ঢাকা ০৯:৫৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
নতুন তথ্য: ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের দুই বন্দীর মৃত্যু ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য টেকসই বিশ্ব গড়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর ভবিষ্যতের বাসযোগ্য শহর নিয়ে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিতে লেকচার দিলেন ক্যাম্পাসের স্থপতি ওয়ং মান সাম আইডিএফ-এ ৬৯৩ জনের বিশাল নিয়োগ, আবেদন করুন অক্টোবরের মধ্যে বিদেশগামী কর্মীদের কল্যাণ ফি বাড়িয়ে ৫,৫০০ টাকা নির্ধারণ আইপিএলের পরবর্তী মিনি নিলাম বসবে গোয়ায় ভৈরবে জেলি মেশানো চিংড়ি বিক্রি: ৩ ব্যবসায়ীকে অর্থদণ্ড জাতীয় সংসদের হুইপ দুলুর সঙ্গে ওয়ান পাউন্ড জেনারেল হাসপাতাল প্রতিনিধিদের সাক্ষাৎ ১৮তম জুডিশিয়াল সার্ভিসে সহকারী জজ পদে ২০০ জন মনোনীত বিএমএসএসের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান খন্দকার আছিফুর রহমান তোতা আর নেই

বকুলতলী মহিলা সংস্থার নির্বাহী পরিচালকের পদত্যাগ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:৫৪:৫০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৮ অগাস্ট ২০২০ ৫০৬ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ভূরুঙ্গামারী(কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধিঃভূরুঙ্গামারীতে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগের প্রেক্ষিতে বকুলতলী মহিলা সংস্থার নির্বাহী পরিচালকের পদত্যাগের ঘটনা ঘটেছে। পদত্যাগ পত্র গ্রহণ না করে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করা ও নানা ধরনের হুমকী প্রদর্শনের অভিযোগে ঐ নির্বাহী পরিচালক এনজিওটির চেয়ারম্যানকে লিগাল নোটিশ প্রেরণ করেছে।বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগে জানাগেছে, উপজেলার জয়মনির হাট ইউনিয়নে অবস্থিত বকুলতলী মহিলা সংস্থা (বিএমএস) নামে একটি সংস্থা গত ১৬ ডিসেম্বর-২০১৬ তারিখে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় নির্মাণ ও বিদ্যালয়ের শিক্ষা উপকরণ ক্রয়ের লক্ষ্যে দাতা সংস্থা ‘টু গেদার মেকিং এ ডিফারেন্স-ইউকে’ এর সাথে চুক্তিবদ্ধ হয়। চুক্তি নামার ফলে সংস্থাটি ১৭ ফেব্রুয়ারী- ২০১৯ সালে এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর নিবন্ধন পায়। যার নিবন্ধন নং ৩১৯০। এনজিওটি নিবন্ধন পাওয়ার আগে উক্ত সংস্থার মাধ্যমে ব্র্যাকের আর্থিক সহায়তায় ইএসপি শিক্ষা কার্যক্রমে পিও হিসাবে অভিজ্ঞতা থাকায় মো: আব্দুল হককে সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক হিসাবে নিয়োগ দেয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে নামমাত্র নির্বাহী পরিচালক নিয়োগ দিয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য সংস্থার চেয়ারম্যান বিউটি খাতুন ও তার স্বামী ফজলুল হক প্রোগ্রাম-কোঅর্ডিনেটর সেজে দাতা সংস্থার সাথে চুক্তি সম্পাদন করে। যা বিধি বহির্ভূত। এরপর সংস্থাটি চুক্তি অনুযায়ী দাতা সংস্থার কাছ থেকে ব্যাংক মারফত ১৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা এবং বিভিন্ন সময় মানিগ্রামের মাধ্যমে আরো ১০ লাখ ৯৯ হাজার ২শত ৩৬ টাকা গ্রহণ করে। এছাড়াও প্রকল্প শুরুর আগে তিনজন শিক্ষকের বেতন বাবদ মানিগ্রামের মাধ্যমে ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা সহ সর্বমোট প্রায় ২৮ লাখ টাকা গ্রহণ করে। এতো টাকা প্রকল্প বাবদ বরাদ্দ থাকলেও কমিটির সদস্যদের অবগত না করে স্বামী-স্ত্রী মিলে দায়সারা ভাবে নির্মাণ কাজ সম্পাদন করেন। উল্লেখ্য এনজিও ব্যুরো ১৪ লাখ ৮২ হাজার টাকা প্রকল্প ব্যয়ের অনুমোদন দিলেও বিধি বহির্ভুত ভাবে ২৮ লাখ টাকা অনুদান গ্রহণ করা হয়েছে এবং শুধু মাত্র ব্যাংকে আসা ১৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকার অডিট সম্পাদন করা হয়। জানাযায়, এখন পর্যন্ত দাতা সংস্থা টিএমএডি-কে চুড়ান্ত রিপোর্ট প্রদান করলেও সোলার প্যানেল,স্টিল আলমিরা,টিচার্স টেবিল, চেয়ার ও ল্যাপটপ সহ আরো ১০ রকমের জিনিস কেনা হয়নি। পরে অভিযোগ দায়েরের পর নিম্মামানের সামগ্রী ক্রয় করে দায় এড়ানোর চেষ্টা চালিয়েছে। শুধু তাই নয়, শিক্ষকদের বেতন ৫ হাজার এর স্থলে ২১৫০ এবং শিক্ষার্থীদের নিম্নমানের ইউনিফর্ম দেয়া হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, দাতা সংস্থা টিএমএডি-কে দেখানোর জন্য আলাদাভাবে তিনজন শিক্ষক দিয়ে বিদ্যালয়টি পরিচালনা করলেও সংস্থার চেয়ারম্যান বিউটি খাতুন, তার মেয়ে ফেলেমি খাতুন ও বড় জা শেফালী খাতুনকে শিক্ষক দেখিয়ে গোপনে বিদ্যালয়টি সরকারী করনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এমতোবস্থায় অনিয়মের অভিযোগ আসতে পারে মনে করে সংস্থার নির্বাহী পরিচালক আব্দুল হক গত ২ মার্চ-২০২০ তারিখে নির্বাহী পরিচালকের পদ থেকে অব্যাহতি চেয়ে একটি আবেদন পত্র দাখিল করেন। কিন্ত সংস্থার চেয়ারম্যান অব্যাহতি পত্র গ্রহণ নাকরে নির্বাহী পরিচালককে কারন দর্শানোর নোটিশসহ বিভিন্ন প্রকার ভয়ভীতি প্রদর্শন করতে থাকেন। পরে নির্বাহী পরিচালক গত ৮ জুলাই-২০২০ তারিখে এড. মোজাম্মেল হকের মাধ্যমে সংস্থার চেয়ারম্যানকে লিগ্যাল নোটিশ প্রেরণ করেন। বিএমএস মডেল প্রাইমারী স্কুলের শিক্ষিকা নাজমা খাতুন,লিপি খাতুন ও রুমানা খাতুন বেতন ২হাজার ১শত ৫০ টাকা পান বলে জানিয়েছেন। এব্যাপারে সংস্থাটির চেয়ারম্যান বিউটি খাতুনের সাথে মেবাইল ফোনে কথা বলার চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তার স্বামী প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর ফজলুল হক জানান, নির্বাহী পরিচালক দুই স্থানে চাকুরী করে। অর্থের অনিয়ম হলে নির্বাহী পরিচালক হিসাবে দায়িত্ব তার। তিনি দাবী করেন তার পছন্দের একজন শিক্ষিকা নিয়োগ না দেয়ায় প্রতিষ্ঠানটির ভাবমুর্তি ক্ষুন্নের চেষ্টা চালিয়েছে। পদত্যাগী নির্বাহী পরিচালক আব্দুল হক জানান, আমার পদত্যাগ পত্র গ্রহণ না করায় এবং মামলার ভয়ভীতি দেখায় আমি লিগ্যাল নোটিশ প্রদান করেছি।

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

বকুলতলী মহিলা সংস্থার নির্বাহী পরিচালকের পদত্যাগ

আপডেট সময় : ০৪:৫৪:৫০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৮ অগাস্ট ২০২০

ভূরুঙ্গামারী(কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধিঃভূরুঙ্গামারীতে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগের প্রেক্ষিতে বকুলতলী মহিলা সংস্থার নির্বাহী পরিচালকের পদত্যাগের ঘটনা ঘটেছে। পদত্যাগ পত্র গ্রহণ না করে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করা ও নানা ধরনের হুমকী প্রদর্শনের অভিযোগে ঐ নির্বাহী পরিচালক এনজিওটির চেয়ারম্যানকে লিগাল নোটিশ প্রেরণ করেছে।বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগে জানাগেছে, উপজেলার জয়মনির হাট ইউনিয়নে অবস্থিত বকুলতলী মহিলা সংস্থা (বিএমএস) নামে একটি সংস্থা গত ১৬ ডিসেম্বর-২০১৬ তারিখে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় নির্মাণ ও বিদ্যালয়ের শিক্ষা উপকরণ ক্রয়ের লক্ষ্যে দাতা সংস্থা ‘টু গেদার মেকিং এ ডিফারেন্স-ইউকে’ এর সাথে চুক্তিবদ্ধ হয়। চুক্তি নামার ফলে সংস্থাটি ১৭ ফেব্রুয়ারী- ২০১৯ সালে এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর নিবন্ধন পায়। যার নিবন্ধন নং ৩১৯০। এনজিওটি নিবন্ধন পাওয়ার আগে উক্ত সংস্থার মাধ্যমে ব্র্যাকের আর্থিক সহায়তায় ইএসপি শিক্ষা কার্যক্রমে পিও হিসাবে অভিজ্ঞতা থাকায় মো: আব্দুল হককে সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক হিসাবে নিয়োগ দেয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে নামমাত্র নির্বাহী পরিচালক নিয়োগ দিয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য সংস্থার চেয়ারম্যান বিউটি খাতুন ও তার স্বামী ফজলুল হক প্রোগ্রাম-কোঅর্ডিনেটর সেজে দাতা সংস্থার সাথে চুক্তি সম্পাদন করে। যা বিধি বহির্ভূত। এরপর সংস্থাটি চুক্তি অনুযায়ী দাতা সংস্থার কাছ থেকে ব্যাংক মারফত ১৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা এবং বিভিন্ন সময় মানিগ্রামের মাধ্যমে আরো ১০ লাখ ৯৯ হাজার ২শত ৩৬ টাকা গ্রহণ করে। এছাড়াও প্রকল্প শুরুর আগে তিনজন শিক্ষকের বেতন বাবদ মানিগ্রামের মাধ্যমে ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা সহ সর্বমোট প্রায় ২৮ লাখ টাকা গ্রহণ করে। এতো টাকা প্রকল্প বাবদ বরাদ্দ থাকলেও কমিটির সদস্যদের অবগত না করে স্বামী-স্ত্রী মিলে দায়সারা ভাবে নির্মাণ কাজ সম্পাদন করেন। উল্লেখ্য এনজিও ব্যুরো ১৪ লাখ ৮২ হাজার টাকা প্রকল্প ব্যয়ের অনুমোদন দিলেও বিধি বহির্ভুত ভাবে ২৮ লাখ টাকা অনুদান গ্রহণ করা হয়েছে এবং শুধু মাত্র ব্যাংকে আসা ১৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকার অডিট সম্পাদন করা হয়। জানাযায়, এখন পর্যন্ত দাতা সংস্থা টিএমএডি-কে চুড়ান্ত রিপোর্ট প্রদান করলেও সোলার প্যানেল,স্টিল আলমিরা,টিচার্স টেবিল, চেয়ার ও ল্যাপটপ সহ আরো ১০ রকমের জিনিস কেনা হয়নি। পরে অভিযোগ দায়েরের পর নিম্মামানের সামগ্রী ক্রয় করে দায় এড়ানোর চেষ্টা চালিয়েছে। শুধু তাই নয়, শিক্ষকদের বেতন ৫ হাজার এর স্থলে ২১৫০ এবং শিক্ষার্থীদের নিম্নমানের ইউনিফর্ম দেয়া হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, দাতা সংস্থা টিএমএডি-কে দেখানোর জন্য আলাদাভাবে তিনজন শিক্ষক দিয়ে বিদ্যালয়টি পরিচালনা করলেও সংস্থার চেয়ারম্যান বিউটি খাতুন, তার মেয়ে ফেলেমি খাতুন ও বড় জা শেফালী খাতুনকে শিক্ষক দেখিয়ে গোপনে বিদ্যালয়টি সরকারী করনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এমতোবস্থায় অনিয়মের অভিযোগ আসতে পারে মনে করে সংস্থার নির্বাহী পরিচালক আব্দুল হক গত ২ মার্চ-২০২০ তারিখে নির্বাহী পরিচালকের পদ থেকে অব্যাহতি চেয়ে একটি আবেদন পত্র দাখিল করেন। কিন্ত সংস্থার চেয়ারম্যান অব্যাহতি পত্র গ্রহণ নাকরে নির্বাহী পরিচালককে কারন দর্শানোর নোটিশসহ বিভিন্ন প্রকার ভয়ভীতি প্রদর্শন করতে থাকেন। পরে নির্বাহী পরিচালক গত ৮ জুলাই-২০২০ তারিখে এড. মোজাম্মেল হকের মাধ্যমে সংস্থার চেয়ারম্যানকে লিগ্যাল নোটিশ প্রেরণ করেন। বিএমএস মডেল প্রাইমারী স্কুলের শিক্ষিকা নাজমা খাতুন,লিপি খাতুন ও রুমানা খাতুন বেতন ২হাজার ১শত ৫০ টাকা পান বলে জানিয়েছেন। এব্যাপারে সংস্থাটির চেয়ারম্যান বিউটি খাতুনের সাথে মেবাইল ফোনে কথা বলার চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তার স্বামী প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর ফজলুল হক জানান, নির্বাহী পরিচালক দুই স্থানে চাকুরী করে। অর্থের অনিয়ম হলে নির্বাহী পরিচালক হিসাবে দায়িত্ব তার। তিনি দাবী করেন তার পছন্দের একজন শিক্ষিকা নিয়োগ না দেয়ায় প্রতিষ্ঠানটির ভাবমুর্তি ক্ষুন্নের চেষ্টা চালিয়েছে। পদত্যাগী নির্বাহী পরিচালক আব্দুল হক জানান, আমার পদত্যাগ পত্র গ্রহণ না করায় এবং মামলার ভয়ভীতি দেখায় আমি লিগ্যাল নোটিশ প্রদান করেছি।

Facebook Comments Box