বিশ্ব বাণিজ্যকে ফের ঔপনিবেশিক মডেলে ফেরাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র: রেহমান সোবহান
- আপডেট সময় : ০৮:২৭:৫৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে
সাম্প্রতিক পরিস্থিতির সারসংক্ষেপ
- রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভাঙচুর-লুট: গ্রেপ্তার আরও ২
- গাজীপুরে পোশাক কারখানার আগুন নিয়ন্ত্রণে
- ডেঙ্গুতে একদিনে ৬ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ১৬০৮
- ভারতের বিপক্ষে ব্রাজিলের শুরুর একাদশে নেই গিমারেস ও গ্যাব্রিয়েল
বাণিজ্য ও অর্থনীতি
বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক রেহমান সোবহান মন্তব্য করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্র দেশগুলো বিশ্ব বাণিজ্যকে পুনরায় ঔপনিবেশিক ধারায় নিয়ে যাচ্ছে। রাজধানী ঢাকায় ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন’-এর পঞ্চম আসরের ‘দ্য নিউ ইন্টারন্যাশনাল ইকোনমিক ডিসঅর্ডার’ শীর্ষক অধিবেশনে তিনি জানান, প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ার ফলে শক্তিশালী দেশগুলো শুল্ককে হাতিয়ার করে অন্যান্য রাষ্ট্রকে নিজেদের পণ্য কিনতে বাধ্য করছে। তার মতে, এ ধরনের আচরণ কেবল অনৈতিক নয়, বরং বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক কাঠামোর জন্য অচল একটি কৌশল। রেহমান সোবহান বলেন, আমরা বাণিজ্যের ঔপনিবেশিক মডেলে ফিরে যাওয়া দেখছি। রেহমান সোবহান বলেন, আপনার পণ্য কিনতে বাধ্য করার মানে হলো, আপনি আর প্রতিযোগিতামূলকভাবে উৎপাদন করতে পারছেন না।
তিনি রাশিয়ার উদাহরণ দিয়ে ব্যাখ্যা করেন, রাজনৈতিক স্বার্থে যুক্তরাষ্ট্র ব্রাজিল, কানাডা, চীন এমনকি ভারতকেও চাপ দিচ্ছে। রেহমান সোবহানের মতে, এশিয়ার ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক শক্তি ও উত্থানের বিপরীতে এটি পাশ্চাত্যের এক ধরনের বিকৃত প্রতিক্রিয়া। উপনিবেশবাদের যুগে যেভাবে দেশ দখলের মাধ্যমে বাজার কুক্ষিগত করা হতো, ঠিক সেভাবেই বর্তমানে পুরোনো শক্তিগুলো বাজারের স্বাভাবিক নিয়মে হস্তক্ষেপ করছে। ক্রয়ক্ষমতার দিক থেকে চীন ইতিমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়িয়ে গেছে এবং বিশ্ব অর্থনীতির কেন্দ্রবিন্দু এখন এশিয়া হওয়ার পথে। কিন্তু এশিয়ার উত্থান ঘটেছে মূলত ‘বাজারের নিয়মেই’। ১৮৯০-এর দশকে প্রেসিডেন্ট উইলিয়াম ম্যাকিনলি বাজার সুরক্ষার মাধ্যমে মার্কিন শিল্পকে পুনরুজ্জীবিত করার চেষ্টা করেছিলেন।
মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের প্রভাব প্রসঙ্গে তিনি ইসরায়েলকে ‘দুর্বৃত্ত রাষ্ট্র’ আখ্যা দিয়ে এর নেতিবাচক অর্থনৈতিক প্রভাবের কথা উল্লেখ করেন। তিনি জানান, বাংলাদেশেও বর্তমানে এর আঁচ লেগেছে। বাংলাদেশের রপ্তানি সম্ভাবনা বাড়াতে এশিয়ার দেশগুলোর ‘ভ্যালু চেইনে’ যুক্ত হওয়ার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন। তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, উৎপাদন প্রক্রিয়া যুক্ত করলেও রপ্তানির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ এখনও গুটিকয়েক বাজারের সীমাবদ্ধতায় আটকে আছে। কৌশলগত পরিকল্পনা প্রণয়ন ও তা বাস্তবায়নে বাংলাদেশের দক্ষতা ও সদিচ্ছার অভাব রয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। কিন্তু সেখানে আমাদের জন্য যেসব সুযোগ তৈরি হচ্ছে, সেগুলোর সঙ্গে আমরা বাংলাদেশের রপ্তানি সম্ভাবনাকে মেলাতে পারিনি।’। তার মতে, বাংলাদেশের প্রকৃত কৌশলগত গুরুত্ব বঙ্গোপসাগরে নয়, বরং দেশের মধ্যেই নিহিত।
ফোরামের তথ্য ও প্রেক্ষাপট
- উদ্বোধন: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কর্তৃক তিন দিনব্যাপী এই আন্তর্জাতিক ফোরামের পঞ্চম আসরের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন।
- অংশগ্রহণ: ১০০টিরও বেশি দেশ থেকে ২০০ জন বক্তা, ৩০০ প্রতিনিধি এবং ১ হাজারের বেশি অংশগ্রহণকারীর উপস্থিতি।
- ব্যক্তিগত পর্যবেক্ষণ: ৯০তম জন্মদিনে ও জীবনমুখী আলোচনায় অধ্যাপক রেহমান সোবহানকে ঘিরে রাখা শ্রদ্ধা ও আলোকপাত।
- রাষ্ট্রীয় দর্শন: এক শ্রেণির মানুষের রাষ্ট্রকে নিজের হাতের মুঠোয় নিয়ে রাষ্ট্র হয়ে ওঠার প্রবণতা নিয়ে সতর্ক বার্তা।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
- নীতি বাস্তবায়নে ব্যর্থতা ও সরকারের সদিচ্ছা নিয়ে আলোচনা হওয়া দরকার: রেহমান সোবহান।
সূত্র: ডেইলি স্টার বাংলা
Social Media
Communication
Bookmarking
Developer
Entertainment
Academic
Finance
Lifestyle
নিউজটি শেয়ার করুন
-
সর্বশেষ সংবাদ
-
জনপ্রিয় সংবাদ























