ঢাকা ০৩:৩৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শাল্লার কাবিলা বিল শুকিয়ে মাছ ধরছে ইজারাদারগণ: দেশীয় মাছ বিলুপ্তির শংকা এলাকাবাসির

সুনামগঞ্জ থেকে আমির হোসেন
  • আপডেট সময় : ১১:০২:০৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ ২০৯ বার পড়া হয়েছে

শাল্লার কাবিলা বিল শুকিয়ে মাছ ধরছে ইজারাদারগণ: দেশীয় মাছ বিলুপ্তির শংকা এলাকাবাসির

(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

শাল্লার কাবিলা বিল শুকিয়ে মাছ ধরছে ইজারাদারগণ: দেশীয় মাছ বিলুপ্তির শংকা এলাকাবাসির।

সুনামগঞ্জের শাল্লার কাবিলা বিল শুকিয়ে মাছ ধরছে ইজারাদারগণ। এতে দেশীয় মাছ বিলুপ্তির শংকা এলাকাবাসির। এছাড়াও  এতে সেচ নিয়ে শংঙ্কায় রয়েছ ইরি চাষিরা।

মৎস্য নীতিমালা অনুযায়ী যেকোন বিল ইজারা নিলে কৃষকদের স্বার্থ সংরক্ষণে বিলে ভাসমান অবস্থায় মৎস্য আহরণের কথা বলা হলেও কোন কোন বিলের ইজারাদারগণ আইন অমান্য করে বিলের তলা শুকিয়ে মৎস্য আহরণ করছেন।

তেমনি সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলার আটগাও ইউনিয়নের কাবিলা জলমহালটিতে বিলের তলা শুকিয়ে মৎস্য আহরণ করে বাজারজাত করছে ইজারাদার পক্ষ। এতে হুমকি মুখে পড়েছে দেশিয় প্রজাতির মাছ। বিলে সারা বছর পানি থাকায় বিলে বিভিন্ন প্রজাতির দেশীয় মাছ রয়েছে। বর্ষা মৌসুমে  এই বিল থেকেই বিভিন্ন প্রজাতির দেশিয় মাছের বংশবিস্তার ঘটে। কিন্তু বিলটি শুকিয়ে ফেললে বিলের অনেক প্রজাতি দেশিয় মাছের প্রজাতি বিলুপ্তির মুখে পড়বে।

ফলে বিলের চতুরদিকে কৃষকদের হাজারো একর আবাদকৃত বোরো জমিতে পানি সেচ দেওয়া নিয়ে শংঙ্কায় আছেন কৃষকরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শাল্লা উপজেলার আটগাও ইউপির ভাটি মাহমুদ নগর মৌজার, জেএল নং ১২ এবং ৭৩০/১১৫৯/২৫৫৭/১৬৮৪ ও ২৯৪২ নং দাগের ৩৩.৬০ একর এই কাবিলা জলমহালটি ২৬ বাংলা হতে ৩২ বাংলা সন পর্যন্ত স্থানীয় বাহারা মৎস্যজীবি সমবায় সমিতি লিঃ এর সাধারণ সম্পাদক সুব্রত কুমার দাস পাঁচ বছরের জন্য জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে প্রতিবছর সরকারকে ৬ লাখ ৭৫ হাজার টাকা রাজস্ব দিয়ে মোট ৩৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকায় লীজ নেওয়া হয়। কিন্তু গত দুইবছর ধরে এই সমিতির সদস্যরা আটগাঁও ইউপির শসারকান্দা গ্রামের আব্দুল গণি মাষ্টারের ছেলে মোঃ জিল্লুর রহমান ও পাশ্ববর্তী ফরিদপুর গ্রামের নছর মিয়ার ছেলে মহিবুর রহমানকে দুই বছরের জন্য দুইলাখ টাকায় চুক্তিভিত্তিক বিলটি ইজারা দেয়া হয়।

ফলে এই দুই ইজারাদার স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী হওয়ায় তারা প্রশাসনের এবং মৎস্য নীতিমালা লংঘন করে বিলের চতুরদিকে কয়েকটি পাওয়ার পাম্প মেশিন লাগিয়ে বিলের তলা শুকিয়ে মৎস্য আহরণ ও বাজারজাত করে অধিক মুনাফা নিচ্ছেন।

ফলে এই বোরো মৌসুমে ও বিলের চতুরদিকের কৃষকরা তাদের রোপনকৃত জমিতে পানি সেচ করতে না পারায় দুচিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন। এই বিলের তলা শুকিয়ে মৎস্য আহরণ যেন ইজারাদারগণ করতে না পারেন সেই লক্ষ্যে স্থানীয় জাকির হোসেন গত ২১ ফেব্রুয়ারী শাল্লা উপজেলা সহকারী ভূমি কমিশনার(এসিল্যান্ড) থানার অফিসার বরাবরে একটি লিখিত অভিযোগ দিলেও গত তিনদিনে বিলের তলা শুকিয়ে মৎস্য আহরণ বন্ধ করতে পারেনি স্থানীয় প্রশাসন।

ফলে ইজারাদারগণ কৃষকদের বৃহত্তর স্বার্থকে জলাজ্ঞলী দিয়ে শনিবার বিল শুকিয়ে মাছ ধরা হচ্ছে। খবর পেয়ে শাল্লা থানার এসআই শাহীন মিয়ার নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়েছে।

এ ব্যাপারে অভিযোগকারী জাকির হোসেন জানান, তিনদিন হলো অভিযোগ দেয়ার পর কৃষকদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়টিকে প্রশাসন গুরুত্ব দেয়নি। তিনি এই সমস্ত ইজারাদারদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুদৃষ্টি কামনা করছেন।

এ ব্যাপারে ইজারাদার জিল্লুর রহমান জানান বিলে মেশিন লাগানো হলেও বিলের তলা শুকিয়ে তারা মৎস্য আহরণ করছেন না।

এ ব্যাপারে শাল্লা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মনজুর আহসান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান যারা মৎস্য নীতিমালা লংঘন করে বিলের তলা শুকিয়ে মাছ ধরছে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

শাল্লার কাবিলা বিল শুকিয়ে মাছ ধরছে ইজারাদারগণ: দেশীয় মাছ বিলুপ্তির শংকা এলাকাবাসির

আপডেট সময় : ১১:০২:০৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৪

শাল্লার কাবিলা বিল শুকিয়ে মাছ ধরছে ইজারাদারগণ: দেশীয় মাছ বিলুপ্তির শংকা এলাকাবাসির।

সুনামগঞ্জের শাল্লার কাবিলা বিল শুকিয়ে মাছ ধরছে ইজারাদারগণ। এতে দেশীয় মাছ বিলুপ্তির শংকা এলাকাবাসির। এছাড়াও  এতে সেচ নিয়ে শংঙ্কায় রয়েছ ইরি চাষিরা।

মৎস্য নীতিমালা অনুযায়ী যেকোন বিল ইজারা নিলে কৃষকদের স্বার্থ সংরক্ষণে বিলে ভাসমান অবস্থায় মৎস্য আহরণের কথা বলা হলেও কোন কোন বিলের ইজারাদারগণ আইন অমান্য করে বিলের তলা শুকিয়ে মৎস্য আহরণ করছেন।

তেমনি সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলার আটগাও ইউনিয়নের কাবিলা জলমহালটিতে বিলের তলা শুকিয়ে মৎস্য আহরণ করে বাজারজাত করছে ইজারাদার পক্ষ। এতে হুমকি মুখে পড়েছে দেশিয় প্রজাতির মাছ। বিলে সারা বছর পানি থাকায় বিলে বিভিন্ন প্রজাতির দেশীয় মাছ রয়েছে। বর্ষা মৌসুমে  এই বিল থেকেই বিভিন্ন প্রজাতির দেশিয় মাছের বংশবিস্তার ঘটে। কিন্তু বিলটি শুকিয়ে ফেললে বিলের অনেক প্রজাতি দেশিয় মাছের প্রজাতি বিলুপ্তির মুখে পড়বে।

ফলে বিলের চতুরদিকে কৃষকদের হাজারো একর আবাদকৃত বোরো জমিতে পানি সেচ দেওয়া নিয়ে শংঙ্কায় আছেন কৃষকরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শাল্লা উপজেলার আটগাও ইউপির ভাটি মাহমুদ নগর মৌজার, জেএল নং ১২ এবং ৭৩০/১১৫৯/২৫৫৭/১৬৮৪ ও ২৯৪২ নং দাগের ৩৩.৬০ একর এই কাবিলা জলমহালটি ২৬ বাংলা হতে ৩২ বাংলা সন পর্যন্ত স্থানীয় বাহারা মৎস্যজীবি সমবায় সমিতি লিঃ এর সাধারণ সম্পাদক সুব্রত কুমার দাস পাঁচ বছরের জন্য জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে প্রতিবছর সরকারকে ৬ লাখ ৭৫ হাজার টাকা রাজস্ব দিয়ে মোট ৩৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকায় লীজ নেওয়া হয়। কিন্তু গত দুইবছর ধরে এই সমিতির সদস্যরা আটগাঁও ইউপির শসারকান্দা গ্রামের আব্দুল গণি মাষ্টারের ছেলে মোঃ জিল্লুর রহমান ও পাশ্ববর্তী ফরিদপুর গ্রামের নছর মিয়ার ছেলে মহিবুর রহমানকে দুই বছরের জন্য দুইলাখ টাকায় চুক্তিভিত্তিক বিলটি ইজারা দেয়া হয়।

ফলে এই দুই ইজারাদার স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী হওয়ায় তারা প্রশাসনের এবং মৎস্য নীতিমালা লংঘন করে বিলের চতুরদিকে কয়েকটি পাওয়ার পাম্প মেশিন লাগিয়ে বিলের তলা শুকিয়ে মৎস্য আহরণ ও বাজারজাত করে অধিক মুনাফা নিচ্ছেন।

ফলে এই বোরো মৌসুমে ও বিলের চতুরদিকের কৃষকরা তাদের রোপনকৃত জমিতে পানি সেচ করতে না পারায় দুচিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন। এই বিলের তলা শুকিয়ে মৎস্য আহরণ যেন ইজারাদারগণ করতে না পারেন সেই লক্ষ্যে স্থানীয় জাকির হোসেন গত ২১ ফেব্রুয়ারী শাল্লা উপজেলা সহকারী ভূমি কমিশনার(এসিল্যান্ড) থানার অফিসার বরাবরে একটি লিখিত অভিযোগ দিলেও গত তিনদিনে বিলের তলা শুকিয়ে মৎস্য আহরণ বন্ধ করতে পারেনি স্থানীয় প্রশাসন।

ফলে ইজারাদারগণ কৃষকদের বৃহত্তর স্বার্থকে জলাজ্ঞলী দিয়ে শনিবার বিল শুকিয়ে মাছ ধরা হচ্ছে। খবর পেয়ে শাল্লা থানার এসআই শাহীন মিয়ার নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়েছে।

এ ব্যাপারে অভিযোগকারী জাকির হোসেন জানান, তিনদিন হলো অভিযোগ দেয়ার পর কৃষকদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়টিকে প্রশাসন গুরুত্ব দেয়নি। তিনি এই সমস্ত ইজারাদারদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুদৃষ্টি কামনা করছেন।

এ ব্যাপারে ইজারাদার জিল্লুর রহমান জানান বিলে মেশিন লাগানো হলেও বিলের তলা শুকিয়ে তারা মৎস্য আহরণ করছেন না।

এ ব্যাপারে শাল্লা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মনজুর আহসান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান যারা মৎস্য নীতিমালা লংঘন করে বিলের তলা শুকিয়ে মাছ ধরছে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

Facebook Comments Box