ভারতে প্রথমবারের মতো ডেঙ্গুর টিকা কিউডেঙ্গার অনুমোদন
- আপডেট সময় : ০৬:৪১:২২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে
ভারতে জনস্বাস্থ্য সমস্যার অন্যতম প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে ডেঙ্গু। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রথমবারের মতো ডেঙ্গু টিকার অনুমোদন দিয়েছে দেশটির ড্রাগ কন্ট্রোলার জেনারেল (ডিসিজিআই)। তাকেদা বায়োফার্মাসিউটিক্যালস ইন্ডিয়ার তৈরি এই টিকার নাম ‘কিউডেঙ্গা’। কোম্পানিটি এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, ভারতে বাজারজাতকরণের অনুমোদন পাওয়া এটিই ডেঙ্গুর প্রথম টিকা।
নতুন এই টিকা ৪ থেকে ৬০ বছর বয়সী ব্যক্তিরা গ্রহণ করতে পারবেন। তিন মাসের ব্যবধানে দুই ডোজের এই টিকা নিতে হবে। টিকাটি ডেঙ্গু ভাইরাসের চারটি সেরোটাইপের বিরুদ্ধেই সুরক্ষা প্রদানে সক্ষম। টিকা নেওয়ার আগে কোনো প্রাক্-টিকাদান পরীক্ষার প্রয়োজন নেই এবং আগে ডেঙ্গু আক্রান্ত হওয়ার ইতিহাস থাকুক বা না থাকুক, যেকোনো ব্যক্তি এটি নিতে পারবেন বলে জানিয়েছে প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানটি।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত দুই দশকে ভারতে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ১১ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং বর্তমানে বিশ্বব্যাপী ডেঙ্গু রোগীর প্রায় এক-তৃতীয়াংশই ভারতীয়। বিভিন্ন মডেলভিত্তিক গবেষণায় ইঙ্গিত পাওয়া গেছে যে, প্রকৃত সংক্রমণের সংখ্যা সরকারি হিসাবের চেয়ে অনেক বেশি। তাকেদার বৈশ্বিক ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের তথ্যের ভিত্তিতে এই অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এই কর্মসূচির আওতায় ডেঙ্গুপ্রবণ ও ডেঙ্গু-অপ্রবণ অঞ্চলের ২৮ হাজারের বেশি ব্যক্তিকে নিয়ে ১৯টি ট্রায়াল পরিচালিত হয়। এর মধ্যে ফেজ-৩ ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে ডেঙ্গুপ্রবণ আটটি দেশের ২০ হাজারের বেশি মানুষ অংশ নিয়েছিলেন।
তাকেদার তথ্যমতে, দ্বিতীয় ডোজ নেওয়ার ১২ মাস পর পরীক্ষাগারে নিশ্চিত ডেঙ্গু প্রতিরোধে টিকাটির কার্যকারিতা ৮০ দশমিক ২ শতাংশ। এছাড়া ১৮ মাস পর ডেঙ্গুজনিত কারণে হাসপাতালে ভর্তি প্রতিরোধে এর কার্যকারিতা ৯০ দশমিক ৪ শতাংশ। সাড়ে চার বছরের ফলোআপ বিশ্লেষণে হাসপাতালে ভর্তি প্রতিরোধে এর কার্যকারিতা ৮৪ দশমিক ১ শতাংশ পাওয়া গেছে। সাত বছর পর্যন্ত ফলোআপে দেখা গেছে, এটি চারটি সেরোটাইপের বিরুদ্ধেই দীর্ঘস্থায়ী সুরক্ষা দেয়।
ভারতে ৪ থেকে ৬০ বছর বয়সীদের নিয়ে পরিচালিত ফেজ-৩ ট্রায়ালের ফলাফলেও টিকাটি শিশু, কিশোর ও প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য নিরাপদ ও সহনীয় হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে। বর্তমানে এশিয়া, লাতিন আমেরিকা ও ইউরোপের ৪৩টি দেশে কিউডেঙ্গা অনুমোদিত। এটি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রি-কোয়ালিফিকেশন অর্জন করেছে এবং সংস্থাটি উচ্চ সংক্রমণশীল এলাকায় এটি ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে। বর্তমানে ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, কলম্বিয়া ও ইন্দোনেশিয়ায় সরকারি টিকাদান কর্মসূচিতে কিউডেঙ্গা ব্যবহৃত হচ্ছে। কোম্পানিটি জানিয়েছে, ভারতে টিকাটি পরিকল্পিতভাবে সরবরাহ ও সহজলভ্য করতে তারা দেশটির নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ, জনস্বাস্থ্যসংশ্লিষ্ট অংশীজন এবং স্বাস্থ্যসেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করবে।

























