নিউগিনি প্রপার্টিজে হামলা
- আপডেট সময় : ০৭:০৩:১১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬ ১৩ বার পড়া হয়েছে
রাজধানীর ইসিবি চত্বরের নিউগিনি প্রপার্টিজ এলাকায় গত শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে ভয়াবহ তাণ্ডব ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। প্রায় দুই শতাধিক অস্ত্রধারী ব্যক্তি আবাসন এলাকায় ঢুকে নির্বিচারে ভাঙচুর চালায়। এ সময় কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও ‘ব্রাউন ফিস’-এর মালামালও লুট করা হয়। এই ঘটনায় ক্যান্টনমেন্ট থানায় দায়ের করা মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও দেড় থেকে দুই শ’ ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। পুলিশের অভিযানে এখন পর্যন্ত সাবেক সেনা কর্মকর্তাসহ অন্তত ৮ জন গ্রেপ্তার হয়েছেন। সর্বশেষ বুধবার দুপুরে সেগুনবাগিচা থেকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের গুলশান বিভাগ অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল গোলাম মহিউদ্দিন চৌধুরীকে (৬৬) গ্রেপ্তার করে। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (গোয়েন্দা) মো. শফিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, গোলাম মহিউদ্দিন এই মামলার ৪ নম্বর আসামি এবং বিষয়টি নিবিড়ভাবে তদন্ত করা হচ্ছে। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে কুষ্টিয়া-২ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য আব্দুল গফুরের জামাতা মিজানুর রহমানও রয়েছেন। লুট করা হয় ভবনে থাকা বিভিন্ন অফিস ও আবাসনের মালামাল। বন্ধুর সেই শেডেই ব্রাউন ফিস নামে বিশাল স্টুডিও গড়ে তোলেন সালমান। বাসা ৫১২/১০, মানিকদি রোড, ক্যান্টনমেন্ট থানা। রোড নম্বর ৯, মিরপুর ডিওএইচএস কালচারাল সেন্টার, মিরপুর। চুক্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়— ‘ঢাকা-১২০৬ এর ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট এলাকার মানিকদি রোডের ৫১২/১০ নম্বর হোল্ডিংয়ে অবস্থিত রাজউক অনুমোদিত ৬তলাবিশিষ্ট আবাসিক ভবনটি সম্পূর্ণভাবে ইজারা প্রদানকারীর মালিকানাধীন এবং তিনি এর আইনগত স্বত্ব ও দখলের অধিকারী।
তদন্তের এক পর্যায়ে নিউগিনি প্রপার্টিজ ও সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে। নথিপত্র বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ৫ হাজার বর্গফুটের যে শেডে সালমান তার স্টুডিও গড়ে তুলেছেন, সেখানে তার নিজস্ব কোনো চুক্তিপত্র নেই। বরং তার বন্ধু এসএম রিফাত মেনন এই শেডটি ভাড়া নিয়েছিলেন। ২০২৫ সালের ১লা নভেম্বর সম্পন্ন হওয়া এই চার বছর মেয়াদী চুক্তিপত্রের প্রথম পক্ষে রয়েছেন নিউগিনি প্রপার্টিজের মালিক ও জুলাই হত্যা মামলার আসামি মো. নাজিম উদ্দিন ভূঁইয়া। চুক্তি অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১লা জানুয়ারি থেকে মাসিক ভাড়া ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা ধার্য করা হয়। শর্ত ছিল, ইজারাগ্রহীতা এটি শুধুমাত্র অফিস বা স্টুডিও হিসেবে ব্যবহার করবেন এবং কোনোভাবেই তৃতীয় কোনো পক্ষকে সাব-লেট বা উপ-ভাড়া দিতে পারবেন না। অথচ চুক্তিভঙ্গ করে সেখানে সালমান মুক্তাদির নিজের স্টুডিও স্থাপন করেন। নথি বলছে, ৫ হাজার বর্গ ফুটের ওই শেডের ভাড়ার চুক্তিপত্রে সালমান মুক্তাদিরের নাম নেই। সম্পত্তিটির মোট আয়তন ৬ হাজার ৮০০ বর্গফুট। এর মধ্যে ইজারাযোগ্য অংশের (পূর্ব ও উত্তর দিক) আয়তন ৫ হাজার বর্গফুট।
জুলাই হত্যা মামলার (সিআর নং ৭০৪/২০২৫) নথিতে নাজিম উদ্দিন ভূঁইয়াকে ২৪৭ নম্বর আসামি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, এই আওয়ামী লীগ নেতাকে সুরক্ষা দেওয়ার লক্ষ্যেই এসএম রিফাত মেনন প্রপার্টিটি ভাড়া নেন, যা সালমান মুক্তাদির জানতেন। হামলার পর সালমান নিজেও গণমাধ্যমে স্বীকার করেছিলেন যে, প্রপার্টির মালিক আওয়ামী লীগ করতেন এবং তার কাছে চাঁদা দাবি করার জেরে এই হামলা হয়েছে। তবে মামলার বাদি মো. সাইফুল ইসলাম ভূঁইয়ার অভিযোগ অনুযায়ী, জমি দখল ও পূর্বশত্রুতার জেরে এই হামলা চালানো হয়েছে। এদিকে, সালমান মুক্তাদিরের সমস্ত ব্যাংক হিসাবের তথ্য, কেওয়াইসি (KYC) ও লেনদেনের বিবরণ তলব করেছে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)।
সূত্র: মানবজমিন
Social Media
Communication
Bookmarking
Developer
Entertainment
Academic
Finance
Lifestyle
নিউজটি শেয়ার করুন
-
সর্বশেষ সংবাদ
-
জনপ্রিয় সংবাদ






















