মালয়েশিয়া সফরে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস
- আপডেট সময় : ১১:১৭:৪৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে
তিন দিনের সরকারি সফরে মালয়েশিয়ায় পৌঁছেছেন বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। সোমবার সন্ধ্যায় কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের (কেএলআইএ) টার্মিনাল ১-এ তাকে লাল গালিচা সংবর্ধনা জানানো হয়। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী দাতুক সেরি আনোয়ার ইব্রাহিমের আমন্ত্রণে তিনি এই সফরে এসেছেন, যা গত বছরের অক্টোবরে আনোয়ারের বাংলাদেশ সফরের একটি ফিরতি সফর।
সন্ধ্যা ৭টা ৪৭ মিনিটে ড. ইউনূস এবং তার সফরসঙ্গীদের বহনকারী বাণিজ্যিক বিমানটি বিমানবন্দরে অবতরণ করে। বুংগা রায়া কমপ্লেক্সে তাকে স্বাগত জানান মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দাতুক সেরি সাইফুদ্দিন নাসুতিওন ইসমাইল। এরপর রয়্যাল মালয় রেজিমেন্টের প্রথম ব্যাটালিয়নের ২৮ জন সদস্যের একটি বিশেষ দল তাকে গার্ড অব অনার প্রদান করে। এই গার্ড অব অনারের নেতৃত্ব দেন ক্যাপ্টেন মোহদ মাসরুর হিদায়াত মাসরি।
সফরের দ্বিতীয় দিনে মঙ্গলবার পারদানা পুত্রা কমপ্লেক্সে ড. ইউনূসকে আনুষ্ঠানিকভাবে অভ্যর্থনা জানানো হবে। সেখানে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে দুই নেতা বাণিজ্য, বিনিয়োগ, শ্রমবাজার, শিক্ষা ও পর্যটন খাত নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবেন। এছাড়া প্রতিরক্ষা সহযোগিতার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তাদের মধ্যে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। আলোচনায় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, শ্রম, শিক্ষা, পর্যটন ও প্রতিরক্ষা খাতে অগ্রগতি ছাড়াও আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক ইস্যু অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
এই সফরকালে দুই দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা, জ্বালানি, কৌশলগত গবেষণা ও সেমিকন্ডাক্টর সক্ষমতা বৃদ্ধি সংক্রান্ত একাধিক সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হতে পারে। পাশাপাশি কূটনৈতিক প্রশিক্ষণ ও উচ্চশিক্ষা খাতের উন্নয়নে উভয় পক্ষ নথিপত্র বিনিময় করবে।
সফরের অংশ হিসেবে মঙ্গলবার রাতে সেরি পেরদানা কমপ্লেক্সে ড. ইউনূসের সম্মানে আয়োজিত নৈশভোজে অংশ নেবেন তিনি। বুধবার তিনি একটি জনসভায় বক্তব্য রাখবেন। একই দিন ইউনিভার্সিটি কেবাংসান মালয়েশিয়া (ইউকেএম) তাকে সামাজিক ব্যবসায় বিশেষ অবদানের জন্য সম্মানসূচক ডক্টর অব ফিলোসফি ডিগ্রি প্রদান করবে। এ সময় তিনি ইউকেএম এবং ইউনূস সোশ্যাল বিজনেস সেন্টারের সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন।
২০২৪ সালে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ১৩.৩৫ বিলিয়ন রিঙ্গিত বা ২.৯২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশ মালয়েশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার। পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য, পাম তেল ও রাসায়নিকের পাশাপাশি বাংলাদেশ থেকে টেক্সটাইল ও জুতা আমদানি করে মালয়েশিয়া। ১৯৭২ সাল থেকে গড়ে ওঠা দুই দেশের এই সুদৃঢ় কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদার করাই এই সফরের মূল লক্ষ্য। ২০২৪ সালে মালয়েশিয়া ও বাংলাদেশের মোট বাণিজ্যের পরিমাণ দাঁড়িয়েছিল ১৩.৩৫ বিলিয়ন রিঙ্গিত (২.৯২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার), যা ২০২৩ সালের তুলনায় ৫.১ শতাংশ বেশি। দেশটির উইসমা পুত্রা জানায়, এই সফর দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করবে এবং পারস্পরিক স্বার্থে সহযোগিতা বাড়াবে, যা ১৯৭২ সালে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের পর থেকে গড়ে ওঠা মজবুত ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত।
মালয়েশিয়ায় কর্মী প্রেরণের ক্ষেত্রে নতুন নীতিমালা প্রণয়ন, ভুয়া ভিসায় শ্রমিকদের আটকের প্রবণতা হ্রাস এবং প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিতের মতো বিষয়গুলো সরকারের অগ্রাধিকার তালিকায় রয়েছে। এছাড়া মালয়েশিয়ায় সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কিছু অভিবাসী বিরোধী অভিযান এবং নথি জালিয়াতির দায়ে বাংলাদেশিদের গ্রেপ্তারের মতো ঘটনাগুলোও প্রবাসী কর্মীদের মধ্যে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী সিলেটের আরিফুল হক চৌধুরী।
প্রধান উপদেষ্টা নাহিদ ইসলামসহ সাম্প্রতিক সফরে থাকা কয়েকজন জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তাও তার সঙ্গী হিসেবে রয়েছেন। বাংলাদেশের বর্তমান প্রেক্ষাপট ও ভবিষ্যৎ নির্বাচন নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা থাকলেও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নয়ন ও পারস্পরিক স্বার্থ রক্ষা করাই এই সফরের প্রধান এজেন্ডা বলে উইসমা পুত্রা সূত্রে জানা গেছে।
কুয়ালালামপুর ও ঢাকা উভয় স্থানেই এই সফর নিয়ে বিশেষ কূটনৈতিক তৎপরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। দুই দেশের উচ্চ পর্যায়ের এই আলোচনার মাধ্যমে শ্রম ও বাণিজ্য খাতসহ অন্যান্য ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সূত্র: Probash Barta
Social Media
Communication
Bookmarking
Developer
Entertainment
Academic
Finance
Lifestyle
নিউজটি শেয়ার করুন
-
সর্বশেষ সংবাদ
-
জনপ্রিয় সংবাদ






















