ঢাকা ০৬:২৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনা: সৌদি ও কাতারে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ক্ষেপণাস্ত্র লালমনিরহাটে জমির বিরোধ মিমাংসার নামে  নারীকে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ কোটালীপাড়ায় শিক্ষিকাকে উত্ত্যক্তের জেরে যুবককে নিরাপত্তা ঘটনায়, হাসপাতালে আবার বাড়ল এলপিজির দাম, আজ থেকেই কার্যকর পূজায় গুজব ছড়ালে কঠোর ব্যবস্থা: চট্টগ্রাম পুলিশ সুপার রাণীশংকৈলে বিষাক্ত ট্যাবলেট খেয়ে পল্লী বিদ্যুতের কর্মচারীর মৃত্যু বাংলাদেশ শুটিং ফেডারেশনের অ্যাডহক কমিটির কার্যক্রমে আইনি বাধা কাটল নিরাপদ রাখতে ব্যর্থ সরকারের প্রয়োজন নেই: শফিকুর রহমান শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা: ইয়াশের কোল থেকে দুইবার পড়লেন নীহা ভারত-বাংলাদেশ দীর্ঘস্থায়ী বন্ধন মুছে যাবে না: এম জে আকবর

নওগাঁর মহাদেবপুরে অর্থ; স্বর্ণালঙ্কার লুট ও দলবদ্ধ ধর্ষণ এর সাথে জড়িত ডাকাত দলের ৭ জন গ্রেফতার

নওগাঁ থেকে আবুজার গাফফারী
  • আপডেট সময় : ০৮:২৯:০১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৫ ১৮৪ বার পড়া হয়েছে

নওগাঁর মহাদেবপুরে অর্থ, স্বর্ণালঙ্কার লুট ও দলবদ্ধ ধর্ষণ এর সাথে জড়িত ডাকাত দলের ৭ জন গ্রেফতার

(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

মহাদেবপুরে অর্থ, স্বর্ণালঙ্কার লুট ও দলবদ্ধ ধর্ষন এর সাথে জড়িত ডাকাত দলের ৭ জন গ্রেফতার

 

মহাদেবপুরে অর্থ; স্বর্ণালঙ্কার লুট ও দলবদ্ধ ধর্ষণ এর সাথে জড়িত ডাকাত দলের ৭ জন গ্রেফতার।

নওগাঁর মহাদেপুরে নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার লুটের পর গৃহবধূকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে দলবদ্ধভাবে ধর্ষণ করে ডাকাত দল। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত অভিযোগে সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

 

আজ মঙ্গলবার দুপুরে নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে এ তথ্য জানান নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সাফিউল সারোয়ার।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন, নওগাঁর মান্দা উপজেলার চকজামদই গ্রামের শরিফুল ইসলাম ওরফে পচা (২৯), একই গ্রামের তারেক হোসেন (২৬), বনসেতর গ্রামের সোলাইমান আলী (৩৮), জিনারপুর গ্রামের রিপন আলী (৩০), গৌড়রা বৌদ্দপুর গ্রামের ফারুক হোসেন (৩২), চককন্দর্পপুর গ্রামের সাগর হোসেন (১৯) ও বন্দীপুর গ্রামের রুবেল সরদার (২৮)।

পড়ুন>> স্বামীর তালার আঘাতে স্ত্রীর মৃত্যু

 

গ্রেপ্তার সাত ব্যক্তির মধ্যে গতকাল সোমবার দিবাগত রাতে অভিযান চালিয়ে শরিফুল ইসলাম ও ফারুক হোসেনকে গ্রেপ্তার করে মহাদেবপুর থানা পুলিশ। অন্যদের পূর্বেই গ্রেপ্তার করা হয়। পূর্বে গ্রেপ্তার পাঁচ সদস্যের মধ্যে সাগর হোসেন, তারেক হোসেন ও রিপন আলী আদালতের কাছে স্বীকারোক্তিমূলক জবাবন্দি দিয়েছেন।

 

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সাফিউল সারোয়ার বলেন, সংঘবদ্ধ ডাকাতদের একটি দল গত ৯ ডিসেম্বর রাত ১১টার দিকে মহাদেবপুর উপজেলার খাজুর গ্রামের একটি বাড়িতে ডাকাতির উদ্দেশ্যে ঢোকেন। ওই বাড়িতে ঢুকে প্রথমে তাঁরা বাড়ির সদস্যদের মুখ, হাত-পা বেঁধে রেখে নগদ টাকা, স্বর্ণালঙ্কার ও একটি মোবাইল ফোন লুট করে। স্বর্ণালঙ্কার ও টাকা লুট করে যাওয়ার সময় তাঁর ওই বাড়ির গৃহবধূকে বাড়ি তুলে নিয়ে যায়। বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে একটি খোলা মাঠে গৃহবধূকে ডাকাতরা পর্যায়ক্রমে ধর্ষণ করে। থানা পুলিশ খবর পর ওই দিন রাতেই ভুক্তভোগী গৃহবধূকে উদ্ধার করে।

 

এ ঘটনায় পর দিন মহাদেবপুর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৩৯৫ ও ৩৯৭ ধারায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে একটি মামলা হয়।

পড়ুন >>মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ডিসপ্লেতে ভেসে উঠেলো ‘ছাত্রলীগ আবার ভয়ংকর রূপে ফিরবে’

 

পুলিশ সুপার বলেন, শুরুর দিকে এই ঘটনা পুলিশের কাছে ক্লুলেস একটি ঘটনা ছিলো। ডাকাতদের গ্রেপ্তার ও লুট হওয়া মালামাল উদ্ধারে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জয়ব্রত পালের নেতৃত্বে পুলিশের একটি তদন্ত দল গঠন করা হয়। তদন্তে নেমে তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় প্রথমে তিনজনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় মহাদেবপুর থানা পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামীদের তথ্যের ভিত্তিতে ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত দুটি ধারালো হাসুয়া উদ্ধার করা হয়েছে। ওই তিনজন আদালতের কাছে ডাকাতি ও ধর্ষণের ঘটনায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছেন।

 

পরে তাঁদের দেওয়া স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে আরও চারজনকে বিভিন্ন সময় গ্রেপ্তার করা হয়। সর্বশেষ গতকাল সোমবার দিবাগত দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার গাজিউর রহমান, ফারজানা হোসেন ও জয়ব্রত পাল এবং মহাদেবপুর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসমত আলী উপস্থিত ছিলেন।

 

মহাদেবপুর থানার ওসি হাসমত আলী বলেন, সোমবার রাতে গ্রেপ্তার দুইজন আসামিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। ইতোমধ্যে গৃহবধূর স্বাস্থ্য পরীক্ষার চূড়ান্ত প্রতিবেদন পাওয়া গেছে। প্রতিবেদনে ধর্ষণের আলামত পাওয়া গেছে।

 

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

নওগাঁর মহাদেবপুরে অর্থ; স্বর্ণালঙ্কার লুট ও দলবদ্ধ ধর্ষণ এর সাথে জড়িত ডাকাত দলের ৭ জন গ্রেফতার

আপডেট সময় : ০৮:২৯:০১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৫

 

মহাদেবপুরে অর্থ, স্বর্ণালঙ্কার লুট ও দলবদ্ধ ধর্ষন এর সাথে জড়িত ডাকাত দলের ৭ জন গ্রেফতার

 

মহাদেবপুরে অর্থ; স্বর্ণালঙ্কার লুট ও দলবদ্ধ ধর্ষণ এর সাথে জড়িত ডাকাত দলের ৭ জন গ্রেফতার।

নওগাঁর মহাদেপুরে নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার লুটের পর গৃহবধূকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে দলবদ্ধভাবে ধর্ষণ করে ডাকাত দল। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত অভিযোগে সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

 

আজ মঙ্গলবার দুপুরে নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে এ তথ্য জানান নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সাফিউল সারোয়ার।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন, নওগাঁর মান্দা উপজেলার চকজামদই গ্রামের শরিফুল ইসলাম ওরফে পচা (২৯), একই গ্রামের তারেক হোসেন (২৬), বনসেতর গ্রামের সোলাইমান আলী (৩৮), জিনারপুর গ্রামের রিপন আলী (৩০), গৌড়রা বৌদ্দপুর গ্রামের ফারুক হোসেন (৩২), চককন্দর্পপুর গ্রামের সাগর হোসেন (১৯) ও বন্দীপুর গ্রামের রুবেল সরদার (২৮)।

পড়ুন>> স্বামীর তালার আঘাতে স্ত্রীর মৃত্যু

 

গ্রেপ্তার সাত ব্যক্তির মধ্যে গতকাল সোমবার দিবাগত রাতে অভিযান চালিয়ে শরিফুল ইসলাম ও ফারুক হোসেনকে গ্রেপ্তার করে মহাদেবপুর থানা পুলিশ। অন্যদের পূর্বেই গ্রেপ্তার করা হয়। পূর্বে গ্রেপ্তার পাঁচ সদস্যের মধ্যে সাগর হোসেন, তারেক হোসেন ও রিপন আলী আদালতের কাছে স্বীকারোক্তিমূলক জবাবন্দি দিয়েছেন।

 

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সাফিউল সারোয়ার বলেন, সংঘবদ্ধ ডাকাতদের একটি দল গত ৯ ডিসেম্বর রাত ১১টার দিকে মহাদেবপুর উপজেলার খাজুর গ্রামের একটি বাড়িতে ডাকাতির উদ্দেশ্যে ঢোকেন। ওই বাড়িতে ঢুকে প্রথমে তাঁরা বাড়ির সদস্যদের মুখ, হাত-পা বেঁধে রেখে নগদ টাকা, স্বর্ণালঙ্কার ও একটি মোবাইল ফোন লুট করে। স্বর্ণালঙ্কার ও টাকা লুট করে যাওয়ার সময় তাঁর ওই বাড়ির গৃহবধূকে বাড়ি তুলে নিয়ে যায়। বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে একটি খোলা মাঠে গৃহবধূকে ডাকাতরা পর্যায়ক্রমে ধর্ষণ করে। থানা পুলিশ খবর পর ওই দিন রাতেই ভুক্তভোগী গৃহবধূকে উদ্ধার করে।

 

এ ঘটনায় পর দিন মহাদেবপুর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৩৯৫ ও ৩৯৭ ধারায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে একটি মামলা হয়।

পড়ুন >>মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ডিসপ্লেতে ভেসে উঠেলো ‘ছাত্রলীগ আবার ভয়ংকর রূপে ফিরবে’

 

পুলিশ সুপার বলেন, শুরুর দিকে এই ঘটনা পুলিশের কাছে ক্লুলেস একটি ঘটনা ছিলো। ডাকাতদের গ্রেপ্তার ও লুট হওয়া মালামাল উদ্ধারে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জয়ব্রত পালের নেতৃত্বে পুলিশের একটি তদন্ত দল গঠন করা হয়। তদন্তে নেমে তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় প্রথমে তিনজনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় মহাদেবপুর থানা পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামীদের তথ্যের ভিত্তিতে ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত দুটি ধারালো হাসুয়া উদ্ধার করা হয়েছে। ওই তিনজন আদালতের কাছে ডাকাতি ও ধর্ষণের ঘটনায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছেন।

 

পরে তাঁদের দেওয়া স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে আরও চারজনকে বিভিন্ন সময় গ্রেপ্তার করা হয়। সর্বশেষ গতকাল সোমবার দিবাগত দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার গাজিউর রহমান, ফারজানা হোসেন ও জয়ব্রত পাল এবং মহাদেবপুর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসমত আলী উপস্থিত ছিলেন।

 

মহাদেবপুর থানার ওসি হাসমত আলী বলেন, সোমবার রাতে গ্রেপ্তার দুইজন আসামিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। ইতোমধ্যে গৃহবধূর স্বাস্থ্য পরীক্ষার চূড়ান্ত প্রতিবেদন পাওয়া গেছে। প্রতিবেদনে ধর্ষণের আলামত পাওয়া গেছে।

 

Facebook Comments Box