ঢাকা ০৯:৩৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
দৌলতপুরে জোড়া খুনের মামলার শুটার টুয়েল ফরাজী ১ দিনের রিমান্ডে: চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রদান তাহিরপুরের অভিযান দেখলেই ওষুধের দোকান বন্ধ রাণীশংকৈলে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রমের উদ্বোধন  ডোমারে ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন গাছের সঙ্গে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় নিভে গেল ২৬ বছরের প্রাণ ধর্মঘট প্রত্যাহার করলেন এলপিজি ব্যবসায়ীরা হার দিয়ে অস্ট্রেলিয়া সফর শেষ টাইগ্রেসদের মেয়র আইভীর আইনজীবীসহ তিনজনকে সন্ত্রাসবিরোধী মামলায় গ্রেপ্তার দিল্লি বিমানবন্দরে হেনস্তার মুখে সিজেপি নেতা অভিজিৎ নেত্রকোনা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ৮৬ পদে নিয়োগ এবং আনসার

বগুড়া শজিমেক উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ: অধ্যক্ষ ও গণপূর্ত বিভাগ মুখোমুখি

বগুড়া প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০২:০২:৩৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬ ৩৫ বার পড়া হয়েছে
(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

 

বগুড়া শজিমেক উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ: অধ্যক্ষ ও গণপূর্ত বিভাগ মুখোমুখি

 

বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজের (শজিমেক) চলমান উন্নয়ন প্রকল্প ঘিরে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। প্রকল্পের আওতায় সরবরাহকৃত মালামালের নিম্নমান এবং সক্ষমতা যাচাই ছাড়াই পৌনে ৭ কোটি টাকা ব্যয়ে নতুন সাব-স্টেশন স্থাপনের প্রস্তাবনা নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে কলেজ প্রশাসন ও গণপূর্ত অধিদপ্তরের মধ্যে চিঠি চালাচালি ও মুখোমুখি অবস্থানের কারণে প্রশাসনিক অস্থিরতা দেখা দিয়েছে।

কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মো. ওয়াদুদুল হক তরফদার উন্নয়ন কাজে অনিয়ম ও অপ্রয়োজনীয় ব্যয়ের তীব্র অভিযোগ তুলেছেন।

 

 

তিনি জানান, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে গণপূর্ত অধিদপ্তর অডিটোরিয়াম-কাম-মাল্টিপারপাস হলের কাজ শেষ করলেও তা আনুষ্ঠানিকভাবে কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়নি।

পড়ুন>>স্বাধীন বাংলাদেশে আর কোনো ‘আয়নাঘর’ থাকবে না: রাষ্ট্রপতি

 

এছাড়া প্রকল্পে যুক্তরাষ্ট্র, জাপান বা ইউরোপের উন্নত মানের ২৫০ কেভিএ জেনারেটর সরবরাহের কথা থাকলেও সেখানে চীনের তৈরি মাত্র ১২০ কেভিএ ক্ষমতার জেনারেটর বসানো হয়েছে। নিম্নমানের বৈদ্যুতিক সাব-স্টেশন ও যন্ত্রপাতির বিষয়ে বারবার সতর্ক করা হলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে তিনি দাবি করেন।

গত ১৫ জুলাই গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলীর কাছে পাঠানো এক অভিযোগপত্রে অধ্যক্ষ উল্লেখ করেন, কলেজে প্রায় ৭৩ লাখ টাকা ব্যয়ে ২৪টি পাঁচ টনের এয়ার কুলার বসানো হয়েছে। তবে এগুলো চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ সক্ষমতা নিশ্চিত করা হয়নি। এরপরই প্রায় ৬ কোটি ৭৫ লাখ টাকা ব্যয়ে তিন হাজার কিলোওয়াট ক্ষমতার নতুন সাব-স্টেশন নির্মাণের প্রস্তাব দেওয়া হয়।

 

আরও পড়ুন>>আজকের খেলার খবর: ইংল্যান্ড-পাকিস্তান টেস্ট ও রিয়াল মাদ্রিদের ম্যাচ

 

অধ্যক্ষের মতে, কলেজে আগে থেকেই একটি সাব-স্টেশন ও ৫০০ কিলোওয়াট ক্ষমতার ট্রান্সফরমার রয়েছে। নতুন এয়ার কুলারগুলোর জন্য অতিরিক্ত ৫০০ কিলোওয়াট সক্ষমতা বাড়ালেই সমস্যার সমাধান সম্ভব ছিল। অথচ তার মতামত বা স্বাক্ষর ছাড়াই প্রায় সাত কোটি টাকার এই প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছে এবং এতে স্বাক্ষর করতে তাকে চাপ দেওয়া হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

তবে এসব অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন গণপূর্ত অধিদপ্তরের বগুড়ার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আল মামুন হক। তিনি দাবি করেন, শজিমেকের উন্নয়ন কাজে কোনো ত্রুটি বা অনিয়ম নেই। তিনি নিজে কাজ পরিদর্শন করেছেন এবং সবকিছু নিয়ম মেনেই বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন।

এদিকে সরেজমিনে দেখা গেছে, কলেজে বর্তমানে তিনটি বৈদ্যুতিক সাব-স্টেশন রয়েছে। বিদ্যুৎ বিভাগের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রকৌশলীর মতে, হোস্টেল ও অডিটোরিয়ামসহ বিদ্যমান স্থাপনাগুলোর বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে নতুন সাব-স্টেশনের প্রয়োজন নেই, কেবল ট্রান্সফরমার সংযোজন করলেই চলত।

 

এছাড়া বগুড়া সু-শাসনের জন্য প্রশাসনের সাধারণ সম্পাদক কে. জি. এম ফারুক বিগত সময়ের দুর্নীতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

 

 

তিনি অভিযোগ করেন, সিডিউলের সঙ্গে জেনারেটরের অসামঞ্জস্যতা রেখে সরকার ও জনগণকে এক প্রকার ‘শুভঙ্করের ফাঁকি’ দেওয়া হচ্ছে। 

 

 

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

বগুড়া শজিমেক উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ: অধ্যক্ষ ও গণপূর্ত বিভাগ মুখোমুখি

আপডেট সময় : ০২:০২:৩৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬

 

 

বগুড়া শজিমেক উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ: অধ্যক্ষ ও গণপূর্ত বিভাগ মুখোমুখি

 

বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজের (শজিমেক) চলমান উন্নয়ন প্রকল্প ঘিরে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। প্রকল্পের আওতায় সরবরাহকৃত মালামালের নিম্নমান এবং সক্ষমতা যাচাই ছাড়াই পৌনে ৭ কোটি টাকা ব্যয়ে নতুন সাব-স্টেশন স্থাপনের প্রস্তাবনা নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে কলেজ প্রশাসন ও গণপূর্ত অধিদপ্তরের মধ্যে চিঠি চালাচালি ও মুখোমুখি অবস্থানের কারণে প্রশাসনিক অস্থিরতা দেখা দিয়েছে।

কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মো. ওয়াদুদুল হক তরফদার উন্নয়ন কাজে অনিয়ম ও অপ্রয়োজনীয় ব্যয়ের তীব্র অভিযোগ তুলেছেন।

 

 

তিনি জানান, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে গণপূর্ত অধিদপ্তর অডিটোরিয়াম-কাম-মাল্টিপারপাস হলের কাজ শেষ করলেও তা আনুষ্ঠানিকভাবে কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়নি।

পড়ুন>>স্বাধীন বাংলাদেশে আর কোনো ‘আয়নাঘর’ থাকবে না: রাষ্ট্রপতি

 

এছাড়া প্রকল্পে যুক্তরাষ্ট্র, জাপান বা ইউরোপের উন্নত মানের ২৫০ কেভিএ জেনারেটর সরবরাহের কথা থাকলেও সেখানে চীনের তৈরি মাত্র ১২০ কেভিএ ক্ষমতার জেনারেটর বসানো হয়েছে। নিম্নমানের বৈদ্যুতিক সাব-স্টেশন ও যন্ত্রপাতির বিষয়ে বারবার সতর্ক করা হলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে তিনি দাবি করেন।

গত ১৫ জুলাই গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলীর কাছে পাঠানো এক অভিযোগপত্রে অধ্যক্ষ উল্লেখ করেন, কলেজে প্রায় ৭৩ লাখ টাকা ব্যয়ে ২৪টি পাঁচ টনের এয়ার কুলার বসানো হয়েছে। তবে এগুলো চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ সক্ষমতা নিশ্চিত করা হয়নি। এরপরই প্রায় ৬ কোটি ৭৫ লাখ টাকা ব্যয়ে তিন হাজার কিলোওয়াট ক্ষমতার নতুন সাব-স্টেশন নির্মাণের প্রস্তাব দেওয়া হয়।

 

আরও পড়ুন>>আজকের খেলার খবর: ইংল্যান্ড-পাকিস্তান টেস্ট ও রিয়াল মাদ্রিদের ম্যাচ

 

অধ্যক্ষের মতে, কলেজে আগে থেকেই একটি সাব-স্টেশন ও ৫০০ কিলোওয়াট ক্ষমতার ট্রান্সফরমার রয়েছে। নতুন এয়ার কুলারগুলোর জন্য অতিরিক্ত ৫০০ কিলোওয়াট সক্ষমতা বাড়ালেই সমস্যার সমাধান সম্ভব ছিল। অথচ তার মতামত বা স্বাক্ষর ছাড়াই প্রায় সাত কোটি টাকার এই প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছে এবং এতে স্বাক্ষর করতে তাকে চাপ দেওয়া হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

তবে এসব অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন গণপূর্ত অধিদপ্তরের বগুড়ার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আল মামুন হক। তিনি দাবি করেন, শজিমেকের উন্নয়ন কাজে কোনো ত্রুটি বা অনিয়ম নেই। তিনি নিজে কাজ পরিদর্শন করেছেন এবং সবকিছু নিয়ম মেনেই বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন।

এদিকে সরেজমিনে দেখা গেছে, কলেজে বর্তমানে তিনটি বৈদ্যুতিক সাব-স্টেশন রয়েছে। বিদ্যুৎ বিভাগের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রকৌশলীর মতে, হোস্টেল ও অডিটোরিয়ামসহ বিদ্যমান স্থাপনাগুলোর বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে নতুন সাব-স্টেশনের প্রয়োজন নেই, কেবল ট্রান্সফরমার সংযোজন করলেই চলত।

 

এছাড়া বগুড়া সু-শাসনের জন্য প্রশাসনের সাধারণ সম্পাদক কে. জি. এম ফারুক বিগত সময়ের দুর্নীতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

 

 

তিনি অভিযোগ করেন, সিডিউলের সঙ্গে জেনারেটরের অসামঞ্জস্যতা রেখে সরকার ও জনগণকে এক প্রকার ‘শুভঙ্করের ফাঁকি’ দেওয়া হচ্ছে। 

 

 

Facebook Comments Box