ঢাকা ০৫:৪৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নতুন তথ্য: পবিপ্রবি নির্বাহী প্রকৌশলীর পদোন্নতি নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:০৪:১৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পবিপ্রবি) প্রকৌশল বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী (সিভিল) হাসান মাহমুদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নিয়ম লঙ্ঘন, কর্তৃপক্ষের অনুমোদনহীন ডিগ্রি অর্জন এবং অস্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় পদোন্নতি পাওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে এবং তারা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

নথি থেকে জানা যায়, ২০১৩ সালে উপ-সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত থাকাকালীন হাসান মাহমুদ ইনস্টিটিউট অব ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ (আইইবি)-এর অধীনে এএমআইই (AMIE) কোর্সে ভর্তির অনুমতি পান। তবে অভিযোগ রয়েছে যে, নির্ধারিত সেই কোর্সে ভর্তি না হয়ে তিনি কর্তৃপক্ষের অগোচরে গ্লোবাল ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ থেকে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে বিএসসি ডিগ্রি গ্রহণ করেন। এ ঘটনার প্রেক্ষিতে ২০২২ সালের ২৪ নভেম্বর রেজিস্ট্রার কার্যালয় থেকে তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়, যেখানে অনুমতি ছাড়া ডিগ্রি অর্জনকে শৃঙ্খলা পরিপন্থী কাজ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

পরবর্তীতে ২০২২ সালের ৩০ নভেম্বর হাসান মাহমুদ লিখিত জবাবে নিজের ভুল স্বীকার করেন এবং ক্ষমা প্রার্থনা করেন। তবুও ২০২৩ সালের ২২ মার্চ একটি অফিস আদেশের মাধ্যমে তাকে সহকারী প্রকৌশলী থেকে নির্বাহী প্রকৌশলী পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়। পদোন্নতিটি ২০২২ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি থেকে ভূতাপেক্ষভাবে কার্যকর করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, তৎকালীন সময়ে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে শৃঙ্খলা ভঙ্গের বিষয়টি এড়িয়ে তাকে পদোন্নতি পাইয়ে দেওয়া হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস. এম. হেমায়েত জাহান বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত আছেন এবং প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। বিষয়টি এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারের কাছে পাঠানো হয়েছে। রেজিস্ট্রার পুরো বিষয়টি তদন্ত করে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন জমা দেবেন বলে তিনি জানান।

এই অনিয়ম ও পদোন্নতির প্রক্রিয়া নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা এবং কর্মচারীদের একাংশ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তারা মনে করছেন, নিয়মের ব্যত্যয় ঘটিয়ে নেওয়া এই পদোন্নতি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধিমালাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানার জন্য নির্বাহী প্রকৌশলী হাসান মাহমুদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি পরে কথা বলবেন বলে জানান এবং এরপরই ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী সময়ে প্রতিবেদনের অংশ করা হবে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: অভিযোগকারীদের দাবি, তৎকালীন রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে আগের শৃঙ্খলাভঙ্গের বিষয়গুলো যথাযথভাবে নিষ্পত্তি না করেই তাকে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তবে এ দাবির বিষয়ে স্বাধীনভাবে কোনো তথ্য বা নথি পাওয়া গেছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: নোটিশে অনুমতি ছাড়া অন্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিগ্রি অর্জনের বিষয়টিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারী সাধারণ আচরণ ও শৃঙ্খলা বিধির পরিপন্থী হিসেবে উল্লেখ করা হয়। চাকরির আরও তথ্য: এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নোটশিটে তার অর্জিত বিএসসি ডিগ্রির ক্ষেত্রে পূর্বানুমতি না থাকার পাশাপাশি পদোন্নতির জন্য প্রয়োজনীয় চাকরির মেয়াদ পূরণ হয়েছিল কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়।

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

নতুন তথ্য: পবিপ্রবি নির্বাহী প্রকৌশলীর পদোন্নতি নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ

আপডেট সময় : ০৫:০৪:১৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পবিপ্রবি) প্রকৌশল বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী (সিভিল) হাসান মাহমুদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নিয়ম লঙ্ঘন, কর্তৃপক্ষের অনুমোদনহীন ডিগ্রি অর্জন এবং অস্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় পদোন্নতি পাওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে এবং তারা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

নথি থেকে জানা যায়, ২০১৩ সালে উপ-সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত থাকাকালীন হাসান মাহমুদ ইনস্টিটিউট অব ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ (আইইবি)-এর অধীনে এএমআইই (AMIE) কোর্সে ভর্তির অনুমতি পান। তবে অভিযোগ রয়েছে যে, নির্ধারিত সেই কোর্সে ভর্তি না হয়ে তিনি কর্তৃপক্ষের অগোচরে গ্লোবাল ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ থেকে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে বিএসসি ডিগ্রি গ্রহণ করেন। এ ঘটনার প্রেক্ষিতে ২০২২ সালের ২৪ নভেম্বর রেজিস্ট্রার কার্যালয় থেকে তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়, যেখানে অনুমতি ছাড়া ডিগ্রি অর্জনকে শৃঙ্খলা পরিপন্থী কাজ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

পরবর্তীতে ২০২২ সালের ৩০ নভেম্বর হাসান মাহমুদ লিখিত জবাবে নিজের ভুল স্বীকার করেন এবং ক্ষমা প্রার্থনা করেন। তবুও ২০২৩ সালের ২২ মার্চ একটি অফিস আদেশের মাধ্যমে তাকে সহকারী প্রকৌশলী থেকে নির্বাহী প্রকৌশলী পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়। পদোন্নতিটি ২০২২ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি থেকে ভূতাপেক্ষভাবে কার্যকর করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, তৎকালীন সময়ে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে শৃঙ্খলা ভঙ্গের বিষয়টি এড়িয়ে তাকে পদোন্নতি পাইয়ে দেওয়া হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস. এম. হেমায়েত জাহান বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত আছেন এবং প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। বিষয়টি এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারের কাছে পাঠানো হয়েছে। রেজিস্ট্রার পুরো বিষয়টি তদন্ত করে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন জমা দেবেন বলে তিনি জানান।

এই অনিয়ম ও পদোন্নতির প্রক্রিয়া নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা এবং কর্মচারীদের একাংশ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তারা মনে করছেন, নিয়মের ব্যত্যয় ঘটিয়ে নেওয়া এই পদোন্নতি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধিমালাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানার জন্য নির্বাহী প্রকৌশলী হাসান মাহমুদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি পরে কথা বলবেন বলে জানান এবং এরপরই ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী সময়ে প্রতিবেদনের অংশ করা হবে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: অভিযোগকারীদের দাবি, তৎকালীন রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে আগের শৃঙ্খলাভঙ্গের বিষয়গুলো যথাযথভাবে নিষ্পত্তি না করেই তাকে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তবে এ দাবির বিষয়ে স্বাধীনভাবে কোনো তথ্য বা নথি পাওয়া গেছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: নোটিশে অনুমতি ছাড়া অন্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিগ্রি অর্জনের বিষয়টিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারী সাধারণ আচরণ ও শৃঙ্খলা বিধির পরিপন্থী হিসেবে উল্লেখ করা হয়। চাকরির আরও তথ্য: এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নোটশিটে তার অর্জিত বিএসসি ডিগ্রির ক্ষেত্রে পূর্বানুমতি না থাকার পাশাপাশি পদোন্নতির জন্য প্রয়োজনীয় চাকরির মেয়াদ পূরণ হয়েছিল কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়।

Facebook Comments Box