ঢাকা ০৬:২৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
দেশে হাম ও উপসর্গে মৃত্যুর সংখ্যা ১২০০ ছাড়াল রাণীশংকৈলে পুকুরে ডুবে ৩ বছরের শিশুর মৃত্যু স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ১১-২০তম গ্রেডের নিয়োগের অগ্রগতি প্রতিবেদন তলব ইসরাইলি স্পাইওয়্যারের টার্গেট আল-জাজিরার সাংবাদিকরা শৈশবের কামড়ানোর অভ্যাস থেকেই টাইগার নাম পান অভিনেতা স্বর্ণের দাম কমাল বাজুস, ভরিতে সাশ্রয় ৩২৬৬ টাকা জুলাইকে ধারণ করে না তাই স্মৃতিস্তম্ভের উদ্বোধনে অনুপস্থিত বিরোধী দলের নেতা -প্রধান মন্ত্রী  জাপানে বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ শুরু আগামী এপ্রিলে নড়িয়া উপজেলা প্রেসক্লাবের নতুন আহ্বায়ক কমিটি গঠন সংবিধান সংশোধনীতে বিরোধী দলের সহযোগিতা পাচ্ছেন না স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

মানববন্ধন-সমাবেশে নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা

সুনামগঞ্জ থেকে আমির হোসেন
  • আপডেট সময় : ১০:৫৭:৩৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ মে ২০২৩ ১৯২ বার পড়া হয়েছে

মানববন্ধন-সমাবেশে নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা

(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

রংপুরের মানববন্ধন-সমাবেশে নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা। জাতীয় বাজেটে বরাদ্দের ক্ষেত্রে বৈষম্যের শিকার দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলের জনগণ।

-জাতীয় বাজেটে বরাদ্দের ক্ষেত্রে দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলের জনগণ সবসময় বৈষম্যের শিকার বলে অভিযোগ করেছেন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা। তারা বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ভয়াবহ দূর্যোগের ঝুঁকিতে দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলীয় অঞ্চল।

বরাদ্দের অভাবে সেখানে টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ ও সুপেয় পানি সরবরাহে সরকারের নেওয়া প্রকল্পগুলো আটকে আছে।

এই অবস্থায় ওই অঞ্চলের প্রাণ-প্রকৃতি রক্ষা ও দুর্যোগের ঝুঁকি মোকাবেলায় জাতীয় বাজেটে বিশেষ বরাদ্দ দিতে হবে।

 

শনিবার খুলনা জেলার পাইকগাছার হরিঢালী-কপিলমুনি মহিলা কলেজের সামনে উন্নয়ন সংস্থা ‘লিডার্স’ এবং নাগরিক সংগঠন ‘সুন্দরবন ও উপকূল সুরক্ষা আন্দোলন’ আয়োজিত মানববন্ধন ও সমাবেশ থেকে এই দাবি জানানো হয়।

 

সুন্দরবন ও উপকূল সুরক্ষা আন্দোলনের সমন্বয়ক নিখিল চন্দ্র ভদ্রের সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তৃতা করেন অধ্যাক্ষ এম নজরুল ইসলাম, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাকিলা পারভীন, ইউপি সদস্য বিষ্ণু পদ রায়, যুবলীগ নেতা প্রদীপ দত্ত, শিক্ষক মনিরুল ইসলাম,

 

অনির্বাণ লাইব্রেরির সাধারণ সম্পাদক প্রভাব দেবনাথ, সচেতন সংস্থার বিদ্যুৎ বিশ্বাস, পাইকগাছা প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি আব্দুল আজিজ, নদী কর্মী আলাউদ্দিন মোড়ল, সাবেক ছাত্র নেতা দুলাল দেবনাথ, অ্যাডভোকেট প্রশান্ত মণ্ডল, শিক্ষার্থী কামাল হোসেন প্রমূখ।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ১৯৯১ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ ১৯৭টি বড় প্রাকৃতিক দূর্যোগের মুখোমুখি হয়েছে।

যা এদেশের মানুষের জীবন-জীবিকা, সম্পদ, খাদ্য, পানি, বাসস্থানসহ অন্যান্য সংকট সৃষ্টি করেছে। এ সংকট দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলীয় অঞ্চলে সব থেকে বেশি। এই সংকট থেকে উত্তোরণে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে অদূর ভবিষ্যতে দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলীয় অঞ্চল জনশূণ্য হয়ে পড়বে।

তারা আরো বলেন, ভৌগলিক অবস্থান, ঘন ঘন প্রাকৃতিক দূর্যোগ, ভঙ্গুর অবকাঠামো, দারিদ্রতা, দীর্ঘমেয়াদী লবণাক্ততা, সংকটাপন্ন কৃষি, প্রভৃতির কারণে উপকূলীয় এলাকার মধ্যে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ সাতক্ষীরা, খুলনা ও বাগেরহাট জেলা।

এরপর কপোতাক্ষসহ নদ-নদী দখল-দূষণ ও ভরাটের কারণে এই ঝুঁকি আরো বেড়েছে। ওই এলাকাকে জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা ঘোষণা করে দীর্ঘমেয়াদী মহাপরিকল্পনা নেওয়া আহ্বান জানান তারা।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন ও প্রকৃতিক দুর্যোগের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে উপকূলীয় অঞ্চলে স্থায়ী ও টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ করতে হবে।

ওই এলাকায় পর্যাপ্ত সাইক্লোন শেল্টারসহ প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।উপকূলবাসীর সুপেয় পানির টেকসই ও স্থায়ী সমাধান করতে হবে।

একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের আদলে উপকুলীয় এলাকায় একটি বাড়ি একটি সেল্টার কার্যক্রম শুরু করতে হবে। নদীভাঙ্গন ও ভূমিক্ষয় ঠেকাতে উপকূলে ব্যাপকহারে বৃক্ষরোপন কর্মসূচি গ্রহণ ও সবুজ বেষ্টনী গড়ে তুলতে হবে। উপকুলের রক্ষাকবচ সুন্দরবন রক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

সর্বোপরি উপকূল উন্নয়ন বোর্ড গঠন করতে হবে।

 

 

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

মানববন্ধন-সমাবেশে নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা

আপডেট সময় : ১০:৫৭:৩৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ মে ২০২৩

রংপুরের মানববন্ধন-সমাবেশে নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা। জাতীয় বাজেটে বরাদ্দের ক্ষেত্রে বৈষম্যের শিকার দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলের জনগণ।

-জাতীয় বাজেটে বরাদ্দের ক্ষেত্রে দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলের জনগণ সবসময় বৈষম্যের শিকার বলে অভিযোগ করেছেন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা। তারা বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ভয়াবহ দূর্যোগের ঝুঁকিতে দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলীয় অঞ্চল।

বরাদ্দের অভাবে সেখানে টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ ও সুপেয় পানি সরবরাহে সরকারের নেওয়া প্রকল্পগুলো আটকে আছে।

এই অবস্থায় ওই অঞ্চলের প্রাণ-প্রকৃতি রক্ষা ও দুর্যোগের ঝুঁকি মোকাবেলায় জাতীয় বাজেটে বিশেষ বরাদ্দ দিতে হবে।

 

শনিবার খুলনা জেলার পাইকগাছার হরিঢালী-কপিলমুনি মহিলা কলেজের সামনে উন্নয়ন সংস্থা ‘লিডার্স’ এবং নাগরিক সংগঠন ‘সুন্দরবন ও উপকূল সুরক্ষা আন্দোলন’ আয়োজিত মানববন্ধন ও সমাবেশ থেকে এই দাবি জানানো হয়।

 

সুন্দরবন ও উপকূল সুরক্ষা আন্দোলনের সমন্বয়ক নিখিল চন্দ্র ভদ্রের সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তৃতা করেন অধ্যাক্ষ এম নজরুল ইসলাম, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাকিলা পারভীন, ইউপি সদস্য বিষ্ণু পদ রায়, যুবলীগ নেতা প্রদীপ দত্ত, শিক্ষক মনিরুল ইসলাম,

 

অনির্বাণ লাইব্রেরির সাধারণ সম্পাদক প্রভাব দেবনাথ, সচেতন সংস্থার বিদ্যুৎ বিশ্বাস, পাইকগাছা প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি আব্দুল আজিজ, নদী কর্মী আলাউদ্দিন মোড়ল, সাবেক ছাত্র নেতা দুলাল দেবনাথ, অ্যাডভোকেট প্রশান্ত মণ্ডল, শিক্ষার্থী কামাল হোসেন প্রমূখ।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ১৯৯১ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ ১৯৭টি বড় প্রাকৃতিক দূর্যোগের মুখোমুখি হয়েছে।

যা এদেশের মানুষের জীবন-জীবিকা, সম্পদ, খাদ্য, পানি, বাসস্থানসহ অন্যান্য সংকট সৃষ্টি করেছে। এ সংকট দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলীয় অঞ্চলে সব থেকে বেশি। এই সংকট থেকে উত্তোরণে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে অদূর ভবিষ্যতে দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলীয় অঞ্চল জনশূণ্য হয়ে পড়বে।

তারা আরো বলেন, ভৌগলিক অবস্থান, ঘন ঘন প্রাকৃতিক দূর্যোগ, ভঙ্গুর অবকাঠামো, দারিদ্রতা, দীর্ঘমেয়াদী লবণাক্ততা, সংকটাপন্ন কৃষি, প্রভৃতির কারণে উপকূলীয় এলাকার মধ্যে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ সাতক্ষীরা, খুলনা ও বাগেরহাট জেলা।

এরপর কপোতাক্ষসহ নদ-নদী দখল-দূষণ ও ভরাটের কারণে এই ঝুঁকি আরো বেড়েছে। ওই এলাকাকে জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা ঘোষণা করে দীর্ঘমেয়াদী মহাপরিকল্পনা নেওয়া আহ্বান জানান তারা।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন ও প্রকৃতিক দুর্যোগের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে উপকূলীয় অঞ্চলে স্থায়ী ও টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ করতে হবে।

ওই এলাকায় পর্যাপ্ত সাইক্লোন শেল্টারসহ প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।উপকূলবাসীর সুপেয় পানির টেকসই ও স্থায়ী সমাধান করতে হবে।

একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের আদলে উপকুলীয় এলাকায় একটি বাড়ি একটি সেল্টার কার্যক্রম শুরু করতে হবে। নদীভাঙ্গন ও ভূমিক্ষয় ঠেকাতে উপকূলে ব্যাপকহারে বৃক্ষরোপন কর্মসূচি গ্রহণ ও সবুজ বেষ্টনী গড়ে তুলতে হবে। উপকুলের রক্ষাকবচ সুন্দরবন রক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

সর্বোপরি উপকূল উন্নয়ন বোর্ড গঠন করতে হবে।

 

 

Facebook Comments Box