গ্যাস ও বিদ্যুৎ খাতের চলমান সংকট নিরসনে সরকার সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। বুধবার (১২ আগস্ট) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, বুধবার সন্ধ্যা থেকেই বিদ্যুৎ পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হতে পারে।
জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছানোয় দুঃখপ্রকাশ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সামিট টার্মিনালে বৈরী আবহাওয়ার কারণে এলএনজি খালাস করা সম্ভব হচ্ছে না। অন্যদিকে, এক্সিলারেট টার্মিনালটি বয়লারজনিত যান্ত্রিক সমস্যার কারণে বর্তমানে তার সক্ষমতার মাত্র ৫০ শতাংশ ব্যবহার করতে পারছে। এ দুইয়ের প্রভাবে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা জটিল আকার ধারণ করেছে।
সংকট কবে নাগাদ পুরোপুরি স্বাভাবিক হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী সরাসরি কোনো সময়সীমা দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে নেই যে এখনই নিশ্চিত কোনো বার্তা দেওয়া সম্ভব। তবে তিনি আশ্বস্ত করেন যে, জনদুর্ভোগের বিষয়টি মাথায় রেখে সরকার প্রাণান্তকর চেষ্টা করছে এবং নিয়মিত বিরতিতে হালনাগাদ তথ্য জানানোর চেষ্টা করা হবে।
প্রাকৃতিক দুর্যোগের কাছে সরকারের অসহায়ত্বের কথা তুলে ধরে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, প্রকৃতি স্বাভাবিক হলে এলএনজি খালাস প্রক্রিয়া শুরু হবে এবং গ্যাস সরবরাহও স্বাভাবিক হয়ে আসবে। তিনি জানান, গত মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে একটি নতুন কৌশল গ্রহণ করা হয়েছে, যার সুফল আজ সন্ধ্যা থেকেই পাওয়ার আশা করা হচ্ছে।
গ্যাস সংকট কাটাতে মালয়েশিয়ার সহায়তা চাওয়ার বিষয়ে তিনি জানান, দেশটির সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠকের পর একটি প্রতিনিধি দল সেখানে পাঠানো হয়েছে। তাদের দেওয়া প্রস্তাব নিয়ে কাজ চলছে এবং সরকার অন্তত একটি এলএনজি কার্গো পাওয়ার বিষয়ে আশাবাদী। এছাড়া আইএসও ট্যাংকের মাধ্যমে এলএনজি আনার বিষয়টিও প্রক্রিয়াধীন, তবে বাজারে ট্যাংকের প্রাপ্যতা সাপেক্ষে এটি একটি মধ্যমেয়াদি সমাধান হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
প্রতিমন্ত্রী জানান, সংকট মোকাবিলায় সরকার বিশেষজ্ঞ ও ব্যবসায়ীদের পরামর্শ গ্রহণ করছে। গত মঙ্গলবার ঢাকা ক্লাবে আয়োজিত সেমিনারেও এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের কাছ থেকেও গঠনমূলক পরামর্শ প্রত্যাশা করেন।
দেশের নিজস্ব গ্যাস উৎপাদন রাতারাতি বাড়ানো সম্ভব নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া। বর্তমান সংকটের পেছনে অতীতের নীতিগত সিদ্ধান্তের দায় রয়েছে। পূর্ববর্তী সরকারগুলো দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার পরিবর্তে তাৎক্ষণিক সমাধানের দিকে ঝুঁকেছিল, যার ফলে বর্তমান পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তিনি মন্তব্য করেন যে, একক মূল নীতির ওপর নির্ভরশীলতার মাশুল এখন দিতে হচ্ছে।
জনরোষের আশঙ্কায় পুলিশকে চিঠি দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে প্রতিমন্ত্রী স্পষ্ট করেন যে, তার মন্ত্রণালয় থেকে এমন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। তিনি জানান, জনরোষের আশঙ্কায় চিঠিটি বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (আরইবি) দিয়েছে, যা তার মন্ত্রণালয়ের আওতাভুক্ত নয়।
বর্তমান পরিস্থিতিতে দুটি টার্মিনালের মাধ্যমে গ্যাস সরবরাহের পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, এক্সিলারেট টার্মিনাল বর্তমানে বয়লারজনিত সমস্যার কারণে ৫০ শতাংশ সক্ষমতায় চলছে।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) ঢাকা ক্লাবে অনুষ্ঠিত একটি সেমিনারে বিশেষজ্ঞদের মতামত নেওয়ার কথা উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ব্যবসায়ীদের কাছ থেকেও পরামর্শ নেওয়া হচ্ছে।
গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকট কতদিন স্থায়ী হতে পারে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট সময় জানাতে না পারার কারণ ব্যাখ্যা করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, মেসেজ দেওয়ার মতো জায়গায় যদি থাকতাম অবশ্যই দিতাম। আমরা বারবার সে কারণে বাংলাদেশের জনগণের কাছে দুঃখপ্রকাশ করছি। প্রকৃতি স্বাভাবিক হলে আমরা এই গ্যাসটা ডিসচার্জ করতে পারবো এবং সেক্ষেত্রে গ্যাস সাপ্লাইও স্বাভাবিক হবে ইনশাআল্লাহ।
তিনি আরও বলেন, টাইম টু টাইম আমার কাছে তথ্য আসা মাত্রই আমি সেগুলো দেওয়ার চেষ্টা করবো। বিগত সরকারগুলো মধ্যমেয়াদি বা দীর্ঘমেয়াদি কোনো সমাধান সূত্র খোঁজেননি। ভুলে গেছেন যে হঠাৎ করে একটি তারা সংকট এনেছেন। সে সংকটের সময়টা হয়তোবা আজকে এসেছে। আজকে না হলে তো আগামীকাল আসত, আগামীকাল না হলে তো পরশুদিন আসত।
এক সময় এ পরিস্থিতির মুখোমুখি আপনাকে আমাকে হতেই হতো। আমি শুধু এই মন্ত্রণালয়কে রিপ্রেজেন্ট করছি।
D/Adin
Leave a Reply