ঢাকা ০১:০৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মধ্যপ্রাচ্যে আরও রণতরী ও সেনা পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র প্রজন্ম ধরে ভাগ্য নির্ধারণ করছে: প্রধানমন্ত্রী, বঙ্গোপসাগর প্রজন্মের পর সাতক্ষীরায় মারামারি থামাতে গিয়ে ছুরিকাঘাতে রুচিরা বেকারির মালিকের ছেলের বাংলামোটরে আগ্নেয়াস্ত্রের আঘাতে ওষুধ ব্যবসায়ী আহত রূপপুরের পথে ইউরেনিয়ামের চালান, জোরদার নিরাপত্তা ব্যবস্থা কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে আটক ৩৬৩ জন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের উদ্দেশ্যে ঢাকা ছাড়ল ইউরেনিয়ামের প্রথম ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপের বাছাইপর্ব হবে দক্ষিণ আফ্রিকা ও নামিবিয়ায় আজকের খেলার সূচি: টিভিতে চোখ রাখুন ৩ অক্টোবর আওয়ামী লীগের সঙ্গে সমঝোতার গুঞ্জন নাকচ করল জামায়াত

প্রজন্ম ধরে ভাগ্য নির্ধারণ করছে: প্রধানমন্ত্রী, বঙ্গোপসাগর প্রজন্মের পর

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১১:৪৫:২৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে

রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে তিন দিনব্যাপী ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন (বিওবিসি) ২০২৬’ এর উদ্বোধনী অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই মন্তব্য করেন।

(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে শনিবার (৩ অক্টোবর) শুরু হওয়া তিন দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সম্মেলন ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন (বিওবিসি) ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অধিবেশনে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সম্মেলনে শতাধিক দেশের প্রায় ২০০ বক্তা, ৩০০-এর বেশি প্রতিনিধি এবং এক হাজারের বেশি অংশগ্রহণকারী যোগ দিয়েছেন। এতে সার্বিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট বরিস তাদিচ এবং মালির সাবেক প্রধানমন্ত্রী মুসা মারাসহ বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক, নীতিনির্ধারক, গবেষক ও বিশেষজ্ঞরা অংশ নিচ্ছেন। শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে তারেক রহমান বলেন, “শিক্ষা ব্যবস্থা শিক্ষার্থীদের শুধু সনদের জন্য নয়, বরং বাস্তব জীবনের জন্য তৈরি করবে।

বঙ্গোপসাগরের গুরুত্ব ও আঞ্চলিক সম্ভাবনা

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, বঙ্গোপসাগর প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে আমাদের ভাগ্য নির্ধারণ করে চলেছে। তিনি বলেন, “ভৌগোলিক ও কৌশলগত অবস্থানের কারণে বাংলাদেশের সমুদ্রবন্দর, নৌপথ ও উপকূলীয় অর্থনীতি পুরো বিশ্বের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে। জাহাজ চলাচল, মৎস্যসম্পদ, পর্যটন, জ্বালানি এবং আঞ্চলিক সরবরাহ চেইনে অপার সম্ভাবনা রয়েছে।” তিনি আঞ্চলিকভাবে অভিন্ন ভৌগোলিক অবস্থানকে সমৃদ্ধিতে রূপান্তর করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, এজন্য আরো গভীর দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক সম্পৃক্ততা প্রয়োজন। ভৌগোলিক অবস্থান আমাদের একত্রিত করেছে; আর আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, জনগণের সাথে জনগণের নিবিড় সম্পর্ক আমাদের আরও বহুদূর এগিয়ে নিয়ে যাবে। তরুণ জনগোষ্ঠীকে জাতীয় অগ্রগতির চালিকাশক্তি উল্লেখ করে তিনি বলেন, “এই সুবিধা কাজে লাগাতে দক্ষতা ও উপযুক্ত কর্মসংস্থান প্রয়োজন।

বাণিজ্য, প্রযুক্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার

বাণিজ্য, জ্বালানি, শিক্ষা, প্রযুক্তি, জলবায়ু ও সমুদ্র খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এর মাধ্যমে নতুন বাজার উন্মুক্ত করা এবং তরুণদের জন্য সুযোগ সৃষ্টি করা সম্ভব। তিনি সমতা, ন্যায্যতা ও ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে শক্তিশালী সহযোগিতার সম্পর্ক গড়ে তোলার আহ্বান জানান। প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, উন্নয়নের জন্য শক্তিশালী রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান অপরিহার্য। পাশাপাশি তিনি দেশের অর্থনীতি, বিনিয়োগ, সামাজিক সুরক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও পানি নিরাপত্তা নিয়ে সরকারের পাঁচ বছর মেয়াদী কর্মপরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। কারণ শান্তি ও সম্প্রীতিই হলো যৌথ সমৃদ্ধি ও উন্নয়নের মূল ভিত্তি। ”। জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষা, নীতিমালার ধারাবাহিকতা বজায় রাখা, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা এবং প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। ”। সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার প্রসার ঘটানো হবে। ” প্রথম শ্রেণি থেকেই বিনামূল্যে ইউনিফর্ম, স্কুলব্যাগ, মিড-ডে মিল ও বৃত্তি দেওয়ার কথা জানান তিনি।

পানি নিরাপত্তা ও টেকসই উন্নয়ন

পানি নিরাপত্তার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী জানান, আগামী পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল ও জলপথ খননের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। পানি সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হচ্ছে। পরিবেশ রক্ষায় তিনি আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের লক্ষ্যের কথা জানান এবং সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার সম্প্রসারণের ওপর জোর দেন। তারা তৃণমূল পর্যায়ে প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা, স্বাস্থ্যবিষয়ক পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় রেফারেল সেবা প্রদান করবেন। ”। সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার সম্প্রসারণ এবং বর্জ্য পুনর্ব্যবহার ও পরিবেশবান্ধব গ্রিন ফ্যাক্টরি স্থাপনের কথাও তুলে ধরেন তিনি।

রোহিঙ্গা সংকট ও পররাষ্ট্রনীতি

রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ এখনো প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়ে যাচ্ছে। মিয়ানমারে তাদের দ্রুত, স্বেচ্ছায়, নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য। এ লক্ষ্যে তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অব্যাহত রাজনৈতিক সমর্থন ও অর্থায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ সংলাপ ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধে বিশ্বাসী। জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার পাশাপাশি সব আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক অংশীদারের সঙ্গে বাংলাদেশ ইতিবাচকভাবে কাজ করে যাবে।

তরুণ প্রজন্ম ও সামাজিক সেবা

  • স্বাস্থ্যসেবা প্রতিটি ঘরে পৌঁছে দিতে এক লাখ স্বাস্থ্যসেবা কর্মী নিয়োগ করা হচ্ছে, যার ৮০ শতাংশই নারী।
  • শিক্ষাব্যবস্থাকে বাস্তবমুখী করতে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার প্রসার এবং স্নাতক পর্যায় পর্যন্ত মেয়েদের জন্য বিনামূল্যে শিক্ষার পরিধি বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
  • তরুণদের জন্য ‘ব্রেইন ড্রেনকে ব্রেইন সার্কুলেশন’-এ রূপান্তরের লক্ষ্য নিয়ে প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উন্নয়নে কাজ করছে সরকার।
  • নাগরিকদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, হেলথ কার্ড ও ইউনিভার্সেল কার্ড চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।
  • কৃষিকে অর্থনীতির ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করে কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ ও রপ্তানি শিল্পকে বিশেষ সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

পরিশেষে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, বিপুল জনম্যান্ডেট নিয়ে দায়িত্ব নেওয়া বর্তমান সরকার জনগণের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে বদ্ধপরিকর। তিনি দেশকে একটি শক্তিশালী উৎপাদন ও বিনিয়োগের কেন্দ্রে পরিণত করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

প্রজন্ম ধরে ভাগ্য নির্ধারণ করছে: প্রধানমন্ত্রী, বঙ্গোপসাগর প্রজন্মের পর

আপডেট সময় : ১১:৪৫:২৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬

রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে শনিবার (৩ অক্টোবর) শুরু হওয়া তিন দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সম্মেলন ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন (বিওবিসি) ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অধিবেশনে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সম্মেলনে শতাধিক দেশের প্রায় ২০০ বক্তা, ৩০০-এর বেশি প্রতিনিধি এবং এক হাজারের বেশি অংশগ্রহণকারী যোগ দিয়েছেন। এতে সার্বিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট বরিস তাদিচ এবং মালির সাবেক প্রধানমন্ত্রী মুসা মারাসহ বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক, নীতিনির্ধারক, গবেষক ও বিশেষজ্ঞরা অংশ নিচ্ছেন। শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে তারেক রহমান বলেন, “শিক্ষা ব্যবস্থা শিক্ষার্থীদের শুধু সনদের জন্য নয়, বরং বাস্তব জীবনের জন্য তৈরি করবে।

বঙ্গোপসাগরের গুরুত্ব ও আঞ্চলিক সম্ভাবনা

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, বঙ্গোপসাগর প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে আমাদের ভাগ্য নির্ধারণ করে চলেছে। তিনি বলেন, “ভৌগোলিক ও কৌশলগত অবস্থানের কারণে বাংলাদেশের সমুদ্রবন্দর, নৌপথ ও উপকূলীয় অর্থনীতি পুরো বিশ্বের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে। জাহাজ চলাচল, মৎস্যসম্পদ, পর্যটন, জ্বালানি এবং আঞ্চলিক সরবরাহ চেইনে অপার সম্ভাবনা রয়েছে।” তিনি আঞ্চলিকভাবে অভিন্ন ভৌগোলিক অবস্থানকে সমৃদ্ধিতে রূপান্তর করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, এজন্য আরো গভীর দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক সম্পৃক্ততা প্রয়োজন। ভৌগোলিক অবস্থান আমাদের একত্রিত করেছে; আর আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, জনগণের সাথে জনগণের নিবিড় সম্পর্ক আমাদের আরও বহুদূর এগিয়ে নিয়ে যাবে। তরুণ জনগোষ্ঠীকে জাতীয় অগ্রগতির চালিকাশক্তি উল্লেখ করে তিনি বলেন, “এই সুবিধা কাজে লাগাতে দক্ষতা ও উপযুক্ত কর্মসংস্থান প্রয়োজন।

বাণিজ্য, প্রযুক্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার

বাণিজ্য, জ্বালানি, শিক্ষা, প্রযুক্তি, জলবায়ু ও সমুদ্র খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এর মাধ্যমে নতুন বাজার উন্মুক্ত করা এবং তরুণদের জন্য সুযোগ সৃষ্টি করা সম্ভব। তিনি সমতা, ন্যায্যতা ও ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে শক্তিশালী সহযোগিতার সম্পর্ক গড়ে তোলার আহ্বান জানান। প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, উন্নয়নের জন্য শক্তিশালী রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান অপরিহার্য। পাশাপাশি তিনি দেশের অর্থনীতি, বিনিয়োগ, সামাজিক সুরক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও পানি নিরাপত্তা নিয়ে সরকারের পাঁচ বছর মেয়াদী কর্মপরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। কারণ শান্তি ও সম্প্রীতিই হলো যৌথ সমৃদ্ধি ও উন্নয়নের মূল ভিত্তি। ”। জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষা, নীতিমালার ধারাবাহিকতা বজায় রাখা, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা এবং প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। ”। সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার প্রসার ঘটানো হবে। ” প্রথম শ্রেণি থেকেই বিনামূল্যে ইউনিফর্ম, স্কুলব্যাগ, মিড-ডে মিল ও বৃত্তি দেওয়ার কথা জানান তিনি।

পানি নিরাপত্তা ও টেকসই উন্নয়ন

পানি নিরাপত্তার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী জানান, আগামী পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল ও জলপথ খননের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। পানি সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হচ্ছে। পরিবেশ রক্ষায় তিনি আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের লক্ষ্যের কথা জানান এবং সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার সম্প্রসারণের ওপর জোর দেন। তারা তৃণমূল পর্যায়ে প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা, স্বাস্থ্যবিষয়ক পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় রেফারেল সেবা প্রদান করবেন। ”। সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার সম্প্রসারণ এবং বর্জ্য পুনর্ব্যবহার ও পরিবেশবান্ধব গ্রিন ফ্যাক্টরি স্থাপনের কথাও তুলে ধরেন তিনি।

রোহিঙ্গা সংকট ও পররাষ্ট্রনীতি

রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ এখনো প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়ে যাচ্ছে। মিয়ানমারে তাদের দ্রুত, স্বেচ্ছায়, নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য। এ লক্ষ্যে তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অব্যাহত রাজনৈতিক সমর্থন ও অর্থায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ সংলাপ ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধে বিশ্বাসী। জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার পাশাপাশি সব আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক অংশীদারের সঙ্গে বাংলাদেশ ইতিবাচকভাবে কাজ করে যাবে।

তরুণ প্রজন্ম ও সামাজিক সেবা

  • স্বাস্থ্যসেবা প্রতিটি ঘরে পৌঁছে দিতে এক লাখ স্বাস্থ্যসেবা কর্মী নিয়োগ করা হচ্ছে, যার ৮০ শতাংশই নারী।
  • শিক্ষাব্যবস্থাকে বাস্তবমুখী করতে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার প্রসার এবং স্নাতক পর্যায় পর্যন্ত মেয়েদের জন্য বিনামূল্যে শিক্ষার পরিধি বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
  • তরুণদের জন্য ‘ব্রেইন ড্রেনকে ব্রেইন সার্কুলেশন’-এ রূপান্তরের লক্ষ্য নিয়ে প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উন্নয়নে কাজ করছে সরকার।
  • নাগরিকদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, হেলথ কার্ড ও ইউনিভার্সেল কার্ড চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।
  • কৃষিকে অর্থনীতির ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করে কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ ও রপ্তানি শিল্পকে বিশেষ সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

পরিশেষে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, বিপুল জনম্যান্ডেট নিয়ে দায়িত্ব নেওয়া বর্তমান সরকার জনগণের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে বদ্ধপরিকর। তিনি দেশকে একটি শক্তিশালী উৎপাদন ও বিনিয়োগের কেন্দ্রে পরিণত করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

Facebook Comments Box