ঢাকা ০১:৪৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রধানমন্ত্রী |: উদ্যোক্তা তৈরিতে ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে বাংলাদেশকে হারিয়ে সিরিজ হোয়াইটওয়াশের লক্ষ্য উইন্ডিজ অধিনায়কের বাসায় ডিজে পার্টি ও মাদক উদ্ধার: অতিরিক্ত ডিআইজি জহির বরখাস্ত জাতীয় ক্রিকেট লিগ: মিঠুন ও নুরুলের শতকে প্রথম দিন খুলনার২২০ রান পটিয়ায় শিশু অপহরণের ঘটনায় পলাতক বাবা-ছেলে রামুতে গ্রেপ্তার সাফে ২৩ বছরের দীর্ঘ খরা কাটাতে চায় বাংলাদেশ জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরে ৯৫ পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, আবেদন শুরু ২৯ অক্টোবর পরিবার নয়, মানুষের পরিচয় তার চরিত্রে: প্রভা চাকরি হারালেন সাবেক ডিবিপ্রধান হারুনসহ সাত পুলিশ কর্মকর্তা এইচএসসিতে অকৃতকার্য ৪ লাখ ২২ হাজার শিক্ষার্থীর বিশেষ পরীক্ষার সুযোগ

বাংলাদেশকে হারিয়ে সিরিজ হোয়াইটওয়াশের লক্ষ্য উইন্ডিজ অধিনায়কের

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:৪৭:১৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬ ১১ বার পড়া হয়েছে
(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ঢাকা টেস্টে দুর্দান্ত পারফর্ম করে প্রথম ম্যাচ জিতে নিয়েছে সফরকারী ওয়েস্ট ইন্ডিজ। মিরপুরের দাপুটে পারফরম্যান্সের ওপর ভর করে এখন সিলেট টেস্ট জয়ের দিকে নজর দিচ্ছে ক্যারিবীয়রা। প্রথম টেস্টের পর আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে উইন্ডিজ অধিনায়ক রস্টন চেজ স্পষ্ট জানান, তাঁদের প্রধান উদ্দেশ্য বাংলাদেশকে সিরিজ হোয়াইটওয়াশ করা। যেকোনো কন্ডিশনে টেস্ট জয় আনন্দদায়ক উল্লেখ করে তিনি বলেন, ঘরের মাঠে টানা চারটি টেস্ট জেতা স্বাগতিক বাংলাদেশকে হারাতে পেরে তাঁদের ভালো লাগছে, তবে দুই ম্যাচের এই সিরিজের মূল লক্ষ্য পুরোটা জয় করা। ঢাকায় ব্যাট এবং বল হাতে দাপট দেখিয়ে সিলেট টেস্ট খেলতে যাচ্ছে সফরকারীরা। এরপর আমরা ভালো শুরু চেয়েছি এবং সেটা পেয়েছিও।

মিরপুরের স্পিনবান্ধব উইকেটে দুই দলের স্পিনারদের কার্যকারিতার ক্ষেত্রে স্পষ্ট পার্থক্য ছিল। বাংলাদেশের স্পিনাররা দুই ইনিংস মিলিয়ে মাত্র ৮টি উইকেট নিতে সমর্থ হলেও ওয়েস্ট ইন্ডিজের স্পিনাররা শিকার করেন ১৬টি উইকেট। ক্যারিবীয়দের এই স্পিন আক্রমণের মূল কারিগর ছিলেন স্পিনার জোমেল ওয়ারিক্যান, যিনি ম্যাচে মোট ৯টি উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচসেরার পুরস্কার জেতেন। ওয়ারিক্যানের প্রসংশা করে অধিনায়ক চেজ মন্তব্য করেন, একই স্কুলে পড়ালেখা করা এই সহযোদ্ধা একজন প্রকৃত কারুশিল্পী, যিনি বছরের পর বছর নিজের বোলিং দক্ষতা বাড়িয়ে দলের জন্য সেরাটা নিবেদিত করছেন। দুই ইনিংস মিলিয়ে ৯ উইকেট নিয়ে হয়েছেন ম্যাচসেরা। আমাদের একটি মানসম্মত স্পিন আক্রমণ রয়েছে।

খেলার গুরুত্বপূর্ণ মোড় বা টার্নিং পয়েন্ট প্রসঙ্গে রস্টন চেজ জানান, বাংলাদেশ দলকে প্রথম ইনিংসে বড় কোনো লিড নিতে না দেওয়াটাই ছিল প্রধান কৌশল।

ঢাকার মাটিতে চতুর্থ ইনিংসে বেশি রান তাড়া করা কঠিন, তাই দ্বিতীয় ইনিংসে শুরুতেই প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলে দেওয়া সম্ভব হয়েছে। বাংলাদেশ দলের অলরাউন্ডার নাঈম হাসানের ব্যাটিং কিছুটা বাঁধা তৈরি করেছিল উল্লেখ করে চেজ বলেন, উইকেট না পেলেও ব্যাট হাতে হাফসেঞ্চুরি হাঁকিয়ে নাঈম ক্যারিবীয়দের প্রত্যাশার চেয়ে বেশি সময় মাঠে কাটিয়েছেন। এতে তাঁদের পরিকল্পনায় কিছুটা ব্যাঘাত ঘটলেও দল ধৈর্য ধরে নিজেদের ধারায় অটল ছিল। কিন্তু আমরা এখানে জিততে এসেছি, তাই এই শুরুটা দরকার ছিল। আমরা দুটো ম্যাচই জিততে চাই, এটা কেবল দুই লেগের প্রথমটি (জয়)। কারণ বাংলাদেশে অবশ্যই কেউ চতুর্থ ইনিংসে বেশি রান তাড়া করতে চাইবে না। চতুর্থ দিনে বাংলাদেশের হয়ে উল্লেখযোগ্য পারফর্ম করেছেন নাঈম হাসান।

একপর্যায়ে স্বাগতিকদের দ্রুত অলআউট করে ১০০ রানের মধ্যে আটকে রাখার সুযোগ থাকলেও নাঈমের দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংস শেষ হয় ১৪২ রানে। ফলে সফরকারীদের সামনে জয়ের লক্ষ্য সামান্য বেড়ে দাঁড়ায়। এ বিষয়ে সফরকারী অধিনায়ক বলেন, ‘আমার মনে হয়েছে ১৭০ রান তাড়া করে জয়টা ভালোভাবেই সম্ভব। উইকেট এখনও ভালো, আমার মনে হয় না, এটাতে তেমন কিছু আছে।’ উইকেটে সমান বাউন্স থাকায় এবং ঢাকার পিচে এমন বাউন্স নতুন দেখা গেছে জানিয়ে চেজ আরও যোগ করেন, দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমে ইতিবাচক মনোভাব ও ভালো শুরুর মাধ্যমেই সাফল্য অর্জিত হয়েছে। যখনই সে সুযোগ পেয়েছে, নিজেকে উন্নত করার চেষ্টা করেছে এবং দলকে কিছু দেয়ার চেষ্টা করেছে। তবে নাঈমের ব্যাটে সেই সংগ্রহটা ১৪২-এ চলে যায় বাংলাদেশের। তবে আমি মনে করি, সকালে ওরা ভালো খেলেছে।

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

বাংলাদেশকে হারিয়ে সিরিজ হোয়াইটওয়াশের লক্ষ্য উইন্ডিজ অধিনায়কের

আপডেট সময় : ০৯:৪৭:১৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬

ঢাকা টেস্টে দুর্দান্ত পারফর্ম করে প্রথম ম্যাচ জিতে নিয়েছে সফরকারী ওয়েস্ট ইন্ডিজ। মিরপুরের দাপুটে পারফরম্যান্সের ওপর ভর করে এখন সিলেট টেস্ট জয়ের দিকে নজর দিচ্ছে ক্যারিবীয়রা। প্রথম টেস্টের পর আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে উইন্ডিজ অধিনায়ক রস্টন চেজ স্পষ্ট জানান, তাঁদের প্রধান উদ্দেশ্য বাংলাদেশকে সিরিজ হোয়াইটওয়াশ করা। যেকোনো কন্ডিশনে টেস্ট জয় আনন্দদায়ক উল্লেখ করে তিনি বলেন, ঘরের মাঠে টানা চারটি টেস্ট জেতা স্বাগতিক বাংলাদেশকে হারাতে পেরে তাঁদের ভালো লাগছে, তবে দুই ম্যাচের এই সিরিজের মূল লক্ষ্য পুরোটা জয় করা। ঢাকায় ব্যাট এবং বল হাতে দাপট দেখিয়ে সিলেট টেস্ট খেলতে যাচ্ছে সফরকারীরা। এরপর আমরা ভালো শুরু চেয়েছি এবং সেটা পেয়েছিও।

মিরপুরের স্পিনবান্ধব উইকেটে দুই দলের স্পিনারদের কার্যকারিতার ক্ষেত্রে স্পষ্ট পার্থক্য ছিল। বাংলাদেশের স্পিনাররা দুই ইনিংস মিলিয়ে মাত্র ৮টি উইকেট নিতে সমর্থ হলেও ওয়েস্ট ইন্ডিজের স্পিনাররা শিকার করেন ১৬টি উইকেট। ক্যারিবীয়দের এই স্পিন আক্রমণের মূল কারিগর ছিলেন স্পিনার জোমেল ওয়ারিক্যান, যিনি ম্যাচে মোট ৯টি উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচসেরার পুরস্কার জেতেন। ওয়ারিক্যানের প্রসংশা করে অধিনায়ক চেজ মন্তব্য করেন, একই স্কুলে পড়ালেখা করা এই সহযোদ্ধা একজন প্রকৃত কারুশিল্পী, যিনি বছরের পর বছর নিজের বোলিং দক্ষতা বাড়িয়ে দলের জন্য সেরাটা নিবেদিত করছেন। দুই ইনিংস মিলিয়ে ৯ উইকেট নিয়ে হয়েছেন ম্যাচসেরা। আমাদের একটি মানসম্মত স্পিন আক্রমণ রয়েছে।

খেলার গুরুত্বপূর্ণ মোড় বা টার্নিং পয়েন্ট প্রসঙ্গে রস্টন চেজ জানান, বাংলাদেশ দলকে প্রথম ইনিংসে বড় কোনো লিড নিতে না দেওয়াটাই ছিল প্রধান কৌশল।

ঢাকার মাটিতে চতুর্থ ইনিংসে বেশি রান তাড়া করা কঠিন, তাই দ্বিতীয় ইনিংসে শুরুতেই প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলে দেওয়া সম্ভব হয়েছে। বাংলাদেশ দলের অলরাউন্ডার নাঈম হাসানের ব্যাটিং কিছুটা বাঁধা তৈরি করেছিল উল্লেখ করে চেজ বলেন, উইকেট না পেলেও ব্যাট হাতে হাফসেঞ্চুরি হাঁকিয়ে নাঈম ক্যারিবীয়দের প্রত্যাশার চেয়ে বেশি সময় মাঠে কাটিয়েছেন। এতে তাঁদের পরিকল্পনায় কিছুটা ব্যাঘাত ঘটলেও দল ধৈর্য ধরে নিজেদের ধারায় অটল ছিল। কিন্তু আমরা এখানে জিততে এসেছি, তাই এই শুরুটা দরকার ছিল। আমরা দুটো ম্যাচই জিততে চাই, এটা কেবল দুই লেগের প্রথমটি (জয়)। কারণ বাংলাদেশে অবশ্যই কেউ চতুর্থ ইনিংসে বেশি রান তাড়া করতে চাইবে না। চতুর্থ দিনে বাংলাদেশের হয়ে উল্লেখযোগ্য পারফর্ম করেছেন নাঈম হাসান।

একপর্যায়ে স্বাগতিকদের দ্রুত অলআউট করে ১০০ রানের মধ্যে আটকে রাখার সুযোগ থাকলেও নাঈমের দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংস শেষ হয় ১৪২ রানে। ফলে সফরকারীদের সামনে জয়ের লক্ষ্য সামান্য বেড়ে দাঁড়ায়। এ বিষয়ে সফরকারী অধিনায়ক বলেন, ‘আমার মনে হয়েছে ১৭০ রান তাড়া করে জয়টা ভালোভাবেই সম্ভব। উইকেট এখনও ভালো, আমার মনে হয় না, এটাতে তেমন কিছু আছে।’ উইকেটে সমান বাউন্স থাকায় এবং ঢাকার পিচে এমন বাউন্স নতুন দেখা গেছে জানিয়ে চেজ আরও যোগ করেন, দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমে ইতিবাচক মনোভাব ও ভালো শুরুর মাধ্যমেই সাফল্য অর্জিত হয়েছে। যখনই সে সুযোগ পেয়েছে, নিজেকে উন্নত করার চেষ্টা করেছে এবং দলকে কিছু দেয়ার চেষ্টা করেছে। তবে নাঈমের ব্যাটে সেই সংগ্রহটা ১৪২-এ চলে যায় বাংলাদেশের। তবে আমি মনে করি, সকালে ওরা ভালো খেলেছে।

Facebook Comments Box