ঢাকা ০২:৪৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফিলিস্তিনিদের জলপাই গাছ লুণ্ঠনে উসকানি দিলেন ইসরায়েলি রাবি

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১২:২৬:২৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে
(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনি কৃষকদের মালিকানাধীন জমি থেকে জলপাই সংগ্রহের বা লুটের জন্য একটি বিতর্কিত ধর্মীয় ফতোয়া জারি করেছেন প্রভাবশালী ইসরায়েলি রাবি ডভ লিওর। স্থানীয় টেলিভিশন চ্যানেল ১৩-এ প্রকাশিত এই নির্দেশে তিনি দাবি করেন, জলপাই সংগ্রহের মাধ্যমে ওই ভূমির ওপর কার্যত ইহুদিদের মালিকানা প্রতিষ্ঠিত হয়। পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীদের কাছে অত্যন্ত প্রভাবশালী এই ধর্মীয় নেতা ফিলিস্তিনিদের জমির বৈধ মালিক হিসেবে স্বীকৃতি দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।

রাবি ডভ লিওরের দাবি অনুযায়ী, ফিলিস্তিনিরা ইহুদিদের কাছ থেকে জমিগুলো ক্রয় করেননি, তাই এগুলোকে তিনি ‘চুরি করা সম্পত্তি’ বলে আখ্যায়িত করেছেন। ইহুদি ধর্মীয় আইনের দোহাই দিয়ে তিনি যুক্তি দিয়েছেন যে, চুরির মাধ্যমে জমির মালিকানা হস্তান্তরিত হতে পারে না। তার ভাষ্যমতে, ফিলিস্তিনিরা নিজেদের জমিতে গাছ রোপণ করলেও তা বৈধ মালিকানা প্রদান করে না। উপরন্তু, বছরের পর বছর জলপাইয়ের ফল ভোগ করার মাধ্যমে ফিলিস্তিনিরা গাছ রোপণের জন্য যথেষ্ট ক্ষতিপূরণ পেয়ে গেছেন বলেও তিনি মন্তব্য করেছেন।

এই ফতোয়ার প্রভাব শুধু অবৈধ বসতির কাছাকাছি এলাকায় সীমাবদ্ধ নেই, বরং বসতি থেকে দূরে অবস্থিত ফিলিস্তিনিদের নিজস্ব জমির ফসল সংগ্রহের ক্ষেত্রেও একই নির্দেশনা দিয়েছেন রাবি লিওর। এই উসকানিমূলক ধর্মীয় নির্দেশ এমন একটি সময়ে এলো যখন পশ্চিম তীরে জলপাই সংগ্রহের মৌসুমে ফিলিস্তিনি কৃষক ও তাদের সম্পদের ওপর বসতি স্থাপনকারীদের হামলার ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে।

অক্টোবর মাসে জলপাই সংগ্রহের মৌসুমে ফিলিস্তিনিদের ওপর শারীরিক আক্রমণ, জমিতে প্রবেশে বাধা দেওয়া, গাছ ধ্বংস করা এবং ফসল লুটের ঘটনা নিয়মিত ঘটে থাকে। ফিলিস্তিনি, ইসরায়েলি এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনের অভিযোগ, এসব সহিংসতা বন্ধে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না। একই সঙ্গে, হামলাকারীদের জবাবদিহির আওতায় আনতে কর্তৃপক্ষের ব্যর্থতাও স্পষ্ট বলে তারা মনে করেন।

আন্তর্জাতিক আইনে অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে গড়ে তোলা ইসরায়েলি বসতিগুলো অবৈধ। তবে এমন বাস্তবতার মধ্যেই ফিলিস্তিনিরা তাদের পৈতৃক ভূমির ওপর নিজেদের অবিচল অধিকারের দাবি জানিয়ে আসছেন এবং জমি দখলের যেকোনো ধরনের প্রচেষ্টাকে প্রত্যাখ্যান করেছেন।

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

ফিলিস্তিনিদের জলপাই গাছ লুণ্ঠনে উসকানি দিলেন ইসরায়েলি রাবি

আপডেট সময় : ১২:২৬:২৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনি কৃষকদের মালিকানাধীন জমি থেকে জলপাই সংগ্রহের বা লুটের জন্য একটি বিতর্কিত ধর্মীয় ফতোয়া জারি করেছেন প্রভাবশালী ইসরায়েলি রাবি ডভ লিওর। স্থানীয় টেলিভিশন চ্যানেল ১৩-এ প্রকাশিত এই নির্দেশে তিনি দাবি করেন, জলপাই সংগ্রহের মাধ্যমে ওই ভূমির ওপর কার্যত ইহুদিদের মালিকানা প্রতিষ্ঠিত হয়। পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীদের কাছে অত্যন্ত প্রভাবশালী এই ধর্মীয় নেতা ফিলিস্তিনিদের জমির বৈধ মালিক হিসেবে স্বীকৃতি দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।

রাবি ডভ লিওরের দাবি অনুযায়ী, ফিলিস্তিনিরা ইহুদিদের কাছ থেকে জমিগুলো ক্রয় করেননি, তাই এগুলোকে তিনি ‘চুরি করা সম্পত্তি’ বলে আখ্যায়িত করেছেন। ইহুদি ধর্মীয় আইনের দোহাই দিয়ে তিনি যুক্তি দিয়েছেন যে, চুরির মাধ্যমে জমির মালিকানা হস্তান্তরিত হতে পারে না। তার ভাষ্যমতে, ফিলিস্তিনিরা নিজেদের জমিতে গাছ রোপণ করলেও তা বৈধ মালিকানা প্রদান করে না। উপরন্তু, বছরের পর বছর জলপাইয়ের ফল ভোগ করার মাধ্যমে ফিলিস্তিনিরা গাছ রোপণের জন্য যথেষ্ট ক্ষতিপূরণ পেয়ে গেছেন বলেও তিনি মন্তব্য করেছেন।

এই ফতোয়ার প্রভাব শুধু অবৈধ বসতির কাছাকাছি এলাকায় সীমাবদ্ধ নেই, বরং বসতি থেকে দূরে অবস্থিত ফিলিস্তিনিদের নিজস্ব জমির ফসল সংগ্রহের ক্ষেত্রেও একই নির্দেশনা দিয়েছেন রাবি লিওর। এই উসকানিমূলক ধর্মীয় নির্দেশ এমন একটি সময়ে এলো যখন পশ্চিম তীরে জলপাই সংগ্রহের মৌসুমে ফিলিস্তিনি কৃষক ও তাদের সম্পদের ওপর বসতি স্থাপনকারীদের হামলার ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে।

অক্টোবর মাসে জলপাই সংগ্রহের মৌসুমে ফিলিস্তিনিদের ওপর শারীরিক আক্রমণ, জমিতে প্রবেশে বাধা দেওয়া, গাছ ধ্বংস করা এবং ফসল লুটের ঘটনা নিয়মিত ঘটে থাকে। ফিলিস্তিনি, ইসরায়েলি এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনের অভিযোগ, এসব সহিংসতা বন্ধে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না। একই সঙ্গে, হামলাকারীদের জবাবদিহির আওতায় আনতে কর্তৃপক্ষের ব্যর্থতাও স্পষ্ট বলে তারা মনে করেন।

আন্তর্জাতিক আইনে অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে গড়ে তোলা ইসরায়েলি বসতিগুলো অবৈধ। তবে এমন বাস্তবতার মধ্যেই ফিলিস্তিনিরা তাদের পৈতৃক ভূমির ওপর নিজেদের অবিচল অধিকারের দাবি জানিয়ে আসছেন এবং জমি দখলের যেকোনো ধরনের প্রচেষ্টাকে প্রত্যাখ্যান করেছেন।

Facebook Comments Box