ঢাকা ১২:০০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সংখ্যালঘু-সংখ্যাগুরু নয়, বাংলাদেশি পরিচয়ই মূল লক্ষ্য: মাহদী আমিন জাতীয় দলের ক্যাম্প ছেড়ে বিপাকে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো দিল্লিতে কঠোর নিরাপত্তা: সিজেপির বিক্ষোভ ঘিরে ব্যাপক ধরপাকড় ও অন্তরঙ্গ দৃশ্য না করায় যেসব কাজ ছেড়েছিলেন ৭ তারকা নির্বাচন কমিশনারের অপসারণ চেয়ে রাষ্ট্রপতির কাছে ইন্ডিয়া জোট কাতারের উপকূলে তেলবাহী ট্যাঙ্কারে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, হতাহতের খবর নারায়ণগঞ্জে শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে আওয়ামী লীগের ৪ নেতা বহিষ্কার গারো পাহাড়ের বন দখল, সীমান্তে প্রতিবন্ধকতা আর প্রশাসনিক নিষ্ক্রিয়তায় বিপন্ন মানুষ ও বন্যপ্রাণী গারো পাহাড়ে ১৫০ বন্যহাতি, সংরক্ষণে নতুন উদ্যোগ হাতির গতিবিধি পর্যবেক্ষণে বসছে এআই ক্যামেরা, অভয়ারণ্য ঘোষণার উদ্যোগ রোনালদোর সঙ্গে দ্বন্দ্বের জেরে শাস্তির মুখে পর্তুগাল কোচ জেসুস

অন্তরঙ্গ দৃশ্য না করায় যেসব কাজ ছেড়েছিলেন ৭ তারকা

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১০:২৩:৩৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে
(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

চলচ্চিত্র বা সিরিজের প্রয়োজনে অনেক সময় অভিনয়শিল্পীদের অন্তরঙ্গ দৃশ্যে কাজ করতে হয়। কিন্তু চিত্রনাট্যের বাইরে কোনো দৃশ্যের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন উঠলে, কিংবা শুটিংয়ের সময় ব্যক্তিগত সীমারেখা লঙ্ঘন করা হলে শিল্পীদের জন্য পরিস্থিতি অসহনীয় হয়ে ওঠে। এমন অস্বস্তিকর অভিজ্ঞতার মুখে পড়ে হলিউডের অনেক তারকা কাজ মাঝপথে ছেড়ে দিয়েছেন অথবা নির্দিষ্ট ধরনের দৃশ্য করতে সরাসরি আপত্তি জানিয়েছেন। ছবিতে মার্লন ব্র্যান্ডোর সঙ্গে তাঁর এক অন্তরঙ্গ দৃশ্য পরবর্তী সময়ে তীব্র বিতর্কের জন্ম দেয়।

সবচেয়ে আলোচিত ঘটনার একটি হলো মারিয়া স্নাইডার ও বার্নার্দো বের্তোলুচ্চির ‘লাস্ট ট্যাঙ্গে ইন প্যারিস’। তখন স্নাইডারের বয়স মাত্র ১৯। অভিনয়ের সময় তাঁকে না জানিয়েই দৃশ্যটির গুরুত্বপূর্ণ অংশ ধারণ করা হয়েছিল, যা নিয়ে পরিচালক পরে স্বীকার করেছিলেন যে তিনি অভিনেত্রীর স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিক্রিয়ার জন্য বিষয়টি গোপন রেখেছিলেন। স্নাইডার ওই অভিজ্ঞতাকে অত্যন্ত অপমানজনক হিসেবে চিহ্নিত করেছিলেন। ১৯৯৪ সালে লস অ্যাঞ্জেলেস টাইমসকে তিনি জানান, ক্যারিয়ারের শুরুতে এমন অভিজ্ঞতার পর তিনি মাদকাসক্তির সঙ্গে লড়াই করেছিলেন এবং বিষয়টি তাঁর পুরো অভিনয়জীবনের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছিল। ১৯৯৪ সালে লস অ্যাঞ্জেলেস টাইমসকে স্নাইডার বলেছিলেন, এমন একটি ছবি দিয়ে ক্যারিয়ার শুরু করাটা তাঁর জন্য কঠিন হয়ে গিয়েছিল। সিরিজটির জন্য তিনি গোল্ডেন গ্লোবও জিতেছিলেন।

‘দ্য অ্যাফেয়ার’ সিরিজ থেকে রুথ উইলসনের বিদায়ও ছিল রহস্যঘেরা। চতুর্থ মৌসুমের পর হঠাৎ তাঁর সরে আসা দর্শকদের অবাক করেছিল। পরে জানা যায়, সিরিজে নগ্নতা ও যৌনদৃশ্যের মাত্রা নিয়ে নির্মাতাদের সঙ্গে তাঁর বিরোধ তৈরি হয়েছিল। অভিযোগ ছিল, দর্শক টানার উদ্দেশ্যে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি ‘গ্রাফিক’ দৃশ্য করার জন্য তাঁকে চাপ দেওয়া হতো। উইলসন সেটে নিজের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত ছিলেন, যদিও চুক্তির গোপনীয়তার শর্তে তিনি বিস্তারিত কিছু বলতে পারেননি।

সামারা উইভিংয়ের ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও জটিল ছিল। ‘এসএমআইএলএফ’ সিরিজের সেটে একটি অন্তরঙ্গ দৃশ্যের জন্য তাঁকে মাত্র ৪০ মিনিটের নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। এছাড়া ‘ক্লোজড সেট’ থাকার কথা থাকলেও মনিটর খোলা থাকায় তিনি সিরিজটি ছেড়ে দেন। শোরনার ফ্র্যাঙ্কি শ বিষয়টি সামলানোর ক্ষেত্রে ভুল স্বীকার করলেও, এই ঘটনা হলিউডে ‘ইন্টিমেসি কো-অর্ডিনেটর’ নিয়োগের প্রয়োজনীয়তাকে সামনে নিয়ে আসে। দ্য হলিউড রিপোর্টারের প্রতিবেদন উদ্ধৃত করে একাধিক সংবাদমাধ্যম জানায়, একটি অন্তরঙ্গ দৃশ্যের জন্য তাঁকে মাত্র ৪০ মিনিটের নোটিশ দেওয়া হয়েছিল।

অন্যদিকে অ্যান হ্যাথাওয়ে ‘নকড আপ’ ছবির সন্তান জন্মদানের দৃশ্য নিয়ে অস্বস্তিতে থাকায় কাজ থেকে সরে দাঁড়িয়েছিলেন। দৃশ্যটির বাস্তবতা ও উপস্থাপনা নিয়ে আপত্তি ছিল তাঁর। পরে সেই চরিত্রটি করেন ক্যাথরিন হেইগল। ইভা গ্রিন আবার লার্স ফন ট্রিয়েরের ‘অ্যান্টিক্রাইস্ট’ করার সুযোগ হাতছাড়া করেন। তিনি চেয়েছিলেন কিছুটা সময় যৌনদৃশ্যের বাইরে অভিনয় করতে, কারণ এর আগে তাঁর কাজের চেয়ে যৌনদৃশ্য নিয়েই বেশি আলোচনা হতো। অ্যান হ্যাথাওয়ে অ্যান হ্যাথাওয়ের ঘটনাটি একটু ভিন্ন। ‘নকড আপ’ ছবির প্রধান নারী চরিত্রে প্রথমে তাঁকেই নেওয়া হয়েছিল। দৃশ্যটি কতটা বাস্তবধর্মীভাবে দেখানো হবে, তা নিয়ে অভিনেত্রী অস্বস্তিতে ছিলেন।

কিরা নাইটলি ২০২১ সালে স্পষ্ট করে জানান, পুরুষ পরিচালকের অধীনে তিনি আর অন্তরঙ্গ দৃশ্যে কাজ করতে আগ্রহী নন। কারণ ‘মেল গেজ’ বা পুরুষের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে নিজেকে পর্দায় উপস্থাপন করতে তিনি আর স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন না। এছাড়া নিজের নগ্ন দৃশ্য পর্নোগ্রাফিক সাইটে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায়ও তিনি সতর্ক থাকেন।

‘গেম অব থ্রোনস’-এর এমিলিয়া ক্লার্কের অভিজ্ঞতা ছিল বেশ যন্ত্রণাদায়ক। মাত্র ২৩ বছর বয়সে শুটিং শুরুর সময় তিনি অনেক ক্ষেত্রে বুঝতে পারতেন না কোনটি করা উচিত আর কোনটি নয়। এমনকি কিছু দৃশ্য করার আগে ভয়ে কাঁদতেন বলেও জানান তিনি। সিরিজ শেষ হওয়ার পরও তাঁকে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে নগ্ন দৃশ্যে কাজ করার চাপ দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি। এসব ঘটনা প্রমাণ করে, তারকাখ্যাতির আড়ালেও অনেক সময় অভিনয়শিল্পীদের তাদের শারীরিক ও মানসিক স্বাচ্ছন্দ্য রক্ষায় কঠিন লড়াই করতে হয়েছে।

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

অন্তরঙ্গ দৃশ্য না করায় যেসব কাজ ছেড়েছিলেন ৭ তারকা

আপডেট সময় : ১০:২৩:৩৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬

চলচ্চিত্র বা সিরিজের প্রয়োজনে অনেক সময় অভিনয়শিল্পীদের অন্তরঙ্গ দৃশ্যে কাজ করতে হয়। কিন্তু চিত্রনাট্যের বাইরে কোনো দৃশ্যের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন উঠলে, কিংবা শুটিংয়ের সময় ব্যক্তিগত সীমারেখা লঙ্ঘন করা হলে শিল্পীদের জন্য পরিস্থিতি অসহনীয় হয়ে ওঠে। এমন অস্বস্তিকর অভিজ্ঞতার মুখে পড়ে হলিউডের অনেক তারকা কাজ মাঝপথে ছেড়ে দিয়েছেন অথবা নির্দিষ্ট ধরনের দৃশ্য করতে সরাসরি আপত্তি জানিয়েছেন। ছবিতে মার্লন ব্র্যান্ডোর সঙ্গে তাঁর এক অন্তরঙ্গ দৃশ্য পরবর্তী সময়ে তীব্র বিতর্কের জন্ম দেয়।

সবচেয়ে আলোচিত ঘটনার একটি হলো মারিয়া স্নাইডার ও বার্নার্দো বের্তোলুচ্চির ‘লাস্ট ট্যাঙ্গে ইন প্যারিস’। তখন স্নাইডারের বয়স মাত্র ১৯। অভিনয়ের সময় তাঁকে না জানিয়েই দৃশ্যটির গুরুত্বপূর্ণ অংশ ধারণ করা হয়েছিল, যা নিয়ে পরিচালক পরে স্বীকার করেছিলেন যে তিনি অভিনেত্রীর স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিক্রিয়ার জন্য বিষয়টি গোপন রেখেছিলেন। স্নাইডার ওই অভিজ্ঞতাকে অত্যন্ত অপমানজনক হিসেবে চিহ্নিত করেছিলেন। ১৯৯৪ সালে লস অ্যাঞ্জেলেস টাইমসকে তিনি জানান, ক্যারিয়ারের শুরুতে এমন অভিজ্ঞতার পর তিনি মাদকাসক্তির সঙ্গে লড়াই করেছিলেন এবং বিষয়টি তাঁর পুরো অভিনয়জীবনের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছিল। ১৯৯৪ সালে লস অ্যাঞ্জেলেস টাইমসকে স্নাইডার বলেছিলেন, এমন একটি ছবি দিয়ে ক্যারিয়ার শুরু করাটা তাঁর জন্য কঠিন হয়ে গিয়েছিল। সিরিজটির জন্য তিনি গোল্ডেন গ্লোবও জিতেছিলেন।

‘দ্য অ্যাফেয়ার’ সিরিজ থেকে রুথ উইলসনের বিদায়ও ছিল রহস্যঘেরা। চতুর্থ মৌসুমের পর হঠাৎ তাঁর সরে আসা দর্শকদের অবাক করেছিল। পরে জানা যায়, সিরিজে নগ্নতা ও যৌনদৃশ্যের মাত্রা নিয়ে নির্মাতাদের সঙ্গে তাঁর বিরোধ তৈরি হয়েছিল। অভিযোগ ছিল, দর্শক টানার উদ্দেশ্যে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি ‘গ্রাফিক’ দৃশ্য করার জন্য তাঁকে চাপ দেওয়া হতো। উইলসন সেটে নিজের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত ছিলেন, যদিও চুক্তির গোপনীয়তার শর্তে তিনি বিস্তারিত কিছু বলতে পারেননি।

সামারা উইভিংয়ের ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও জটিল ছিল। ‘এসএমআইএলএফ’ সিরিজের সেটে একটি অন্তরঙ্গ দৃশ্যের জন্য তাঁকে মাত্র ৪০ মিনিটের নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। এছাড়া ‘ক্লোজড সেট’ থাকার কথা থাকলেও মনিটর খোলা থাকায় তিনি সিরিজটি ছেড়ে দেন। শোরনার ফ্র্যাঙ্কি শ বিষয়টি সামলানোর ক্ষেত্রে ভুল স্বীকার করলেও, এই ঘটনা হলিউডে ‘ইন্টিমেসি কো-অর্ডিনেটর’ নিয়োগের প্রয়োজনীয়তাকে সামনে নিয়ে আসে। দ্য হলিউড রিপোর্টারের প্রতিবেদন উদ্ধৃত করে একাধিক সংবাদমাধ্যম জানায়, একটি অন্তরঙ্গ দৃশ্যের জন্য তাঁকে মাত্র ৪০ মিনিটের নোটিশ দেওয়া হয়েছিল।

অন্যদিকে অ্যান হ্যাথাওয়ে ‘নকড আপ’ ছবির সন্তান জন্মদানের দৃশ্য নিয়ে অস্বস্তিতে থাকায় কাজ থেকে সরে দাঁড়িয়েছিলেন। দৃশ্যটির বাস্তবতা ও উপস্থাপনা নিয়ে আপত্তি ছিল তাঁর। পরে সেই চরিত্রটি করেন ক্যাথরিন হেইগল। ইভা গ্রিন আবার লার্স ফন ট্রিয়েরের ‘অ্যান্টিক্রাইস্ট’ করার সুযোগ হাতছাড়া করেন। তিনি চেয়েছিলেন কিছুটা সময় যৌনদৃশ্যের বাইরে অভিনয় করতে, কারণ এর আগে তাঁর কাজের চেয়ে যৌনদৃশ্য নিয়েই বেশি আলোচনা হতো। অ্যান হ্যাথাওয়ে অ্যান হ্যাথাওয়ের ঘটনাটি একটু ভিন্ন। ‘নকড আপ’ ছবির প্রধান নারী চরিত্রে প্রথমে তাঁকেই নেওয়া হয়েছিল। দৃশ্যটি কতটা বাস্তবধর্মীভাবে দেখানো হবে, তা নিয়ে অভিনেত্রী অস্বস্তিতে ছিলেন।

কিরা নাইটলি ২০২১ সালে স্পষ্ট করে জানান, পুরুষ পরিচালকের অধীনে তিনি আর অন্তরঙ্গ দৃশ্যে কাজ করতে আগ্রহী নন। কারণ ‘মেল গেজ’ বা পুরুষের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে নিজেকে পর্দায় উপস্থাপন করতে তিনি আর স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন না। এছাড়া নিজের নগ্ন দৃশ্য পর্নোগ্রাফিক সাইটে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায়ও তিনি সতর্ক থাকেন।

‘গেম অব থ্রোনস’-এর এমিলিয়া ক্লার্কের অভিজ্ঞতা ছিল বেশ যন্ত্রণাদায়ক। মাত্র ২৩ বছর বয়সে শুটিং শুরুর সময় তিনি অনেক ক্ষেত্রে বুঝতে পারতেন না কোনটি করা উচিত আর কোনটি নয়। এমনকি কিছু দৃশ্য করার আগে ভয়ে কাঁদতেন বলেও জানান তিনি। সিরিজ শেষ হওয়ার পরও তাঁকে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে নগ্ন দৃশ্যে কাজ করার চাপ দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি। এসব ঘটনা প্রমাণ করে, তারকাখ্যাতির আড়ালেও অনেক সময় অভিনয়শিল্পীদের তাদের শারীরিক ও মানসিক স্বাচ্ছন্দ্য রক্ষায় কঠিন লড়াই করতে হয়েছে।

Facebook Comments Box