ঢাকা ১১:৪৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
এনসিসি ব্যাংকে শাখা ব্যবস্থাপক পদে নিয়োগ তাড়াশ উপজেলা শিক্ষক-কর্মচারী কো-অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়ন লিঃ পরিচালনা পর্ষদ নির্বাচন রাণীশংকৈলে ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়নে নির্ভুল তথ্য সংগ্রহে প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধন দোহা–রিয়াদ রুটে কাতার এয়ারওয়েজের একাধিক ফ্লাইট বাতিল বিরল ও পীরগঞ্জ সীমান্তে বিজিবির পৃথক অভিযানে ইয়াবা ও মদ উদ্ধার রাণীশংকৈলে দুর্গাপূজা উপলক্ষে প্রস্তুতি সভা, ৫৫ মণ্ডপের নিরাপত্তায় জোর মাদরাসার সাবেক উপাধ্যক্ষের পেনশন বণ্টন নিয়ে পরিবারের বিরোধ তাহিরপুরে থমকে গেছে ছাত্রী যৌন হয়রানির অভিযোগের বিচার দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও স্থানীয় সরকারব্যবস্থা জনগণের কাছে ফেরাতে চায় সরকার: মঈন খান

বাগমারায় তিন ফসলি জমি নষ্ট করে আবারো  পুকুর খনন

রাজশাহী থেকে মো. ইসরাফিল হোসেন
  • আপডেট সময় : ০৬:১২:৩৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৩ ২৬০ বার পড়া হয়েছে

বাগমারায় তিন ফসলি জমি নষ্ট করে আবারো  পুকুর খনন

(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

রাজশাহীর বাগমারায় তিন ফসলি জমি নষ্ট করে আবারো  পুকুর খনন চলছে।

প্রশাসনসহ পুকুর খনন নিয়ন্ত্রনকারী সকল কর্তৃপক্ষকে ম্যানেজ করে রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার গোলায়কান্দি ইউনিয়নের কামারখালি গ্রামে ফের শুরু হয়েছে তিন ফসলী জমিতে পুকুর খননের মহোৎসব।

এলাকায় পুকুর খনন করার জন্য গড়ে উঠেছে একটি শক্তিশালি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে পুকুরটি খনন কাজ করা হচ্ছে।

তারা পুকুরের আকার আকৃতি, বছরে কয়টি ফসল হয়, পুকুর খননের মাটি কার কাছে বিক্রি করবে ও পরিবহনের সুবিধা আছে কিনা ইত্যাদির উপর ভিত্তি করে ১০ থেকে ১৫ লক্ষ টাকা চুক্তির বিনিময়ে পুকুর খননে সহযোগিতা করে থাকে।

আর তাদের রয়েছে প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়েল কর্মকর্তার সঙ্গে শখ্যতা। যে কারণে পুকুর খননকারীরা দিনে দুপুরে অবৈধভাবে তিন ফসলী জমিতে পুকুর খনন করে মাটি বিক্রি ও পরিবহন করতে কাউকে তোয়াক্তা করছে না।

বিশেষ করে যত্রতত্র ও লক্কর জক্কর কাঁকড়া দিয়ে মাটি পরিবহন করে। ফলে সরকারের নতুন নতুন রাস্তা ভেঙ্গেচুরে একাকার হয়ে যাচ্ছে।

এভাবে মাটি পরিবহন করায় সরকারের কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত রাস্তা ভেঙ্গে চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ছে।

স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা গেছে, গোয়ালকান্দির কামারখালি গ্রামে গত ৩/৪ দিন ধরে ২০ একর অধিক তিন ফসলি জমিতে পুকুর খনন কাজ চলছে।

এছাড়াও বাগমারায় তিন ফসলি জমি নষ্ট করে পুকুর খনন চলছে। এসব পুকুরের মাটি ও বালু ইট ভাটায়  বিক্রি হচ্ছে।

তবে প্রশাসন এদের ব্যাপারে একেবারেই নির্বিকার। পুকুর খনন বন্ধে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করে।

গ্রাম পুলিশের মাধ্যমে প্রচার চালানো হলেও রহস্যজনক কারণে এ এলাকায় চলছে দিনে-দুপুরে পুকুর খননের বিশাল কর্মযজ্ঞ।

এর ফলে একদিকে সরকারি রাস্তার ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে সেই সাথে রাস্তায় মাটি পড়ে সামান্ন বৃষ্টিতেই সেই রাস্তায় চলাচলা অনুপযোগি হয়ে বাড়ছে জনদূর্ভোগ।

আজাদ সরকার বলেন, চারদিন আগে সেখানে ভ্যেকু (মাটিকাটা মেশিন) দিয়ে মাটি কাটতে সহযোগিতা করেছিলাম। আমি সেখানে কোন পুকুর খনন করিনি। আমি সেখান থেকে মাটি ও ভরাট বালি নিচ্ছি।

ফসলী জমিতে পুকুর খনন বিষয়ে জানতে চাইলে আব্দুল কুদ্দুস সরদার বলেন, পুকুর খননের জন্য ইউএনও অফিসে আবেদন করেছি।

বিষয়টি পরিদর্শনের জন্য মৎস কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। পরিদর্শনের আগেই কেন পুকুর খনন করছেন এমন প্রশ্ন তিনি এড়িয়ে যান।

উপজেলা মৎস কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম বলেন, ঈদের আগে সেখানে পুকুর খননের বিষয়ে পরিদর্শনের জন্য ইউএনও স্যার নির্দেশ দিয়েছিলেন। পরে অফিস ছুটি হওয়ায় সেখানে আর যাওয়া হয়নি।

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী খলিলুর রহমান জানান, কোন ভাবেই সরকারি রাস্তার ক্ষতি সাধন করা যাবে না। মাটি পরিবহনের ওইসব যানবাহন সম্পর্ণ অবৈধ। মাটি বহনের এসব ট্রাকের চলাচল বন্ধে এর আগেও আমরা নোটিশ প্রদান করেছি।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবু সুফিয়ান বলেন, শুধু গোয়ালকান্দি নয়। গোটা উপজেলাতে পুকুর খনন বন্ধে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে।

পুকুর খনন বন্ধে চলতি মাসে একাধিক অভিযান চালিয়ে বেশ কিছু জরিমানা আদায় করা হয়েছে। আবারও কেউ পুকুর খননের দুঃসাহস দেখালে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

 

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

বাগমারায় তিন ফসলি জমি নষ্ট করে আবারো  পুকুর খনন

আপডেট সময় : ০৬:১২:৩৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৩

রাজশাহীর বাগমারায় তিন ফসলি জমি নষ্ট করে আবারো  পুকুর খনন চলছে।

প্রশাসনসহ পুকুর খনন নিয়ন্ত্রনকারী সকল কর্তৃপক্ষকে ম্যানেজ করে রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার গোলায়কান্দি ইউনিয়নের কামারখালি গ্রামে ফের শুরু হয়েছে তিন ফসলী জমিতে পুকুর খননের মহোৎসব।

এলাকায় পুকুর খনন করার জন্য গড়ে উঠেছে একটি শক্তিশালি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে পুকুরটি খনন কাজ করা হচ্ছে।

তারা পুকুরের আকার আকৃতি, বছরে কয়টি ফসল হয়, পুকুর খননের মাটি কার কাছে বিক্রি করবে ও পরিবহনের সুবিধা আছে কিনা ইত্যাদির উপর ভিত্তি করে ১০ থেকে ১৫ লক্ষ টাকা চুক্তির বিনিময়ে পুকুর খননে সহযোগিতা করে থাকে।

আর তাদের রয়েছে প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়েল কর্মকর্তার সঙ্গে শখ্যতা। যে কারণে পুকুর খননকারীরা দিনে দুপুরে অবৈধভাবে তিন ফসলী জমিতে পুকুর খনন করে মাটি বিক্রি ও পরিবহন করতে কাউকে তোয়াক্তা করছে না।

বিশেষ করে যত্রতত্র ও লক্কর জক্কর কাঁকড়া দিয়ে মাটি পরিবহন করে। ফলে সরকারের নতুন নতুন রাস্তা ভেঙ্গেচুরে একাকার হয়ে যাচ্ছে।

এভাবে মাটি পরিবহন করায় সরকারের কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত রাস্তা ভেঙ্গে চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ছে।

স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা গেছে, গোয়ালকান্দির কামারখালি গ্রামে গত ৩/৪ দিন ধরে ২০ একর অধিক তিন ফসলি জমিতে পুকুর খনন কাজ চলছে।

এছাড়াও বাগমারায় তিন ফসলি জমি নষ্ট করে পুকুর খনন চলছে। এসব পুকুরের মাটি ও বালু ইট ভাটায়  বিক্রি হচ্ছে।

তবে প্রশাসন এদের ব্যাপারে একেবারেই নির্বিকার। পুকুর খনন বন্ধে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করে।

গ্রাম পুলিশের মাধ্যমে প্রচার চালানো হলেও রহস্যজনক কারণে এ এলাকায় চলছে দিনে-দুপুরে পুকুর খননের বিশাল কর্মযজ্ঞ।

এর ফলে একদিকে সরকারি রাস্তার ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে সেই সাথে রাস্তায় মাটি পড়ে সামান্ন বৃষ্টিতেই সেই রাস্তায় চলাচলা অনুপযোগি হয়ে বাড়ছে জনদূর্ভোগ।

আজাদ সরকার বলেন, চারদিন আগে সেখানে ভ্যেকু (মাটিকাটা মেশিন) দিয়ে মাটি কাটতে সহযোগিতা করেছিলাম। আমি সেখানে কোন পুকুর খনন করিনি। আমি সেখান থেকে মাটি ও ভরাট বালি নিচ্ছি।

ফসলী জমিতে পুকুর খনন বিষয়ে জানতে চাইলে আব্দুল কুদ্দুস সরদার বলেন, পুকুর খননের জন্য ইউএনও অফিসে আবেদন করেছি।

বিষয়টি পরিদর্শনের জন্য মৎস কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। পরিদর্শনের আগেই কেন পুকুর খনন করছেন এমন প্রশ্ন তিনি এড়িয়ে যান।

উপজেলা মৎস কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম বলেন, ঈদের আগে সেখানে পুকুর খননের বিষয়ে পরিদর্শনের জন্য ইউএনও স্যার নির্দেশ দিয়েছিলেন। পরে অফিস ছুটি হওয়ায় সেখানে আর যাওয়া হয়নি।

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী খলিলুর রহমান জানান, কোন ভাবেই সরকারি রাস্তার ক্ষতি সাধন করা যাবে না। মাটি পরিবহনের ওইসব যানবাহন সম্পর্ণ অবৈধ। মাটি বহনের এসব ট্রাকের চলাচল বন্ধে এর আগেও আমরা নোটিশ প্রদান করেছি।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবু সুফিয়ান বলেন, শুধু গোয়ালকান্দি নয়। গোটা উপজেলাতে পুকুর খনন বন্ধে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে।

পুকুর খনন বন্ধে চলতি মাসে একাধিক অভিযান চালিয়ে বেশ কিছু জরিমানা আদায় করা হয়েছে। আবারও কেউ পুকুর খননের দুঃসাহস দেখালে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

 

Facebook Comments Box