ঢাকা ০৯:০১ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
১৭ বছরে শিক্ষাব্যবস্থা ধ্বংস করা হয়েছে: আবিদ বিশ্ব বাণিজ্যকে ফের ঔপনিবেশিক মডেলে ফেরাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র: রেহমান সোবহান বিশ্বের রাজনীতিতে বাড়ছে এআই ব্যবহারের প্রবণতা মাদকব্যবসায়ীর মুক্তির দাবিতে এসপি কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ, আটক ১০ বৈশ্বিক ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আসন্ন: আলী রীয়াজ বিএনপি টাকা নিয়ে আ.লীগকে মিছিলের সুযোগ দিচ্ছে: এটিএম আজহারুল গাজীপুরে পোশাক কারখানায় অগ্নিকাণ্ড: ৬৭ শ্রমিক উদ্ধার আমরা এখন প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফেরানোর আইনি প্রক্রিয়া চলছে: দীনেশ ত্রিবেদী ময়মনসিংহে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত সাতজনের জামালপুরে শেষ বিদায়

চাঁদপুরের নাফিস পড়তে যাচ্ছে আমেরিকার এমআইটিতে

সৃষ্টি শিক্ষা ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৭:৩৯:০৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ মার্চ ২০২৩ ২১১ বার পড়া হয়েছে

চাঁদপুরের নাফিস পড়তে যাচ্ছে আমেরিকার এমআইটিতে

(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

চাঁদপুরের নাফিস পড়তে যাচ্ছে আমেরিকার ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (এমআইটি) তে।

বাবা-মা দুজনেই কলেজ শিক্ষক। আর তাদের মুখ উজ্জ্বল করতে যাচ্ছে সন্তান নাফিস উল হক সিফাত। শুধু তার বাবা এবং মা-ই নয়। গোটা দেশেও ঝড় তুলেছেন নাফিস। জন্ম চাঁদপুরে। অথচ কিছুদিন পর পড়তে যাচ্ছে বিশ্বের সেরা বিদ্যাপীঠ এমআইটিতে।

গণমাধ্যমকে নাফিস জানালেন, কখনো ভাবিনি বিশ্বের সেরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আমেরিকার ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজিতে (এমআইটি) পড়ার সুযোগ পাব।

তাই আমি অনেক সৌভাগ্যবান বটে। কারণ, বাংলাদেশ থেকে প্রতিবছর একজন বা দুজন এমআইটিতে পড়ার সুযোগ পান। তবে এবার আমিই একমাত্র এই সুযোগটি পেয়েছি। এতে আমি অবাকও হয়েছি। আর আনন্দ তো আছেই। এমন সুযোগ পাওয়ার জন্য বাবা-মা, শিক্ষক ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কাছে কৃতজ্ঞ নাফিস।

এমআইটিতে সুযোগ পাওয়া চাঁদপুর সরকারি কলেজের উচ্চ মাধ্যমিকের (এইচএসসি) বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র নাফিস উল হক ওরফে সিফাত।

জানা যায়, বাংলাদেশি পড়ুয়াদের মধ্যে নাফিস সবচেয়ে কম বয়সে এইচএসসিতে পড়ালেখা অবস্থায় এমআইটিতে আন্ডারগ্রাজুয়েটে (স্নাতক) পড়ার সুযোগ পান। গত ১৫ মার্চ তার এই কনফারমেশন লেটার হাতে আসে এমআইটি থেকে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চাঁদপুর শহরের ষোলঘর এলাকায় কলেজ শিক্ষক বাবা-মায়ের সঙ্গে একটি ভাড়া বাসায় থাকেন নাফিস। তার দাদার বাড়ি জেলার মতলব দক্ষিণ উপজেলার নওগাঁ এলাকায়।

তার বাবা নাসির উদ্দিন মতলব রয়মনেনসা মহিলা কলেজে ও মা কামরুন নাহার হাজীগঞ্জ মডেল কলেজে শিক্ষকতা করেন। দুই ভাই-বোনের মধ্যে তিনি ছোট।

বড় বোন নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত। বিগত ২০২১ সালে চাঁদপুর হাসান আলী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে জিপিএ-৫ পেয়ে এসএসসি পাস করেন তিনি। তার ছোট ভাই চাঁদপুর হাসান আলী সরকারি স্কুল থেকে এবারে এসএসসি পরীক্ষা দেওয়ার কথা রয়েছে।

নাফিস জানালেন, ছোট বেলা থেকেই স্বপ্নও ছিল কম্পিউটার সাইন্স নিয়ে পড়াশোনা করার। সে লক্ষ্য নিয়ে সব সময় বিভিন্ন অলিম্পিয়াডে অংশগ্রহণ করতাম। এ জন্য আমি ফলো করতাম বিখ্যাত ব্যক্তি ও গুণী মানুষদের।

তবে কখনোই নির্দিষ্ট করে এমআইটির জন্য প্রস্তুত ছিলাম না। কারণ অনেক ট্যালেন্ট ছাড়া এমআইটিতে কেউ সুযোগ পান না। তাই কনফিডেন্টও ছিলাম না এমআইটিতে সুযোগ পাব।

তারপরও আমি ট্রাই করেছি। দেখি কি হয়। শেষ পর্যন্ত দেখলাম সত্যি সুযোগ পেয়েছি। এতে মনে করি আমি অনেক সৌভাগ্যবান। তবে আমার পছন্দ কম্পিউটার প্রোগ্রারামিং বা এই টাইপের কাজকর্ম।

জীবনে কিছু মানুষের এবং স্যারদের অনেক কন্ট্রিবিউট বা অবদান রয়েছে। তার মধ্যে জাফর ইকবাল স্যার, কায়কোবাদ স্যার, সোহেল স্যার। তাদের সান্নিধ্যে থেকে আমি অনেক কিছু জানতে পেরেছি, শিখতে পেরেছি। আমি সব সময় চেয়েছিলাম স্যারদের মতো হই।

কারণ, ছোটবেলা থেকে আমি অনেক অলিম্পিয়াডে অংশ নিয়েছি। ২০২২ সালে ইন্দোনেশিয়ায় অনুষ্ঠিত ইন্টারন্যাশনাল অলিম্পিয়াড ইন ইনফরমেটিক্স (আইওআই) এ বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করে ব্রোঞ্জ পদক অর্জন করি।

এদিকে, প্রিয় ছাত্রের এই সফলতায় চাঁদপুর সরকারি কলেজ থেকে ফুল দিয়ে বরণ করা হয়। এই সময় চাঁদপুর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর অসিত বরণ দাশ বলেন, আমার কলেজের নাফিস এমআইটিতে পড়ার সুযোগ পেয়েছে।

সেটা তার চেষ্টা ছিল। কারণ, সে সব সময় বিজ্ঞান বিষয়ে পড়াশোনা বা গবেষণার আগ্রহ ছিল। সেটারই প্রতিফলনে এটা হয়েছে। শুধু আমার কলেজে নয়। খোঁজ নিলে দেখা যাবে, অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এ রকম অনেক সিফাতকে খুঁজে পাওয়া যাবে।

অন্যদিকে আজ শুক্রবার সকালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১০৩তম জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে চাঁদপুর সরকারি কলেজে নাফিসকে ফুল দিয়ে বরণ নেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি।

এই সময় মেধাবী এই শিক্ষার্থী সম্পর্কে তিনি বলেন, ছেলেটি শুধু চাঁদপুরের নয়, পুরো বাংলাদেশের গর্ব। কারণ, সে এদেশের মুখ উজ্জ্বল করেছে। তার আরো সফলতার জন্য সব সময় পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দেন শিক্ষামন্ত্রী।

পড়ুন>>শতভাগ বৃত্তি পাওয়ায় শিক্ষার্থীদের হেলিকপ্টারে ঘুরিয়ে অন্য রকম সংবর্ধনা

এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন চাঁদপুর জেলা প্রশাসক কামরুল হাসান, পুলিশ সুপার মিলন মাহমুদ, জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি নাসির উদ্দিন আহম্মদ, সাধারণ সম্পাদক আবু নঈম দুলাল, পৌরসভার মেয়র জিল্লুর রহমান জুয়েল, পুরানবাজার কলেজের অধ্যক্ষ রতন কুমার মজুমদার।

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

One thought on “চাঁদপুরের নাফিস পড়তে যাচ্ছে আমেরিকার এমআইটিতে”

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

চাঁদপুরের নাফিস পড়তে যাচ্ছে আমেরিকার এমআইটিতে

আপডেট সময় : ০৭:৩৯:০৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ মার্চ ২০২৩

চাঁদপুরের নাফিস পড়তে যাচ্ছে আমেরিকার ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (এমআইটি) তে।

বাবা-মা দুজনেই কলেজ শিক্ষক। আর তাদের মুখ উজ্জ্বল করতে যাচ্ছে সন্তান নাফিস উল হক সিফাত। শুধু তার বাবা এবং মা-ই নয়। গোটা দেশেও ঝড় তুলেছেন নাফিস। জন্ম চাঁদপুরে। অথচ কিছুদিন পর পড়তে যাচ্ছে বিশ্বের সেরা বিদ্যাপীঠ এমআইটিতে।

গণমাধ্যমকে নাফিস জানালেন, কখনো ভাবিনি বিশ্বের সেরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আমেরিকার ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজিতে (এমআইটি) পড়ার সুযোগ পাব।

তাই আমি অনেক সৌভাগ্যবান বটে। কারণ, বাংলাদেশ থেকে প্রতিবছর একজন বা দুজন এমআইটিতে পড়ার সুযোগ পান। তবে এবার আমিই একমাত্র এই সুযোগটি পেয়েছি। এতে আমি অবাকও হয়েছি। আর আনন্দ তো আছেই। এমন সুযোগ পাওয়ার জন্য বাবা-মা, শিক্ষক ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কাছে কৃতজ্ঞ নাফিস।

এমআইটিতে সুযোগ পাওয়া চাঁদপুর সরকারি কলেজের উচ্চ মাধ্যমিকের (এইচএসসি) বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র নাফিস উল হক ওরফে সিফাত।

জানা যায়, বাংলাদেশি পড়ুয়াদের মধ্যে নাফিস সবচেয়ে কম বয়সে এইচএসসিতে পড়ালেখা অবস্থায় এমআইটিতে আন্ডারগ্রাজুয়েটে (স্নাতক) পড়ার সুযোগ পান। গত ১৫ মার্চ তার এই কনফারমেশন লেটার হাতে আসে এমআইটি থেকে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চাঁদপুর শহরের ষোলঘর এলাকায় কলেজ শিক্ষক বাবা-মায়ের সঙ্গে একটি ভাড়া বাসায় থাকেন নাফিস। তার দাদার বাড়ি জেলার মতলব দক্ষিণ উপজেলার নওগাঁ এলাকায়।

তার বাবা নাসির উদ্দিন মতলব রয়মনেনসা মহিলা কলেজে ও মা কামরুন নাহার হাজীগঞ্জ মডেল কলেজে শিক্ষকতা করেন। দুই ভাই-বোনের মধ্যে তিনি ছোট।

বড় বোন নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত। বিগত ২০২১ সালে চাঁদপুর হাসান আলী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে জিপিএ-৫ পেয়ে এসএসসি পাস করেন তিনি। তার ছোট ভাই চাঁদপুর হাসান আলী সরকারি স্কুল থেকে এবারে এসএসসি পরীক্ষা দেওয়ার কথা রয়েছে।

নাফিস জানালেন, ছোট বেলা থেকেই স্বপ্নও ছিল কম্পিউটার সাইন্স নিয়ে পড়াশোনা করার। সে লক্ষ্য নিয়ে সব সময় বিভিন্ন অলিম্পিয়াডে অংশগ্রহণ করতাম। এ জন্য আমি ফলো করতাম বিখ্যাত ব্যক্তি ও গুণী মানুষদের।

তবে কখনোই নির্দিষ্ট করে এমআইটির জন্য প্রস্তুত ছিলাম না। কারণ অনেক ট্যালেন্ট ছাড়া এমআইটিতে কেউ সুযোগ পান না। তাই কনফিডেন্টও ছিলাম না এমআইটিতে সুযোগ পাব।

তারপরও আমি ট্রাই করেছি। দেখি কি হয়। শেষ পর্যন্ত দেখলাম সত্যি সুযোগ পেয়েছি। এতে মনে করি আমি অনেক সৌভাগ্যবান। তবে আমার পছন্দ কম্পিউটার প্রোগ্রারামিং বা এই টাইপের কাজকর্ম।

জীবনে কিছু মানুষের এবং স্যারদের অনেক কন্ট্রিবিউট বা অবদান রয়েছে। তার মধ্যে জাফর ইকবাল স্যার, কায়কোবাদ স্যার, সোহেল স্যার। তাদের সান্নিধ্যে থেকে আমি অনেক কিছু জানতে পেরেছি, শিখতে পেরেছি। আমি সব সময় চেয়েছিলাম স্যারদের মতো হই।

কারণ, ছোটবেলা থেকে আমি অনেক অলিম্পিয়াডে অংশ নিয়েছি। ২০২২ সালে ইন্দোনেশিয়ায় অনুষ্ঠিত ইন্টারন্যাশনাল অলিম্পিয়াড ইন ইনফরমেটিক্স (আইওআই) এ বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করে ব্রোঞ্জ পদক অর্জন করি।

এদিকে, প্রিয় ছাত্রের এই সফলতায় চাঁদপুর সরকারি কলেজ থেকে ফুল দিয়ে বরণ করা হয়। এই সময় চাঁদপুর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর অসিত বরণ দাশ বলেন, আমার কলেজের নাফিস এমআইটিতে পড়ার সুযোগ পেয়েছে।

সেটা তার চেষ্টা ছিল। কারণ, সে সব সময় বিজ্ঞান বিষয়ে পড়াশোনা বা গবেষণার আগ্রহ ছিল। সেটারই প্রতিফলনে এটা হয়েছে। শুধু আমার কলেজে নয়। খোঁজ নিলে দেখা যাবে, অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এ রকম অনেক সিফাতকে খুঁজে পাওয়া যাবে।

অন্যদিকে আজ শুক্রবার সকালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১০৩তম জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে চাঁদপুর সরকারি কলেজে নাফিসকে ফুল দিয়ে বরণ নেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি।

এই সময় মেধাবী এই শিক্ষার্থী সম্পর্কে তিনি বলেন, ছেলেটি শুধু চাঁদপুরের নয়, পুরো বাংলাদেশের গর্ব। কারণ, সে এদেশের মুখ উজ্জ্বল করেছে। তার আরো সফলতার জন্য সব সময় পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দেন শিক্ষামন্ত্রী।

পড়ুন>>শতভাগ বৃত্তি পাওয়ায় শিক্ষার্থীদের হেলিকপ্টারে ঘুরিয়ে অন্য রকম সংবর্ধনা

এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন চাঁদপুর জেলা প্রশাসক কামরুল হাসান, পুলিশ সুপার মিলন মাহমুদ, জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি নাসির উদ্দিন আহম্মদ, সাধারণ সম্পাদক আবু নঈম দুলাল, পৌরসভার মেয়র জিল্লুর রহমান জুয়েল, পুরানবাজার কলেজের অধ্যক্ষ রতন কুমার মজুমদার।

Facebook Comments Box