ঢাকা ১০:৩৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সারা দেশে তাপমাত্রা বৃদ্ধির পূর্বাভাস, লঘুচাপের সম্ভাবনা নাটোরে জার্মান পর্যটকের হারানো ল্যাপটপ উদ্ধার, যা জানাল পুলিশ সৌদিতে হুতিদের হামলায় চার বাংলাদেশি নিহত, ঝুঁকিতে শ্রমবাজার জনগণের অর্থ ব্যয়ে সতর্ক থাকতে কর্মকর্তাদের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর রিয়াদ বিমানবন্দরে হুতি হামলায় ২ বাংলাদেশি নিহত, আহত ২৪ শেষ ৩০ মিনিটের ঝড়ে লিভারপুলকে উড়িয়ে দিল ম্যানসিটি ক্যানসারের সাথে লড়াইয়ে ছবিই যখন বেঁচে থাকার ভাষা নাটোর থেকে জার্মান পর্যটকের হারানো ল্যাপটপ উদ্ধার জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে এমপিদের প্রধানমন্ত্রীর কড়া বার্তা ফেনীতে বিজিবির অভিযানে অর্ধকোটি টাকার বেশি মূল্যের মদ ও গরু জব্দ

দিনাজপুরে ওঁরাওদের ঐতিহ্যবাহী পার্বণ কারাম উৎসব পালন

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:৫৯:১৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২২ ৩১৬ বার পড়া হয়েছে

দিনাজপুরে ওঁরাওদের ঐতিহ্যবাহী পার্বণ কারাম উৎসব পালন

(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

আদিবাসী ওঁরাওদের সমৃদ্ধ লোকসাহিত্য ও সংস্কৃতির অন্যতম পার্বণ কারাম উৎসব। লাল হলুদ শাড়ী আর খোপায় ফুল রঙ্গিন সাজে বাদ্যের তালে নেচে গেয়ে ক্ষুদ্র নৃগোষ্টীর ওঁরাও সম্প্রদায় উদযাপন করে তাদের বড় পার্বণ কারাম উৎসব।দিনাজপুরের সুইহারী খালপাড়ায় আদিবাসী পল্লীতে ৬ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার সন্ধ্যায় শুরু হয়ে সারারাত চলে এ উৎসব। দিনাজপুরের সুইহারী খালপাড়ায় আদীবাসি পল্লীতে এই ঐতিহ্যবাহী কারাম উৎসব এর অর্চনা পাঠ করান ওঁরাও সম্প্রদায়ের ‘মাড়েয়া(ধর্ম যাজক)’ সানে এক্কা।

সকাল থেকে নেচে গিয়ে আসতে শুরু করে ক্ষুদ্র-নৃগোষ্টীর নারী পুরুষ মাদল আর মন্দিরার শব্দের সাথে দলবদ্ধ পথনৃত্য। ক্ষুদ্র-নৃগোষ্টীর নিজস্ব ভাষায় গাওয়া গান আর ছন্দময় নাচে অংশ নেয় তরুন তরুনী আর আবাল বৃদ্ধরা। সমতল ভুমির ক্ষুদ্র-নৃগোষ্টীর বিভিন্ন জাতিসত্বা নেচে গেয়ে নিজস্ব সংস্কৃতি তুলে ধরে তাদের ঐতিহ্য এবং সংস্কৃতকে। বৈচিত্রপুর্ণ এ অনুষ্টান উপভোগ করতে ঢল নামে নানা পেশার মানুষদের ক্ষুদ্র-নৃগোষ্টীর নিজস্ব সংস্কৃতি তুলে ধরায় এই আয়োজন।

কারাম উৎসবটি ওঁরাওদের বছরের সবচেয়ে বড় পার্বণ হিসাবে বিবেচিত। এই কারাম উৎসবটি ৩টি পর্বে অনুষ্ঠিত হয়। একক কারাম যা একক প্রচেষ্টায় নিজ বাড়িতে অনুষ্ঠিত হয়, দোমাসি কারাম এটি ভাদ্র মাসের শেষে শুরু হয় এবং আশ্বিন মাসের শুরুতে শেষ হয়, ১০ কারাম এটি এলাকার সকলে মিলে পালন করে। ভাদ্র মাসের দশমীতে এ উৎসব পালন করেন ওঁরাও সম্প্রদায় । এ উৎসবটি মূলত ধান কাটার আগে এবং অবসর সময়ে “প্রচুর ফসল উৎপাদনক্ষম উৎসব” ও শস্য মাঠে দাঁড়ানোর শক্তি যোগানোর জন্য করা হয়ে থাকে।

এ ছাড়াও কারাম পার্বণে ওঁরাও সম্প্রদায়রা গ্রামের যুবক-যুবতীদের সুসন্তান লাভের জন্যও প্রার্থনা করেন। কারাম উৎসবের প্রধান অনুষ্ঠানটি কারাম গাছের তিনটি ডাল কেটে গ্রাম্য আখড়ার মাঝখানে কারাম রাজা হিসাবে গ্রামের নারীদের দ্বারা পোতা হয়। ডালের চতুর্দিকে বসে কারামের কাহিনী শোনানো হয়। এরপর গ্রামের ছেলে-মেয়েরা কারাম রাজার চর্তুদিকে সারা রাত ধরে নাচে। পরের দিন সকালে যুবতী মেয়েরা বিশেষভাবে গোজানো জাওয়া পুঁপ তাদের ভাই ও আত্মীয়-সজনদের মাঝে বিতরণ করে।

সকালের সুর্যের তাপ বাড়ার সাথে সাথে পাহান কারাম ডালগুলো তুলে কাছাকাছি পুকুর বা নদীতে সম্মানের সাথে ভাসিয়ে দিয়ে পারিবারিক ভোজে অংশগ্রহণ করে।

ঐতিহাসিকগণের বর্ননায় জানা যায় যে, বহুদিন পূর্বে পাটনার রোহিতাসগড় হতে আর্যদের দ্বারা যুদ্ধে পরাজিত হয়ে ওঁরাওরা প্রাণ রক্ষার্থে তাদের আশ্রয়স্থান ত্যাগ করে পালাতে থাকে এবং আর্যরা তাদের পিছু ধাওয়া করতে থাকে। অনেকদূর আসার পর ক্লান্ত ওঁরাওরা কারাম গাছের নীচে আশ্রয় গ্রহণ করলে আশ্চর্যজনকভাবে আর্যরা ফিরে যায় এবং ওঁরাওরা বিপদমূক্ত হয়। ওঁরাওদের বিশ্বাস এ কারাম বৃক্ষ ওঁরাওদের রক্ষা করেছে।এ বিশ্বাস থেকেই সেদিন ওঁরাওরা কারাম বৃক্ষের উপাসনা শুরু করে এবং এ স্মৃতি স্মরন করে মর্যাদা সহকারে এ উৎসবটি পালন করে আসছে।

 

 

 

 

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

দিনাজপুরে ওঁরাওদের ঐতিহ্যবাহী পার্বণ কারাম উৎসব পালন

আপডেট সময় : ০৪:৫৯:১৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২২

আদিবাসী ওঁরাওদের সমৃদ্ধ লোকসাহিত্য ও সংস্কৃতির অন্যতম পার্বণ কারাম উৎসব। লাল হলুদ শাড়ী আর খোপায় ফুল রঙ্গিন সাজে বাদ্যের তালে নেচে গেয়ে ক্ষুদ্র নৃগোষ্টীর ওঁরাও সম্প্রদায় উদযাপন করে তাদের বড় পার্বণ কারাম উৎসব।দিনাজপুরের সুইহারী খালপাড়ায় আদিবাসী পল্লীতে ৬ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার সন্ধ্যায় শুরু হয়ে সারারাত চলে এ উৎসব। দিনাজপুরের সুইহারী খালপাড়ায় আদীবাসি পল্লীতে এই ঐতিহ্যবাহী কারাম উৎসব এর অর্চনা পাঠ করান ওঁরাও সম্প্রদায়ের ‘মাড়েয়া(ধর্ম যাজক)’ সানে এক্কা।

সকাল থেকে নেচে গিয়ে আসতে শুরু করে ক্ষুদ্র-নৃগোষ্টীর নারী পুরুষ মাদল আর মন্দিরার শব্দের সাথে দলবদ্ধ পথনৃত্য। ক্ষুদ্র-নৃগোষ্টীর নিজস্ব ভাষায় গাওয়া গান আর ছন্দময় নাচে অংশ নেয় তরুন তরুনী আর আবাল বৃদ্ধরা। সমতল ভুমির ক্ষুদ্র-নৃগোষ্টীর বিভিন্ন জাতিসত্বা নেচে গেয়ে নিজস্ব সংস্কৃতি তুলে ধরে তাদের ঐতিহ্য এবং সংস্কৃতকে। বৈচিত্রপুর্ণ এ অনুষ্টান উপভোগ করতে ঢল নামে নানা পেশার মানুষদের ক্ষুদ্র-নৃগোষ্টীর নিজস্ব সংস্কৃতি তুলে ধরায় এই আয়োজন।

কারাম উৎসবটি ওঁরাওদের বছরের সবচেয়ে বড় পার্বণ হিসাবে বিবেচিত। এই কারাম উৎসবটি ৩টি পর্বে অনুষ্ঠিত হয়। একক কারাম যা একক প্রচেষ্টায় নিজ বাড়িতে অনুষ্ঠিত হয়, দোমাসি কারাম এটি ভাদ্র মাসের শেষে শুরু হয় এবং আশ্বিন মাসের শুরুতে শেষ হয়, ১০ কারাম এটি এলাকার সকলে মিলে পালন করে। ভাদ্র মাসের দশমীতে এ উৎসব পালন করেন ওঁরাও সম্প্রদায় । এ উৎসবটি মূলত ধান কাটার আগে এবং অবসর সময়ে “প্রচুর ফসল উৎপাদনক্ষম উৎসব” ও শস্য মাঠে দাঁড়ানোর শক্তি যোগানোর জন্য করা হয়ে থাকে।

এ ছাড়াও কারাম পার্বণে ওঁরাও সম্প্রদায়রা গ্রামের যুবক-যুবতীদের সুসন্তান লাভের জন্যও প্রার্থনা করেন। কারাম উৎসবের প্রধান অনুষ্ঠানটি কারাম গাছের তিনটি ডাল কেটে গ্রাম্য আখড়ার মাঝখানে কারাম রাজা হিসাবে গ্রামের নারীদের দ্বারা পোতা হয়। ডালের চতুর্দিকে বসে কারামের কাহিনী শোনানো হয়। এরপর গ্রামের ছেলে-মেয়েরা কারাম রাজার চর্তুদিকে সারা রাত ধরে নাচে। পরের দিন সকালে যুবতী মেয়েরা বিশেষভাবে গোজানো জাওয়া পুঁপ তাদের ভাই ও আত্মীয়-সজনদের মাঝে বিতরণ করে।

সকালের সুর্যের তাপ বাড়ার সাথে সাথে পাহান কারাম ডালগুলো তুলে কাছাকাছি পুকুর বা নদীতে সম্মানের সাথে ভাসিয়ে দিয়ে পারিবারিক ভোজে অংশগ্রহণ করে।

ঐতিহাসিকগণের বর্ননায় জানা যায় যে, বহুদিন পূর্বে পাটনার রোহিতাসগড় হতে আর্যদের দ্বারা যুদ্ধে পরাজিত হয়ে ওঁরাওরা প্রাণ রক্ষার্থে তাদের আশ্রয়স্থান ত্যাগ করে পালাতে থাকে এবং আর্যরা তাদের পিছু ধাওয়া করতে থাকে। অনেকদূর আসার পর ক্লান্ত ওঁরাওরা কারাম গাছের নীচে আশ্রয় গ্রহণ করলে আশ্চর্যজনকভাবে আর্যরা ফিরে যায় এবং ওঁরাওরা বিপদমূক্ত হয়। ওঁরাওদের বিশ্বাস এ কারাম বৃক্ষ ওঁরাওদের রক্ষা করেছে।এ বিশ্বাস থেকেই সেদিন ওঁরাওরা কারাম বৃক্ষের উপাসনা শুরু করে এবং এ স্মৃতি স্মরন করে মর্যাদা সহকারে এ উৎসবটি পালন করে আসছে।

 

 

 

 

Facebook Comments Box