admin
১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২২, ৫:৪৯ অপরাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

ধানের মাজরা পোকা দমন ও পরিচিতি

ধানের মাজরা পোকা দমন ও পরিচিতি

মাজরা পোকার পরিচিতি: বাংলাদেশে তিন ধরনের মাজরা পোকা ধানের সবচেয়ে বেশী ক্ষতি করে থাকে। মাজরা পোকা তিন প্রকার যথা:

ক) হলুদ মাজরা পোকা খ) কালোমাথা মাজরা পোকা গ) গোলাপী মাজরা পোকা।

এই পোকাগুলোর কীড়ার রং অনুযায়ী তাদের নামকরণ করা হয়েছে। এদের আকৃতি ও জীবন বৃত্তান্তে কিছুটা পার্থক্য থাকলে ও ক্ষতির ধরণ ও দমন পদ্ধতি একই রকম। হলুদ মাজরা প্রধানত বেশী আক্রমন করে।

ক) হলুদ মাজরা পোকা-

এই মাজরা পোকার স্ত্রীপোকার মথের পাখার উপর দুটো কালো ফোঁটা আছে। পুরুষ মথের পাখার মাঝখানে ফোটা দুটি স্পষ্ট নয় তবে পাখার পিছন দিক থেকে ৭-৮ টি আস্পষ্ট ফোঁটা আছে। এই পোকার স্ত্রীমথ ধান গাছের পাতার আগার দিক গাঁদা করে ডিম পাড়ে। এক সপ্তাহের মধ্যে ডিম ফুটে কীড়া বের হয়। কীড়ার রং সাদাটে হলুদ। কীড়াগুলো কান্ডের ভিতর প্রবেশ করে ৩-৪ সপ্তাহ পর পুত্তলীতে পরিণত হয়। তবে শীতকালে কীড়ার স্থিতিকাল ৮ সপ্তাহ পর্যন্ত হতে পারে। পুত্তলীগুলো এক থেকে দেড় সপ্তাহের মধ্যে বয়স্ক পোকায় পরিণত হয় এবং কান্ডের ভিতর থেকে বের হয়ে আসে।

খ) কালোমাথা মাজরা পোকা-

কালো মাথা মাজরা পোকা মথের শরীর হালকা হলুদ ও গাঢ় ধুসর রং মিশ্রিত। এদের পাখার উপর মাঝখানে ৬-৭টি কালো ফোঁটা আছে। স্ত্রীমথ ধান গাছের পাতার আগার দিক গাদা করে ডিম পাড়ে। ডিমের গাদার উপর মাছের আশেঁর মত সাদা আবরণ থাকে যা ডিম ফোটার আগে রং ধারণ করে।

কীড়ার গায়ে ৫টি লম্বালম্বি দাগ আছে এবং মাথা গাঢ় খয়েরী বা কাল রং এর। এদের জীবলকাল প্রায় সাড়ে তিন সপ্তাহ। কীড়াগুলো ধান গাছের কান্ডের ভিতর প্রবেশ করার পর ৩-৪ সপ্তাহে পুত্তলীতে পরিণত হয়।

পুত্তলীগুলো এক থেকে দেড় সপ্তাহের মধ্যে বয়স্ক পোকায় পরিণত হয় এবং কান্ডের ভিতর থেকে বের হয়ে আচে। জীবনচক্র ৫-৬ সপ্তাহে শেষ হয়।

 গ) গোলাপী মাজরা-

মথের রং হালকা ধূসর। উপরের পাখাতে গাঢ় ধূসর রং এর লম্বালম্বি দাগ আছে। এদের ঘাড় বেশ মোটা। মথগুলো গাছের বাইরের খোলপাতার ভিতর থেকে ডিম পাড়ে। ডিমগুলো বাইরে থেকে দেখা যায় না। ডিম থেকে কীড়া ফুটে বাহির হতে প্রায় এক সপ্তাহ সময় লাগে।

কীড়ার রং গোলাপী এবং মাথা হালকা ধূসর রঙ্গের। এদের জীবনকাল প্রায় ৫ সপ্তাহ। এদের পুত্তলী অন্য দুটি মাজরার পুত্তলীর চেয়ে আকারে বেশ বড় ও মোটা। গোলাপী মাজরা পোকার জীবনচক্র ৭-৮ সপ্তাহে শেষ হয়।

ক্ষতির লক্ষণ:

১) মাজরা পোকার সদ্য ফোটা কীড়াগুলো ২-৪ দিন খোল পাতার ভিথরের অংশ খেয়ে ধানগাছের কান্ডে প্রবেশ করে।

২) ক্রমান্বয়ে কান্ডের ভিতর খেয়ে মাঝখানের ডিগ কেটে দেয়। ফলে শীষ আগেই মরা ডিগের সৃষ্টি হয় যাকে ডেড হার্ট বলে।

৩) গাছের থোর আসার পরে ডিগকেটে দিলে শীষ শুকিয়ে মারা যায় বলে একে “মরা শীষ” বা হোয়াইড হেড বলে।

৪) মরা শীষের ধান চিটা হয় এবং শীষটা সাদা হয়ে যায়।

৫) মাজরা পোকা দ্বারা সৃষ্ট নমুনা ইঁদুরের কাটার ক্ষতির সাথে ভুল হতে পারে। মরা ডিগ টান দিলে সহজেই উঠে আসে ও পোকা খাওয়ার ছিদ্র ও কীড়ার মলের উপস্থিতি দেখা যায়। আক্রমণ মৌসুম- বোরো, আউশ এবং আমন এই তিন মৌসুমেই এই পোকার আক্রমণ দেখা যায়। জেনে নিন>>ধানের খোলপোড়া রোগ (Sheath blight) ও প্রতিকার

মাজরা দমন কৌশল:

১. নিয়মিতভাবে ক্ষেত পর্যবেক্ষণের সময় মাজরা পোকার মথ ও ডিম সংগ্রহ করে নষ্ট করে ফেললে মাজরা পোকার সংখ্যা ও ক্ষতি অনেক কমে যায়। থোর আসার পূর্ব পর্যন্ত হাতজাল দিয়ে মথ ধরে ধ্বংস করা যায়।

২.ক্ষেতে ডালপালা পুঁতে (পার্চিং) দিয়ে পোকা পোকা খেকো পাখির বসার সুযোগ করে দিলে এরা পূর্ণবয়স্ক মথ খেয়ে এদের সংখ্যা কমিয়ে ফেলে।

৩. মাজরা পোকার পূর্ণ বয়স্ক মথের প্রাদুর্ভাব যখন বেড়ে যায় তখন ধান ক্ষেত থেকে ২০০-৩০০ মিটার দূরে আলোক ফাঁদ বসিয়ে মাজরা পোকার মথ সংগ্রহ করে মেরে ফেলা যায়। জেনে নিন>>পেঁপের রিংস্পট বা মোজাইক রোগ ও প্রতিকার

৪. যে সব অঞ্চলে হলুদ মাজরা পোকার আক্রমণ বেশী, সে সব এলাকায় সম্ভব হলে মাজরা সহনশীল ধানের জাত যেমন-বিআর-১, বিআর-১০, বি-আর-১১, বিআর-২২ জাতের ধান চাষ করে আক্রমণ প্রতিহত করা যায়। জেনে নিন> নতুন ধান তাড়াবে পোকা ও সঙ্গে ছড়াবে সুগন্ধিও 

৫.হাতজাল দিয়ে মাজরা পোকার মথ ধরে মেরে ফেলা।

৬. আলোর ফাঁদে মথ আকৃষ্ট করে মেরে ফেলা। জমি হতে ২০০-৩০০ মিটার দূরত্বে নিরাপদ স্থানে ফাঁদ দিতে হবে।

৭. ধান কাটার পর নাড়া পুড়ে ফেলা।

৮.মেহগনির বীজ পানিতে ভিজিয়ে রেখে যে কষ হয় তাহা ৬/৭ গুন পানিতে মিশিয়ে স্প্রে করা যায়।

জেনে নিন>> হাইব্রিড ধান চাষ পদ্ধতি

জেনে নিন>> আমন ধানের জাত পরিচিতি ও ধান চাষ পদ্ধতি

 

 

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

শুধুমাত্র রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা অর্জনই লক্ষ্য নয়, আখিরাতের সফলতার জন্যও কাজ করতে হবে: এটিএম আজহার

গুলশানে নিষিদ্ধ সংগঠনের মিছিল ও ককটেল বিস্ফোরণ, গ্রেপ্তার ২

জাপানের কাছে বড় হারে হকি জুনিয়র বিশ্বকাপের স্বপ্নভঙ্গ বাংলাদেশের

যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি তেলের দামে রেকর্ড, পাম্পের ডিসপ্লেতে জায়গা হচ্ছে না নতুন দামের

চাঁপাইনবাবগঞ্জে পদ্মার পানি বৃদ্ধি: আড়াই হাজার পরিবার পানিবন্দী, তলিয়েছে ৩৬২ হেক্টর ফসলি জমি

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩৫ পদে নিয়োগ: প্রভাষক ও সহকারী অধ্যাপকসহ আবেদনের সুযোগ

প্রবাসীদের পাসপোর্ট ও এনআইডি সেবা সহজ করতে ৪১ দেশে কার্যক্রম সম্প্রসারণ

ভারতের কাছে হেরে এশিয়া কাপ থেকে বিদায় বাংলাদেশের, ব্যাটিং ব্যর্থতায় আক্ষেপ

ব্যয় সংকোচনের চাপে নিম্নআয়ের মানুষ, আইএমএফের নীতি নিয়ে অক্সফামের উদ্বেগ

নতুন দায়িত্ব পেলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ড. মঈন খান

১০

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের ৫০টি স্থায়ী কমিটি গঠন সম্পন্ন

১১

গৌরনদীতে শিক্ষার্থীদের মাঝে বৃক্ষরোপণ: প্রতিটি গাছের অভিভাবক এখন শিক্ষার্থীরা

১২

আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০৮ ডলার ছাড়াল

১৩

ফিলিস্তিনিদের ওপর চলমান মানবিক বিপর্যয় ও বিশ্ব সম্প্রদায়ের নীরবতা

১৪

প্রান্তিক ব্যবসায়ীদের জন্য নতুন ভ্যাট কাঠামো: ইউনিয়ন পর্যায়ে ৫০০ টাকা করের পরিকল্পনা এনবিআরের

১৫

ময়মনসিংহে মাদকের বিরুদ্ধে প্রতিবাদকারী যুবকের ওপর হামলা ও মৃত্যু

১৬

আদ্-দ্বীন উইমেন্স মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পরিচালক পদে নিয়োগ

১৭

ভূরুঙ্গামারীতে অধিক দামে সার বিক্রি করায় মোবাইল কোর্টে জরিমানা

১৮

দোহায় ইসরায়েলি হামলার এক বছর: উপসাগরীয় নিরাপত্তা কৌশলে বড় পরিবর্তন

১৯

নেপালের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বিরোধীদলীয় নেতার সৌজন্য সাক্ষাৎ

২০
error: Content is protected !!