ঢাকা ১১:৪০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইয়েমেনের এডেন বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১০:৪৯:৪৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬ ৬ বার পড়া হয়েছে
(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ইয়েমেনের এডেন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রানওয়ের কাছাকাছি শুক্রবার দুটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের তথ্যমন্ত্রী মোয়াম্মার আল-এরিয়ানি জানিয়েছেন, সে সময় একটি যাত্রীবাহী উড়োজাহাজ উড্ডয়নের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। ক্ষেপণাস্ত্র দুটি উড়োজাহাজটি থেকে মাত্র ৫০০ মিটার বা প্রায় ১,৬৪০ ফুট দূরে গিয়ে পড়ে। দেশটির আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার এ কথা জানিয়েছে।

আল-এরিয়ানি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে নিশ্চিত করেছেন যে, উড়োজাহাজের সকল যাত্রী ও ক্রু নিরাপদে রয়েছেন। বড় ধরনের মানবিক বিপর্যয় এড়ানোয় তিনি সৃষ্টিকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং বিমানবন্দরে এই হামলাকে আন্তর্জাতিক রীতিনীতির লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেন।

এর আগের দিন, বৃহস্পতিবার এডেনে অবস্থিত প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে হুতিরা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। ওই হামলায় ৫ জন নিহত এবং ১৬ জন আহত হয়েছেন। ইয়েমেনের বর্তমান সরকারি কার্যক্রম এই প্রাসাদ থেকেই পরিচালিত হয়।

এদিকে হুতিদের একটি সামরিক সূত্র জানিয়েছে, শুক্রবার তারা এডেন প্রদেশের বদর সামরিক শিবিরে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের কমান্ড সদর দপ্তর ও একটি অস্ত্রের গুদাম লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। সৌদি-ইসরায়েলে হামলা চালাতে হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র তৈরিতে সহায়তা করছে চীন। এতে হুতিদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলেও দাবি করা হয়। প্রতিরক্ষায় শত শত কোটি কোটি ডলার খরচ করেও কেন হুতিদের হামলা ঠেকাতে পারছে না সৌদি আরব।

ইয়েমেনের বর্তমান রণক্ষেত্র মারিব প্রদেশে সরকারি বাহিনী তাদের নিয়ন্ত্রণ জোরদার করার দাবি করেছে। সামরিক মুখপাত্র মাজেদ আল-নাজিলি জানিয়েছেন, ২৪ ঘণ্টায় সরকারি বাহিনী ৪৩০ জনের বেশি হুতি যোদ্ধাকে নিষ্ক্রিয় করেছে এবং তাদের ১০০টির বেশি সামরিক সরঞ্জাম ও যান অকার্যকর করেছে। আকাশপথের সহায়তায় সরকারি বাহিনী মারিবের গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলো পুনর্দখল নিয়েছে। এ সময় তারা গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানগুলো নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয়।

অন্যদিকে, তাইজ প্রদেশেও হুতিদের কয়েকটি বড় ধরনের হামলা সরকারি বাহিনী প্রতিহত করেছে বলে খবর পাওয়া গেছে। সামরিক বাহিনী সেখানে হুতিদের একটি বিশেষায়িত ড্রোন পরিচালনাকারী দলকে আটকের দাবিও করেছে।

উল্লেখ্য যে, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে হুতিরা তাইজ শহরটিকে ঘিরে ফেলেছে এবং এডেনের সাথে শহরটির প্রধান সংযোগ সড়ক বন্ধ করে দিয়েছে। এই দীর্ঘস্থায়ী সংঘর্ষের ফলে দেশটিতে মানবিক সংকট তীব্রতর হয়েছে এবং অসংখ্য মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। চলতি সংঘাতে বহু মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

ইয়েমেনের এডেন বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

আপডেট সময় : ১০:৪৯:৪৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

ইয়েমেনের এডেন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রানওয়ের কাছাকাছি শুক্রবার দুটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের তথ্যমন্ত্রী মোয়াম্মার আল-এরিয়ানি জানিয়েছেন, সে সময় একটি যাত্রীবাহী উড়োজাহাজ উড্ডয়নের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। ক্ষেপণাস্ত্র দুটি উড়োজাহাজটি থেকে মাত্র ৫০০ মিটার বা প্রায় ১,৬৪০ ফুট দূরে গিয়ে পড়ে। দেশটির আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার এ কথা জানিয়েছে।

আল-এরিয়ানি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে নিশ্চিত করেছেন যে, উড়োজাহাজের সকল যাত্রী ও ক্রু নিরাপদে রয়েছেন। বড় ধরনের মানবিক বিপর্যয় এড়ানোয় তিনি সৃষ্টিকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং বিমানবন্দরে এই হামলাকে আন্তর্জাতিক রীতিনীতির লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেন।

এর আগের দিন, বৃহস্পতিবার এডেনে অবস্থিত প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে হুতিরা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। ওই হামলায় ৫ জন নিহত এবং ১৬ জন আহত হয়েছেন। ইয়েমেনের বর্তমান সরকারি কার্যক্রম এই প্রাসাদ থেকেই পরিচালিত হয়।

এদিকে হুতিদের একটি সামরিক সূত্র জানিয়েছে, শুক্রবার তারা এডেন প্রদেশের বদর সামরিক শিবিরে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের কমান্ড সদর দপ্তর ও একটি অস্ত্রের গুদাম লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। সৌদি-ইসরায়েলে হামলা চালাতে হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র তৈরিতে সহায়তা করছে চীন। এতে হুতিদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলেও দাবি করা হয়। প্রতিরক্ষায় শত শত কোটি কোটি ডলার খরচ করেও কেন হুতিদের হামলা ঠেকাতে পারছে না সৌদি আরব।

ইয়েমেনের বর্তমান রণক্ষেত্র মারিব প্রদেশে সরকারি বাহিনী তাদের নিয়ন্ত্রণ জোরদার করার দাবি করেছে। সামরিক মুখপাত্র মাজেদ আল-নাজিলি জানিয়েছেন, ২৪ ঘণ্টায় সরকারি বাহিনী ৪৩০ জনের বেশি হুতি যোদ্ধাকে নিষ্ক্রিয় করেছে এবং তাদের ১০০টির বেশি সামরিক সরঞ্জাম ও যান অকার্যকর করেছে। আকাশপথের সহায়তায় সরকারি বাহিনী মারিবের গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলো পুনর্দখল নিয়েছে। এ সময় তারা গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানগুলো নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয়।

অন্যদিকে, তাইজ প্রদেশেও হুতিদের কয়েকটি বড় ধরনের হামলা সরকারি বাহিনী প্রতিহত করেছে বলে খবর পাওয়া গেছে। সামরিক বাহিনী সেখানে হুতিদের একটি বিশেষায়িত ড্রোন পরিচালনাকারী দলকে আটকের দাবিও করেছে।

উল্লেখ্য যে, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে হুতিরা তাইজ শহরটিকে ঘিরে ফেলেছে এবং এডেনের সাথে শহরটির প্রধান সংযোগ সড়ক বন্ধ করে দিয়েছে। এই দীর্ঘস্থায়ী সংঘর্ষের ফলে দেশটিতে মানবিক সংকট তীব্রতর হয়েছে এবং অসংখ্য মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। চলতি সংঘাতে বহু মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।

Facebook Comments Box