কাতারে গৃহহীন বিড়াল সংকট: কেনাকাটা নয়, দত্তক ও বন্ধ্যাকরণই সমাধান
- আপডেট সময় : ০৭:৩৫:২৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬ ৮ বার পড়া হয়েছে
কাতারে গৃহহীন বিড়াল সংকট: কেনাকাটা নয়, দত্তক ও বন্ধ্যাকরণই সমাধান
কাতারে গৃহহীন ও বিপথগামী বিড়ালদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করা স্বেচ্ছাসেবকদের প্রতিটি উদ্ধার অভিযান যেন এক দীর্ঘ সংগ্রামের অধ্যায়। আহত, ক্ষুধার্ত কিংবা সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত প্রাণীদের বাঁচাতে দিনরাত পরিশ্রম করলেও স্থানীয় উদ্ধারকারীরা একমত যে, কেবল বিড়াল উদ্ধার করে এই সমস্যার দীর্ঘমেয়াদী সমাধান সম্ভব নয়। এর জন্য প্রয়োজন বিড়ালের বংশবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ এবং তাদের রাস্তায় আসা রোধ করা।
এই সংকট মোকাবিলায় দেশটিতে এখন বন্ধ্যাকরণ বা টিএনআর (Trap-Neuter-Return) কর্মসূচি এবং পোষা প্রাণী কেনা বন্ধ করে দত্তক নেওয়ার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। দোহায় বসবাসকারী ইরিনা তিমোশেঙ্কো গত সাত বছর ধরে স্বাধীনভাবে প্রাণী উদ্ধারে যুক্ত রয়েছেন।
পড়ুন>>ইউরোপীয় জাহাজ জব্দের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে পাল্টা ব্যবস্থা নেবে রাশিয়া: পুতিন
বর্তমানে তিনি নিজের বাড়িতেই ৭২টি বিড়ালের দেখাশোনা করছেন। অসুস্থ ও আহত বিড়ালদের সুস্থ করে তোলা, বন্ধ্যাকরণ ও টিকা দেওয়ার পর তাদের দত্তক দেওয়ার বিষয়টিই তাঁর প্রধান লক্ষ্য।
ইরিনা জানান, বিড়ালদের খাবারের জন্য প্রতি মাসে প্রায় ১,৫০০ রিয়াল ব্যয় হয়। তবে সবচেয়ে বড় আর্থিক চ্যালেঞ্জ আসে চিকিৎসার ক্ষেত্রে। গত দুই মাসে গুরুতর আহত ও সংক্রমিত ১৩টি বিড়ালের চিকিৎসার পেছনেই তাঁকে প্রায় ২৪,০০০ কাতারি রিয়াল খরচ করতে হয়েছে। এত বড় আর্থিক ও মানসিক চাপের মুখেও মানবিক দায়বদ্ধতা থেকে তিনি এই কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
পড়ুন>>আজ সন্ধ্যা থেকেই বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নতির আশা: জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী
একইভাবে দোহার বাসিন্দা সাবিনা হুসেইনোভা বিপথগামী বিড়াল ও কুকুরদের খাবার দেওয়া এবং বন্ধ্যাকরণের জন্য প্রতি মাসে প্রায় ১,০০০ রিয়াল খরচ করছেন। তাঁর মতে, প্রাণীদের এলাকা থেকে সরিয়ে না নিয়ে বন্ধ্যাকরণ করাই তাদের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে সবচেয়ে বিজ্ঞানসম্মত ও টেকসই উপায়।
কাতারের বিভিন্ন প্রাণী কল্যাণ সংস্থা এই সংকট নিরসনে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব দিয়েছে। ‘টিএনআর কাতার’ (TNR Qatar)-এর কর্মকর্তা শার্লট মনে করেন, আশ্রয় বা দত্তক দিয়ে হাজার হাজার বিড়ালের সমস্যার সমাধান হবে না, বরং টিএনআর কর্মসূচির মাধ্যমেই এটি সম্ভব। তাঁরা সরকারিভাবে বিড়াল ও কুকুরের বাধ্যতামূলক নিবন্ধনের দাবি জানিয়েছেন।
‘দ্য পার্ল অ্যানিমেল ওয়েলফেয়ার’ (The Pearl Animal Welfare) জানিয়েছে, বাসা বদল বা দেশ ত্যাগের সময় পোষা প্রাণীদের পরিত্যক্ত না করা এবং দোকান থেকে না কিনে উদ্ধারকৃত বিড়াল দত্তক নেওয়াই দায়িত্বশীল মালিকানার শর্ত। এছাড়া ‘স্ট্রিটস অব স্ট্রে’ (Streets of Stray) সংস্থাটি বাসিন্দাদের আহ্বান জানিয়েছে, এলাকা পরিষ্কার রাখা, স্বাস্থ্যকর খাবার ও গ্রীষ্মে পানীয় জলের ব্যবস্থা করা এবং পশুচিকিৎসায় সহায়তা করার মাধ্যমে যে কেউ এই মানবিক কাজে শরিক হতে পারেন।
আরও পড়ুন>>ভারতে আত্মগোপনে জাহাঙ্গীর কবির নানক: আনন্দবাজারকে দিলেন বিশেষ সাক্ষাৎকার
উদ্ধারকারীরা ঐক্যবদ্ধভাবে কাতার সরকারের নজরদারি এবং অধিবাসীদের প্রতি তিনটি প্রধান পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন: প্রথমত, টিএনআর কর্মসূচির ব্যাপক প্রসার ঘটিয়ে বিড়ালদের বন্ধ্যাকরণ শেষে নিজ এলাকায় ফিরিয়ে দেওয়া। দ্বিতীয়ত, পোষা প্রাণীর দোকান ও ব্রিডারদের ওপর কঠোর আইনি নজরদারি এবং মালিকদের বাধ্যতামূলক নিবন্ধন। তৃতীয়ত, দেশ ত্যাগ বা বাসা বদলের সময় পোষা প্রাণী ফেলে যাওয়ার প্রবণতা বন্ধ করা। সচেতনতা বৃদ্ধি ও দায়িত্বশীল আচরণের মাধ্যমেই কেবল কাতারে গৃহহীন প্রাণীদের সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব।
তিমোশেঙ্কো জানান, বিড়ালদের খাবারের জন্য প্রতি মাসে প্রায় ১,৫০০ রিয়াল খরচ হলেও সবচেয়ে বড় আর্থিক ধাক্কা আসে চিকিৎসা খরচে। গত দুই মাসেই গুরুতর আহত ও সংক্রমণে ভোগা ১৩টি বিড়ালের চিকিৎসার জন্য তাঁর খরচ হয়েছে প্রায় ২৪,০০০ কাতারি রিয়াল।
উদ্ধারকারীরা ঐক্যবদ্ধভাবে কাতার সরকারের নজরদারি এবং অধিবাসীদের থেকে কয়েকটি পদক্ষেপ বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছেন।
এই লক্ষ্যে কাতার জুড়ে গড়ে উঠেছে একটি নতুন আন্দোলন, যেখানে বিড়ালের বন্ধ্যাকরণ (Sterilization/Neutering) এবং কেনাকাটার পরিবর্তে দত্তক গ্রহণকে (Adoption) মূল সমাধান হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এছাড়াও আর্থিক ও মানসিক চাপ থাকা সত্ত্বেও মানবিক দায়বদ্ধতা থেকেই তিনি এই কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। পশুদের যত্ন এবং পরিচ্ছন্ন সম্প্রদায়ের সুরক্ষা—দুটি বিষয়ই একে অপরের পরিপূরক।
গা/বা
Social Media
Communication
Bookmarking
Developer
Entertainment
Academic
Finance
Lifestyle
নিউজটি শেয়ার করুন
-
সর্বশেষ সংবাদ
-
জনপ্রিয় সংবাদ
























