প্রকাশ্যে অস্ত্র প্রদর্শনের ঘটনায় নিজের অবস্থান পরিষ্কার করলেন প্রতিমন্ত্রী
- আপডেট সময় : ০৫:৩৭:৪৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে
গেণ্ডারিয়া রেলস্টেশন-সংলগ্ন এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান চলাকালে প্রকাশ্যে অস্ত্র তাক করার ঘটনায় অবশেষে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করলেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন। ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সংবাদমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা সৃষ্টি হলে রোববার দুপুরে নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে তিনি এর পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা তুলে ধরেন।
আত্মরক্ষার ব্যাখ্যা ও পরিস্থিতির বিবরণ
বিবৃতিতে আত্মরক্ষার্থেই নিজের লাইসেন্সকৃত আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের বিষয়টি স্পষ্ট করে প্রতিমন্ত্রী জানান, সেখানে পৌঁছানোর পর প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ জনের একটি আইনলঙ্ঘনকারী দল অতর্কিতভাবে হট্টগোল শুরু করে এবং তার গাড়িবহরের দিকে আক্রমণাত্মকভাবে ধেয়ে আসে। এমন পরিস্থিতিতে সম্ভাব্য প্রাণনাশের আশঙ্কা ও নিরাপত্তাবেষ্টনী বজায় রাখতে তিনি এবং তার সঙ্গে থাকা সরকারি নিরাপত্তারক্ষীরা অত্যন্ত স্বল্প সময়ের জন্য অস্ত্র উঁচিয়ে ধরেন। পরিস্থিতি শান্ত ও নিরাপদ হওয়ার পরপরই অস্ত্রটি যথাস্থানে রাখা হয়। তিনি দাবি করেন, পুরো বিষয়টি সম্পূর্ণ আইনি কাঠামোর ভেতর থেকেই ব্যক্তিগত ও রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার স্বার্থে আত্মরক্ষার উদ্দেশ্যে করা হয়েছে। এছাড়া পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করে তিনি এই যৌথ প্রতিরোধ কর্মসূচিতে অংশ নেন বলে নিশ্চিত করেছেন।
অভিযানে মাদক ও অস্ত্র উদ্ধার
- পুলিশ প্রশাসন ও স্থানীয় সামাজিক নেতাদের যৌথ সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে গেন্ডারিয়ার ঘণ্টিঘর, মুন্সিটেক ও করাতিটোলা এলাকায় এই বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
- অভিযান চলাকালীন পুলিশি সহায়তায় সেখানে ৪-৫টি অবৈধ মাদকের আস্তানা পুরোপুরি উচ্ছেদ করা হয়েছে।
- উদ্ধারকৃত সামগ্রীর তালিকায় রয়েছে বিপুল পরিমাণ হেরোইন, বিদেশি মদ, মাদক সেবনের সরঞ্জাম, দেশীয় ধারালো অস্ত্র, নগদ টাকা এবং ছিনতাইকৃত মোবাইল ফোন।
- একইসঙ্গে হাতেনাতে আটক ৬ জন মাদক কারবারিকে উদ্ধারকৃত মালামালসহ গেন্ডারিয়া থানায় সোপর্দ করা হয়েছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ
বিবৃতিতে প্রতিমন্ত্রী গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, একটি স্পর্শকাতর বিষয়ের মাত্র কয়েক সেকেন্ডের খণ্ডিত দৃশ্য ব্যবহার করে কিছু গণমাধ্যম চটকদার ও বিকৃত সংবাদ পরিবেশন করছে।
তিনি অভিযোগ করেন, মাদক ও অস্ত্র উদ্ধার এবং ৬ জন অপরাধীকে গ্রেপ্তারের মতো বড় সাফল্য আড়াল করে বিভ্রান্তি ছড়ানোর যে অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে, তা বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার চরম পরিপন্থী। তিনি সংশ্লিষ্ট সব গণমাধ্যমকে সংবাদের সত্যতা যাচাই করে পুরো ঘটনাটি জনসমক্ষে প্রচারের আহ্বান জানান। প্রতিমন্ত্রীর প্রেস কর্মকর্তা মাহফুজ কবির মুক্তার সই করা এই বিবৃতিটি প্রচারের পর বিষয়টি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পরবর্তী পরিস্থিতিতে এলাকাটি মাদক সিন্ডিকেটের বড় ট্রানজিট পয়েন্টে পরিণত হওয়ায় এলাকাবাসী নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন বলে তার বিবৃতিতে দাবি করা হয়।
সূত্র: ডেইলি বাংলাদেশ
Social Media
Communication
Bookmarking
Developer
Entertainment
Academic
Finance
Lifestyle
নিউজটি শেয়ার করুন
-
সর্বশেষ সংবাদ
-
জনপ্রিয় সংবাদ
























