চাঁদে প্রথম পা রাখা মানুষ নীল আর্মস্ট্রংয়ের সঙ্গী হয়েছিল আর্জেন্টিনার ফুটবল ক্লাব ‘ইন্দিপেনদিয়েন্তে আভেয়ানেদা’-র একটি পতাকা। ১৯৬৯ সালের সেই ঐতিহাসিক চন্দ্রাভিযানের সময় এই বিশেষ পতাকাটি সঙ্গে নিয়ে গিয়েছিলেন তিনি। ১৯০৫ সালে প্রতিষ্ঠিত এই আর্জেন্টাইন ক্লাবটি আজও দেশটির শীর্ষ লিগে নিয়মিত খেলছে।
এই চমকপ্রদ ঘটনার সূত্রপাত হয় ১৯৬৯ সালের এপ্রিলে। ইন্দিপেনদিয়েন্তের তৎকালীন কালচার অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন সেক্রেটারি হেক্টর রদ্রিগেজ ক্লাবের এক সভায় প্রস্তাব করেন যে, চাঁদে পা রাখতে যাওয়া এই তিন মহাকাশচারীকে ক্লাবের সদস্যপদ দেওয়া উচিত। সেই প্রস্তাব অনুযায়ী নীল আর্মস্ট্রং, এডউইন অলড্রিন ও মাইকেল কলিন্সের নামে সদস্য কার্ড তৈরি করা হয়।
ক্লাবের তৎকালীন কোষাধ্যক্ষ বোরিস লিসনোভস্কি ও হেক্টর রদ্রিগেজ মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে এই কার্ড ও ক্লাবের পতাকা মহাকাশচারীদের কাছে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। তাদের মূল উদ্দেশ্য ছিল, পৃথিবীর প্রথম ক্লাব হিসেবে ইন্দিপেনদিয়েন্তের পতাকা চাঁদে পৌঁছে দেওয়া। লিসনোভস্কি নিজেই সদস্য কার্ডগুলোতে স্বাক্ষর করেছিলেন।
নাসার দেওয়া ছবি অনুযায়ী, অলড্রিনকে ৮০,৩৯৯, আর্মস্ট্রংকে ৮০,৪০০ এবং কলিন্সকে ৮০,৪০১ নম্বর সদস্য কার্ড প্রদান করা হয়। এই সামগ্রীগুলো অ্যাপোলো ১১ মিশনের আগেই নভোচারীদের কাছে পৌঁছে গিয়েছিল।
২৩ মে ১৯৬৯ সালে আর্মস্ট্রং ইন্দিপেনদিয়েন্তের উদ্দেশে একটি চিঠিতে এই উপহারের জন্য ধন্যবাদ জানান এবং ভবিষ্যতে বুয়েনস আইরেস সফরের আগ্রহ প্রকাশ করেন।
চন্দ্রাভিযান সফল হওয়ার পর, ১৯৬৯ সালের নভেম্বরে আর্মস্ট্রং ও কলিন্স আর্জেন্টিনা সফর করেন। যদিও তারা সরাসরি ক্লাবে যেতে পারেননি, তবে মার্কিন দূতাবাসে আয়োজিত সংবর্ধনায় হেক্টর রদ্রিগেজের সঙ্গে তাদের দেখা হয়। সেখানে মার্কিন রাষ্ট্রদূত জন ডেভিস লজের উপস্থিতিতে আর্মস্ট্রং নিশ্চিত করেন যে, ইন্দিপেনদিয়েন্তের পতাকাটি তাদের পুরো চাঁদযাত্রার সঙ্গী ছিল।
পরবর্তী সময়ে ১৯৯৮ সালের ২১ জুলাই আর্জেন্টিনার সংবাদমাধ্যম ‘পেজিনা ১২’-এর প্রতিবেদনে এই ঘটনার বিস্তারিত উঠে আসে। রদ্রিগেজ জানান, আর্মস্ট্রং তাকে ব্যক্তিগতভাবে জানিয়েছিলেন যে, তাদের এই মহাকাব্যিক যাত্রায় ক্লাবের পতাকাটি তাদের অনুপ্রাণিত করেছিল।
ইন্দিপেনদিয়েন্তের সঙ্গে মহাকাশচারীদের এই যোগাযোগ ১৯৯৬ সালের সেপ্টেম্বরে আবারও নবায়ন হয়, যখন রদ্রিগেজ তাদের ক্লাবের অফিশিয়াল পোশাক পাঠান। বর্তমানে ক্লাবটির সদর দপ্তরের দ্বিতীয় তলায় আর্মস্ট্রং ও অলড্রিনের সদস্য কার্ড এবং আর্মস্ট্রংয়ের সেই ঐতিহাসিক চিঠির ফ্রেম করা ছবি সংরক্ষিত আছে।
নীল আর্মস্ট্রং ২০১২ সালের ২৫ আগস্ট পৃথিবী ছেড়ে চলে যান। আজ সেই কিংবদন্তি নভোচারীর মৃত্যুবার্ষিকীতে ফুটবল বিশ্বের এই অনন্য ঘটনাটি আবারও আলোচনায় উঠে এসেছে।
Leave a Reply