ঢাকা ১২:১৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
কাউনিয়া বাসস্ট্যান্ড শ্রমিক ইউনিয়নের নতুন কমিটি অনুমোদন টুপামারীতে কিসামত দোগাছি প্রিমিয়ার লীগ ২০২৬-এর উদ্বোধন তিব্র শিক্ষক সংকটে চলছে তাহিরপুরে হাওরাঞ্চলের দুর্গম এলাকার প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো সুন্দরগঞ্জে ১৩৫ মণ্ডপে হবে শারদীয় দুর্গোৎসব ঠাকুরগাঁওয়ে নাগর নদীতে গোসল করতে নেমে প্রাণ গেল ১৬ বছরের রকিরের মদিনার বিদ্যুৎ কেন্দ্রে ড্রোন হামলা: দায় অস্বীকার হুতিদের ফ্লাইদুবাইয়ের ঘটনায় ইরান জড়িত থাকলে কঠোর হামলা: ট্রাম্প দেশে হাম ও উপসর্গে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১১১৪ ইসরায়েলি নির্বাচনে নেতানিয়াহুকে সমর্থন দিতে ট্রাম্পের অনীহা মিরপুরে সরকারি ভবনের লিফট ছিঁড়ে শিশুসহ আহত তিন

৪০ বছর পর মৌলভীবাজারে আবারও কফি চাষ শুরু

সৃষ্টি কৃষি ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১০:১৭:৫৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ নভেম্বর ২০২২ ৩৬২ বার পড়া হয়েছে

৪০ বছর পর মৌলভীবাজারে আবারও কফি চাষ শুরু

(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

৪০ বছর পর মৌলভীবাজারে আবারও কফি চাষ শুরু হয়েছে। আগে চায়ের সাথে কফি চাষ হত পাহাড়ি এলাকায়। কফির চেয়ে চা চাষে বেশী লাভ হওয়ায় কোম্পানিগুলো কফি চাষ বন্ধ করেন। প্রায় চল্লিশ বছর পর আবারো আশার আলো দেখাচ্ছে কৃষি গবেষকেরা।

ব্রিটিশরা এক সময় মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের জাগছড়াসহ বিভিন্ন চা বাগানে কফি চাষ করতেন। তারা চলে যাওয়ার পর ধীরে ধীরে কফির চাষ কমে যায়। তবে বর্তমান বিশ্বের অন্যতম রপ্তানি পণ্যের তালিকায় রয়েছে কফি। তাই মৌলভীবাজারে পুনরায় কফি চাষাবাদের জন্য কৃষি বিভাগের উদ্যোগে বিভিন্ন উপজেলায় চারা বিতরণ করা হচ্ছে।

এরই মধ্যে জেলার পাহাড়ি ও সমতল ভূমিতে কফির দুটি জাত- “অ্যারাবিকা” ও “রোবাস্তা” পরীক্ষামূলক চাষে ভালো ফলন হয়েছে। ফলে চায়ের পাশাপাশি এ অঞ্চলে কফি চাষের উজ্জ্বল সম্ভাবনা দেখছেন কৃষি গবেষকেরা।

মৌলভীবাজার কৃষি অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. সামছুদ্দিন আহমদ বলেছেন, “মৌলভীবাজার জেলার সদর উপজেলা, রাজনগর, কুলাউড়া ও শ্রীমঙ্গলে বিভিন্ন পাহাড়ি ও সমতলে পরীক্ষামূলকভাবে প্রায় তিন হাজার কফির চারা রোপণ করা হয়। কিন্তু সরকারিভাবে কোনো প্রকল্প না থাকায় এটির ব্যাপকহারে বিস্তার সম্ভব হয়নি।”

তিনি বলেন, “মৌলভীবাজারে কফির দুটি জাতেরই ফলন ভালো হয়েছে। এর মধ্যে রোবাস্তা সমতলে ভালো হয়েছে; আর পাহাড়ে হয়েছে অ্যারাবিকা। একটি কফি গাছ তিন বছর থেকে ফল দেওয়া শুরু করলেও ৫/৬ বছর হলে ফলের পরিমাণ অনেক বেশি হয়।”

সরকারি প্রণোদনাসহ প্রকল্প আকারে কফির চাষ করলে এ অঞ্চলের মানুষ অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ হবে; পাশাপাশি রপ্তানি করে সরকারও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে পারবে বলে জানান, এ কৃষি অধিদপ্তরের এ কর্মকর্তা।

মৌলভীবাজারে অনেকেই সখের বসেও কফির চারা রোপণ করছেন। কফির ফলগুলো দেখতে অনেকটা চেরি ফলের মত হয়।

রাজনগর উপজেলার টেংরা বাজার ইউনিয়নে ম্যাথিউরা এলাকা ঘুরে দেখা গেছে- রাস্তা ও বাড়ির পাশে কফি গাছে থোকা থোকা কফি ধরে আছে।

কফির স্বাদ ও ঘ্রাণ গ্রাহকের কাপ পর্যন্ত রাখতে হলে সঠিকভাবে কফি গ্রাইন্ডিং করা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কফি বীজ গুড়া করা যত মিহি হবে তত দ্রুত সুন্দর কফি তৈরি হবে। কিন্তু স্থানীয়রা এ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে পারেন না; তারা পাকা কফি গাছ থেকে পেড়ে রোদে শুকিয়ে ও ভেজে গুড়া করে তারপর পান করেন।

শ্রীমঙ্গলের পরিবেশবীদ ৭৫ বছর বয়সী সিতেশ রঞ্জন দেব বলেন, “এ উপজেলার জাগছরা ও সোনাছড়া চা বাগানে ফিনলে কোম্পানির বিশাল কফি বাগান আর কফির ফ্যাক্টরি ছিল। চা উৎপাদন বেড়ে যাওয়ায় কফি চাষ কমে যায়। ১৯৮৫/৮৬ সালের দিকে ফিনলে কফি চাষ বন্ধ করে সেখানে চা আবাদ বর্ধিত করে।”

ফিনলে টি-এর শ্রীমঙ্গলের ভাড়াউড়া ডিভিশনের ম্যানেজার গোলাম মোহাম্মদ শিবলী বলেন, “সোনাছড়া ও জাগছড়ায় আমাদের বিশাল কফি বাগান ছিল। লাভ কম হওয়ায় প্রায় ৩৭/৩৮ বছর আগে কোম্পানি কফি চাষ বন্ধ করে দেয়।”

রাজনগরে বিভিন্ন চা বাগান ও গ্রামীণ এলাকায় বেশ কিছু কফি গাছের চারা লাগানো হয়েছে; যার মধ্যে রোবাস্তা জাতের কফিই বেশি বলে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রেজাউল করিম জানান।তিনি বলেন, “বেশ কিছু কফি গাছের বয়স তিন বছর অতিক্রম করেছে এবং এই গাছগুলোতে ফলনও ভালো হয়েছে।”

চায়ের পাশাপাশি এ জেলায় কফি চাষের একটা উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে জানিয়ে মৌলভীবাজার কৃষি অধিদপ্তরের সাবেক উপ-পরিচালক ও কৃষি গবেষক লুৎফুল বারী বলেন, “কফি হৃদরোগ ও পাকস্থলীর জন্য ও বেশ উপকারী। কফি একটি উচ্চ মূল্যের ফল। চায়ের সঙ্গেও এটি চাষ করা যেতে পারে। পাশাপাশি ক্ষুদ্র চাষিরা তাদের বাড়িতেও চাষ করতে পারেন। তবে এর জন্য জেলায় একটি প্রসেসিং সেন্টার প্রয়োজন হবে।”

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

One thought on “৪০ বছর পর মৌলভীবাজারে আবারও কফি চাষ শুরু”

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

৪০ বছর পর মৌলভীবাজারে আবারও কফি চাষ শুরু

আপডেট সময় : ১০:১৭:৫৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ নভেম্বর ২০২২

৪০ বছর পর মৌলভীবাজারে আবারও কফি চাষ শুরু হয়েছে। আগে চায়ের সাথে কফি চাষ হত পাহাড়ি এলাকায়। কফির চেয়ে চা চাষে বেশী লাভ হওয়ায় কোম্পানিগুলো কফি চাষ বন্ধ করেন। প্রায় চল্লিশ বছর পর আবারো আশার আলো দেখাচ্ছে কৃষি গবেষকেরা।

ব্রিটিশরা এক সময় মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের জাগছড়াসহ বিভিন্ন চা বাগানে কফি চাষ করতেন। তারা চলে যাওয়ার পর ধীরে ধীরে কফির চাষ কমে যায়। তবে বর্তমান বিশ্বের অন্যতম রপ্তানি পণ্যের তালিকায় রয়েছে কফি। তাই মৌলভীবাজারে পুনরায় কফি চাষাবাদের জন্য কৃষি বিভাগের উদ্যোগে বিভিন্ন উপজেলায় চারা বিতরণ করা হচ্ছে।

এরই মধ্যে জেলার পাহাড়ি ও সমতল ভূমিতে কফির দুটি জাত- “অ্যারাবিকা” ও “রোবাস্তা” পরীক্ষামূলক চাষে ভালো ফলন হয়েছে। ফলে চায়ের পাশাপাশি এ অঞ্চলে কফি চাষের উজ্জ্বল সম্ভাবনা দেখছেন কৃষি গবেষকেরা।

মৌলভীবাজার কৃষি অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. সামছুদ্দিন আহমদ বলেছেন, “মৌলভীবাজার জেলার সদর উপজেলা, রাজনগর, কুলাউড়া ও শ্রীমঙ্গলে বিভিন্ন পাহাড়ি ও সমতলে পরীক্ষামূলকভাবে প্রায় তিন হাজার কফির চারা রোপণ করা হয়। কিন্তু সরকারিভাবে কোনো প্রকল্প না থাকায় এটির ব্যাপকহারে বিস্তার সম্ভব হয়নি।”

তিনি বলেন, “মৌলভীবাজারে কফির দুটি জাতেরই ফলন ভালো হয়েছে। এর মধ্যে রোবাস্তা সমতলে ভালো হয়েছে; আর পাহাড়ে হয়েছে অ্যারাবিকা। একটি কফি গাছ তিন বছর থেকে ফল দেওয়া শুরু করলেও ৫/৬ বছর হলে ফলের পরিমাণ অনেক বেশি হয়।”

সরকারি প্রণোদনাসহ প্রকল্প আকারে কফির চাষ করলে এ অঞ্চলের মানুষ অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ হবে; পাশাপাশি রপ্তানি করে সরকারও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে পারবে বলে জানান, এ কৃষি অধিদপ্তরের এ কর্মকর্তা।

মৌলভীবাজারে অনেকেই সখের বসেও কফির চারা রোপণ করছেন। কফির ফলগুলো দেখতে অনেকটা চেরি ফলের মত হয়।

রাজনগর উপজেলার টেংরা বাজার ইউনিয়নে ম্যাথিউরা এলাকা ঘুরে দেখা গেছে- রাস্তা ও বাড়ির পাশে কফি গাছে থোকা থোকা কফি ধরে আছে।

কফির স্বাদ ও ঘ্রাণ গ্রাহকের কাপ পর্যন্ত রাখতে হলে সঠিকভাবে কফি গ্রাইন্ডিং করা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কফি বীজ গুড়া করা যত মিহি হবে তত দ্রুত সুন্দর কফি তৈরি হবে। কিন্তু স্থানীয়রা এ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে পারেন না; তারা পাকা কফি গাছ থেকে পেড়ে রোদে শুকিয়ে ও ভেজে গুড়া করে তারপর পান করেন।

শ্রীমঙ্গলের পরিবেশবীদ ৭৫ বছর বয়সী সিতেশ রঞ্জন দেব বলেন, “এ উপজেলার জাগছরা ও সোনাছড়া চা বাগানে ফিনলে কোম্পানির বিশাল কফি বাগান আর কফির ফ্যাক্টরি ছিল। চা উৎপাদন বেড়ে যাওয়ায় কফি চাষ কমে যায়। ১৯৮৫/৮৬ সালের দিকে ফিনলে কফি চাষ বন্ধ করে সেখানে চা আবাদ বর্ধিত করে।”

ফিনলে টি-এর শ্রীমঙ্গলের ভাড়াউড়া ডিভিশনের ম্যানেজার গোলাম মোহাম্মদ শিবলী বলেন, “সোনাছড়া ও জাগছড়ায় আমাদের বিশাল কফি বাগান ছিল। লাভ কম হওয়ায় প্রায় ৩৭/৩৮ বছর আগে কোম্পানি কফি চাষ বন্ধ করে দেয়।”

রাজনগরে বিভিন্ন চা বাগান ও গ্রামীণ এলাকায় বেশ কিছু কফি গাছের চারা লাগানো হয়েছে; যার মধ্যে রোবাস্তা জাতের কফিই বেশি বলে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রেজাউল করিম জানান।তিনি বলেন, “বেশ কিছু কফি গাছের বয়স তিন বছর অতিক্রম করেছে এবং এই গাছগুলোতে ফলনও ভালো হয়েছে।”

চায়ের পাশাপাশি এ জেলায় কফি চাষের একটা উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে জানিয়ে মৌলভীবাজার কৃষি অধিদপ্তরের সাবেক উপ-পরিচালক ও কৃষি গবেষক লুৎফুল বারী বলেন, “কফি হৃদরোগ ও পাকস্থলীর জন্য ও বেশ উপকারী। কফি একটি উচ্চ মূল্যের ফল। চায়ের সঙ্গেও এটি চাষ করা যেতে পারে। পাশাপাশি ক্ষুদ্র চাষিরা তাদের বাড়িতেও চাষ করতে পারেন। তবে এর জন্য জেলায় একটি প্রসেসিং সেন্টার প্রয়োজন হবে।”

Facebook Comments Box