ঢাকা ১১:৪১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সরকারি মূল্যে এলপিজি বিক্রি নিশ্চিতের নির্দেশ, অমান্যে কঠোর হুঁশিয়ারি সিলেটে হামের উপসর্গে ১৭ বছর বয়সী কিশোরের মৃত্যু সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করলেন ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের তারিখ এখনো চূড়ান্ত হয়নি: ইসি সচিব এক কাপ কফির নেপথ্যে: কৃষকের শ্রম থেকে ভোক্তার টেবিল দিনাজপুরের বিরামপুরে পানিতে ডুবে দুই শিশুর প্রাণহানি পদক্ষেপ মানবিক উন্নয়ন কেন্দ্রে ২০০ জনের নিয়োগ কাতারে স্বল্প আয়ের পরিবারের সহায়তায় রফিক ও কাতার চ্যারিটির শ্রীলঙ্কাকে উড়িয়ে এশিয়ান গেমস ক্রিকেটের ফাইনালে ভারত ভূরুঙ্গামারীতে পিপিআর রোগের বিনামূল্যে টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন

ভূরুঙ্গামারীতে ১১০ বছর বয়সেও তফিল উদ্দিনের ভাগ্যে জোটেনি বয়স্ক ভাতা

নিজস্ব প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৯:১৪:২১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২০ ৫০৫ বার পড়া হয়েছে
(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে ১১০ বছর বয়সেও বয়স্ক ভাতা জোটেনি তফিল উদ্দিনের ভাগ্যে।চেয়ারম্যান বলছে তার নাম তালিকা করে উপজেলা সমাজ সেবা অফিসে পাঠিয়েছি। কিন্তু উপজেলা সমাজ সেবা অফিসে খোজ নিয়ে জানাযায় তলিকায় তফিল উদ্দিন নামে কোন নাম নাই।

জাতীয় পরিচয় পত্র অনুযায়ী তার নাম তফিল উদ্দিন, পিতাঃ মৃত উমেদ আলী ,জাতীয় পরিচয় পত্র নং ৪৯১০৬৩৮৪৬৬৭৩৮। জন্ম তারিখঃ ২৯ নভেম্বর ১৯১১ইং। সে মতে বর্তমানে তার বয়স ১১০ বছর। কিন্তু এলাকাবাসী ও স্বজনদের দাবী পরিচয় পত্রে জন্ম সাল ভূল রয়েছে । তার প্রকৃত বয়স ১৩০ বছর। তার পরিচয় পত্রে জন্ম তারিখ অনুযায়ী তিনি একাধারে তৎকালীন বৃটিশ, পাকিস্তান ও বাংলাদেশের  নাগরিক।

তার বাড়িতে খোজ নিতে গেলে বৃদ্ধ তফিল উদ্দিনকে ‘কোরআন’ শরীফ পড়তে দেখা যায়। চোখের জ্যোতি কমে যাওয়ায় দিনের আলোতে পড়তে সমস্যা হচ্ছে। বৃদ্ধ তফিল উদ্দিনের কাছে কিছু জানতে চাইলে ভাঙ্গা ভাঙ্গা গলায় তিনি আলোর অভাবে পবিত্র কোরান শরীফ পড়ার সমস্যা হচ্ছে বলে জানান। আর কত বয়স হলে সরকারি সুবিধা পাবেন আমার বাবা। বয়স তো কম হয়নি। এখন একা চলা ফেরা করতে পারেন না। অথচ একটা বয়স্ক ভাতা কার্ড বা সরকারি কোনো সুবিধা আজও পাইনি আমরা। চেয়ারম্যান-মেম্বারদে­র কাছে গেলেও কোনো লাভ হয়নি। দেখবো, শুধু এটুকু বলেই দায়িত্ব শেষ করেছেন তারা । এভাবেই ক্ষোভের সঙ্গে কথাগুলো বলছিলেন উপজেলার সোনাহাট ইউনিয়নের কানিপাড়া গনাইরকুটি (চৌধুরী বাজার) গ্রামের তফিল উদ্দিনের ছেলে আবুল হাসেম। তিনি আরো বলেন আমরা পাঁচ ভাই ও পাঁচ বোন।আমাদের সকলের আলাদা সংসার। বাবা আমার সংসারেই আছেন। তিনি এখন বয়সের ভারে নূয়ে পড়েছেন। বার্ধক্য জনিত নানা রোগে আক্রান্ত। আমার তিনটি সন্তান। জায়গা জমি বলতে বাড়ী ভিটে ছাড়া আবাদি কোন জমি নাই। বাজারে একটি দোকান রয়েছে । এই দোকান করে সন্তানদের লেখা পড়ার খরচ চালিয়ে বাবার চিকিৎসার খরচ বহন করা আমার পক্ষে খুবই কষ্টকর হয়ে পড়েছে। সরকারি কোন সহযোগিতা পেলে হয়তো বাবার চিকিৎসা চালানো সহজ হতো।

সোনাহাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহজাহান বলেন, বিষয়টি আমার জানা ছিল না। নতুন তালিকায় তার নাম পাঠিয়েছি। আশা করি খুব দ্রুত তিনি ভাতা পাবেন।

জানতে চাইলে উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তা জামাল হোসেন বলেন, ভূরুঙ্গামারীতে এত প্রবীন একজন ব্যক্তি আছেন আমার সেটা জানা ছিল না। সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের সাথে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

১৩.০৭.২০২০

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

ভূরুঙ্গামারীতে ১১০ বছর বয়সেও তফিল উদ্দিনের ভাগ্যে জোটেনি বয়স্ক ভাতা

আপডেট সময় : ০৯:১৪:২১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২০

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে ১১০ বছর বয়সেও বয়স্ক ভাতা জোটেনি তফিল উদ্দিনের ভাগ্যে।চেয়ারম্যান বলছে তার নাম তালিকা করে উপজেলা সমাজ সেবা অফিসে পাঠিয়েছি। কিন্তু উপজেলা সমাজ সেবা অফিসে খোজ নিয়ে জানাযায় তলিকায় তফিল উদ্দিন নামে কোন নাম নাই।

জাতীয় পরিচয় পত্র অনুযায়ী তার নাম তফিল উদ্দিন, পিতাঃ মৃত উমেদ আলী ,জাতীয় পরিচয় পত্র নং ৪৯১০৬৩৮৪৬৬৭৩৮। জন্ম তারিখঃ ২৯ নভেম্বর ১৯১১ইং। সে মতে বর্তমানে তার বয়স ১১০ বছর। কিন্তু এলাকাবাসী ও স্বজনদের দাবী পরিচয় পত্রে জন্ম সাল ভূল রয়েছে । তার প্রকৃত বয়স ১৩০ বছর। তার পরিচয় পত্রে জন্ম তারিখ অনুযায়ী তিনি একাধারে তৎকালীন বৃটিশ, পাকিস্তান ও বাংলাদেশের  নাগরিক।

তার বাড়িতে খোজ নিতে গেলে বৃদ্ধ তফিল উদ্দিনকে ‘কোরআন’ শরীফ পড়তে দেখা যায়। চোখের জ্যোতি কমে যাওয়ায় দিনের আলোতে পড়তে সমস্যা হচ্ছে। বৃদ্ধ তফিল উদ্দিনের কাছে কিছু জানতে চাইলে ভাঙ্গা ভাঙ্গা গলায় তিনি আলোর অভাবে পবিত্র কোরান শরীফ পড়ার সমস্যা হচ্ছে বলে জানান। আর কত বয়স হলে সরকারি সুবিধা পাবেন আমার বাবা। বয়স তো কম হয়নি। এখন একা চলা ফেরা করতে পারেন না। অথচ একটা বয়স্ক ভাতা কার্ড বা সরকারি কোনো সুবিধা আজও পাইনি আমরা। চেয়ারম্যান-মেম্বারদে­র কাছে গেলেও কোনো লাভ হয়নি। দেখবো, শুধু এটুকু বলেই দায়িত্ব শেষ করেছেন তারা । এভাবেই ক্ষোভের সঙ্গে কথাগুলো বলছিলেন উপজেলার সোনাহাট ইউনিয়নের কানিপাড়া গনাইরকুটি (চৌধুরী বাজার) গ্রামের তফিল উদ্দিনের ছেলে আবুল হাসেম। তিনি আরো বলেন আমরা পাঁচ ভাই ও পাঁচ বোন।আমাদের সকলের আলাদা সংসার। বাবা আমার সংসারেই আছেন। তিনি এখন বয়সের ভারে নূয়ে পড়েছেন। বার্ধক্য জনিত নানা রোগে আক্রান্ত। আমার তিনটি সন্তান। জায়গা জমি বলতে বাড়ী ভিটে ছাড়া আবাদি কোন জমি নাই। বাজারে একটি দোকান রয়েছে । এই দোকান করে সন্তানদের লেখা পড়ার খরচ চালিয়ে বাবার চিকিৎসার খরচ বহন করা আমার পক্ষে খুবই কষ্টকর হয়ে পড়েছে। সরকারি কোন সহযোগিতা পেলে হয়তো বাবার চিকিৎসা চালানো সহজ হতো।

সোনাহাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহজাহান বলেন, বিষয়টি আমার জানা ছিল না। নতুন তালিকায় তার নাম পাঠিয়েছি। আশা করি খুব দ্রুত তিনি ভাতা পাবেন।

জানতে চাইলে উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তা জামাল হোসেন বলেন, ভূরুঙ্গামারীতে এত প্রবীন একজন ব্যক্তি আছেন আমার সেটা জানা ছিল না। সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের সাথে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

১৩.০৭.২০২০

Facebook Comments Box