ঢাকা ১০:৩৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের রায়ের ঝড়

সৃষ্টি নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৭:৫৭:৫৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ নভেম্বর ২০২৫ ৪৬৯০ বার পড়া হয়েছে

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে জুলাই গণঅভ্যুত্থান।

(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

 

 

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের রায়ের ঝড়

 

 

নিউইয়র্ক টাইমস:

‘বাংলাদেশ কোর্ট সেন্টেন্সেস ফরমার লিডার শেখ হাসিনা টু ডেথ’।

মার্কিন দৈনিক নিউইয়র্ক টাইমস জানায়, গত বছর ভারতে আশ্রয় নেওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতে তাঁর বিচার সম্পন্ন হয়। গণঅভ্যুত্থানের সময় মারণাস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগে তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের এই রায় শান্তিতে নোবেলজয়ী মুহাম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলোর একটি পূরণ করেছে। তবে ভারত তাঁর ঘনিষ্ঠ মিত্র হওয়ায় তাঁকে প্রত্যর্পণ করা প্রায় অসম্ভব বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিবিসির বিশ্লেষণ:

‘হোয়াই দিস ভার্ডিক্ট পুটস ইন্ডিয়া ইন আ ট্রিকি সিচুয়েশন’

বিবিসির গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স প্রতিবেদক অন্বরাসন এথিরাজন লিখেছেন, এই রায় ভারতের জন্য একটি জটিল কূটনৈতিক পরিস্থিতি তৈরি করেছে।

বাংলাদেশ রায়ের পর আবারও শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ চাইতে পারে। যদিও দুই দেশের মধ্যে প্রত্যর্পণ চুক্তি আছে, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অভিযোগ মনে করলে ভারত তা নাকচ করার পূর্ণ অধিকার রাখে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ক্ষমতায় থাকাকালে হাসিনা দিল্লির ঘনিষ্ঠ মিত্র ছিলেন। ফলে তাঁকে ফেরত পাঠানো ভারতের রাজনৈতিক পরিসরে অপছন্দনীয়। ভারত যদি অনুরোধ নাকচ করে—তবে তা ঢাকার কাছে নেতিবাচক সংকেত হিসেবে দেখা হবে; আবার অনুরোধ মেনে নিলে ঘনিষ্ঠ মিত্রকে উপেক্ষা করতে হবে। তাই ভারত এখন এক জটিল ভারসাম্যের পথে হাঁটছে।

আল জাজিরা:

‘ভার্ডিক্ট মে ওপেন ডোর টু ন্যাশনাল রিকনসিলিয়েশন’

দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক গবেষক আব্বাস ফাইজ আল জাজিরাকে বলেন, আগামী বছরের নির্বাচনের আগে এই রায় সরকারের পক্ষ থেকে একটি বার্তা—জনমতের চাহিদা বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে এবং স্বচ্ছ বিচার প্রক্রিয়া সম্ভব।

তবে রায়টি ভারত–বাংলাদেশ সম্পর্ককে কীভাবে প্রভাবিত করবে, তা এখনও অনিশ্চিত।
গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, এই রায় জাতীয় পুনর্মিলন প্রক্রিয়ার দরজা খুলে দিতে পারে।

ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রতিক্রিয়া

টাইমস অব ইন্ডিয়া:

‘ক্রাইমস এগেনস্ট হিউম্যানিটি…কি টেকঅ্যাওয়েজ ফ্রম ভার্ডিক্ট’

টাইমস অব ইন্ডিয়া শেখ হাসিনার একটি বিবৃতি প্রকাশ করেছে,  “একটি সাজানো ট্রাইব্যুনাল আমার বিরুদ্ধে রায় দিয়েছে, যার পরিচালনাকারী অনির্বাচিত সরকার।”

এনডিটিভি:

‘শেখ হাসিনা গেটস ডেথ পেনাল্টি, ঢাকা কোর্ট সাইটস ক্রাইম এগেনস্ট হিউম্যানিটি’

এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, মাসব্যাপী বিচার শেষে তিনটি অভিযোগে শেখ হাসিনাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। গত বছর ছাত্রনেতৃত্বাধীন বিক্ষোভ দমনে প্রাণঘাতী অভিযান পরিচালনার নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে আদালত জানায়।

অন্যান্য আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে রায়

রায়টি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে,

পাকিস্তানের ডন, চীনের সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট,
ব্রিটেনের দ্য গার্ডিয়ান ও ফিন্যান্সিয়াল টাইমস, মিডল ইস্ট আই, বার্তা সংস্থা এএফপি ও রয়টার্স।

সব প্রতিবেদনের কেন্দ্রবিন্দু, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মানবতাবিরোধী অপরাধ এবং এই রায়কে ঘিরে আঞ্চলিক কূটনৈতিক চাপ।

 

 

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের রায়ের ঝড়

আপডেট সময় : ০৭:৫৭:৫৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ নভেম্বর ২০২৫

 

 

 

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের রায়ের ঝড়

 

 

নিউইয়র্ক টাইমস:

‘বাংলাদেশ কোর্ট সেন্টেন্সেস ফরমার লিডার শেখ হাসিনা টু ডেথ’।

মার্কিন দৈনিক নিউইয়র্ক টাইমস জানায়, গত বছর ভারতে আশ্রয় নেওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতে তাঁর বিচার সম্পন্ন হয়। গণঅভ্যুত্থানের সময় মারণাস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগে তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের এই রায় শান্তিতে নোবেলজয়ী মুহাম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলোর একটি পূরণ করেছে। তবে ভারত তাঁর ঘনিষ্ঠ মিত্র হওয়ায় তাঁকে প্রত্যর্পণ করা প্রায় অসম্ভব বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিবিসির বিশ্লেষণ:

‘হোয়াই দিস ভার্ডিক্ট পুটস ইন্ডিয়া ইন আ ট্রিকি সিচুয়েশন’

বিবিসির গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স প্রতিবেদক অন্বরাসন এথিরাজন লিখেছেন, এই রায় ভারতের জন্য একটি জটিল কূটনৈতিক পরিস্থিতি তৈরি করেছে।

বাংলাদেশ রায়ের পর আবারও শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ চাইতে পারে। যদিও দুই দেশের মধ্যে প্রত্যর্পণ চুক্তি আছে, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অভিযোগ মনে করলে ভারত তা নাকচ করার পূর্ণ অধিকার রাখে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ক্ষমতায় থাকাকালে হাসিনা দিল্লির ঘনিষ্ঠ মিত্র ছিলেন। ফলে তাঁকে ফেরত পাঠানো ভারতের রাজনৈতিক পরিসরে অপছন্দনীয়। ভারত যদি অনুরোধ নাকচ করে—তবে তা ঢাকার কাছে নেতিবাচক সংকেত হিসেবে দেখা হবে; আবার অনুরোধ মেনে নিলে ঘনিষ্ঠ মিত্রকে উপেক্ষা করতে হবে। তাই ভারত এখন এক জটিল ভারসাম্যের পথে হাঁটছে।

আল জাজিরা:

‘ভার্ডিক্ট মে ওপেন ডোর টু ন্যাশনাল রিকনসিলিয়েশন’

দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক গবেষক আব্বাস ফাইজ আল জাজিরাকে বলেন, আগামী বছরের নির্বাচনের আগে এই রায় সরকারের পক্ষ থেকে একটি বার্তা—জনমতের চাহিদা বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে এবং স্বচ্ছ বিচার প্রক্রিয়া সম্ভব।

তবে রায়টি ভারত–বাংলাদেশ সম্পর্ককে কীভাবে প্রভাবিত করবে, তা এখনও অনিশ্চিত।
গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, এই রায় জাতীয় পুনর্মিলন প্রক্রিয়ার দরজা খুলে দিতে পারে।

ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রতিক্রিয়া

টাইমস অব ইন্ডিয়া:

‘ক্রাইমস এগেনস্ট হিউম্যানিটি…কি টেকঅ্যাওয়েজ ফ্রম ভার্ডিক্ট’

টাইমস অব ইন্ডিয়া শেখ হাসিনার একটি বিবৃতি প্রকাশ করেছে,  “একটি সাজানো ট্রাইব্যুনাল আমার বিরুদ্ধে রায় দিয়েছে, যার পরিচালনাকারী অনির্বাচিত সরকার।”

এনডিটিভি:

‘শেখ হাসিনা গেটস ডেথ পেনাল্টি, ঢাকা কোর্ট সাইটস ক্রাইম এগেনস্ট হিউম্যানিটি’

এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, মাসব্যাপী বিচার শেষে তিনটি অভিযোগে শেখ হাসিনাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। গত বছর ছাত্রনেতৃত্বাধীন বিক্ষোভ দমনে প্রাণঘাতী অভিযান পরিচালনার নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে আদালত জানায়।

অন্যান্য আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে রায়

রায়টি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে,

পাকিস্তানের ডন, চীনের সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট,
ব্রিটেনের দ্য গার্ডিয়ান ও ফিন্যান্সিয়াল টাইমস, মিডল ইস্ট আই, বার্তা সংস্থা এএফপি ও রয়টার্স।

সব প্রতিবেদনের কেন্দ্রবিন্দু, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মানবতাবিরোধী অপরাধ এবং এই রায়কে ঘিরে আঞ্চলিক কূটনৈতিক চাপ।

 

 

Facebook Comments Box