পলাশবাড়ীর ৮১'টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নাম মাত্র কাজ অনিয়ম ও দুর্নীতি-১ : দৈনিক সৃষ্টি নিউজ
  1. admin@sristy.net : admin :
পলাশবাড়ীর ৮১'টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নাম মাত্র কাজ অনিয়ম ও দুর্নীতি-১ : দৈনিক সৃষ্টি নিউজ
শুক্রবার, ০৭ অগাস্ট ২০২৬, ১০:৪০ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর জুমার নামাজে উদ্বোধন রাণীশংকৈল মডেল মসজিদ ঠাকুরগাঁওয়ে ঝাড়ফুঁকের ভরসায় সাপের কামড়ে আদিবাসী কিশোরের মৃত্যু দৌলতপুরে সড়ক সংস্কার ও ড্রেনেজ কাজের শুভ উদ্বোধন নাগেশ্বরীতে কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত কাউনিয়ায় জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসে ইসলামি আন্দোলনের গণমিছিল ও সমাবেশ মাটির মা ফাউন্ডেশন দিনাজপুর জেলা শাখার আহ্বায়ক কমিটি গঠন কাউনিয়ায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকীতে ১১ দলীয় ঐক্য জোটের গণমিছিল ও সমাবেশ আজ বৃহস্পতিবার ৬ আগস্ট ২০২৬: আজকের রাশিফল আজ বৃহস্পতিবার ৬ আগস্ট ২০২৬: আজকের আবহাওয়ার পুর্বাভাস আজ বৃহস্পতিবার ৬ আগষ্ট ২০২৬: আজকের নামাজের সময়সুচী

পলাশবাড়ীর ৮১’টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নাম মাত্র কাজ অনিয়ম ও দুর্নীতি-১

সৃষ্টি ডেস্ক :
  • প্রকাশিত : রবিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২২
পলাশবাড়ীর ৮১'টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নাম মাত্র কাজ অনিয়ম ও দুর্নীতি-১

গাইবান্ধা থেকে এন এম সরকার:  নাম মাত্র কাজ করে পলাশবাড়ীর ৮১’টি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংস্কারের নামে কোটি টাকা ভাগ বাটোয়ারা করার অভিযোগ ওঠেছে।গাইবান্ধা পলাশবাড়ী উপজেলার প্রায় ৮১টির বেশি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ক্ষুদ্র মেরামত, স্লিপ,ও শিশু শ্রেণির সরঞ্জাম ক্রয়ের নাম মাত্র কাজ করে প্রায় ৫০ লক্ষ টাকা ভাগ বাটোয়ারায় অভিযোগ ওঠেছে সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয় গুলোর প্রধান শিক্ষক ও উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসারগণের বিরুদ্ধে।

সরেজমিন তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে ২০২২ইং সালে পলাশবাড়ী উপজেলার ২১৬ টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ক্ষুদ্র মেরামত করার জন্য ৮১ টি বিদ্যালয়ের অনুকুলে ১  লক্ষ টাকা বরাদ্দ প্রদান করা হয়।এ ছাড়াও এসব স্কুলে ৫০ হাজার করে টাকা স্লিপ ও ১০ হাজার করে টাকা শিশু শ্রেণির সরঞ্জাম ক্রয়ের জন্য বরাদ্দ করা হয়।সব মিলিয়ে স্কুল প্রতি মোট ২ লক্ষ ৬০ হাজার টাকা বরাদ্দ করা হয়।মোট বরাদ্দের ৫০ শতাংশ টাকা সরকারি কোষাগার থেকে উত্তোলন করে যৎসামান্য কাজ করেছেন কতিপয় প্রতিষ্ঠান প্রধানগণ।এসব কাজের মধ্যে দৃশ্যমান শুধুই একটি শহীদ মিনার,কোন কোন স্কুলে তাও আবার নেই।

প্রধান শিক্ষকগণের চাহিদা মোতাবেক প্রকল্প বাস্তবায়ন কাজের প্রাক্কলন (ইস্টেমেট) প্রস্তুত করার কাজটি করেছেন  স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর এলজিইডির একজন উপ-সহকারী প্রকৌশলী। তদারকি কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন উপ-সহকারী প্রকৌশলী ও উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসারগণ।

সহকারী শিক্ষা অফিসারগণ ও সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের যোগসাজশে যৎসামান্য কাজ করে সমুদয় টাকা আত্মসাত করেছেন বলে অনুসন্ধানে ওঠে আসে।ভ্যাট, আয়কর, ভুয়া বিল ভাউচার দেখিয়ে সরকারী কোষাগার থেকে এসব টাকা হাতিয়ে নেয়া হয়েছে।

সচেতন মহলের অভিযোগ তদারকি কর্মকর্তারা এসব কাজ পরিদর্শন না করেই ভুয়া বিল ভাউচারের মাধ্যমে শতভাগ কাজ বাস্তবায়ন দেখিয়ে ইতোমধ্যেই চুড়ান্ত বিল উত্তোলনের জন্য প্রধান শিক্ষকগণেরর নিকট ছাড়পত্র প্রদান করেছেন।যা বর্তমানে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের টেবিলে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন প্রধান শিক্ষক জানান, উপজেলা সহকারী প্রকৌশলীদের ইস্টিমিট তৈরী করা বাবদ ২ হাজার ৫ শ টাকা দিতে হয়।অডিট বিল ৫ শ টাকা,ক্লাষ্টার খরচসহ  সহকারী শিক্ষা অফিসারগণের জন্য ১০ হাজার টাকা করে  পিসি নেয়া হচ্ছে।

চলতি মাসে বিদ্যালয় গুলো সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা যায় উপজেলার সুইগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়,উত্তর সুলতানপুর বাড়াইপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়,শিশুদহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়,মোস্তফাপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়,ডাকের পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়,খামার নড়াইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়,শ্যামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ,সাকোয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়,জেবেদা বড় ভিটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে অধিকাংশ বিদ্যালয়ে শিক্ষক আছে শিক্ষার্থী নেই।আবার কোথাও শিক্ষক আছে অথচ শিক্ষার্থী নেই।উপস্থিতি খুবই কম।অনেক স্কুল সারে নয়টা ১০ টায় সময় খোলা হয়।আবার অনেক স্কুল বেলা ৩ টার মধ্যে বন্ধ হয়ে যায়।

শিক্ষকরা তাদের ইচ্ছে মত স্কুলে যাতায়াত করেন।যথা সময়ে স্কুল গুলোতে পতাকা উত্তোলন করা হয় না।অনেক স্কুলে এসেম্বিলি ও জাতীয় সঙ্গীত পর্যন্ত বাজানো হয় না।অভিভাবক সমাবেশ ও  মা সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয় কাগজে কলমে । কতিপয় শিক্ষকনেতা স্কুল ফাকি দিয়ে সহকারী শিক্ষা অফিসারের সাথে ক্লাস্টারের দালালী  নিয়ে  অধিকাংশ সময় শিক্ষা অফিসারের বারেন্দায় ঘুরঘুর করতে দেখা যায়।এ দেখে ও যেন দেখার কেউ নেই।

১ মাস থেকে দুই বছর পরিদর্শন রেজিষ্টারে স্বাক্ষর নেই  উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসারগনের।তারা প্রধান শিক্ষকদের মাধ্যমে  শিক্ষক শিক্ষার্থীদের হাজিরা খাতা উপজেলা শিক্ষা অফিসে নিয়ে এসে স্বাক্ষর দিয়ে বিদ্যালয়  পরিদর্শন দেখানো হয়। দুই মাস, তিন মাস,এক বছর,দুই বছরে ও একটি বিদ্যালয় পরিদর্শন হয় না।শুধুমাত্র শিক্ষা অফিসারগন বিদ্যালয় সমুহ যথাযথ মনিটরিং না করার ফলে গোটা উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা ভেঙ্গে পরেছে।বরাদ্দকৃতর টাকার মধ্যে স্কুল গুলোতে রং করা হয়েছে।কয়েকটি স্কুলে ছোট্র পরিসরে একটি করে শহীদ মিনার স্থাপন করা হয়েছে।শুধুমাত্র একটি শহীদ মিনার ছাড়া দৃশ্য মান কোন উন্নয়ন হয়নি প্রাথমিক বিদ্যালয় গুলোতে।এছাড়াও স্লিপের টাকা ও শিশু শ্রেনীর টাকার দৃশ্যমান কোন উন্নয়ন হয় নি।

প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়ম ও দুর্নীতির  অভিযোগ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার জানান, উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসারগণ কাজের প্রতি আন্তরিক না হওয়া, এবং যথাযথ মনিটরিং না করার জন্যই কাজের গুণমান  খারাপ হয়েছে।

পলাশবাড়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসার কামরুজ্জামান নয়ন বলেন, আগামী শিক্ষা কমিটির মিটিং এ বিষয়টি উত্থাপন করা হবে।কোথাও কোন অসঙ্গতি পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

পলাশবাড়ী উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের দুর্নীতি অনিয়মের বিরুদ্ধে জরুরি  ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। সুত্র: https:// thakurgaon24newspaper.com  তারিখ-18/9/22

 

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরও খবর















error: Content is protected !!