ঢাকা ০৮:৩৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

আমের গুটি ঝরে পড়া রোধে করণীয়

সৃষ্টি কৃষি ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৮:২২:৩২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৯ মার্চ ২০২১ ১০৬৮ বার পড়া হয়েছে

sristy.net

আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

আম চাষিদের জন্য এ সময় খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এ সময় অনেক চাষিকে নানা ধরনের সমস্যায় পড়তে হয়। এর মধ্যে আমের গুটি ঝরা অন্যতম।

 গাছে গুটি আসার পর নানা কারণে তা ঝরে যায়। তাই এসব কারণ ও প্রতিকার সম্পর্কে জানতে হবে।

প্রাকৃতিক কারণ:

সাধারণত আমগাছে প্রতি মুকুলে এক হাজার থেকে ছয় হাজার পর্যন্ত পুরুষ ও স্ত্রী ফুল থাকে। তার মধ্যে প্রাথমিকভাবে প্রতি থোকায় জাতভেদে এক থেকে ৩০টি আমের গুটি ধরতে দেখা যায়।

গুটি আসার ২৫ থেকে ৫০ দিনের মধ্যে প্রতি থোকায় মাত্র এক থেকে দু’টি গুটি থাকে। বাকি গুটি প্রাকৃতিক বা অভ্যন্তরীণ কারণে ঝরে যায়। তবে কোনো কোনো মুকুলে কদাচিৎ চার থেকে পাঁচটি আম ধরতে দেখা যায়। এ ক্ষেত্রে আমের আকার ছোট হয়।

প্রতিকার :

অতিরিক্ত গুটি ঝরে না পড়লে আমের আকার ছোট হয় এবং আমের গুণগত মান ও ফলন কমে যায়। গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতিটি মুকুলে একটি করে গুটি থাকলে সে বছর আমের বাম্পার ফলন হয়।

তবে প্রতি মুকুলে আমের সংখ্যা বাড়ানোর জন্য ফুল ফোটার ১০ ও ২০ দিন পর দুইবার ১০ লিটার পানিতে ৬ গ্রাম হারে বোরিক অ্যাসিড অথবা সলুবর বোরণ স্প্রে করলে ভালো ফলন পাওয়া যায়।

তাছাড়া সব ফুল ফোটা অবস্খায় জিবেরেলিক অ্যাসিড , নাইট্রো বেনজিন ও ন্যাপ এসিটিক এসিড জৈব উদ্দীপক হরমোন এর বিভিন্ন কোম্পানীর ঔষধ নির্দেশিত মাত্রায় স্প্রে করলে আমের গুটি ঝরা কমে যায়।

মাটিতে রসের অভাব হলে :

জমিতে রসের অভাব হলেও আমের গুটি ঝরে যায়। ফলের বৃদ্ধির প্রাথমিক পর্যায়ে অর্থাৎ মার্চ-এপ্রিল মাসে বৃষ্টিপাত কম হওয়ায় মাটিতে রসের অভাব দেখা দেয়।  রসের অভাব হলে আমের বোঁটায় তাড়াতাড়ি নির্মোচন স্তর গঠিত হয়। ফলে আমের গুটি ঝরে যায়।

প্রতিকার :

গাছের চারপাশে রসের অভাবে আমের গুটি ঝরে গেলে গাছের চার পাশে নিয়মিত সেচ দিতে হবে। আমের গুটি মটরদানার মতো হলেই প্রথমে একবার গাছের গোড়ায় পানি সেচ দিতে হবে। প্রথম সেচ দেয়ার পর থেকে বৃষ্টিপাত না হওয়া পর্যন্ত ১৫ দিন পরপর সেচ দিতে হবে।

সেচের পাশাপাশি জৈব উদ্দীপক হরমোন ও বোরণ প্রয়োগ করেও আমের গুটি ঝরা কমানো যায়।

পোকার আক্রমণ হলে :

গুটি আসার পর প্রাথমিক পর্যায়ে আমের গুটিতে হপার পোকার আক্রমণ হতে পারে। এ পোকার পূর্ণবয়স্ক মথ ও কীড়া গুটির রস শোষণ করে খায়, ফলে আমের গুটি শুকিয়ে ঝরে যায়।

প্রতিকার :

রোগ-পোকা থেকে আমের গুটি রক্ষার জন্য গুটি মটরদানার মতো হলেই কীটনাশক ও ছত্রাকনাশক একসাথে পানিতে মিশিয়ে গুটিতে স্প্রে করতে হবে।

পড়ুন>>বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির ৩৭ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে সুনামগঞ্জে মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত

কীটনাশকের মধ্যে সাইপরমেথ্রিন ১০ ইসি বা ল্যামডা সাই হ্যালাথ্রিন ২.৫ ইসি বা ফেন ভেলারেট ২০ ইসি, গ্রুপের যেকোনো একটি কীটনাশক প্রতি লিটার পানিতে এক মিলিলিটার হারে এবং ছত্রাকনাশকের মধ্যে মেনকোজেব গ্রুপের যেকোনো একটি ভালো কোম্পানির  বালাই নাশক প্রতি লিটার পানিতে দুই গ্রাম হারে একসাথে মিশিয়ে গুটিতে স্প্রে করতে হবে।

আমের গুটি মার্বেল আকৃতির হলে ফল ছিদ্রকারী পোকার আক্রমণ হতে পরে। এ ক্ষেত্রে পূর্ণবয়স্ক পোকা আমের নিচের অংশে খোসার ওপরে ডিম পাড়ে।

কয়েক দিনের মধ্যে ডিম ফুটে লার্ভা বের হয় এবং লার্ভা খুব ছোট বিন্দুর মতো ছিদ্র করে আমের ভেতর ঢুকে পড়ে। প্রথমে শাঁস ও পরে আঁটি খাওয়া শুরু করে। পরে আক্রান্ত স্খান কালো হয়ে যায় এবং কোনো কোনো সময় আম ঝরে পড়ে।

প্রতিকার :

আমবাগান পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। মরা ডালপালা ছেঁটে ফেলতে হবে।

জেনে>>সূর্যমুখী চাষ করে অধিক লাভবান হউন

জেনে নিন:>>টরি-৭ সরিষা চাষ

জেনে>>সরিষার বিভিন্ন জাত থেকে বেছে নিন আপনার পছন্দের জাত

জেনে>> পেরিলা চাষ পদ্ধতি

জেনে নিন>>বারি সরিষা-১১ সরিষা চাষ পদ্ধতি

জেনে নিন>> কল্যাণীয়া (টিএস-৭২)সরিষা চাষ পদ্ধতি

জেনে নিন>>রাই-৫ সরিষা চাষ  পদ্ধতি

 

 

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

2 thoughts on “আমের গুটি ঝরে পড়া রোধে করণীয়

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

আমের গুটি ঝরে পড়া রোধে করণীয়

আপডেট সময় : ০৮:২২:৩২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৯ মার্চ ২০২১

আম চাষিদের জন্য এ সময় খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এ সময় অনেক চাষিকে নানা ধরনের সমস্যায় পড়তে হয়। এর মধ্যে আমের গুটি ঝরা অন্যতম।

 গাছে গুটি আসার পর নানা কারণে তা ঝরে যায়। তাই এসব কারণ ও প্রতিকার সম্পর্কে জানতে হবে।

প্রাকৃতিক কারণ:

সাধারণত আমগাছে প্রতি মুকুলে এক হাজার থেকে ছয় হাজার পর্যন্ত পুরুষ ও স্ত্রী ফুল থাকে। তার মধ্যে প্রাথমিকভাবে প্রতি থোকায় জাতভেদে এক থেকে ৩০টি আমের গুটি ধরতে দেখা যায়।

গুটি আসার ২৫ থেকে ৫০ দিনের মধ্যে প্রতি থোকায় মাত্র এক থেকে দু’টি গুটি থাকে। বাকি গুটি প্রাকৃতিক বা অভ্যন্তরীণ কারণে ঝরে যায়। তবে কোনো কোনো মুকুলে কদাচিৎ চার থেকে পাঁচটি আম ধরতে দেখা যায়। এ ক্ষেত্রে আমের আকার ছোট হয়।

প্রতিকার :

অতিরিক্ত গুটি ঝরে না পড়লে আমের আকার ছোট হয় এবং আমের গুণগত মান ও ফলন কমে যায়। গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতিটি মুকুলে একটি করে গুটি থাকলে সে বছর আমের বাম্পার ফলন হয়।

তবে প্রতি মুকুলে আমের সংখ্যা বাড়ানোর জন্য ফুল ফোটার ১০ ও ২০ দিন পর দুইবার ১০ লিটার পানিতে ৬ গ্রাম হারে বোরিক অ্যাসিড অথবা সলুবর বোরণ স্প্রে করলে ভালো ফলন পাওয়া যায়।

তাছাড়া সব ফুল ফোটা অবস্খায় জিবেরেলিক অ্যাসিড , নাইট্রো বেনজিন ও ন্যাপ এসিটিক এসিড জৈব উদ্দীপক হরমোন এর বিভিন্ন কোম্পানীর ঔষধ নির্দেশিত মাত্রায় স্প্রে করলে আমের গুটি ঝরা কমে যায়।

মাটিতে রসের অভাব হলে :

জমিতে রসের অভাব হলেও আমের গুটি ঝরে যায়। ফলের বৃদ্ধির প্রাথমিক পর্যায়ে অর্থাৎ মার্চ-এপ্রিল মাসে বৃষ্টিপাত কম হওয়ায় মাটিতে রসের অভাব দেখা দেয়।  রসের অভাব হলে আমের বোঁটায় তাড়াতাড়ি নির্মোচন স্তর গঠিত হয়। ফলে আমের গুটি ঝরে যায়।

প্রতিকার :

গাছের চারপাশে রসের অভাবে আমের গুটি ঝরে গেলে গাছের চার পাশে নিয়মিত সেচ দিতে হবে। আমের গুটি মটরদানার মতো হলেই প্রথমে একবার গাছের গোড়ায় পানি সেচ দিতে হবে। প্রথম সেচ দেয়ার পর থেকে বৃষ্টিপাত না হওয়া পর্যন্ত ১৫ দিন পরপর সেচ দিতে হবে।

সেচের পাশাপাশি জৈব উদ্দীপক হরমোন ও বোরণ প্রয়োগ করেও আমের গুটি ঝরা কমানো যায়।

পোকার আক্রমণ হলে :

গুটি আসার পর প্রাথমিক পর্যায়ে আমের গুটিতে হপার পোকার আক্রমণ হতে পারে। এ পোকার পূর্ণবয়স্ক মথ ও কীড়া গুটির রস শোষণ করে খায়, ফলে আমের গুটি শুকিয়ে ঝরে যায়।

প্রতিকার :

রোগ-পোকা থেকে আমের গুটি রক্ষার জন্য গুটি মটরদানার মতো হলেই কীটনাশক ও ছত্রাকনাশক একসাথে পানিতে মিশিয়ে গুটিতে স্প্রে করতে হবে।

পড়ুন>>বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির ৩৭ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে সুনামগঞ্জে মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত

কীটনাশকের মধ্যে সাইপরমেথ্রিন ১০ ইসি বা ল্যামডা সাই হ্যালাথ্রিন ২.৫ ইসি বা ফেন ভেলারেট ২০ ইসি, গ্রুপের যেকোনো একটি কীটনাশক প্রতি লিটার পানিতে এক মিলিলিটার হারে এবং ছত্রাকনাশকের মধ্যে মেনকোজেব গ্রুপের যেকোনো একটি ভালো কোম্পানির  বালাই নাশক প্রতি লিটার পানিতে দুই গ্রাম হারে একসাথে মিশিয়ে গুটিতে স্প্রে করতে হবে।

আমের গুটি মার্বেল আকৃতির হলে ফল ছিদ্রকারী পোকার আক্রমণ হতে পরে। এ ক্ষেত্রে পূর্ণবয়স্ক পোকা আমের নিচের অংশে খোসার ওপরে ডিম পাড়ে।

কয়েক দিনের মধ্যে ডিম ফুটে লার্ভা বের হয় এবং লার্ভা খুব ছোট বিন্দুর মতো ছিদ্র করে আমের ভেতর ঢুকে পড়ে। প্রথমে শাঁস ও পরে আঁটি খাওয়া শুরু করে। পরে আক্রান্ত স্খান কালো হয়ে যায় এবং কোনো কোনো সময় আম ঝরে পড়ে।

প্রতিকার :

আমবাগান পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। মরা ডালপালা ছেঁটে ফেলতে হবে।

জেনে>>সূর্যমুখী চাষ করে অধিক লাভবান হউন

জেনে নিন:>>টরি-৭ সরিষা চাষ

জেনে>>সরিষার বিভিন্ন জাত থেকে বেছে নিন আপনার পছন্দের জাত

জেনে>> পেরিলা চাষ পদ্ধতি

জেনে নিন>>বারি সরিষা-১১ সরিষা চাষ পদ্ধতি

জেনে নিন>> কল্যাণীয়া (টিএস-৭২)সরিষা চাষ পদ্ধতি

জেনে নিন>>রাই-৫ সরিষা চাষ  পদ্ধতি

 

 

Facebook Comments Box