ঢাকা ০৭:৪৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ব্র্যাক ব্যাংকে ইনফরমেশন সিকিউরিটি বিভাগে নিয়োগ, আবেদনের নিয়ম হরমুজ প্রণালিতে অবাধ চলাচল ও গাজায় যুদ্ধবিরতির আহ্বান কাতার-ফ্রান্সের লক্ষ্মীপুর বিসিক শিল্পনগরীর ২৯ বছরেও কাটেনি নানা সংকট আওয়ামী লীগ ও জামায়াতের মধ্যে সম্পর্ক সুস্পস্ট: রিজভী নতুন আয়োজনে কুমার বিশ্বজিতের জনপ্রিয় গান ‘যেখানে সীমান্ত তোমার’ দাম্মাম বিমানবন্দরে হামলায় আহত ২ বাংলাদেশি সুস্থ রয়েছেন ওয়ানডেতে দ্রুততম ডাবল সেঞ্চুরির বিশ্ব রেকর্ড হ্যারি ব্রুকের কাউনিয়ায় ডোবার পানিতে গড়িয়ে পড়া খেলনা গাড়ি তুলতে গিয়ে শিশুর মৃত্যু ব্যাটে-বলে বিশ্ব কাঁপানো ১০ অলরাউন্ডারের ক্রিকেট মহাকাব্য কাউনিয়ায় যুবদলের প্রস্তুস্তি সভা

মায়ের ভাষার বাইরে বাংলা ভাষায় পাঠদানের কারণে প্রাথমিকে ঝড়ে পড়ছে ত্রিপুরাশিশুরা

সৃষ্টি শিক্ষা ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৮:৫৭:২৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৪ মার্চ ২০২৪ ২৯৫ বার পড়া হয়েছে

মায়ের ভাষার বাইরে বাংলা ভাষায় পাঠদানের কারণে প্রাথমিকে ঝড়ে পড়ছে ত্রিপুরাশিশুরা

(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মায়ের ভাষার বাইরে বাংলা ভাষায় পাঠদানের কারণে প্রাথমিকে ঝড়ে পড়ছে ত্রিপুরাশিশুরা

তিন পার্বত্য জেলার পাশাপাশি সমতলেও বসবাস করছে ত্রিপুরা জনগোষ্ঠী। চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি, হাটহাজারী, মিরসরাই, ও সীতাকুণ্ডসহ বিভিন্ন উপজেলায় বসবাস করছেন ন্যূনতম ৬০ হাজার ত্রিপুরা।

কিন্তু মায়ের ভাষার বাইরে বাংলা ভাষায় পাঠদান হওয়ায় প্রাথমিকেই ঝড়ে পড়ছে এসব শিক্ষার্থী। এমন পরিস্থিতিতে সমতলে বসবাসরত ত্রিপুরা শিক্ষার্থীদের স্বার্থে মাতৃভাষায় পাঠদান পদ্ধতি চালু দাবি জানিয়েছে তারা।

পাশাপাশি মাতৃভাষায় পাঠদানের ক্ষেত্রে শিক্ষকদের পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা দিতেও অনুরোধ তাদের। কোটা পদ্ধতির মাধ্যমে প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক পর্যায়ে সমতলে পর্যাপ্ত পরিমাণে ত্রিপুরা জনগোষ্ঠী থেকে শিক্ষক নিয়োগ হলেই এই সংকট কাটানো যাবে বলে মনে করছেন ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের মানুষ।

এ জন্য ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর সঠিক ইতিহাস, সংস্কৃতি সংবলিত তথ্য পাঠ্যপুস্তকে উপস্থাপন করার অনুরোধ করেছেন তারা।

রোববার (৩ মার্চ) চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এমন দাবির কথা জানান ত্রিপুরা ছাত্র সংসদ (টিসিএস)। এর আগে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার মাধ্যমে শিক্ষামন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের কাছে একটি স্মারকলিপি দেন তারা।

ত্রিপুরা ছাত্র সংসদের (টিসিএস) কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ধন কিশোর ত্রিপুরা বলেন, বাংলাদেশে বসবাসরত ক্ষুদ্র জাতিসত্তাসমূহের মধ্যে ত্রিপুরা জনগোষ্ঠী অন্যতম।

পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাড়াও প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর মানুষ চট্টগ্রাম জেলার ফটিকছড়ি, মীরসরাই, সীতাকুণ্ড, হাটহাজারী, কুমিল্লা, চাঁদপুর, শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, রাজবাড়ি, ফরিদপুর এবং কক্সবাজার জেলায় বসবাস করে। এককালে ত্রিপুরা জাতির সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য বেশ সমৃদ্ধ ছিল। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, সময়ের আবর্তে ত্রিপুরা জাতিগোষ্ঠীর ভাষাও সংস্কৃতি দিন দিন বিলুপ্তির পথে এগোচ্ছে।

একই তথ্য জানান ত্রিপুরা ছাত্র সংসদের (টিসিএস) কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি রুমিও ত্রিপুরা।

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট গঠনের পর দেশের বিভিন্ন জাতিসত্তার অবস্থান ও ভাষা পরিস্থিতি নিয়ে তথ্য অনুসন্ধানের জন্য একটি কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়।

বাংলাদেশের নৃ-ভাষা বৈজ্ঞানিক সমীক্ষা এ কর্মসূচির মাধ্যমে সারা দেশে মাঠপর্যায়ে একটি সমীক্ষা পরিচালনা করতে গিয়ে বাংলা ছাড়াও আরও ৪০টি ভাষার সন্ধান পেয়েছে ইনস্টিটিউট।

সমীক্ষার মাধ্যমে সবচেয়ে ভয়াবহ যে তথ্যটি উঠে এসেছে তা হলো এই ৪০ ভাষার ১৪টি বিপন্নপ্রায়। অনেকের মতে, এই বিপন্ন ভাষাগুলোর সংখ্যা আরও অধিক হবে।

রুমিও ত্রিপুরা বলেন, বিভিন্ন ক্ষুদ্র জাতিসত্তার রাজনৈতিক, সামাজিক ছাত্র সংগঠনের দাবির ফলে সরকার ২০১০ সালের জাতীয় শিক্ষানীতিতে সকল জাতিসত্তার জন্য মাতৃভাষায় শিক্ষার নীতিগ্রহণ করে।

বহু দাবি দাওয়া ও প্রতীক্ষার পর ২০১৭ সালে সরকার চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা , সাঁওতাল (সাদরি), গারো ভাষায় শিশুদের জন্য প্রাক-প্রাথমিক পর্যায়ের বই রচনা করে। বর্তমানে প্রাক-প্রাথমিক স্তরে মাতৃভাষায় বই বিতরণ করা হলেও মাতৃভাষায় শিক্ষক সংকট, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, শিক্ষকের উপযুক্ত প্রশিক্ষণের অভাব, তদারকি ও তত্ত্বাবধানের অভাবে উদ্যোগ সম্পন্নভাবে সফল হচ্ছে না।

ধন কিশোর ত্রিপুরা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর শিশুরা মাতৃভাষায় আংশিকভাবে শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ পেলেও সমতলের কোমলমতি শিক্ষার্থীরা বঞ্চিত হচ্ছে।

পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর চেয়ে সমতলে বসবাসরত ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর মাতৃভাষা আরও বেশি বিপন্ন।

সাম্প্রতিক সময়ে সমতলের ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর মাতৃভাষা সংকটের মুখে। অনেকে নিজস্ব মাতৃভাষা হারিয়ে বাংলা ভাষায় ভাব বিনিময় করতে বাধ্য হচ্ছে। যদি সময়োপযোগী কার্যকরে কোনো উদ্যোগ না নেওয়া হয় তাহলে অদূর ভবিষ্যতে ত্রিপুরাদের প্রাণের ভাষা ককবরক হারিয়ে যাবে।

টিসিএস এর সভাপতি রুমিও ত্রিপুরা বলেন, ২০১৭ সালে প্রাক-প্রাথমিক পর্যায়ে ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর ককবরক ভাষাসহ ৫টি ভাষার মাধ্যমে ক্ষুদ্র জাতিসমূহের মাতৃভাষায় পাঠদানের জন্য পাঠ্য বই বিতরণ করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। কিন্তু মাতৃভাষায় শিক্ষক সংকট, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, শিক্ষকদের উপযুক্ত প্রশিক্ষণের অভাব, তদারকি ও তত্ত্বাবধানের অভাবে তা সম্পূর্ণ বাস্তবায়ন হচ্ছে না। পার্বত্য চট্টগ্রামে আংশিক সুযোগ পেলেও সমতলের ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর শিশুরা মাতৃভাষায় শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

হাটহাজারী ত্রিপুরা ছাত্র সংসদের সদস্য ফুলচাঁন ত্রিপুরা বলেন, ত্রিপুরাদের ঐতিহ্য ও ভাষা রক্ষা করতে হলে চারটি কাজ করতে হবে। সমতলে বসবাসরত ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর শিক্ষার্থীদের স্বার্থে মাতৃভাষায় পাঠদান পদ্ধতি চালু করতে হবে। কোটা পদ্ধতির মাধ্যমে প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক পর্যায়ে সমতলে পর্যাপ্ত পরিমাণে ত্রিপুরা জনগোষ্ঠী থেকে শিক্ষক নিয়োগ দিতে হবে।

মাতৃভাষায় পাঠদানের ক্ষেত্রে শিক্ষকদের পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর সঠিক ইতিহাস, সংস্কৃতি সংবলিত তথ্য পাঠ্যপুস্তকে উপস্থাপন করতে হবে। তথ্য সুত্র ও ছবি

 

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

মায়ের ভাষার বাইরে বাংলা ভাষায় পাঠদানের কারণে প্রাথমিকে ঝড়ে পড়ছে ত্রিপুরাশিশুরা

আপডেট সময় : ০৮:৫৭:২৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৪ মার্চ ২০২৪

মায়ের ভাষার বাইরে বাংলা ভাষায় পাঠদানের কারণে প্রাথমিকে ঝড়ে পড়ছে ত্রিপুরাশিশুরা

তিন পার্বত্য জেলার পাশাপাশি সমতলেও বসবাস করছে ত্রিপুরা জনগোষ্ঠী। চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি, হাটহাজারী, মিরসরাই, ও সীতাকুণ্ডসহ বিভিন্ন উপজেলায় বসবাস করছেন ন্যূনতম ৬০ হাজার ত্রিপুরা।

কিন্তু মায়ের ভাষার বাইরে বাংলা ভাষায় পাঠদান হওয়ায় প্রাথমিকেই ঝড়ে পড়ছে এসব শিক্ষার্থী। এমন পরিস্থিতিতে সমতলে বসবাসরত ত্রিপুরা শিক্ষার্থীদের স্বার্থে মাতৃভাষায় পাঠদান পদ্ধতি চালু দাবি জানিয়েছে তারা।

পাশাপাশি মাতৃভাষায় পাঠদানের ক্ষেত্রে শিক্ষকদের পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা দিতেও অনুরোধ তাদের। কোটা পদ্ধতির মাধ্যমে প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক পর্যায়ে সমতলে পর্যাপ্ত পরিমাণে ত্রিপুরা জনগোষ্ঠী থেকে শিক্ষক নিয়োগ হলেই এই সংকট কাটানো যাবে বলে মনে করছেন ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের মানুষ।

এ জন্য ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর সঠিক ইতিহাস, সংস্কৃতি সংবলিত তথ্য পাঠ্যপুস্তকে উপস্থাপন করার অনুরোধ করেছেন তারা।

রোববার (৩ মার্চ) চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এমন দাবির কথা জানান ত্রিপুরা ছাত্র সংসদ (টিসিএস)। এর আগে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার মাধ্যমে শিক্ষামন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের কাছে একটি স্মারকলিপি দেন তারা।

ত্রিপুরা ছাত্র সংসদের (টিসিএস) কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ধন কিশোর ত্রিপুরা বলেন, বাংলাদেশে বসবাসরত ক্ষুদ্র জাতিসত্তাসমূহের মধ্যে ত্রিপুরা জনগোষ্ঠী অন্যতম।

পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাড়াও প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর মানুষ চট্টগ্রাম জেলার ফটিকছড়ি, মীরসরাই, সীতাকুণ্ড, হাটহাজারী, কুমিল্লা, চাঁদপুর, শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, রাজবাড়ি, ফরিদপুর এবং কক্সবাজার জেলায় বসবাস করে। এককালে ত্রিপুরা জাতির সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য বেশ সমৃদ্ধ ছিল। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, সময়ের আবর্তে ত্রিপুরা জাতিগোষ্ঠীর ভাষাও সংস্কৃতি দিন দিন বিলুপ্তির পথে এগোচ্ছে।

একই তথ্য জানান ত্রিপুরা ছাত্র সংসদের (টিসিএস) কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি রুমিও ত্রিপুরা।

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট গঠনের পর দেশের বিভিন্ন জাতিসত্তার অবস্থান ও ভাষা পরিস্থিতি নিয়ে তথ্য অনুসন্ধানের জন্য একটি কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়।

বাংলাদেশের নৃ-ভাষা বৈজ্ঞানিক সমীক্ষা এ কর্মসূচির মাধ্যমে সারা দেশে মাঠপর্যায়ে একটি সমীক্ষা পরিচালনা করতে গিয়ে বাংলা ছাড়াও আরও ৪০টি ভাষার সন্ধান পেয়েছে ইনস্টিটিউট।

সমীক্ষার মাধ্যমে সবচেয়ে ভয়াবহ যে তথ্যটি উঠে এসেছে তা হলো এই ৪০ ভাষার ১৪টি বিপন্নপ্রায়। অনেকের মতে, এই বিপন্ন ভাষাগুলোর সংখ্যা আরও অধিক হবে।

রুমিও ত্রিপুরা বলেন, বিভিন্ন ক্ষুদ্র জাতিসত্তার রাজনৈতিক, সামাজিক ছাত্র সংগঠনের দাবির ফলে সরকার ২০১০ সালের জাতীয় শিক্ষানীতিতে সকল জাতিসত্তার জন্য মাতৃভাষায় শিক্ষার নীতিগ্রহণ করে।

বহু দাবি দাওয়া ও প্রতীক্ষার পর ২০১৭ সালে সরকার চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা , সাঁওতাল (সাদরি), গারো ভাষায় শিশুদের জন্য প্রাক-প্রাথমিক পর্যায়ের বই রচনা করে। বর্তমানে প্রাক-প্রাথমিক স্তরে মাতৃভাষায় বই বিতরণ করা হলেও মাতৃভাষায় শিক্ষক সংকট, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, শিক্ষকের উপযুক্ত প্রশিক্ষণের অভাব, তদারকি ও তত্ত্বাবধানের অভাবে উদ্যোগ সম্পন্নভাবে সফল হচ্ছে না।

ধন কিশোর ত্রিপুরা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর শিশুরা মাতৃভাষায় আংশিকভাবে শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ পেলেও সমতলের কোমলমতি শিক্ষার্থীরা বঞ্চিত হচ্ছে।

পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর চেয়ে সমতলে বসবাসরত ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর মাতৃভাষা আরও বেশি বিপন্ন।

সাম্প্রতিক সময়ে সমতলের ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর মাতৃভাষা সংকটের মুখে। অনেকে নিজস্ব মাতৃভাষা হারিয়ে বাংলা ভাষায় ভাব বিনিময় করতে বাধ্য হচ্ছে। যদি সময়োপযোগী কার্যকরে কোনো উদ্যোগ না নেওয়া হয় তাহলে অদূর ভবিষ্যতে ত্রিপুরাদের প্রাণের ভাষা ককবরক হারিয়ে যাবে।

টিসিএস এর সভাপতি রুমিও ত্রিপুরা বলেন, ২০১৭ সালে প্রাক-প্রাথমিক পর্যায়ে ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর ককবরক ভাষাসহ ৫টি ভাষার মাধ্যমে ক্ষুদ্র জাতিসমূহের মাতৃভাষায় পাঠদানের জন্য পাঠ্য বই বিতরণ করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। কিন্তু মাতৃভাষায় শিক্ষক সংকট, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, শিক্ষকদের উপযুক্ত প্রশিক্ষণের অভাব, তদারকি ও তত্ত্বাবধানের অভাবে তা সম্পূর্ণ বাস্তবায়ন হচ্ছে না। পার্বত্য চট্টগ্রামে আংশিক সুযোগ পেলেও সমতলের ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর শিশুরা মাতৃভাষায় শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

হাটহাজারী ত্রিপুরা ছাত্র সংসদের সদস্য ফুলচাঁন ত্রিপুরা বলেন, ত্রিপুরাদের ঐতিহ্য ও ভাষা রক্ষা করতে হলে চারটি কাজ করতে হবে। সমতলে বসবাসরত ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর শিক্ষার্থীদের স্বার্থে মাতৃভাষায় পাঠদান পদ্ধতি চালু করতে হবে। কোটা পদ্ধতির মাধ্যমে প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক পর্যায়ে সমতলে পর্যাপ্ত পরিমাণে ত্রিপুরা জনগোষ্ঠী থেকে শিক্ষক নিয়োগ দিতে হবে।

মাতৃভাষায় পাঠদানের ক্ষেত্রে শিক্ষকদের পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর সঠিক ইতিহাস, সংস্কৃতি সংবলিত তথ্য পাঠ্যপুস্তকে উপস্থাপন করতে হবে। তথ্য সুত্র ও ছবি

 

Facebook Comments Box