ঢাকা ০৯:৩০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
নিরাপত্তার কড়াকড়ির মধ্যেও গুলশানে কেন বাড়ছে অপরাধ? রাবিতে সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা: প্রক্টর-প্রাধ্যক্ষের পদত্যাগ দাবি গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ কানাডার উৎসবে নাজিফা তুষির প্রথম আন্তর্জাতিক পুরস্কার কারা মহাপরিদর্শক হলেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আনোয়ারুল কবীর বিডিরেন ট্রাস্টে সিইও নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনা: সৌদি ও কাতারে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ক্ষেপণাস্ত্র লালমনিরহাটে জমির বিরোধ মিমাংসার নামে  নারীকে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ কোটালীপাড়ায় শিক্ষিকাকে উত্ত্যক্তের জেরে যুবককে নিরাপত্তা ঘটনায়, হাসপাতালে আবার বাড়ল এলপিজির দাম, আজ থেকেই কার্যকর

নিরাপত্তার কড়াকড়ির মধ্যেও গুলশানে কেন বাড়ছে অপরাধ?

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:১০:৪০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে
(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

রাজধানীর গুলশান এলাকাটি বিদেশি দূতাবাস, করপোরেট অফিস, বিশিষ্ট ব্যক্তিদের আবাসস্থল এবং বিলাসবহুল হোটেলের উপস্থিতির কারণে সবসময়ই বাড়তি নিরাপত্তা বলয়ে থাকে। পুলিশের টহল, চেকপোস্ট, সিসি ক্যামেরা, গোয়েন্দা নজরদারি এবং এসআরবিসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী একাধিক বাহিনী এখানে সক্রিয় রয়েছে। তবে এত নিরাপত্তার নজির থাকা সত্ত্বেও গুলশান এলাকায় একের পর এক অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। সাম্প্রতিক সময়ে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের নেতাকর্মীদের মিছিল, ককটেল বিস্ফোরণ, ছিনতাই, চাঁদাবাজি এবং অপহরণের মতো ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে চরম আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) তথ্য অনুযায়ী, ঢাকার অন্যান্য অঞ্চলের মতোই গুলশান বিভাগও অপরাধ প্রবণতার বাইরে নয়। পুলিশের তালিকাভুক্ত রাজধানীর ১,২৮০ জন চাঁদাবাজের মধ্যে অনেক সশস্ত্র অপরাধী বর্তমানে গুলশানে সক্রিয় রয়েছে। তাদের ছত্রছায়াতেই গুলশান-১ ও ২ এলাকায় কয়েকটি অপরাধী চক্র ফুটপাথের দোকান, বাজার এবং ইন্টারনেট-ক্যাবল ব্যবসার মতো খাত থেকে চাঁদাবাজি চালাচ্ছে। ব্যস্ত সড়কের পাশাপাশি আবাসিক এলাকার নির্জন অলিগলিগুলোতেও নিরাপত্তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

বিশেষ করে রাত ও ভোরের দিকে একা চলাচলকারী পথচারী বা মোটরসাইকেল আরোহীদের লক্ষ্য করে অপরাধীরা সক্রিয় হয়ে ওঠে। অনেক ক্ষেত্রে দিনদুপুরে মাইক্রোবাসে তুলে হাত-মুখ বেঁধে সর্বস্ব লুটের ঘটনাও ঘটছে। গুলশান-২ এর ৯৬ নম্বর রোডের এক বাসিন্দা জানান, তার বাসার এক কর্মী পথ দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় মাইক্রোবাস থেকে নেমে আসা ৩-৪ জন অস্ত্রধারী যুবক তাকে তুলে নেয়। এরপর অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে তার মোবাইল ও টাকা কেড়ে নিয়ে বনানী লেকের কাছে ফেলে দিয়ে যায়। এ ধরনের আরেকটি ঘটনায় গুলশান-১ এর নাভানা টাওয়ারে যাওয়ার পথে এক ব্যক্তিকে অপহরণের পর পরিত্যক্ত কক্ষে আটকে রাখার অভিযোগ পাওয়া গেছে, যা নিয়ে গুলশান থানায় মামলাও হয়েছিল এবং বোরহান উদ্দিন পাপ্পু নামে একজনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। তিনি ৯৯ নম্বর রোড ধরে হেঁটে ৯৬ নম্বর রোডে আসছিলেন। মুহূর্তের মধ্যেই অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে তাকে জোর করে ওই গাড়িতে তোলে ৩/৪ যুবক। এরই মধ্যে হঠাৎ একটি মাইক্রোবাস এসে তার পাশে ব্রেক করে। পরে বনানী লেকের ধারে লাথি মেরে পানিতে ফেলে দিয়ে চলে যায়। শুধু তাই নয়, পানিতে ফেলার আগে তার কাছে বেশি টাকা না থাকায় এটিএম বুথে গিয়ে কার্ড দিয়ে টাকা উঠিয়ে দেয়ার জন্যও মারধর করা হয়। পরে তাকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তুলে আসাদগেট এলাকায় ছেড়ে দেয়া হয়।

অপরাধের তালিকায় যোগ হয়েছে বড় অংকের ছিনতাই ও ডাকাতির ঘটনা। এর আগে ডিএনসিসি মার্কেটের সামনে এক ব্যবসায়ী ও তার স্বজনকে ছুরিকাঘাত করে প্রায় এক কোটি টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়। এছাড়া রোড-১০৩ এর একটি ভবনে ৫০ জনের একটি দল নিরাপত্তাকর্মীদের বেঁধে ডাকাতির চেষ্টা চালায়। গত ৩ সেপ্টেম্বর বনানীতে গোয়েন্দা পুলিশের অভিযানে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়, যাদের কাছ থেকে বিদেশি পিস্তল, ম্যাগাজিন, ওয়াকিটকি ও পুলিশের মনোগ্রামযুক্ত হ্যান্ডকাফ উদ্ধার হয়েছে। অভিযানে গ্রেপ্তারদের একজন তৎকালীন র‍্যাব সদস্য ছিলেন। প্রাণ বাঁচাতে গাড়ির নিচে আশ্রয় নেয়ার চেষ্টা করলে তৌহিদের পায়ে গুলি লাগে।

এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও ময়লা ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে গুলিবর্ষণের মতো সহিংস ঘটনাও ঘটেছে। বারিধারার ব্লকের ডিপোতে তৌহিদ নামে এক শ্রমিককে লক্ষ্য করে চার মোটরসাইকেলে আসা দুর্বৃত্তদের গুলিতে তিনি মারাত্মক আহত হন। এ ঘটনায় তৌহিদের ভাই শহীদ মিয়া গুলশান থানায় বরকতুল্লাহ শুভ, হেলাল, লাবু ও মোশারফসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন, পরবর্তীতে আসামিদের বান্দরবানের একটি রিসোর্ট থেকে আটক করা হয়। একইসঙ্গে গুলশান লেকপাড়ের নার্সারি ব্যবসায়ী শরিফুল ইসলাম করিম ও গুলশান এভিনিউয়ের ২৯ নম্বর রোডের এক ব্যবসায়ীর বাড়িতে যৌথ বাহিনীর পোশাকধারী ছিনতাইকারীদের লুটতরাজ গুলশানবাসীকে শঙ্কিত করে তুলেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা নাঈমুর রহমানের দাবি, গুলশানের মতো এলাকায় একটি নিষিদ্ধ সংগঠনের মিছিল ও ককটেল বিস্ফোরণ সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাবোধ নষ্ট করেছে। পাকিস্তান ও চীনসহ কয়েকটি দূতাবাসে চাঁদা চেয়ে হুমকির ঘটনাও এলাকাটির সার্বিক পরিস্থিতিকে অনিশ্চিত করে তুলেছে। সম্প্রতি গুলশানের বাসিন্দাদের বিভিন্ন গ্রুপে ‘জরুরি নিরাপত্তা সতর্কতা’ প্রচার করে গভীর রাতে একা চলাচল না করা এবং বাসার কর্মী ও ড্রাইভারদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হচ্ছে।

এ বিষয়ে এসআরবি’র আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী জানিয়েছেন, গুলশানে টহল ও চেকপোস্টের পাশাপাশি সাদা পোশাকে নিয়মিত নজরদারি চলছে এবং সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, এরা মূলত সংঘবদ্ধ চক্র যারা জনসমাগম কম থাকলে সুযোগ নেয়। অপরাধীদের দমনে তথ্য দিয়ে সহায়তা করার জন্য তিনি নাগরিকদের আহ্বান জানিয়েছেন। এদিকে গুলশান থানার ওসি আবু জায়েদ মো. নাজমুন নূর জানান, তিনি সদ্য যোগ দিয়েছেন এবং তার ভাষ্যমতে অন্যান্য এলাকার তুলনায় গুলশানের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে ভালো।

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

নিরাপত্তার কড়াকড়ির মধ্যেও গুলশানে কেন বাড়ছে অপরাধ?

আপডেট সময় : ০৯:১০:৪০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬

রাজধানীর গুলশান এলাকাটি বিদেশি দূতাবাস, করপোরেট অফিস, বিশিষ্ট ব্যক্তিদের আবাসস্থল এবং বিলাসবহুল হোটেলের উপস্থিতির কারণে সবসময়ই বাড়তি নিরাপত্তা বলয়ে থাকে। পুলিশের টহল, চেকপোস্ট, সিসি ক্যামেরা, গোয়েন্দা নজরদারি এবং এসআরবিসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী একাধিক বাহিনী এখানে সক্রিয় রয়েছে। তবে এত নিরাপত্তার নজির থাকা সত্ত্বেও গুলশান এলাকায় একের পর এক অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। সাম্প্রতিক সময়ে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের নেতাকর্মীদের মিছিল, ককটেল বিস্ফোরণ, ছিনতাই, চাঁদাবাজি এবং অপহরণের মতো ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে চরম আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) তথ্য অনুযায়ী, ঢাকার অন্যান্য অঞ্চলের মতোই গুলশান বিভাগও অপরাধ প্রবণতার বাইরে নয়। পুলিশের তালিকাভুক্ত রাজধানীর ১,২৮০ জন চাঁদাবাজের মধ্যে অনেক সশস্ত্র অপরাধী বর্তমানে গুলশানে সক্রিয় রয়েছে। তাদের ছত্রছায়াতেই গুলশান-১ ও ২ এলাকায় কয়েকটি অপরাধী চক্র ফুটপাথের দোকান, বাজার এবং ইন্টারনেট-ক্যাবল ব্যবসার মতো খাত থেকে চাঁদাবাজি চালাচ্ছে। ব্যস্ত সড়কের পাশাপাশি আবাসিক এলাকার নির্জন অলিগলিগুলোতেও নিরাপত্তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

বিশেষ করে রাত ও ভোরের দিকে একা চলাচলকারী পথচারী বা মোটরসাইকেল আরোহীদের লক্ষ্য করে অপরাধীরা সক্রিয় হয়ে ওঠে। অনেক ক্ষেত্রে দিনদুপুরে মাইক্রোবাসে তুলে হাত-মুখ বেঁধে সর্বস্ব লুটের ঘটনাও ঘটছে। গুলশান-২ এর ৯৬ নম্বর রোডের এক বাসিন্দা জানান, তার বাসার এক কর্মী পথ দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় মাইক্রোবাস থেকে নেমে আসা ৩-৪ জন অস্ত্রধারী যুবক তাকে তুলে নেয়। এরপর অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে তার মোবাইল ও টাকা কেড়ে নিয়ে বনানী লেকের কাছে ফেলে দিয়ে যায়। এ ধরনের আরেকটি ঘটনায় গুলশান-১ এর নাভানা টাওয়ারে যাওয়ার পথে এক ব্যক্তিকে অপহরণের পর পরিত্যক্ত কক্ষে আটকে রাখার অভিযোগ পাওয়া গেছে, যা নিয়ে গুলশান থানায় মামলাও হয়েছিল এবং বোরহান উদ্দিন পাপ্পু নামে একজনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। তিনি ৯৯ নম্বর রোড ধরে হেঁটে ৯৬ নম্বর রোডে আসছিলেন। মুহূর্তের মধ্যেই অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে তাকে জোর করে ওই গাড়িতে তোলে ৩/৪ যুবক। এরই মধ্যে হঠাৎ একটি মাইক্রোবাস এসে তার পাশে ব্রেক করে। পরে বনানী লেকের ধারে লাথি মেরে পানিতে ফেলে দিয়ে চলে যায়। শুধু তাই নয়, পানিতে ফেলার আগে তার কাছে বেশি টাকা না থাকায় এটিএম বুথে গিয়ে কার্ড দিয়ে টাকা উঠিয়ে দেয়ার জন্যও মারধর করা হয়। পরে তাকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তুলে আসাদগেট এলাকায় ছেড়ে দেয়া হয়।

অপরাধের তালিকায় যোগ হয়েছে বড় অংকের ছিনতাই ও ডাকাতির ঘটনা। এর আগে ডিএনসিসি মার্কেটের সামনে এক ব্যবসায়ী ও তার স্বজনকে ছুরিকাঘাত করে প্রায় এক কোটি টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়। এছাড়া রোড-১০৩ এর একটি ভবনে ৫০ জনের একটি দল নিরাপত্তাকর্মীদের বেঁধে ডাকাতির চেষ্টা চালায়। গত ৩ সেপ্টেম্বর বনানীতে গোয়েন্দা পুলিশের অভিযানে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়, যাদের কাছ থেকে বিদেশি পিস্তল, ম্যাগাজিন, ওয়াকিটকি ও পুলিশের মনোগ্রামযুক্ত হ্যান্ডকাফ উদ্ধার হয়েছে। অভিযানে গ্রেপ্তারদের একজন তৎকালীন র‍্যাব সদস্য ছিলেন। প্রাণ বাঁচাতে গাড়ির নিচে আশ্রয় নেয়ার চেষ্টা করলে তৌহিদের পায়ে গুলি লাগে।

এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও ময়লা ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে গুলিবর্ষণের মতো সহিংস ঘটনাও ঘটেছে। বারিধারার ব্লকের ডিপোতে তৌহিদ নামে এক শ্রমিককে লক্ষ্য করে চার মোটরসাইকেলে আসা দুর্বৃত্তদের গুলিতে তিনি মারাত্মক আহত হন। এ ঘটনায় তৌহিদের ভাই শহীদ মিয়া গুলশান থানায় বরকতুল্লাহ শুভ, হেলাল, লাবু ও মোশারফসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন, পরবর্তীতে আসামিদের বান্দরবানের একটি রিসোর্ট থেকে আটক করা হয়। একইসঙ্গে গুলশান লেকপাড়ের নার্সারি ব্যবসায়ী শরিফুল ইসলাম করিম ও গুলশান এভিনিউয়ের ২৯ নম্বর রোডের এক ব্যবসায়ীর বাড়িতে যৌথ বাহিনীর পোশাকধারী ছিনতাইকারীদের লুটতরাজ গুলশানবাসীকে শঙ্কিত করে তুলেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা নাঈমুর রহমানের দাবি, গুলশানের মতো এলাকায় একটি নিষিদ্ধ সংগঠনের মিছিল ও ককটেল বিস্ফোরণ সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাবোধ নষ্ট করেছে। পাকিস্তান ও চীনসহ কয়েকটি দূতাবাসে চাঁদা চেয়ে হুমকির ঘটনাও এলাকাটির সার্বিক পরিস্থিতিকে অনিশ্চিত করে তুলেছে। সম্প্রতি গুলশানের বাসিন্দাদের বিভিন্ন গ্রুপে ‘জরুরি নিরাপত্তা সতর্কতা’ প্রচার করে গভীর রাতে একা চলাচল না করা এবং বাসার কর্মী ও ড্রাইভারদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হচ্ছে।

এ বিষয়ে এসআরবি’র আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী জানিয়েছেন, গুলশানে টহল ও চেকপোস্টের পাশাপাশি সাদা পোশাকে নিয়মিত নজরদারি চলছে এবং সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, এরা মূলত সংঘবদ্ধ চক্র যারা জনসমাগম কম থাকলে সুযোগ নেয়। অপরাধীদের দমনে তথ্য দিয়ে সহায়তা করার জন্য তিনি নাগরিকদের আহ্বান জানিয়েছেন। এদিকে গুলশান থানার ওসি আবু জায়েদ মো. নাজমুন নূর জানান, তিনি সদ্য যোগ দিয়েছেন এবং তার ভাষ্যমতে অন্যান্য এলাকার তুলনায় গুলশানের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে ভালো।

Facebook Comments Box