ঢাকা ০৯:৫৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
নতুন তথ্য: ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের দুই বন্দীর মৃত্যু ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য টেকসই বিশ্ব গড়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর ভবিষ্যতের বাসযোগ্য শহর নিয়ে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিতে লেকচার দিলেন ক্যাম্পাসের স্থপতি ওয়ং মান সাম আইডিএফ-এ ৬৯৩ জনের বিশাল নিয়োগ, আবেদন করুন অক্টোবরের মধ্যে বিদেশগামী কর্মীদের কল্যাণ ফি বাড়িয়ে ৫,৫০০ টাকা নির্ধারণ আইপিএলের পরবর্তী মিনি নিলাম বসবে গোয়ায় ভৈরবে জেলি মেশানো চিংড়ি বিক্রি: ৩ ব্যবসায়ীকে অর্থদণ্ড জাতীয় সংসদের হুইপ দুলুর সঙ্গে ওয়ান পাউন্ড জেনারেল হাসপাতাল প্রতিনিধিদের সাক্ষাৎ ১৮তম জুডিশিয়াল সার্ভিসে সহকারী জজ পদে ২০০ জন মনোনীত বিএমএসএসের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান খন্দকার আছিফুর রহমান তোতা আর নেই

ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য টেকসই বিশ্ব গড়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:১৬:১১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ ও টেকসই পৃথিবী গড়ে তোলার লক্ষ্যে বিশ্ব নেতাদের সম্মিলিত উদ্যোগের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে বর্তমানে নিউইয়র্কে অবস্থানরত প্রধানমন্ত্রী স্থানীয় সময় বুধবার বিকালে জাতিসংঘ সদর দপ্তরের ট্রাস্টিশিপ কাউন্সিলে ‘ক্লাইমেট অ্যাকশন অ্যান্ড দ্য জাস্ট ট্রানজিশন’ শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের সভায় এ আহ্বান জানান। জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেসের উদ্যোগে আয়োজিত এই সভায় তিনি জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় বৈশ্বিক ঐক্যের ওপর জোর দেন।

প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, বৈশ্বিক গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণে বাংলাদেশের অবদান শূন্য দশমিক ৫ শতাংশেরও কম হলেও, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবে দেশটি অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে। শতাব্দী শেষ নাগাদ সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ফলে বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকার ১২ থেকে ১৮ শতাংশ ভূখণ্ড তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কার কথা তুলে ধরেন তিনি। এতে কোটি কোটি মানুষের জীবিকা ও খাদ্য নিরাপত্তা চরম হুমকির মুখে পড়বে বলে তিনি সতর্ক করেন। জলবায়ুর প্রভাবে বার্ষিক জিডিপির প্রায় ১ শতাংশ ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে বলেও তিনি জানান।

জলবায়ু অভিযোজনের গুরুত্ব অনুধাবন করে বর্তমান সরকার চলতি বাজেটে ৩ দশমিক ১৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বরাদ্দ রেখেছে। প্রধানমন্ত্রী জানান, আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর পরিকল্পনার পাশাপাশি প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার নদী ও খাল খনন করা হচ্ছে। এছাড়া পদ্মা ও তিস্তা ব্যারাজের মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন, নবায়নযোগ্য জ্বালানির সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং জাতীয় কার্বন বাজার গড়ে তোলার কাজ চলছে। তবে আন্তর্জাতিক সহায়তা ছাড়া এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা অসম্ভব বলে তিনি মন্তব্য করেন।

জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী পাঁচটি সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপের প্রস্তাব দিয়েছেন। প্রথমত, প্যারিস চুক্তির লক্ষ্য অনুযায়ী বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে সীমিত রাখতে নিঃসরণ কমাতে হবে। দ্বিতীয়ত, ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য অভিযোজন খাতে নিয়মিত ও সুলভ অর্থায়ন নিশ্চিত করতে হবে। তৃতীয়ত, জলবায়ু-স্মার্ট প্রযুক্তিতে সমান প্রবেশাধিকার তৈরি করতে হবে। চতুর্থত, প্রযুক্তি হস্তান্তর ও সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে হবে। সবশেষে, ক্ষয়ক্ষতি ও লোকসান তহবিল কার্যকর করে তা নিয়মিত অর্থায়নের ব্যবস্থা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ তার জলবায়ু সংক্রান্ত পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বৈশ্বিক অংশীদারত্বের প্রত্যাশা করে। ‘অভিন্ন কিন্তু পৃথক দায়িত্ব’ নীতির ভিত্তিতে ঐক্যবদ্ধ কার্যক্রমই কেবল ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রক্ষা করতে পারে। উল্লেখ্য যে, ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ বিতর্কে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরে বক্তব্য রাখবেন। চাকরির আরও তথ্য: একইসঙ্গে পানি সংরক্ষণ, বন্যার ঝুঁকি হ্রাস, জলাভূমি পুনরুজ্জীবন এবং ভূগর্ভস্থ পানির পুনর্ভরণের লক্ষ্যে প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার নদী ও খাল খননের কাজ চলছে। চাকরির আরও তথ্য: পদ্মা ব্যারাজ ও তিস্তা ব্যারাজের মাস্টার প্ল্যান বাস্তবায়নের কাজও এগিয়ে নেয়া হচ্ছে।’। চাকরির আরও তথ্য: ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের বিদ্যুতের চাহিদার ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে পূরণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পাশাপাশি পাটজাত পণ্য, পরিবেশবান্ধব পরিবহন, বর্জ্য থেকে জ্বালানি উৎপাদন ও সার্কুলার অর্থনীতির উদ্যোগসহ সবুজ শিল্পের প্রসারে।

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য টেকসই বিশ্ব গড়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

আপডেট সময় : ০৯:১৬:১১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ ও টেকসই পৃথিবী গড়ে তোলার লক্ষ্যে বিশ্ব নেতাদের সম্মিলিত উদ্যোগের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে বর্তমানে নিউইয়র্কে অবস্থানরত প্রধানমন্ত্রী স্থানীয় সময় বুধবার বিকালে জাতিসংঘ সদর দপ্তরের ট্রাস্টিশিপ কাউন্সিলে ‘ক্লাইমেট অ্যাকশন অ্যান্ড দ্য জাস্ট ট্রানজিশন’ শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের সভায় এ আহ্বান জানান। জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেসের উদ্যোগে আয়োজিত এই সভায় তিনি জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় বৈশ্বিক ঐক্যের ওপর জোর দেন।

প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, বৈশ্বিক গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণে বাংলাদেশের অবদান শূন্য দশমিক ৫ শতাংশেরও কম হলেও, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবে দেশটি অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে। শতাব্দী শেষ নাগাদ সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ফলে বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকার ১২ থেকে ১৮ শতাংশ ভূখণ্ড তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কার কথা তুলে ধরেন তিনি। এতে কোটি কোটি মানুষের জীবিকা ও খাদ্য নিরাপত্তা চরম হুমকির মুখে পড়বে বলে তিনি সতর্ক করেন। জলবায়ুর প্রভাবে বার্ষিক জিডিপির প্রায় ১ শতাংশ ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে বলেও তিনি জানান।

জলবায়ু অভিযোজনের গুরুত্ব অনুধাবন করে বর্তমান সরকার চলতি বাজেটে ৩ দশমিক ১৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বরাদ্দ রেখেছে। প্রধানমন্ত্রী জানান, আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর পরিকল্পনার পাশাপাশি প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার নদী ও খাল খনন করা হচ্ছে। এছাড়া পদ্মা ও তিস্তা ব্যারাজের মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন, নবায়নযোগ্য জ্বালানির সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং জাতীয় কার্বন বাজার গড়ে তোলার কাজ চলছে। তবে আন্তর্জাতিক সহায়তা ছাড়া এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা অসম্ভব বলে তিনি মন্তব্য করেন।

জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী পাঁচটি সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপের প্রস্তাব দিয়েছেন। প্রথমত, প্যারিস চুক্তির লক্ষ্য অনুযায়ী বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে সীমিত রাখতে নিঃসরণ কমাতে হবে। দ্বিতীয়ত, ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য অভিযোজন খাতে নিয়মিত ও সুলভ অর্থায়ন নিশ্চিত করতে হবে। তৃতীয়ত, জলবায়ু-স্মার্ট প্রযুক্তিতে সমান প্রবেশাধিকার তৈরি করতে হবে। চতুর্থত, প্রযুক্তি হস্তান্তর ও সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে হবে। সবশেষে, ক্ষয়ক্ষতি ও লোকসান তহবিল কার্যকর করে তা নিয়মিত অর্থায়নের ব্যবস্থা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ তার জলবায়ু সংক্রান্ত পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বৈশ্বিক অংশীদারত্বের প্রত্যাশা করে। ‘অভিন্ন কিন্তু পৃথক দায়িত্ব’ নীতির ভিত্তিতে ঐক্যবদ্ধ কার্যক্রমই কেবল ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রক্ষা করতে পারে। উল্লেখ্য যে, ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ বিতর্কে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরে বক্তব্য রাখবেন। চাকরির আরও তথ্য: একইসঙ্গে পানি সংরক্ষণ, বন্যার ঝুঁকি হ্রাস, জলাভূমি পুনরুজ্জীবন এবং ভূগর্ভস্থ পানির পুনর্ভরণের লক্ষ্যে প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার নদী ও খাল খননের কাজ চলছে। চাকরির আরও তথ্য: পদ্মা ব্যারাজ ও তিস্তা ব্যারাজের মাস্টার প্ল্যান বাস্তবায়নের কাজও এগিয়ে নেয়া হচ্ছে।’। চাকরির আরও তথ্য: ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের বিদ্যুতের চাহিদার ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে পূরণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পাশাপাশি পাটজাত পণ্য, পরিবেশবান্ধব পরিবহন, বর্জ্য থেকে জ্বালানি উৎপাদন ও সার্কুলার অর্থনীতির উদ্যোগসহ সবুজ শিল্পের প্রসারে।

Facebook Comments Box