ঢাকা ০৭:৩৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
তাড়াশ উপজেলা শিক্ষক-কর্মচারী কো-অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়ন লিঃ পরিচালনা পর্ষদ নির্বাচন রাণীশংকৈলে ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়নে নির্ভুল তথ্য সংগ্রহে প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধন দোহা–রিয়াদ রুটে কাতার এয়ারওয়েজের একাধিক ফ্লাইট বাতিল বিরল ও পীরগঞ্জ সীমান্তে বিজিবির পৃথক অভিযানে ইয়াবা ও মদ উদ্ধার রাণীশংকৈলে দুর্গাপূজা উপলক্ষে প্রস্তুতি সভা, ৫৫ মণ্ডপের নিরাপত্তায় জোর দিল্লি পুলিশ আমাকে নিরাপত্তা সংক্রান্ত ঘটনায় করেছে: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মাদরাসার সাবেক উপাধ্যক্ষের পেনশন বণ্টন নিয়ে পরিবারের বিরোধ তাহিরপুরে থমকে গেছে ছাত্রী যৌন হয়রানির অভিযোগের বিচার দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও স্থানীয় সরকারব্যবস্থা জনগণের কাছে ফেরাতে চায় সরকার: মঈন খান

তাহিরপুরে থমকে গেছে ছাত্রী যৌন হয়রানির অভিযোগের বিচার

সুনামগঞ্জ থেকে আমির হোসেন
  • আপডেট সময় : ০৫:৩৭:৪৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬ ৯ বার পড়া হয়েছে

তাহিরপুরে থমকে গেছে ছাত্রী যৌন হয়রানির অভিযোগের বিচার

(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

 

 

 

তাহিরপুরে থমকে গেছে ছাত্রী যৌন হয়রানির অভিযোগের বিচার

 

 

আন্দোলন বন্ধের পরও বিচার না হওয়ায় ক্ষোভ, উদ্ধারকারীদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ
সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে এক কলেজছাত্রীকে কক্ষে আটকে রেখে যৌন হয়রানির অভিযোগকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযুক্ত শিক্ষক ও বিএনপি নেতা রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে ওঠা এ অভিযোগের বিচার নিয়ে কালক্ষেপণ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পর শিক্ষার্থীদের আন্দোলন বন্ধ করতে বিচারের আশ্বাস দেওয়া হলেও কয়েক দিন পেরিয়ে যাওয়ার পরও দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় স্থানীয় সচেতন যুবসমাজ ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ বাড়ছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ওই ছাত্রীকে ডেকে নিয়ে একটি কক্ষে তালাবদ্ধ করে রাখা হয়। এ অবস্থায় তিনি মোবাইল ফোনে সহপাঠীদের কাছে সাহায্য চান। পরে সহপাঠী ও স্থানীয় এলাকাবাসীর সহযোগিতায় তাকে উদ্ধার করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

পড়ুন>>আমেরিকান ফিজিক্যাল সোসাইটির ফেলো হলেন অধ্যাপক অরুণ কুমার বসাক

ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর শিক্ষার্থীরা বিচারের দাবিতে আন্দোলনে নামেন। অভিযোগ রয়েছে, বিচার নিশ্চিত করার আশ্বাস দিয়ে তাদের আন্দোলন বন্ধ করা হয়। তবে এরপর থেকে বিচারপ্রক্রিয়ায় দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় আশ্বাসের বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে একটি পক্ষ সক্রিয় রয়েছে।

এদিকে, ছাত্রীকে উদ্ধারে সহযোগিতাকারী কয়েকজনকে বিভিন্ন ফোন নম্বর থেকে কল করে ভয়ভীতি দেখানো এবং মামলার হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। এতে উদ্ধারকাজে সহযোগিতাকারীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, অভিযোগের সত্যতা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে অভিযোগকারী ছাত্রী ও সাক্ষীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে, যাতে কেউ ভয়ভীতি বা চাপের মুখে ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত না হন।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটন, দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং বিচার নিয়ে দীর্ঘসূত্রতার অবসান ঘটানো হবে।

তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক রফিকুল ইসলামের বক্তব্য এবং সংশ্লিষ্ট থানা বা প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক অবস্থান পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা প্রয়োজন। অভিযোগগুলোর স্বাধীন যাচাই ও অভিযুক্তের বক্তব্য ছাড়া কাউকে দোষী হিসেবে চূড়ান্তভাবে উপস্থাপন করা সমীচীন নয়।

পড়ুন>>কুষ্টিয়ায় বিএসএফ’র গুলিতে বাংলাদেশি কৃষক আহত

সহপাঠী আমিনুল ইসলাম বলেন, ছাত্রীকে উদ্ধার করার পর থেকেই একটি পক্ষ আমাকে ফোনে এবং সরাসরি বিভিন্ন ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। এমনকি এ বিষয় নিয়ে বাড়াবাড়ি করলে মামলা দিয়ে জেলে পাঠানোরসহ মারধর করে আমার হাতপা ভেঙে ফেলা হুমকি দিচ্ছে। আমিসহ আমার সহপাঠীরা নিজেদের নিরাপত্তা নিয়েও শঙ্কায় আছি।

বাদাঘাট সরকারি ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ফরিদ উদ্দিন আক্তার বলেন, ঘটনা যদি অতন্ত্য দুঃখজনক। তবে ঘটনা যেহেতু কলেজের বাহিরে ওই শিক্ষকের নিজ বাসায় তাই এ বিষয়ে আমার কলেজ কর্তৃপক্ষের কিছু করার নাই। ওই ছাত্রীর পক্ষে যদি লিখত আবেদনের মধ্যে আমাদের সহযোগিতা চায় তাহলে আমরা সবধরনের সহযোগিতা করবো।

 

 

 

 

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

তাহিরপুরে থমকে গেছে ছাত্রী যৌন হয়রানির অভিযোগের বিচার

আপডেট সময় : ০৫:৩৭:৪৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬

 

 

 

 

তাহিরপুরে থমকে গেছে ছাত্রী যৌন হয়রানির অভিযোগের বিচার

 

 

আন্দোলন বন্ধের পরও বিচার না হওয়ায় ক্ষোভ, উদ্ধারকারীদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ
সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে এক কলেজছাত্রীকে কক্ষে আটকে রেখে যৌন হয়রানির অভিযোগকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযুক্ত শিক্ষক ও বিএনপি নেতা রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে ওঠা এ অভিযোগের বিচার নিয়ে কালক্ষেপণ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পর শিক্ষার্থীদের আন্দোলন বন্ধ করতে বিচারের আশ্বাস দেওয়া হলেও কয়েক দিন পেরিয়ে যাওয়ার পরও দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় স্থানীয় সচেতন যুবসমাজ ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ বাড়ছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ওই ছাত্রীকে ডেকে নিয়ে একটি কক্ষে তালাবদ্ধ করে রাখা হয়। এ অবস্থায় তিনি মোবাইল ফোনে সহপাঠীদের কাছে সাহায্য চান। পরে সহপাঠী ও স্থানীয় এলাকাবাসীর সহযোগিতায় তাকে উদ্ধার করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

পড়ুন>>আমেরিকান ফিজিক্যাল সোসাইটির ফেলো হলেন অধ্যাপক অরুণ কুমার বসাক

ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর শিক্ষার্থীরা বিচারের দাবিতে আন্দোলনে নামেন। অভিযোগ রয়েছে, বিচার নিশ্চিত করার আশ্বাস দিয়ে তাদের আন্দোলন বন্ধ করা হয়। তবে এরপর থেকে বিচারপ্রক্রিয়ায় দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় আশ্বাসের বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে একটি পক্ষ সক্রিয় রয়েছে।

এদিকে, ছাত্রীকে উদ্ধারে সহযোগিতাকারী কয়েকজনকে বিভিন্ন ফোন নম্বর থেকে কল করে ভয়ভীতি দেখানো এবং মামলার হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। এতে উদ্ধারকাজে সহযোগিতাকারীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, অভিযোগের সত্যতা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে অভিযোগকারী ছাত্রী ও সাক্ষীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে, যাতে কেউ ভয়ভীতি বা চাপের মুখে ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত না হন।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটন, দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং বিচার নিয়ে দীর্ঘসূত্রতার অবসান ঘটানো হবে।

তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক রফিকুল ইসলামের বক্তব্য এবং সংশ্লিষ্ট থানা বা প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক অবস্থান পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা প্রয়োজন। অভিযোগগুলোর স্বাধীন যাচাই ও অভিযুক্তের বক্তব্য ছাড়া কাউকে দোষী হিসেবে চূড়ান্তভাবে উপস্থাপন করা সমীচীন নয়।

পড়ুন>>কুষ্টিয়ায় বিএসএফ’র গুলিতে বাংলাদেশি কৃষক আহত

সহপাঠী আমিনুল ইসলাম বলেন, ছাত্রীকে উদ্ধার করার পর থেকেই একটি পক্ষ আমাকে ফোনে এবং সরাসরি বিভিন্ন ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। এমনকি এ বিষয় নিয়ে বাড়াবাড়ি করলে মামলা দিয়ে জেলে পাঠানোরসহ মারধর করে আমার হাতপা ভেঙে ফেলা হুমকি দিচ্ছে। আমিসহ আমার সহপাঠীরা নিজেদের নিরাপত্তা নিয়েও শঙ্কায় আছি।

বাদাঘাট সরকারি ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ফরিদ উদ্দিন আক্তার বলেন, ঘটনা যদি অতন্ত্য দুঃখজনক। তবে ঘটনা যেহেতু কলেজের বাহিরে ওই শিক্ষকের নিজ বাসায় তাই এ বিষয়ে আমার কলেজ কর্তৃপক্ষের কিছু করার নাই। ওই ছাত্রীর পক্ষে যদি লিখত আবেদনের মধ্যে আমাদের সহযোগিতা চায় তাহলে আমরা সবধরনের সহযোগিতা করবো।

 

 

 

 

Facebook Comments Box