ঢাকা ০৯:৫৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬, ১৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
তিব্র শিক্ষক সংকটে চলছে তাহিরপুরে হাওরাঞ্চলের দুর্গম এলাকার প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো সুন্দরগঞ্জে ১৩৫ মণ্ডপে হবে শারদীয় দুর্গোৎসব ঠাকুরগাঁওয়ে নাগর নদীতে গোসল করতে নেমে প্রাণ গেল ১৬ বছরের রকিরের মদিনার বিদ্যুৎ কেন্দ্রে ড্রোন হামলা: দায় অস্বীকার হুতিদের ফ্লাইদুবাইয়ের ঘটনায় ইরান জড়িত থাকলে কঠোর হামলা: ট্রাম্প দেশে হাম ও উপসর্গে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১১১৪ ইসরায়েলি নির্বাচনে নেতানিয়াহুকে সমর্থন দিতে ট্রাম্পের অনীহা মিরপুরে সরকারি ভবনের লিফট ছিঁড়ে শিশুসহ আহত তিন ফ্রান্সে শিক্ষার্থীদের তীব্র বিক্ষোভ, বন্ধ ৪০০ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শাহজালাল বিমানবন্দরে বিশৃঙ্খলা ও কর্মকর্তাকে লাঞ্ছিত: মামলা

আগামী বছর থেকে বাস্তবায়ন হচ্ছে নতুন শিক্ষাক্রম

সৃষ্টি শিক্ষা ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১০:৩৪:৩৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ নভেম্বর ২০২২ ২৫০ বার পড়া হয়েছে

আগামী বছর থেকে বাস্তবায়ন হচ্ছে নতুন শিক্ষাক্রম

(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

আগামী বছর ২০২৩ থেকে বাস্তবায়ন হচ্ছে নতুন শিক্ষাক্রম।এই নতুন শিক্ষাক্রমে থাকছে বতর্মান  শিক্ষাক্রমের আমুল পরিবর্তন।

  • নতুন শিক্ষাক্রমে থাকছেনা কাঠামোবদ্ধ প্রশ্ন,উঠে যাচ্ছে জিপিএভিত্তিক ফল।
  • শিখনকালীন ও সামষ্টিক—এই দুই ভাগে মূল্যায়ন
  • সৃজনশীল নামে চলা বিদ্যমান কাঠামোবদ্ধ প্রশ্নপদ্ধতি বাদ যাচ্ছে।
  • এখনকার মতো এমসিকিউ থাকবে না।
  • পরীক্ষার ব্যবস্থা থাকলেও এখনকার মতো শুধু কাগজ-কলমনির্ভর পরীক্ষা হবে না।
  • জিপিএ বাদ, শিক্ষার্থীর মূল্যায়নের ফল হবে তিন শ্রেণিতে।
  • মূল্যায়নের তথ্য অ্যাপভিত্তিক প্রযুক্তির মাধ্যমে সংরক্ষণ করা হবে।

 

আগামী বছর থেকে বাস্তবায়ন হতে যাওয়া নতুন শিক্ষাক্রমে মূল্যায়ন হবে দুই ভাগে। এক ভাগের মূল্যায়ন হবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেই, শিখনকালীন নানা কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে। আরেক অংশের মূল্যায়ন সামষ্টিকভাবে। এখানে পরীক্ষার ব্যবস্থা থাকলেও তা এখনকার মতো শুধু কাগজ-কলমনির্ভর পরীক্ষা হবে না। অ্যাসাইনমেন্ট, উপস্থাপন, যোগাযোগ, হাতে-কলমের কাজ ইত্যাদি বহুমুখী পদ্ধতি ব্যবহার করে শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন করা হবে। এখনকার মতো জিপিএভিত্তিক ফল প্রকাশ করা হবে না।

মূল্যায়ন ব্যবস্থায় এ রকম বড় পরিবর্তন এনে ‘জাতীয় শিক্ষাক্রম রূপরেখার আলোকে শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন নীতিমালা’ চূড়ান্ত করেছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। সম্প্রতি শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনির উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় নীতিমালাটি চূড়ান্ত করা হয়েছে বলে এনসিটিবির সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে। নতুন শিক্ষাক্রমের আলোকে কীভাবে মূল্যায়ন করা হবে, তার বিস্তারিত নির্দেশিকার কথা রয়েছে নীতিমালায়।

ধরা যাক, শিক্ষার্থীদের একটি গাড়ি বানাতে বলা হলো। তারা যদি সেটি বানাতে পারে, তাহলে সেটি হবে প্রারম্ভিক স্তর। গাড়িটি যদি মোটামুটি চলতে পারে, তাহলে সেটিকে বলা হবে অন্তর্বর্তী স্তর। আর যেসব শিক্ষার্থী তা ভালোভাবে চালাতে পারে, সেটিকে বলা হবে পারদর্শী।

নতুন শিক্ষাক্রমটি যোগ্যতাভিত্তিক, যেখানে একজন শিক্ষার্থীকে এমন সব যোগ্যতা শেখানো হবে, যা সে জীবনযাপনের বাস্তব কাজে প্রয়োগ করতে পারে। এ পদ্ধতিতে জিপিএর বদলে যোগ্যতা অর্জনে শিক্ষার্থীর পারদর্শিতাকে তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করে ফলাফল দেওয়া হবে। আর সৃজনশীল নামে চলা বিদ্যমান কাঠামোবদ্ধ প্রশ্নও করা হবে না।

এমনকি এখনকার মতো হুবহু বহুনির্বাচনী প্রশ্নও (এমসিকিউ) থাকবে না। বিষয় ভেদে যোগ্যতা অর্জনে শিক্ষার্থীরা কতটা সক্ষম, তা সমস্যাভিত্তিক নানা বিষয়বস্তু দিয়ে, তাতে তাঁরা কতটা পারদর্শী, তার মূল্যায়ন করা হবে বহুমুখী পদ্ধতি প্রয়োগ করে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে এনসিটিবির সদস্য (শিক্ষাক্রম) অধ্যাপক মো. মসিউজ্জামান  বলেন, নীতিমালা অনুযায়ী মূল্যায়নের এ নতুন পদ্ধতিতে অপ্রয়োজনীয়ভাবে কোনো শিক্ষার্থীকে আরেকজনের সঙ্গে তুলনা করা হবে না। শিক্ষার্থীদের ওপর আরোপ করা হবে না গ্রেড বা স্কোরের বাড়তি চাপ। একজন শিক্ষার্থীকে আরও সামনে এগিয়ে নেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শিক্ষাবিদদের কেউ কেউ মনে করেন, শিক্ষকদের উপযুক্ত না করে নতুন এ পদ্ধতি চালু হলে তা বুমেরাং হওয়ার আশঙ্কা আছে। এনসিটিবির কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের মাধ্যমিক স্তরের ৬২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ষষ্ঠ শ্রেণিতে পরীক্ষামূলকভাবে নতুন শিক্ষাক্রম বাস্তবায়িত হচ্ছে। এরপর ২০২৩ সালে প্রথম, ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণিতে নতুন শিক্ষাক্রম পুরোপুরি বাস্তবায়ন হবে।

মূল্যায়নের এই নতুন পদ্ধতিতে
অপ্রয়োজনীয়ভাবে কোনো শিক্ষার্থীকে আরেকজনের সঙ্গে তুলনা করা হবে না। শিক্ষার্থীদের ওপর আরোপ করা হবে না গ্রেড বা স্কোরের বাড়তি চাপব
অধ্যাপক মো. মসিউজ্জামান, এনসিটিবির সদস্য

২০২৪ সালে চালু হবে তৃতীয়, চতুর্থ, অষ্টম ও নবম শ্রেণিতে। ২০২৫ সালে চালু হবে পঞ্চম ও দশম শ্রেণিতে। উচ্চমাধ্যমিকের একাদশ শ্রেণিতে ২০২৬ সালে ও দ্বাদশ শ্রেণিতে ২০২৭ সালে চালুর মধ্য দিয়ে পুরোপুরিভাবে নতুন শিক্ষাক্রম বাস্তবায়নের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।

নতুন শিক্ষাক্রমে প্রথাগত পরীক্ষার চেয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ধারাবাহিক মূল্যায়ন (শিখনকালীন) বেশি হবে। তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত প্রথাগত কোনো পরীক্ষা হবে না। সারা বছর ধরে চলা বিভিন্ন রকমের শিখন কার্যক্রমের ভিত্তিতে শিক্ষার্থী মূল্যায়ন হবে। চতুর্থ শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত পাঁচটি বিষয়ে (বাংলা, ইংরেজি, গণিত, বিজ্ঞান ও সামাজিক বিজ্ঞান) কিছু অংশের মূল্যায়ন হবে শিখনকালীন, বাকি অংশের মূল্যায়ন হবে সামষ্টিকভাবে। অবশিষ্ট পাঁচটি বিষয়ের পুরোটাই মূল্যায়ন হবে শিখনকালীন। তবে একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণিতে গিয়ে সামষ্টিক মূল্যায়ন বেশি হবে (৭০ শতাংশ সামষ্টিক ও ৩০ শতাংশ শিখনকালীন)।

সামষ্টিক মূল্যায়ন বছরে দুবার
বর্তমানে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্তরের পরীক্ষায় সৃজনশীল প্রশ্নপত্র ও বহুনির্বাচনী প্রশ্নে (এমসিকিউ) পরীক্ষা হয়। সৃজনশীল পদ্ধতিতে একটি প্রশ্নকে চার ভাগে ভাগ করে উত্তর জানতে চাওয়া হয়। সৃজনশীল নাম দেওয়া হলেও এটি আসলে কাঠামোবদ্ধ (স্ট্রাকচারাল) প্রশ্ন। নতুন পদ্ধতিতে এখনকার মতো কাঠামোবদ্ধ প্রশ্ন থাকবে না। এমনকি এখন যেভাবে এমসিকিউ করা হয় তা-ও থাকবে না। বছরজুড়েই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিখনকালীন মূল্যায়ন চলতে থাকবে।
মূল্যায়ন করা হবে।

এর মধ্যে প্রথম স্তর পারদর্শিতার প্রারম্ভিক স্তর। দ্বিতীয় স্তরটি বলা হবে অন্তর্বর্তী বা মাধ্যমিক স্তর। আর সবশেষ অর্থাৎ সবচেয়ে ভালো স্তরটিকে বলা হবে পারদর্শী স্তর।

উদাহরণ দিয়ে বিষয়টি পরিষ্কার করার চেষ্টা করেন এনসিটিবির সদস্য অধ্যাপক মো. মসিউজ্জামান। তিনি বলেন, ধরা যাক, শিক্ষার্থীদের বলা হলো, কোনো একটি বিষয় বানানোর জন্য। তখন শিক্ষার্থীরা যদি সেটি বানানোর প্রাথমিক যোগ্যতাগুলো অর্জন করতে পারে, তাহলে সেটিকে বলা হবে পারদর্শিতার প্রারম্ভিক স্তর। আর ওই জিনিসটি যদি মোটামুটি চলনসই হয়, তাহলে সেটি হবে অন্তর্বর্তী বা মাধ্যমিক স্তর। আর শিক্ষার্থীর বানানো জিনিসটি যদি ভালো হয়, অর্থাৎ ভালোভাবে চলনসই হয়, তাহলে তাকে পারদর্শী বলা হবে।

অ্যাপভিত্তিক রেকর্ড
নতুন নিয়মে শিখনকালীন এবং সামষ্টিক মূল্যায়ন সমন্বয় করে একজন শিক্ষার্থীকে সার্বিকভাবে মূল্যায়ন করা হবে। মূল্যায়নের তথ্য অ্যাপভিত্তিক প্রযুক্তির মাধ্যমে সংরক্ষণ করা হবে।

শিক্ষকেরা মুঠোফোনের মাধ্যমেই কাজটি করতে পারবেন। আর শিক্ষার্থী মূল্যায়নের সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটিকে পরিবীক্ষণ বা মনিটরিং-প্রক্রিয়ার আওতায় আনা হবে। এ ক্ষেত্রে প্রধান শিক্ষক, একাডেমিক সুপারভাইজার, শিক্ষা কর্মকর্তা, শিক্ষা বোর্ড ও অধিদপ্তর ভূমিকা পালন করবে।

এনসিটিবির কর্মকর্তারা আশা করছেন, নতুন এ পদ্ধতি যথাযথ প্রয়োগের মাধ্যমে শিক্ষার্থীর যোগ্যতার উত্তরোত্তর পরিবর্তন হবে। ফলে একজন শিক্ষার্থী নিজের জীবনমান গঠনে কাজে লাগাতে পারবে।

অবশ্য এনসিটিবি আশার কথা বললেও শিক্ষাবিদদের কেউ কেউ মনে করেন, বিদ্যমান শিক্ষকদের দক্ষ না করতে পারলে এ পদ্ধতিতে মূল্যায়ন খুবই কঠিন হবে। কারণ, নানা আশার কথা বলে প্রায় দেড় দশক আগে সৃজনশীল নাম দিয়ে কাঠামোবদ্ধ (স্ট্রাকচারাল) প্রশ্ন করা হলেও সরকারি হিসেবে এখনো প্রায় ৩৮ শতাংশ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক সৃজনশীল পদ্ধতিতে ঠিকমতো প্রশ্ন করতে পারেন না।

চলতি এইচএসসি পরীক্ষায় একাধিক বোর্ডের পরীক্ষায় সৃজনশীলে করা একাধিক প্রশ্ন নিয়ে বিতর্ক উঠেছে। তাই নতুন পদ্ধতি ঠিকমতো বাস্তবায়ন করতে হলে সবার আগে শিক্ষকদের উপযুক্ত করতে হবে।

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

আগামী বছর থেকে বাস্তবায়ন হচ্ছে নতুন শিক্ষাক্রম

আপডেট সময় : ১০:৩৪:৩৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ নভেম্বর ২০২২

আগামী বছর ২০২৩ থেকে বাস্তবায়ন হচ্ছে নতুন শিক্ষাক্রম।এই নতুন শিক্ষাক্রমে থাকছে বতর্মান  শিক্ষাক্রমের আমুল পরিবর্তন।

  • নতুন শিক্ষাক্রমে থাকছেনা কাঠামোবদ্ধ প্রশ্ন,উঠে যাচ্ছে জিপিএভিত্তিক ফল।
  • শিখনকালীন ও সামষ্টিক—এই দুই ভাগে মূল্যায়ন
  • সৃজনশীল নামে চলা বিদ্যমান কাঠামোবদ্ধ প্রশ্নপদ্ধতি বাদ যাচ্ছে।
  • এখনকার মতো এমসিকিউ থাকবে না।
  • পরীক্ষার ব্যবস্থা থাকলেও এখনকার মতো শুধু কাগজ-কলমনির্ভর পরীক্ষা হবে না।
  • জিপিএ বাদ, শিক্ষার্থীর মূল্যায়নের ফল হবে তিন শ্রেণিতে।
  • মূল্যায়নের তথ্য অ্যাপভিত্তিক প্রযুক্তির মাধ্যমে সংরক্ষণ করা হবে।

 

আগামী বছর থেকে বাস্তবায়ন হতে যাওয়া নতুন শিক্ষাক্রমে মূল্যায়ন হবে দুই ভাগে। এক ভাগের মূল্যায়ন হবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেই, শিখনকালীন নানা কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে। আরেক অংশের মূল্যায়ন সামষ্টিকভাবে। এখানে পরীক্ষার ব্যবস্থা থাকলেও তা এখনকার মতো শুধু কাগজ-কলমনির্ভর পরীক্ষা হবে না। অ্যাসাইনমেন্ট, উপস্থাপন, যোগাযোগ, হাতে-কলমের কাজ ইত্যাদি বহুমুখী পদ্ধতি ব্যবহার করে শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন করা হবে। এখনকার মতো জিপিএভিত্তিক ফল প্রকাশ করা হবে না।

মূল্যায়ন ব্যবস্থায় এ রকম বড় পরিবর্তন এনে ‘জাতীয় শিক্ষাক্রম রূপরেখার আলোকে শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন নীতিমালা’ চূড়ান্ত করেছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। সম্প্রতি শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনির উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় নীতিমালাটি চূড়ান্ত করা হয়েছে বলে এনসিটিবির সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে। নতুন শিক্ষাক্রমের আলোকে কীভাবে মূল্যায়ন করা হবে, তার বিস্তারিত নির্দেশিকার কথা রয়েছে নীতিমালায়।

ধরা যাক, শিক্ষার্থীদের একটি গাড়ি বানাতে বলা হলো। তারা যদি সেটি বানাতে পারে, তাহলে সেটি হবে প্রারম্ভিক স্তর। গাড়িটি যদি মোটামুটি চলতে পারে, তাহলে সেটিকে বলা হবে অন্তর্বর্তী স্তর। আর যেসব শিক্ষার্থী তা ভালোভাবে চালাতে পারে, সেটিকে বলা হবে পারদর্শী।

নতুন শিক্ষাক্রমটি যোগ্যতাভিত্তিক, যেখানে একজন শিক্ষার্থীকে এমন সব যোগ্যতা শেখানো হবে, যা সে জীবনযাপনের বাস্তব কাজে প্রয়োগ করতে পারে। এ পদ্ধতিতে জিপিএর বদলে যোগ্যতা অর্জনে শিক্ষার্থীর পারদর্শিতাকে তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করে ফলাফল দেওয়া হবে। আর সৃজনশীল নামে চলা বিদ্যমান কাঠামোবদ্ধ প্রশ্নও করা হবে না।

এমনকি এখনকার মতো হুবহু বহুনির্বাচনী প্রশ্নও (এমসিকিউ) থাকবে না। বিষয় ভেদে যোগ্যতা অর্জনে শিক্ষার্থীরা কতটা সক্ষম, তা সমস্যাভিত্তিক নানা বিষয়বস্তু দিয়ে, তাতে তাঁরা কতটা পারদর্শী, তার মূল্যায়ন করা হবে বহুমুখী পদ্ধতি প্রয়োগ করে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে এনসিটিবির সদস্য (শিক্ষাক্রম) অধ্যাপক মো. মসিউজ্জামান  বলেন, নীতিমালা অনুযায়ী মূল্যায়নের এ নতুন পদ্ধতিতে অপ্রয়োজনীয়ভাবে কোনো শিক্ষার্থীকে আরেকজনের সঙ্গে তুলনা করা হবে না। শিক্ষার্থীদের ওপর আরোপ করা হবে না গ্রেড বা স্কোরের বাড়তি চাপ। একজন শিক্ষার্থীকে আরও সামনে এগিয়ে নেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শিক্ষাবিদদের কেউ কেউ মনে করেন, শিক্ষকদের উপযুক্ত না করে নতুন এ পদ্ধতি চালু হলে তা বুমেরাং হওয়ার আশঙ্কা আছে। এনসিটিবির কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের মাধ্যমিক স্তরের ৬২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ষষ্ঠ শ্রেণিতে পরীক্ষামূলকভাবে নতুন শিক্ষাক্রম বাস্তবায়িত হচ্ছে। এরপর ২০২৩ সালে প্রথম, ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণিতে নতুন শিক্ষাক্রম পুরোপুরি বাস্তবায়ন হবে।

মূল্যায়নের এই নতুন পদ্ধতিতে
অপ্রয়োজনীয়ভাবে কোনো শিক্ষার্থীকে আরেকজনের সঙ্গে তুলনা করা হবে না। শিক্ষার্থীদের ওপর আরোপ করা হবে না গ্রেড বা স্কোরের বাড়তি চাপব
অধ্যাপক মো. মসিউজ্জামান, এনসিটিবির সদস্য

২০২৪ সালে চালু হবে তৃতীয়, চতুর্থ, অষ্টম ও নবম শ্রেণিতে। ২০২৫ সালে চালু হবে পঞ্চম ও দশম শ্রেণিতে। উচ্চমাধ্যমিকের একাদশ শ্রেণিতে ২০২৬ সালে ও দ্বাদশ শ্রেণিতে ২০২৭ সালে চালুর মধ্য দিয়ে পুরোপুরিভাবে নতুন শিক্ষাক্রম বাস্তবায়নের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।

নতুন শিক্ষাক্রমে প্রথাগত পরীক্ষার চেয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ধারাবাহিক মূল্যায়ন (শিখনকালীন) বেশি হবে। তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত প্রথাগত কোনো পরীক্ষা হবে না। সারা বছর ধরে চলা বিভিন্ন রকমের শিখন কার্যক্রমের ভিত্তিতে শিক্ষার্থী মূল্যায়ন হবে। চতুর্থ শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত পাঁচটি বিষয়ে (বাংলা, ইংরেজি, গণিত, বিজ্ঞান ও সামাজিক বিজ্ঞান) কিছু অংশের মূল্যায়ন হবে শিখনকালীন, বাকি অংশের মূল্যায়ন হবে সামষ্টিকভাবে। অবশিষ্ট পাঁচটি বিষয়ের পুরোটাই মূল্যায়ন হবে শিখনকালীন। তবে একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণিতে গিয়ে সামষ্টিক মূল্যায়ন বেশি হবে (৭০ শতাংশ সামষ্টিক ও ৩০ শতাংশ শিখনকালীন)।

সামষ্টিক মূল্যায়ন বছরে দুবার
বর্তমানে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্তরের পরীক্ষায় সৃজনশীল প্রশ্নপত্র ও বহুনির্বাচনী প্রশ্নে (এমসিকিউ) পরীক্ষা হয়। সৃজনশীল পদ্ধতিতে একটি প্রশ্নকে চার ভাগে ভাগ করে উত্তর জানতে চাওয়া হয়। সৃজনশীল নাম দেওয়া হলেও এটি আসলে কাঠামোবদ্ধ (স্ট্রাকচারাল) প্রশ্ন। নতুন পদ্ধতিতে এখনকার মতো কাঠামোবদ্ধ প্রশ্ন থাকবে না। এমনকি এখন যেভাবে এমসিকিউ করা হয় তা-ও থাকবে না। বছরজুড়েই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিখনকালীন মূল্যায়ন চলতে থাকবে।
মূল্যায়ন করা হবে।

এর মধ্যে প্রথম স্তর পারদর্শিতার প্রারম্ভিক স্তর। দ্বিতীয় স্তরটি বলা হবে অন্তর্বর্তী বা মাধ্যমিক স্তর। আর সবশেষ অর্থাৎ সবচেয়ে ভালো স্তরটিকে বলা হবে পারদর্শী স্তর।

উদাহরণ দিয়ে বিষয়টি পরিষ্কার করার চেষ্টা করেন এনসিটিবির সদস্য অধ্যাপক মো. মসিউজ্জামান। তিনি বলেন, ধরা যাক, শিক্ষার্থীদের বলা হলো, কোনো একটি বিষয় বানানোর জন্য। তখন শিক্ষার্থীরা যদি সেটি বানানোর প্রাথমিক যোগ্যতাগুলো অর্জন করতে পারে, তাহলে সেটিকে বলা হবে পারদর্শিতার প্রারম্ভিক স্তর। আর ওই জিনিসটি যদি মোটামুটি চলনসই হয়, তাহলে সেটি হবে অন্তর্বর্তী বা মাধ্যমিক স্তর। আর শিক্ষার্থীর বানানো জিনিসটি যদি ভালো হয়, অর্থাৎ ভালোভাবে চলনসই হয়, তাহলে তাকে পারদর্শী বলা হবে।

অ্যাপভিত্তিক রেকর্ড
নতুন নিয়মে শিখনকালীন এবং সামষ্টিক মূল্যায়ন সমন্বয় করে একজন শিক্ষার্থীকে সার্বিকভাবে মূল্যায়ন করা হবে। মূল্যায়নের তথ্য অ্যাপভিত্তিক প্রযুক্তির মাধ্যমে সংরক্ষণ করা হবে।

শিক্ষকেরা মুঠোফোনের মাধ্যমেই কাজটি করতে পারবেন। আর শিক্ষার্থী মূল্যায়নের সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটিকে পরিবীক্ষণ বা মনিটরিং-প্রক্রিয়ার আওতায় আনা হবে। এ ক্ষেত্রে প্রধান শিক্ষক, একাডেমিক সুপারভাইজার, শিক্ষা কর্মকর্তা, শিক্ষা বোর্ড ও অধিদপ্তর ভূমিকা পালন করবে।

এনসিটিবির কর্মকর্তারা আশা করছেন, নতুন এ পদ্ধতি যথাযথ প্রয়োগের মাধ্যমে শিক্ষার্থীর যোগ্যতার উত্তরোত্তর পরিবর্তন হবে। ফলে একজন শিক্ষার্থী নিজের জীবনমান গঠনে কাজে লাগাতে পারবে।

অবশ্য এনসিটিবি আশার কথা বললেও শিক্ষাবিদদের কেউ কেউ মনে করেন, বিদ্যমান শিক্ষকদের দক্ষ না করতে পারলে এ পদ্ধতিতে মূল্যায়ন খুবই কঠিন হবে। কারণ, নানা আশার কথা বলে প্রায় দেড় দশক আগে সৃজনশীল নাম দিয়ে কাঠামোবদ্ধ (স্ট্রাকচারাল) প্রশ্ন করা হলেও সরকারি হিসেবে এখনো প্রায় ৩৮ শতাংশ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক সৃজনশীল পদ্ধতিতে ঠিকমতো প্রশ্ন করতে পারেন না।

চলতি এইচএসসি পরীক্ষায় একাধিক বোর্ডের পরীক্ষায় সৃজনশীলে করা একাধিক প্রশ্ন নিয়ে বিতর্ক উঠেছে। তাই নতুন পদ্ধতি ঠিকমতো বাস্তবায়ন করতে হলে সবার আগে শিক্ষকদের উপযুক্ত করতে হবে।

Facebook Comments Box