ঢাকা ১২:০৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিশ্বকাপ ফাইনালে লাল কার্ড: এনজো ফার্নান্দেজ ও ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১১:১১:৩৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬ ৬ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বিশ্বকাপ ফাইনালের মঞ্চে লাল কার্ডের কথা উঠলেই ফুটবলপ্রেমীদের মনে প্রথমেই ভেসে ওঠে ২০০৬ সালে জিনেদিন জিদানের সেই আলোচিত ঘটনার কথা। ফ্রান্সের অধিনায়ক জিদান ইতালির মার্কো মাতেরাজ্জিকে ঢুস মেরে সরাসরি লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন, যা এখনো অনেকের মনে গভীর ক্ষতের সৃষ্টি করে। অনেক ভক্তই বিশ্বাস করেন, সেদিন জিদান মাঠে থাকলে হয়তো ম্যাচের ফলাফল ভিন্ন হতে পারত।

সেই একই আক্ষেপ এখন ভর করেছে এনজো ফার্নান্দেজের ওপর। স্পেনের বিপক্ষে ফাইনাল ম্যাচে ৯৩ মিনিটে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়ার পর আর্জেন্টিনার জন্য ম্যাচটি কঠিন হয়ে পড়ে। এনজো লাল কার্ড না দেখলে হয়তো আর্জেন্টিনা ভালো লড়াই করতে পারত, যেমনটা সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তার সমতাসূচক গোলটি দলকে উজ্জীবিত করেছিল। কিন্তু এনজোর বিদায়ের পর ১০ জনের দলে পরিণত হওয়া আর্জেন্টিনা শেষ পর্যন্ত স্পেনের কাছে হার মানে।

বিশ্বকাপে লাল-হলুদ কার্ডের প্রথা ১৯৭০ সালে শুরু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত মোট ছয়জন খেলোয়াড় ফাইনালে লাল কার্ড দেখেছেন। এর মধ্যে তিনজনেরই দেশের নাম আর্জেন্টিনা। ১৯৯০ সালের ফাইনালে জার্মানির ইয়ুর্গেন ক্লিন্সমানকে ফাউল করে আর্জেন্টিনার ডিফেন্ডার পেদ্রো মোনজোন প্রথম লাল কার্ড দেখেন। এর ২২ মিনিট পর গুস্তাভো দেজোত্তি দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লে আর্জেন্টিনা ৯ জনের দলে পরিণত হয় এবং পশ্চিম জার্মানির কাছে ১-০ গোলে শিরোপা হারায়।

২০১০ সালের ফাইনালে নেদারল্যান্ডসের জন হেইতিঙ্গা লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন। প্রথমে ৫৭ মিনিটে এবং পরবর্তীতে ১০৯ মিনিটে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখার পর তিনি মাঠ ত্যাগ করেন। হেইতিঙ্গার বিদায়ের পর ১০ জনের নেদারল্যান্ডস আর লড়াই করতে পারেনি এবং ইনিয়েস্তার গোলে স্পেন জয়ী হয়। এরপর টানা তিনটি ফাইনাল লাল কার্ড ছাড়াই শেষ হয়েছিল। অবশেষে ১৬ বছর পর এনজো ফার্নান্দেজের লাল কার্ডের মাধ্যমে সেই ধারা আবারও ফিরে এল। এনজো ৮২ মিনিটে প্রথম হলুদ কার্ড দেখার পর ৯৩ মিনিটে পাও কুবারসিকে ফাউল করে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড ও লাল কার্ড দেখেন।

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

বিশ্বকাপ ফাইনালে লাল কার্ড: এনজো ফার্নান্দেজ ও ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি

আপডেট সময় : ১১:১১:৩৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬

বিশ্বকাপ ফাইনালের মঞ্চে লাল কার্ডের কথা উঠলেই ফুটবলপ্রেমীদের মনে প্রথমেই ভেসে ওঠে ২০০৬ সালে জিনেদিন জিদানের সেই আলোচিত ঘটনার কথা। ফ্রান্সের অধিনায়ক জিদান ইতালির মার্কো মাতেরাজ্জিকে ঢুস মেরে সরাসরি লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন, যা এখনো অনেকের মনে গভীর ক্ষতের সৃষ্টি করে। অনেক ভক্তই বিশ্বাস করেন, সেদিন জিদান মাঠে থাকলে হয়তো ম্যাচের ফলাফল ভিন্ন হতে পারত।

সেই একই আক্ষেপ এখন ভর করেছে এনজো ফার্নান্দেজের ওপর। স্পেনের বিপক্ষে ফাইনাল ম্যাচে ৯৩ মিনিটে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়ার পর আর্জেন্টিনার জন্য ম্যাচটি কঠিন হয়ে পড়ে। এনজো লাল কার্ড না দেখলে হয়তো আর্জেন্টিনা ভালো লড়াই করতে পারত, যেমনটা সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তার সমতাসূচক গোলটি দলকে উজ্জীবিত করেছিল। কিন্তু এনজোর বিদায়ের পর ১০ জনের দলে পরিণত হওয়া আর্জেন্টিনা শেষ পর্যন্ত স্পেনের কাছে হার মানে।

বিশ্বকাপে লাল-হলুদ কার্ডের প্রথা ১৯৭০ সালে শুরু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত মোট ছয়জন খেলোয়াড় ফাইনালে লাল কার্ড দেখেছেন। এর মধ্যে তিনজনেরই দেশের নাম আর্জেন্টিনা। ১৯৯০ সালের ফাইনালে জার্মানির ইয়ুর্গেন ক্লিন্সমানকে ফাউল করে আর্জেন্টিনার ডিফেন্ডার পেদ্রো মোনজোন প্রথম লাল কার্ড দেখেন। এর ২২ মিনিট পর গুস্তাভো দেজোত্তি দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লে আর্জেন্টিনা ৯ জনের দলে পরিণত হয় এবং পশ্চিম জার্মানির কাছে ১-০ গোলে শিরোপা হারায়।

২০১০ সালের ফাইনালে নেদারল্যান্ডসের জন হেইতিঙ্গা লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন। প্রথমে ৫৭ মিনিটে এবং পরবর্তীতে ১০৯ মিনিটে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখার পর তিনি মাঠ ত্যাগ করেন। হেইতিঙ্গার বিদায়ের পর ১০ জনের নেদারল্যান্ডস আর লড়াই করতে পারেনি এবং ইনিয়েস্তার গোলে স্পেন জয়ী হয়। এরপর টানা তিনটি ফাইনাল লাল কার্ড ছাড়াই শেষ হয়েছিল। অবশেষে ১৬ বছর পর এনজো ফার্নান্দেজের লাল কার্ডের মাধ্যমে সেই ধারা আবারও ফিরে এল। এনজো ৮২ মিনিটে প্রথম হলুদ কার্ড দেখার পর ৯৩ মিনিটে পাও কুবারসিকে ফাউল করে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড ও লাল কার্ড দেখেন।

Facebook Comments Box