ঢাকা ১০:১১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

নির্বাচনে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের রাজনৈতিক প্রচার বন্ধের দাবি

সৃষ্টি নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৪:২৮:০৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ নভেম্বর ২০২৫ ৩৯৫৬ বার পড়া হয়েছে
(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

 

 

নির্বাচনে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের রাজনৈতিক প্রচার বন্ধের দাবি

 

নির্বাচনে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের রাজনৈতিক প্রচার বন্ধের দাবি।
এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অনেক শিক্ষক-কর্মচারী রাজনৈতিক দলের প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণায় অংশ নিচ্ছেন, যা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জেলা প্রশাসকরা (ডিসি)। ভোটের দায়িত্ব পালনকারী এসব শিক্ষকদের রাজনৈতিক প্রচার নিষিদ্ধ করার দাবি জানিয়েছেন তারা। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে এই উদ্যোগ জরুরি বলে মত দিয়েছেন প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা।

 

সোমবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে ৬৪ জেলার ডিসি এবং আট বিভাগীয় কমিশনারের মতবিনিময় সভায় এ দাবি তোলা হয়।

পড়ুন>>শেখ হাসিনার রায় ঘিরে ৮ দিনে আগুনে পুড়ল ৫৭ যান, নিহত ৩

সভায় সূত্র জানায়, রাজশাহী বিভাগের একজন ডিসি বলেন, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা বর্তমানে মূল বেতনের পুরোটা সরকার থেকে পান। এর পাশাপাশি তারা ভাতা পান এবং জাতীয় নির্বাচনে প্রিসাইডিং, সহকারী প্রিসাইডিং ও পোলিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। কেন্দ্র পরিচালনা ও কক্ষের ব্যবস্থাপনা তাদের হাতেই থাকে। এ অবস্থায় যদি তারা কোনো রাজনৈতিক প্রার্থীর পক্ষে সরাসরি প্রচারে অংশ নেন, তাহলে সুষ্ঠু ভোটগ্রহণ বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

 

ডিসিরা আরও জানান, ২০২৩ সালের জেলা প্রশাসক সম্মেলনেও একই প্রস্তাব তোলা হয়েছিল। তখন বলা হয়, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা বেসরকারি হওয়ায় তারা সরাসরি রাজনীতিতে সক্রিয় থাকার সুযোগ পান, যা সরকারি কর্মচারী আচরণবিধির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তাই সরকারি কর্মচারীদের মতো তাদের জন্যও আলাদা আচরণবিধি প্রয়োজন।

 

ঝিনাইদহের তৎকালীন ডিসি মনিরা বেগমও ওই প্রস্তাবের পক্ষে মত দিয়ে যুক্তি দেন, অনেক এমপিওভুক্ত শিক্ষক রাজনীতি, ঠিকাদারি, সাংবাদিকতাসহ বিভিন্ন পেশায় যুক্ত থাকায় পাঠদানে অনীহা বা দায়সারাভাব দেখা যায়। একটি সুনির্দিষ্ট আচরণবিধি থাকলে শিক্ষকদের মূল দায়িত্বের প্রতি মনোযোগী করা যাবে এবং রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়ার প্রবণতাও কমবে।

পড়ুন>>আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের রায়ের ঝড়

প্রশাসনের কর্মকর্তারা মনে করেন, নির্বাচন ঘিরে শিক্ষক-কর্মচারীদের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা বন্ধ করা এখন সময়ের দাবি। তবে এখন পর্যন্ত সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে সভায় মন্তব্য করা হয়।

প্রশাসনের দাবি, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের স্বার্থে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের রাজনৈতিক প্রচারণা সীমিত বা নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত এখন জরুরি।

 

 

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

নির্বাচনে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের রাজনৈতিক প্রচার বন্ধের দাবি

আপডেট সময় : ০৪:২৮:০৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ নভেম্বর ২০২৫

 

 

 

নির্বাচনে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের রাজনৈতিক প্রচার বন্ধের দাবি

 

নির্বাচনে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের রাজনৈতিক প্রচার বন্ধের দাবি।
এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অনেক শিক্ষক-কর্মচারী রাজনৈতিক দলের প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণায় অংশ নিচ্ছেন, যা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জেলা প্রশাসকরা (ডিসি)। ভোটের দায়িত্ব পালনকারী এসব শিক্ষকদের রাজনৈতিক প্রচার নিষিদ্ধ করার দাবি জানিয়েছেন তারা। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে এই উদ্যোগ জরুরি বলে মত দিয়েছেন প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা।

 

সোমবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে ৬৪ জেলার ডিসি এবং আট বিভাগীয় কমিশনারের মতবিনিময় সভায় এ দাবি তোলা হয়।

পড়ুন>>শেখ হাসিনার রায় ঘিরে ৮ দিনে আগুনে পুড়ল ৫৭ যান, নিহত ৩

সভায় সূত্র জানায়, রাজশাহী বিভাগের একজন ডিসি বলেন, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা বর্তমানে মূল বেতনের পুরোটা সরকার থেকে পান। এর পাশাপাশি তারা ভাতা পান এবং জাতীয় নির্বাচনে প্রিসাইডিং, সহকারী প্রিসাইডিং ও পোলিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। কেন্দ্র পরিচালনা ও কক্ষের ব্যবস্থাপনা তাদের হাতেই থাকে। এ অবস্থায় যদি তারা কোনো রাজনৈতিক প্রার্থীর পক্ষে সরাসরি প্রচারে অংশ নেন, তাহলে সুষ্ঠু ভোটগ্রহণ বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

 

ডিসিরা আরও জানান, ২০২৩ সালের জেলা প্রশাসক সম্মেলনেও একই প্রস্তাব তোলা হয়েছিল। তখন বলা হয়, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা বেসরকারি হওয়ায় তারা সরাসরি রাজনীতিতে সক্রিয় থাকার সুযোগ পান, যা সরকারি কর্মচারী আচরণবিধির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তাই সরকারি কর্মচারীদের মতো তাদের জন্যও আলাদা আচরণবিধি প্রয়োজন।

 

ঝিনাইদহের তৎকালীন ডিসি মনিরা বেগমও ওই প্রস্তাবের পক্ষে মত দিয়ে যুক্তি দেন, অনেক এমপিওভুক্ত শিক্ষক রাজনীতি, ঠিকাদারি, সাংবাদিকতাসহ বিভিন্ন পেশায় যুক্ত থাকায় পাঠদানে অনীহা বা দায়সারাভাব দেখা যায়। একটি সুনির্দিষ্ট আচরণবিধি থাকলে শিক্ষকদের মূল দায়িত্বের প্রতি মনোযোগী করা যাবে এবং রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়ার প্রবণতাও কমবে।

পড়ুন>>আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের রায়ের ঝড়

প্রশাসনের কর্মকর্তারা মনে করেন, নির্বাচন ঘিরে শিক্ষক-কর্মচারীদের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা বন্ধ করা এখন সময়ের দাবি। তবে এখন পর্যন্ত সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে সভায় মন্তব্য করা হয়।

প্রশাসনের দাবি, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের স্বার্থে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের রাজনৈতিক প্রচারণা সীমিত বা নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত এখন জরুরি।

 

 

Facebook Comments Box