ঢাকা ০৭:১০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে সফটওয়্যার প্রোগ্রামার নিয়োগ: আবেদনের সুযোগ ভালুকায় সেলুন ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে জখম করে মৃত্যুর ঘটনায় অভিযোগ সুন্দরবনে দস্যুদের সাথে বন্দুকযুদ্ধ, জিম্মি থেকে ৫ জেলে উদ্ধার বকেয়া বেতনের দাবিতে চালডাল কর্মীদের বিক্ষোভ ও ভাঙচুর বাংলাদেশে স্বাস্থ্য খাতে সহায়তা বাড়াতে সাসাকাওয়া ফাউন্ডেশনের প্রতি আহ্বান উখিয়ায় নলকূপ খননের সময় অগ্নিকাণ্ড: নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে সেনাবাহিনী আইজিপি’র ‘ক্রসফায়ার’ সম্পর্কিত বক্তব্যের অপব্যাখ্যা অপরাধীদের উৎসাহিত করবে সৌদির রাস তানুরা তেল শোধনাগারে হামলার দাবি হুতিদের দেশে ডেঙ্গুতে একদিনে সর্বোচ্চ মৃত্যু, মোট প্রাণহানি ৪০০ ছাড়াল নওগাঁয় শ্যালিকাকে বিয়ে, যুবক ও দুই স্ত্রীর মুখে চুনকালি দিয়ে গ্রামছাড়া

কুড়িগ্রামে বছরের সর্বোচ্চ ১৮৮.৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০৯:৫৪:০২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬ ১৯০৫৫ বার পড়া হয়েছে

কুড়িগ্রামে বছরের সর্বোচ্চ ১৮৮.৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড

(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

 

 

কুড়িগ্রামে বছরের সর্বোচ্চ ১৮৮.৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড

 

 

 

কুড়িগ্রামে এ বছরের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ১৮৮.৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস। টানা বর্ষণে জনজীবনে নেমে এসেছে দুর্ভোগ। সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন বোরো চাষি ও দিনমজুর মানুষরা।

 

 

বুধবার (১৩ মে) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন, কুড়িগ্রামের রাজারহাট কৃষি আবহাওয়া অফিসের কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকার।

 

 

জানা গেছে, মঙ্গলবার রাত থেকেই জেলায় মুষলধারে বৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে। টানা বর্ষণের কারণে বিভিন্ন এলাকায় জমে গেছে পানি। এতে জেলা শহরের বিভিন্ন এলাকার রাস্তা বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় ভোগান্তিতে পরেছে সাধারণ মানুষ। বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারী অফিসের সামনে হাটু পানি জমে যাওয়ায় যাতায়াতে বিপাকে পরেছেন কর্মকর্তা- কর্মচারিগণ।

পড়ুন>> ৪ মাস ২৩ দিন পর ফের চালু হচ্ছে রৌমারী-চিলমারী ফেরি চলাচল

 

 

 

বিশেষ করে পাকা ধান কাটতে না পেরে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা। পাশাপাশি কাজ হারিয়ে বিপাকে পড়েছেন খেটে খাওয়া মানুষ।

 

 

 

সদর উপজেলার হলোখানা ইউনিয়নের খলিফার মোড় এলাকার দিনমজুর আজিজুল মিয়া বলেন, “বৃষ্টির কারণে ঘর থেকে বের হতে পারছি না। আজ কাজও বন্ধ। একদিন কাজ না করলে সংসার চালানো খুব কষ্ট হয়ে যায়।

 

 

 

সদর পৌর এলাকার কৃষক আজাদ মিয়া বলেন, আমার পাকা ধান বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে। ধান কাটা নিয়ে খুব টেনশনে আছি। এত বৃষ্টির মধ্যে কীভাবে ধান কাটবো বুঝতে পারছি না।

 

 

 

উলিপুর উপজেলার বেগমগঞ্জ ইউনিয়নের মোল্লার হাট এলাকার কৃষক মোঃ মতিয়ার রহমান বলেন, যে বৃষ্টি হইছে, তাতে চিন্তায় পরছি, গতকালও ধানক্ষেত দেখে এসেছি ধান কাটতে আরও ৫/৬ দিন লাগবে এখনতো ধান ডুবে যাওয়ার অবস্থা, কিযে হবে আল্লায় জানে।

পড়ুন>>ভূরুঙ্গামারীতে গভীর রাতে স্কুলে দুঃসাহসিক চুরি: তালা ভেঙে প্রজেক্টর-সাউন্ড সিস্টেম উধাও

 

 

সদর উপজেলার পাচগাছী ইউনিয়নের ছত্রপুর গ্রামের হাফেজ রশিদ আহমেদ বলেন, ধান আবাদ করতে যে খরচ হয়, সে হিসেবে ধানের দাম পাইনা, এমনি চিন্তায় আছি,যে ধানকাটা কামলার (ধান কাটা দিনমজুর ) দাম তার উপর যে পরিমাণ বৃষ্টি হলো আমার ধানক্ষেত ডুবো-ডুবো অবস্থা বৃষ্টি না কমলে মনে হয় ধান আর তুলবার পাইনা না পাই এই চিন্তায় বাছিনা।

 

 

 

 

এদিকে অতিরিক্ত বৃষ্টির কারনে শহরের বেশির ভাগ অংশ হাটু পানিতে ডুবে যাওয়ায় জনদুর্ভোগ চরমে, পৌর শহরের সুজামের মোড় এলাকার মুদি দোকানদার রিপন মিয়া বলেন,এমনিতে শহরের রাস্তার বেহাল দশা তার উপর এতো বৃষ্টি,কাষ্টমার নাই বললেই চলে, কিন্তুু সংসার চালাতে এই বৃষ্টির মধ্যেও দোকান খুলছি।

 

 

 

ঘোষপাড়া এলাকার বাসিন্দা কাঠ মিস্ত্রি সৈয়দ আলম বলেন, যে বৃষ্টি হয়েছে, মনে হয় গত কয়েক বছর এতো বৃষ্টি হয় নাই, বৃষ্টির কারনে কাজে যেতে পারিনাই, কষ্টের মধ্যে আছি।

আরও পড়ুন>> ভোরের হাটে বিক্রি হয় শ্রম: রাণীশংকৈলে প্রতিদিন কাজের আশায় শত শত মানুষ

 

 

কুড়িগ্রামের রাজারহাট কৃষি আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকার জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ১৮৮.৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা চলতি বছরের সর্বোচ্চ। আগামী ৭২ ঘণ্টায় আরও ভারি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে বলেও জানান তিনি।

 

 

 

 

এবিষয়ে কালবেলা প্রতিনিধিকে জেলা কৃষি বিভাগের উপ-পরিচালক আব্দুল্লা আল মামুন বলেন, এবছরে গতকাল সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত হয়েছে, এতে জেলার প্রায় ৫১ হেক্টর আবাদী জমির ফসল ক্ষতিরমূখে পরতে পারে বলে আমরা আশঙ্কা করছি, কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা মাঠে কৃষকদের সাথে সার্বক্ষনিক যোগাযোগ রাখছেন, ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করছে জেলা কৃষিবিভাগ।

 

 

 

কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক অর্ণপূর্ণা দেবনাথ বলেন, এ বছরের মধ্যে আজ সর্বোচ্চ বৃষ্টি হয়েছে, যার কারণে বিভিন্নস্থানে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে, আমি পৌরসভার কতৃপক্ষ সহ সকল বিভাগকে দ্রুত জলাবদ্ধতা দুরতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের নির্দেশ দিয়েছি, এবং অতি বৃষ্টির কারণে ধানক্ষেত সহ অন্যান্য ফসলাদির ক্ষয়ক্ষতি যাতে কমানো যায় সেদিকে লক্ষ্য রাখছি, প্রশাসনের পক্ষথেকে কৃষকদের সব ধরনের সহায়তা প্রদান করা হবে বলে তিনি জানান।

 

 

 

 

 

 

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

কুড়িগ্রামে বছরের সর্বোচ্চ ১৮৮.৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড

আপডেট সময় : ০৯:৫৪:০২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬

 

 

 

কুড়িগ্রামে বছরের সর্বোচ্চ ১৮৮.৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড

 

 

 

কুড়িগ্রামে এ বছরের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ১৮৮.৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস। টানা বর্ষণে জনজীবনে নেমে এসেছে দুর্ভোগ। সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন বোরো চাষি ও দিনমজুর মানুষরা।

 

 

বুধবার (১৩ মে) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন, কুড়িগ্রামের রাজারহাট কৃষি আবহাওয়া অফিসের কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকার।

 

 

জানা গেছে, মঙ্গলবার রাত থেকেই জেলায় মুষলধারে বৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে। টানা বর্ষণের কারণে বিভিন্ন এলাকায় জমে গেছে পানি। এতে জেলা শহরের বিভিন্ন এলাকার রাস্তা বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় ভোগান্তিতে পরেছে সাধারণ মানুষ। বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারী অফিসের সামনে হাটু পানি জমে যাওয়ায় যাতায়াতে বিপাকে পরেছেন কর্মকর্তা- কর্মচারিগণ।

পড়ুন>> ৪ মাস ২৩ দিন পর ফের চালু হচ্ছে রৌমারী-চিলমারী ফেরি চলাচল

 

 

 

বিশেষ করে পাকা ধান কাটতে না পেরে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা। পাশাপাশি কাজ হারিয়ে বিপাকে পড়েছেন খেটে খাওয়া মানুষ।

 

 

 

সদর উপজেলার হলোখানা ইউনিয়নের খলিফার মোড় এলাকার দিনমজুর আজিজুল মিয়া বলেন, “বৃষ্টির কারণে ঘর থেকে বের হতে পারছি না। আজ কাজও বন্ধ। একদিন কাজ না করলে সংসার চালানো খুব কষ্ট হয়ে যায়।

 

 

 

সদর পৌর এলাকার কৃষক আজাদ মিয়া বলেন, আমার পাকা ধান বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে। ধান কাটা নিয়ে খুব টেনশনে আছি। এত বৃষ্টির মধ্যে কীভাবে ধান কাটবো বুঝতে পারছি না।

 

 

 

উলিপুর উপজেলার বেগমগঞ্জ ইউনিয়নের মোল্লার হাট এলাকার কৃষক মোঃ মতিয়ার রহমান বলেন, যে বৃষ্টি হইছে, তাতে চিন্তায় পরছি, গতকালও ধানক্ষেত দেখে এসেছি ধান কাটতে আরও ৫/৬ দিন লাগবে এখনতো ধান ডুবে যাওয়ার অবস্থা, কিযে হবে আল্লায় জানে।

পড়ুন>>ভূরুঙ্গামারীতে গভীর রাতে স্কুলে দুঃসাহসিক চুরি: তালা ভেঙে প্রজেক্টর-সাউন্ড সিস্টেম উধাও

 

 

সদর উপজেলার পাচগাছী ইউনিয়নের ছত্রপুর গ্রামের হাফেজ রশিদ আহমেদ বলেন, ধান আবাদ করতে যে খরচ হয়, সে হিসেবে ধানের দাম পাইনা, এমনি চিন্তায় আছি,যে ধানকাটা কামলার (ধান কাটা দিনমজুর ) দাম তার উপর যে পরিমাণ বৃষ্টি হলো আমার ধানক্ষেত ডুবো-ডুবো অবস্থা বৃষ্টি না কমলে মনে হয় ধান আর তুলবার পাইনা না পাই এই চিন্তায় বাছিনা।

 

 

 

 

এদিকে অতিরিক্ত বৃষ্টির কারনে শহরের বেশির ভাগ অংশ হাটু পানিতে ডুবে যাওয়ায় জনদুর্ভোগ চরমে, পৌর শহরের সুজামের মোড় এলাকার মুদি দোকানদার রিপন মিয়া বলেন,এমনিতে শহরের রাস্তার বেহাল দশা তার উপর এতো বৃষ্টি,কাষ্টমার নাই বললেই চলে, কিন্তুু সংসার চালাতে এই বৃষ্টির মধ্যেও দোকান খুলছি।

 

 

 

ঘোষপাড়া এলাকার বাসিন্দা কাঠ মিস্ত্রি সৈয়দ আলম বলেন, যে বৃষ্টি হয়েছে, মনে হয় গত কয়েক বছর এতো বৃষ্টি হয় নাই, বৃষ্টির কারনে কাজে যেতে পারিনাই, কষ্টের মধ্যে আছি।

আরও পড়ুন>> ভোরের হাটে বিক্রি হয় শ্রম: রাণীশংকৈলে প্রতিদিন কাজের আশায় শত শত মানুষ

 

 

কুড়িগ্রামের রাজারহাট কৃষি আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকার জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ১৮৮.৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা চলতি বছরের সর্বোচ্চ। আগামী ৭২ ঘণ্টায় আরও ভারি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে বলেও জানান তিনি।

 

 

 

 

এবিষয়ে কালবেলা প্রতিনিধিকে জেলা কৃষি বিভাগের উপ-পরিচালক আব্দুল্লা আল মামুন বলেন, এবছরে গতকাল সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত হয়েছে, এতে জেলার প্রায় ৫১ হেক্টর আবাদী জমির ফসল ক্ষতিরমূখে পরতে পারে বলে আমরা আশঙ্কা করছি, কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা মাঠে কৃষকদের সাথে সার্বক্ষনিক যোগাযোগ রাখছেন, ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করছে জেলা কৃষিবিভাগ।

 

 

 

কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক অর্ণপূর্ণা দেবনাথ বলেন, এ বছরের মধ্যে আজ সর্বোচ্চ বৃষ্টি হয়েছে, যার কারণে বিভিন্নস্থানে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে, আমি পৌরসভার কতৃপক্ষ সহ সকল বিভাগকে দ্রুত জলাবদ্ধতা দুরতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের নির্দেশ দিয়েছি, এবং অতি বৃষ্টির কারণে ধানক্ষেত সহ অন্যান্য ফসলাদির ক্ষয়ক্ষতি যাতে কমানো যায় সেদিকে লক্ষ্য রাখছি, প্রশাসনের পক্ষথেকে কৃষকদের সব ধরনের সহায়তা প্রদান করা হবে বলে তিনি জানান।

 

 

 

 

 

 

Facebook Comments Box