯ রান। তার মতো বিশ্বমানের ব্যাটারের জন্য এই পরিসংখ্যান প্রত্যাশার তুলনায় কিছুটা কম। এবার ঘরের মাঠে বাংলাদেশের বিপক্ষে সেই আক্ষেপ দূর করার সুযোগ পাচ্ছেন স্মিথ। ফলে বাংলাদেশের বোলারদের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য থাকবে এই অভিজ্ঞ ব্যাটারকে দ্রুত সাজঘরে ফেরানো।
অস্ট্রেলিয়ার পেস আক্রমণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র জশ হ্যাজেলউডও দাঁড়িয়ে আছেন বড় এক মাইলফলকের সামনে। টেস্ট ক্রিকেটে এখন পর্যন্ত তার শিকার ২৯৫ উইকেট। দুই ম্যাচের সিরিজে আর মাত্র পাঁচটি উইকেট নিতে পারলেই ৩০০ উইকেটের ক্লাবে প্রবেশ করবেন হ্যাজেলউড। সেই কীর্তি গড়লে টেস্ট ইতিহাসে ৩০০ উইকেট নেওয়া ৪২তম এবং অস্ট্রেলিয়ার নবম বোলার হবেন তিনি।
মিচেল স্টার্কও এই সিরিজে রেকর্ডের দ্বারপ্রান্তে রয়েছেন। ১০৫ টেস্টে ২০২ ইনিংসে বোলিং করে বাঁহাতি এই পেসারের ঝুলিতে রয়েছে ৪৩১ উইকেট। আর নয়টি উইকেট পেলেই ভারতের কিংবদন্তি কপিল দেবের ৪৩৪ উইকেটকে ছাড়িয়ে যাবেন স্টার্ক। ১০ বা তার বেশি উইকেট পেলে তিনি পেছনে ফেলতে পারবেন দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক পেসার ডেল স্টেইনের ৪৩৯ উইকেটকেও।
আরও পড়ুন>>কুড়িগ্রামে গণশুনানিতে জনতার কথা শুনছে প্রশাসন: সেবার দুয়ারে নতুন আস্থার বার্তা
অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং লাইনআপে বাংলাদেশের জন্য বড় হুমকি হতে পারেন ট্রাভিস হেড। ওপেনিংয়ে নামার পর তার আগ্রাসী ব্যাটিং প্রতিপক্ষের বোলারদের জন্য নতুন ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। ২০২৫ সাল থেকে ওপেনার হিসেবে ব্যাটিং করে হেডের স্ট্রাইক রেট ৯১.৭, যা একাধিক ইনিংসে ওপেন করা ব্যাটারদের মধ্যে সর্বোচ্চ। বাউন্ডারি হাঁকানোর ক্ষেত্রেও তার আগ্রাসন চোখে পড়ার মতো; ওপেনার হিসেবে প্রতি ১০০ বলে গড়ে ১২.৭টি বাউন্ডারি মেরেছেন তিনি।
সিরিজে বাংলাদেশের সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষা সম্ভবত অপেক্ষা করছে অস্ট্রেলিয়ার পেস বোলিংয়ের সামনে। গত দুই বছরে টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার পেসাররা প্রতি উইকেটে গড়ে মাত্র ২০.৭৫ রান দিয়েছেন। একই সময়ে তাদের চেয়ে কম বোলিং গড় রয়েছে কেবল দক্ষিণ আফ্রিকার পেসারদের—২০.১৬। ডানহাতি ব্যাটারদের বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়ার পেসারদের পারফরম্যান্স আরও কার্যকর, যেখানে তাদের বোলিং গড় ১৯.৫৫। বাঁহাতিদের বিপক্ষে সেটি কিছুটা বেড়ে দাড়িয়েছে ২৪.০৮-এ। বাংলাদেশের ব্যাটিং অর্ডারে ডানহাতি ব্যাটারের সংখ্যাই বেশি, যা টাইগারদের জন্য বড় সতর্কবার্তা।
আরও পড়ুন>>জুলাই গণঅভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধে ওবায়দুল কাদেরসহ সাত নেতার সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি রাষ্ট্রপক্ষের
ব্যক্তিগত রেকর্ডের পাশাপাশি এই সিরিজ বাংলাদেশের জন্য বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। মুশফিকের ৭ হাজার রান, স্মিথের সেঞ্চুরি, হ্যাজেলউডের ৩০০ উইকেট এবং স্টার্কের কিংবদন্তিদের ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনার পাশাপাশি বাংলাদেশের মূল পরীক্ষা হবে অস্ট্রেলিয়ার ভয়ংকর পেস আক্রমণ ও আগ্রাসী ব্যাটিংয়ের সামনে প্রতিরোধ গড়ে তোলা। ২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের টেস্ট প্রত্যাবর্তন তাই শুধুই একটি সিরিজ নয়; দুই দলের ক্রিকেটারদের ব্যক্তিগত মাইলফলক ছোঁয়ার পাশাপাশি নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণেরও বড় মঞ্চ।
২০০৩ সালের পর প্রথমবার অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট খেলতে যাচ্ছে তারা।
শুরুতেই দ্রুত রান তুলে ফেললে অস্ট্রেলিয়ার ইনিংসকে বড় সংগ্রহের দিকে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে এই বাঁহাতি ব্যাটারের।
যু/র
Social Media
Communication
Bookmarking
Developer
Entertainment
Academic
Finance
Lifestyle
নিউজটি শেয়ার করুন
-
সর্বশেষ সংবাদ
-
জনপ্রিয় সংবাদ
























