ঢাকা ০৩:৫৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শ্যামনগরে পারিবারিক বিবাদ ও অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যু, আটক এক কমিউনিটি ব্যাংকে কর্মী নিয়োগ, থাকছে ২৬ হাজার টাকা বেতন কাতারের সানাইয়া লজিস্টিক ভিলেজে মাইন উদ্দিন সোহেলের নতুন ওয়্যারহাউস জামালপুর নার্সিং কলেজে ৩ দিন ধরে শাটডাউন আইএমএফের ঋণ পেতে নির্ধারিত শর্ত মানতে হবে: অর্থমন্ত্রী তিন মাসে সরকারের ব্যাংক ঋণ ২৪ হাজার ২৪৫ কোটি ডেঙ্গু প্রতিরোধে সাপ্তাহিক পরিচ্ছন্নতা অভিযানের ডাক প্রধানমন্ত্রীর পেশোয়ারে স্কুলের ছাদ ধসে ১৬ শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে মানহানির মামলা ইসরাইলের সাবেক গোয়েন্দাপ্রধানের ক্যানসারের ওষুধ পাচারের চেষ্টা: চীনা নাগরিকসহ গ্রেপ্তার ৪

জামালপুর নার্সিং কলেজে ৩ দিন ধরে শাটডাউন

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০২:০৭:৪৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬ ৬ বার পড়া হয়েছে
(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

নতুন নার্সিং ইন্সট্রাক্টর ইনচার্জের যোগদান আটকানোর দাবিতে জামালপুর নার্সিং ও মিডওয়াইফারি কলেজে টানা তৃতীয় দিনের মতো অনির্দিষ্টকালের ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি পালন করছেন শিক্ষার্থীরা। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সকাল থেকে প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক ও একাডেমিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে তারা অবস্থান নেন। এর ফলে বন্ধ রয়েছে সব ধরনের ক্লাস ও স্থানীয় হাসপাতালের ক্লিনিক্যাল প্র্যাকটিস। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নবাগত ইন্সট্রাক্টর ইনচার্জ মাকসুদা ইয়াসমিন কর্মস্থলে এসে পদায়ন নেওয়ার চেষ্টা করলেও শিক্ষার্থীদের বাধার মুখে তিনি ফিরে যেতে বাধ্য হন।

ঘটনার সূত্রপাত গত সোমবার, যখন নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের এক আদেশে জামালপুর নার্সিং ও মিডওয়াইফারি কলেজের তৎকালীন ইন্সট্রাক্টর ইনচার্জ শাহজাদী মাহমুদাকে শেরপুর নার্সিং ইনস্টিটিউটে বদলি করা হয়। একই নির্দেশনায় শেরপুরে কর্মরত মাকসুদা ইয়াসমিনকে জামালপুরের দায়িত্ব দেওয়া হয়। এই বদলির খবর ছড়িয়ে পড়ার পরপরই মাকসুদার পদায়ন বাতিলের দাবিতে আন্দোলনে নামেন সেখানকার শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, শেরপুরে দায়িত্ব পালনকালে মাকসুদা ইয়াসমিন ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির সাথে জড়িত ছিলেন এবং তাঁর আচরণ শিক্ষার্থীদের অনুকূলে ছিল না। আন্দোলনরত শিক্ষার্থী ফারহানা বলেন, “শেরপুরে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ থাকায় আমরা মাকসুদা ইয়াসমিনকে আমাদের কলেজে দেখতে চাই না। আমাদের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।” আরেক শিক্ষার্থী লাভলু জানান, টানা তিন দিন ধরে এই আন্দোলন চলছে। আজ তিনি যোগদানে এলে শিক্ষার্থীরা তাকে ক্যাম্পাসে ঢুকতে দেননি। বদলি প্রত্যাহার করে অন্য কাউকে নিয়োগ দিলে তাদের কোনো আপত্তি থাকবে না বলে জানান তিনি।

শিক্ষার্থীদের টানা আন্দোলনে কলেজের শিক্ষ কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। ইন্সট্রাক্টর সামিনা আক্তার জানান, তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভ করায় সাধারণ শিক্ষকেরাও ভেতরে প্রবেশ করতে পারছেন না, যার ফলে সব কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। অন্যদিকে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করে মাকসুদা ইয়াসমিন বলেন, “আমার যোগদানে বাধা দিতে ষড়যন্ত্র করা হয়েছে। যোগদান করতে এসে আন্দোলনের কারণে তা সম্ভব হয়নি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাব।”

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

জামালপুর নার্সিং কলেজে ৩ দিন ধরে শাটডাউন

আপডেট সময় : ০২:০৭:৪৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬

নতুন নার্সিং ইন্সট্রাক্টর ইনচার্জের যোগদান আটকানোর দাবিতে জামালপুর নার্সিং ও মিডওয়াইফারি কলেজে টানা তৃতীয় দিনের মতো অনির্দিষ্টকালের ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি পালন করছেন শিক্ষার্থীরা। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সকাল থেকে প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক ও একাডেমিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে তারা অবস্থান নেন। এর ফলে বন্ধ রয়েছে সব ধরনের ক্লাস ও স্থানীয় হাসপাতালের ক্লিনিক্যাল প্র্যাকটিস। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নবাগত ইন্সট্রাক্টর ইনচার্জ মাকসুদা ইয়াসমিন কর্মস্থলে এসে পদায়ন নেওয়ার চেষ্টা করলেও শিক্ষার্থীদের বাধার মুখে তিনি ফিরে যেতে বাধ্য হন।

ঘটনার সূত্রপাত গত সোমবার, যখন নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের এক আদেশে জামালপুর নার্সিং ও মিডওয়াইফারি কলেজের তৎকালীন ইন্সট্রাক্টর ইনচার্জ শাহজাদী মাহমুদাকে শেরপুর নার্সিং ইনস্টিটিউটে বদলি করা হয়। একই নির্দেশনায় শেরপুরে কর্মরত মাকসুদা ইয়াসমিনকে জামালপুরের দায়িত্ব দেওয়া হয়। এই বদলির খবর ছড়িয়ে পড়ার পরপরই মাকসুদার পদায়ন বাতিলের দাবিতে আন্দোলনে নামেন সেখানকার শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, শেরপুরে দায়িত্ব পালনকালে মাকসুদা ইয়াসমিন ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির সাথে জড়িত ছিলেন এবং তাঁর আচরণ শিক্ষার্থীদের অনুকূলে ছিল না। আন্দোলনরত শিক্ষার্থী ফারহানা বলেন, “শেরপুরে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ থাকায় আমরা মাকসুদা ইয়াসমিনকে আমাদের কলেজে দেখতে চাই না। আমাদের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।” আরেক শিক্ষার্থী লাভলু জানান, টানা তিন দিন ধরে এই আন্দোলন চলছে। আজ তিনি যোগদানে এলে শিক্ষার্থীরা তাকে ক্যাম্পাসে ঢুকতে দেননি। বদলি প্রত্যাহার করে অন্য কাউকে নিয়োগ দিলে তাদের কোনো আপত্তি থাকবে না বলে জানান তিনি।

শিক্ষার্থীদের টানা আন্দোলনে কলেজের শিক্ষ কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। ইন্সট্রাক্টর সামিনা আক্তার জানান, তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভ করায় সাধারণ শিক্ষকেরাও ভেতরে প্রবেশ করতে পারছেন না, যার ফলে সব কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। অন্যদিকে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করে মাকসুদা ইয়াসমিন বলেন, “আমার যোগদানে বাধা দিতে ষড়যন্ত্র করা হয়েছে। যোগদান করতে এসে আন্দোলনের কারণে তা সম্ভব হয়নি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাব।”

Facebook Comments Box