ঢাকা ১২:৩৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বোয়িংয়ের সাথে ১১ উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি করল বিমান রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে ৫ দফা প্রস্তাব দিলেন প্রধানমন্ত্রী পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচনে বিজেপির ব্যয় ২৮৬ কোটি রুপি কুমিল্লায় কিশোর গ্যাং বিরোধী অভিযানে ৬২৪ জন আটক বোয়িং থেকে ১১ নতুন উড়োজাহাজ কিনছে বিমান বাংলাদেশ ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের দুই বন্দীর মৃত্যু ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য টেকসই বিশ্ব গড়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর ভবিষ্যতের বাসযোগ্য শহর নিয়ে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিতে লেকচার দিলেন ক্যাম্পাসের স্থপতি ওয়ং মান সাম আইডিএফ-এ ৬৯৩ জনের বিশাল নিয়োগ, আবেদন করুন অক্টোবরের মধ্যে বিদেশগামী কর্মীদের কল্যাণ ফি বাড়িয়ে ৫,৫০০ টাকা নির্ধারণ

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে ৫ দফা প্রস্তাব দিলেন প্রধানমন্ত্রী

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১১:৫০:১৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে রোহিঙ্গা সংকট বিষয়ক এক উচ্চপর্যায়ের সাইড ইভেন্টে অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, মানবিক সহায়তা কখনোই রাজনৈতিক দায়বদ্ধতা বা নিষ্ক্রিয়তার অজুহাত হতে পারে না। বাংলাদেশ ও গাম্বিয়ার যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই সভায় তিনি স্পষ্ট করেন যে, অনির্দিষ্টকাল ধরে রোহিঙ্গাদের এই বিশাল দায়িত্ব একা বহন করা বাংলাদেশের পক্ষে সম্ভব নয়। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে মিয়ানমারে রোহিঙ্গারা যে বৈষম্য ও নির্যাতনের শিকার, তা নিরসনে এখন বিশ্বসম্প্রদায়ের কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন।

স্মৃতিচারণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অতীতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং পরবর্তীতে বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন সরকারের সময়ে সফলভাবে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন সম্ভব হয়েছিল। কিন্তু ২০১৭ সালে মিয়ানমারে ভয়াবহ সহিংসতার পর পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করে। বর্তমানে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া ১২ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গার মানবিক দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কক্সবাজারের স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ওপর সামাজিক, অর্থনৈতিক ও পরিবেশগতসহ নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ছে।

প্রধানমন্ত্রী উদ্বেগ প্রকাশ করেন যে, একদিকে রোহিঙ্গা সংকট দীর্ঘায়িত হচ্ছে, অন্যদিকে সহায়তার পরিমাণ সংকুচিত হচ্ছে। ২০২৫ সালের তুলনায় ২০২৬ সালের জন্য মানবিক সহায়তার বাজেট কমিয়ে ৭১০ মিলিয়ন ডলারে নামিয়ে আনা হয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই সংকটের মূল উৎপত্তিস্থল মিয়ানমার এবং সমাধানও সেখানেই নিহিত। রাখাইন রাজ্যের বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক যেখানে মিয়ানমার সেনাবাহিনী ও আরাকান আর্মি—উভয়ের বিরুদ্ধেই গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ রয়েছে।

রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পাঁচটি জরুরি প্রস্তাব উত্থাপন করেন। প্রথমত, প্রত্যাবাসন ত্বরান্বিত করতে আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক অংশীজনদের সমন্বয়ে একটি বিশ্বাসযোগ্য রোডম্যাপ তৈরি করতে হবে। দ্বিতীয়ত, মিয়ানমারে সহিংসতা বন্ধ করে রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা ও মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে হবে, যাতে তারা নিজ ভূমিতে ফেরার আস্থা পায়।

তৃতীয়ত, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে রোহিঙ্গাদের পাশাপাশি আশ্রয়দাতা স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য পর্যাপ্ত ও দীর্ঘমেয়াদী সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। চতুর্থত, প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়াকে সফল করতে আইসিজে ও আইসিসি-সহ আন্তর্জাতিক বিচারিক ব্যবস্থাকে পূর্ণ সহায়তা দিতে হবে এবং অপরাধীদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। পঞ্চম ও সর্বশেষ প্রস্তাবে তিনি বলেন, এই অঞ্চলে মাদক, মানবপাচার ও অবৈধ অস্ত্র চোরাচালানের মতো আন্তঃসীমান্ত অপরাধ মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতার পরিধি বাড়াতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী তার সমাপনী বক্তব্যে পুনর্ব্যক্ত করেন যে, বাংলাদেশ চায় না রোহিঙ্গারা চিরকাল বাস্তুচ্যুত থাকুক। মানবিকতার খাতিরে বাংলাদেশ সীমান্ত উন্মুক্ত করেছিল, কিন্তু এখন বিশ্বনেতাদের দায়িত্ব নিতে হবে। রোহিঙ্গাদের ভাগ্য যেন কেবল নিপীড়নের একটি দীর্ঘ আখ্যান না হয়ে ওঠে, বরং ন্যায়বিচার ও মর্যাদার গল্পের সূচনা হয়—সেই আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে রোহিঙ্গা সংকট বিষয়ক এক উচ্চপর্যায়ের সাইড ইভেন্টে দেওয়া বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আন্তর্জাতিক সহায়তার ঘাটতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, দীর্ঘস্থায়ী বাস্তুচ্যুতির কারণে শুধু রোহিঙ্গাদের নয়, কক্সবাজারের স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ওপরও সামাজিক, অর্থনৈতিক, পরিবেশগত ও নিরাপত্তাজনিত বিপুল চাপ পড়ছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এই সংকট সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে পাঁচ দফা প্রস্তাব তুলে ধরেছেন তিনি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বাংলাদেশ ও গাম্বিয়া যৌথভাবে এ ইভেন্টের আয়োজন করে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: মানবিকতার তাগিদেই বাংলাদেশ সীমান্ত খুলে দিয়েছিল এবং তাদের খাদ্য, স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষাদানের চেষ্টা করে যাচ্ছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কিন্তু দীর্ঘ সময় বসবাসের জন্য শিবিরগুলো কোনো আদর্শ স্থান নয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ফলে নিরাপদ প্রত্যাবাসনের পরিস্থিতি এখনো নিশ্চিত হয়নি।

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে ৫ দফা প্রস্তাব দিলেন প্রধানমন্ত্রী

আপডেট সময় : ১১:৫০:১৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে রোহিঙ্গা সংকট বিষয়ক এক উচ্চপর্যায়ের সাইড ইভেন্টে অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, মানবিক সহায়তা কখনোই রাজনৈতিক দায়বদ্ধতা বা নিষ্ক্রিয়তার অজুহাত হতে পারে না। বাংলাদেশ ও গাম্বিয়ার যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই সভায় তিনি স্পষ্ট করেন যে, অনির্দিষ্টকাল ধরে রোহিঙ্গাদের এই বিশাল দায়িত্ব একা বহন করা বাংলাদেশের পক্ষে সম্ভব নয়। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে মিয়ানমারে রোহিঙ্গারা যে বৈষম্য ও নির্যাতনের শিকার, তা নিরসনে এখন বিশ্বসম্প্রদায়ের কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন।

স্মৃতিচারণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অতীতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং পরবর্তীতে বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন সরকারের সময়ে সফলভাবে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন সম্ভব হয়েছিল। কিন্তু ২০১৭ সালে মিয়ানমারে ভয়াবহ সহিংসতার পর পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করে। বর্তমানে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া ১২ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গার মানবিক দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কক্সবাজারের স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ওপর সামাজিক, অর্থনৈতিক ও পরিবেশগতসহ নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ছে।

প্রধানমন্ত্রী উদ্বেগ প্রকাশ করেন যে, একদিকে রোহিঙ্গা সংকট দীর্ঘায়িত হচ্ছে, অন্যদিকে সহায়তার পরিমাণ সংকুচিত হচ্ছে। ২০২৫ সালের তুলনায় ২০২৬ সালের জন্য মানবিক সহায়তার বাজেট কমিয়ে ৭১০ মিলিয়ন ডলারে নামিয়ে আনা হয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই সংকটের মূল উৎপত্তিস্থল মিয়ানমার এবং সমাধানও সেখানেই নিহিত। রাখাইন রাজ্যের বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক যেখানে মিয়ানমার সেনাবাহিনী ও আরাকান আর্মি—উভয়ের বিরুদ্ধেই গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ রয়েছে।

রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পাঁচটি জরুরি প্রস্তাব উত্থাপন করেন। প্রথমত, প্রত্যাবাসন ত্বরান্বিত করতে আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক অংশীজনদের সমন্বয়ে একটি বিশ্বাসযোগ্য রোডম্যাপ তৈরি করতে হবে। দ্বিতীয়ত, মিয়ানমারে সহিংসতা বন্ধ করে রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা ও মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে হবে, যাতে তারা নিজ ভূমিতে ফেরার আস্থা পায়।

তৃতীয়ত, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে রোহিঙ্গাদের পাশাপাশি আশ্রয়দাতা স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য পর্যাপ্ত ও দীর্ঘমেয়াদী সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। চতুর্থত, প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়াকে সফল করতে আইসিজে ও আইসিসি-সহ আন্তর্জাতিক বিচারিক ব্যবস্থাকে পূর্ণ সহায়তা দিতে হবে এবং অপরাধীদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। পঞ্চম ও সর্বশেষ প্রস্তাবে তিনি বলেন, এই অঞ্চলে মাদক, মানবপাচার ও অবৈধ অস্ত্র চোরাচালানের মতো আন্তঃসীমান্ত অপরাধ মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতার পরিধি বাড়াতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী তার সমাপনী বক্তব্যে পুনর্ব্যক্ত করেন যে, বাংলাদেশ চায় না রোহিঙ্গারা চিরকাল বাস্তুচ্যুত থাকুক। মানবিকতার খাতিরে বাংলাদেশ সীমান্ত উন্মুক্ত করেছিল, কিন্তু এখন বিশ্বনেতাদের দায়িত্ব নিতে হবে। রোহিঙ্গাদের ভাগ্য যেন কেবল নিপীড়নের একটি দীর্ঘ আখ্যান না হয়ে ওঠে, বরং ন্যায়বিচার ও মর্যাদার গল্পের সূচনা হয়—সেই আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে রোহিঙ্গা সংকট বিষয়ক এক উচ্চপর্যায়ের সাইড ইভেন্টে দেওয়া বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আন্তর্জাতিক সহায়তার ঘাটতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, দীর্ঘস্থায়ী বাস্তুচ্যুতির কারণে শুধু রোহিঙ্গাদের নয়, কক্সবাজারের স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ওপরও সামাজিক, অর্থনৈতিক, পরিবেশগত ও নিরাপত্তাজনিত বিপুল চাপ পড়ছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এই সংকট সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে পাঁচ দফা প্রস্তাব তুলে ধরেছেন তিনি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বাংলাদেশ ও গাম্বিয়া যৌথভাবে এ ইভেন্টের আয়োজন করে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: মানবিকতার তাগিদেই বাংলাদেশ সীমান্ত খুলে দিয়েছিল এবং তাদের খাদ্য, স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষাদানের চেষ্টা করে যাচ্ছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কিন্তু দীর্ঘ সময় বসবাসের জন্য শিবিরগুলো কোনো আদর্শ স্থান নয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ফলে নিরাপদ প্রত্যাবাসনের পরিস্থিতি এখনো নিশ্চিত হয়নি।

Facebook Comments Box