ঢাকা ০২:৪১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কুড়িগ্রামে চরবাসির একমাত্র কমিউনিটি ক্লিনিকটি ব্রহ্মপুত্র নদে বিলীন

কুড়িগ্রাম থেকে সাইয়েদ বাবু
  • আপডেট সময় : ০৩:২২:৩৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ জুন ২০২৩ ৩১৬ বার পড়া হয়েছে
(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়নে চর ভগপতিপুর সরকারী কমিউনিটি ক্লিনিকটি ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙ্গনে বিলিন হয়ে গেছে।

 

ক্লিনিকটি সদর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়নের দুর্গম ভগপতিপুর চরে স্থাপন করা হয়েছিল।
মঙ্গলবার (৩০ মে) রাতে চর ভগপতিপুর সরকারি কমিউনিটি ক্লিনিকটি ব্রহ্মপুত্রের গর্ভে বিলিন হয়। এর আগে ওই এলাকার একটি স্কুলও ভাঙনের শিকার হয়।

এছাড়াও সড়িয়ে নেওয়া হয়েছে একটি মসজিদ ও একটি আবাসন প্রকল্পের বাসিন্দাদের। ভাঙন আতংকে দিন পার করছেন ব্রহ্মপুত্র নদসহ অন্যন্য নদী তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দারা।

সদরের যাত্রাপুর ইউনিয়নের চর ভগপতিপুর এলাকার আমজাদ হোসেন, পিতা হোসেন আলী, ও মোঃ হাছেন আলী, পিতা, মোঃ হানিফ মিয়া, বলেন, পানি বৃদ্ধির কারণে কিছুদিন থেকে আমাদের এখানে ভাঙন চলছিল, আমাদের বাড়ি ঘর নদীতে চলে গেছে। আমরা এখন কি করব এই চিন্তায় আছি। একটা মাত্র ক্লিনিক ছিল তাও নদীতে চলে গেল।

যাত্রপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও সমাজ সেবক মোঃ আইয়ুব আলী বলেন, সরকারি ভাবে আগাম ব্যবস্থা নিলে হয়তো এটি রক্ষা করা যেত।

সদর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. আব্দুল গফুর জানান, চর ভগপতিপুর এলাকার একমাত্র কমিউনিটি ক্লিনিকটি বিলিন হওয়ায় চরাঞ্চলের মানুষ স্বাস্থ্য সেবা থেকে বঞ্চিত হলো।

 

কুড়িগ্রাম সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ নজরুল ইসলাম বলেন, অনেক চেষ্টা করেও ক্লিনিকটি রক্ষা করা গেলো না।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ আব্দুল্লা আল মামুন জানান, এখানে নদী ভাঙ্গন রোধে সারে সাত কোটি টাকার বরাদ্দ চেয়ে আমরা চাহিদা পত্র পাঠিয়েছি এখনো বরাদ্দ আসে নাই, তবুও জরুরি ভিত্তিতে প্রায় ৪ হাজার জিও ব্যাগ সেখানে ফেলানো হয়েছিল।

এতোদিন নিয়ন্ত্রণও ছিল, হঠাৎ করে পানি বৃদ্ধির কারনে প্রবল শ্রতে ভেঙে গেছে গতকাল। পানি উন্নয়ন বোর্ডও অনেক চেষ্টা করেছে। তবুও ক্লিনিকটি রক্ষা করা যায়নি।

কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার (ভূমি)মোঃমিজানুর রহমান জানান, উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে চেষ্টা করা হয়েছে এটিকে রক্ষা করার, তবে এখানে নদীতে ভেঙ্গে যাওয়া পরিবার গুলোকে স্থানান্তরের ব্যবস্থা করা হচ্ছে, এবং ইতিমধ্যে ৩/৪ টি পরিবারের থাকার জন্য ঘর নির্মানের কাজ চলছে

 

 

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

কুড়িগ্রামে চরবাসির একমাত্র কমিউনিটি ক্লিনিকটি ব্রহ্মপুত্র নদে বিলীন

আপডেট সময় : ০৩:২২:৩৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ জুন ২০২৩

কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়নে চর ভগপতিপুর সরকারী কমিউনিটি ক্লিনিকটি ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙ্গনে বিলিন হয়ে গেছে।

 

ক্লিনিকটি সদর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়নের দুর্গম ভগপতিপুর চরে স্থাপন করা হয়েছিল।
মঙ্গলবার (৩০ মে) রাতে চর ভগপতিপুর সরকারি কমিউনিটি ক্লিনিকটি ব্রহ্মপুত্রের গর্ভে বিলিন হয়। এর আগে ওই এলাকার একটি স্কুলও ভাঙনের শিকার হয়।

এছাড়াও সড়িয়ে নেওয়া হয়েছে একটি মসজিদ ও একটি আবাসন প্রকল্পের বাসিন্দাদের। ভাঙন আতংকে দিন পার করছেন ব্রহ্মপুত্র নদসহ অন্যন্য নদী তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দারা।

সদরের যাত্রাপুর ইউনিয়নের চর ভগপতিপুর এলাকার আমজাদ হোসেন, পিতা হোসেন আলী, ও মোঃ হাছেন আলী, পিতা, মোঃ হানিফ মিয়া, বলেন, পানি বৃদ্ধির কারণে কিছুদিন থেকে আমাদের এখানে ভাঙন চলছিল, আমাদের বাড়ি ঘর নদীতে চলে গেছে। আমরা এখন কি করব এই চিন্তায় আছি। একটা মাত্র ক্লিনিক ছিল তাও নদীতে চলে গেল।

যাত্রপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও সমাজ সেবক মোঃ আইয়ুব আলী বলেন, সরকারি ভাবে আগাম ব্যবস্থা নিলে হয়তো এটি রক্ষা করা যেত।

সদর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. আব্দুল গফুর জানান, চর ভগপতিপুর এলাকার একমাত্র কমিউনিটি ক্লিনিকটি বিলিন হওয়ায় চরাঞ্চলের মানুষ স্বাস্থ্য সেবা থেকে বঞ্চিত হলো।

 

কুড়িগ্রাম সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ নজরুল ইসলাম বলেন, অনেক চেষ্টা করেও ক্লিনিকটি রক্ষা করা গেলো না।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ আব্দুল্লা আল মামুন জানান, এখানে নদী ভাঙ্গন রোধে সারে সাত কোটি টাকার বরাদ্দ চেয়ে আমরা চাহিদা পত্র পাঠিয়েছি এখনো বরাদ্দ আসে নাই, তবুও জরুরি ভিত্তিতে প্রায় ৪ হাজার জিও ব্যাগ সেখানে ফেলানো হয়েছিল।

এতোদিন নিয়ন্ত্রণও ছিল, হঠাৎ করে পানি বৃদ্ধির কারনে প্রবল শ্রতে ভেঙে গেছে গতকাল। পানি উন্নয়ন বোর্ডও অনেক চেষ্টা করেছে। তবুও ক্লিনিকটি রক্ষা করা যায়নি।

কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার (ভূমি)মোঃমিজানুর রহমান জানান, উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে চেষ্টা করা হয়েছে এটিকে রক্ষা করার, তবে এখানে নদীতে ভেঙ্গে যাওয়া পরিবার গুলোকে স্থানান্তরের ব্যবস্থা করা হচ্ছে, এবং ইতিমধ্যে ৩/৪ টি পরিবারের থাকার জন্য ঘর নির্মানের কাজ চলছে

 

 

Facebook Comments Box