যুগোপযোগী হচ্ছে বিআইডব্লিউটিসির নৌযান চার্টার নীতিমালা, লক্ষ্য রাজস্ব বৃদ্ধি
- আপডেট সময় : ১২:১৫:৫৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে
দেশের নৌপরিবহন খাতের আধুনিকায়ন এবং পরিবর্তিত বাজার পরিস্থিতির আলোকে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্পোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) নৌযান চার্টার সংক্রান্ত বিদ্যমান নীতিমালা নতুন করে সাজানোর উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো নৌযান ভাড়ার পুরো প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করা, যার মাধ্যমে সরকারি সম্পদের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিতের পাশাপাশি সংস্থার নিজস্ব আয় উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বৃদ্ধি পাবে।
উক্ত সংস্কার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে সম্প্রতি ‘বিআইডব্লিউটিসি নৌযান চার্টার নীতিমালা ২০২৬’-এর খসড়া পর্যালোচনা করতে একটি বিশেষ সভার আয়োজন করা হয়। নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এই সভায় খসড়া নীতিমালার প্রতিটি ধারা ও নিয়মনীতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা ও মতামত বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
রাষ্ট্রীয় সম্পদের সুরক্ষা ও বাণিজ্যিক স্বার্থের সমন্বয়
পর্যালোচনা সভায় বিআইডব্লিউটিসির চেয়ারম্যান এ টি এম আব্দুল বারী ডেনি দেশের এই গুরুত্বপূর্ণ নৌযানগুলোকে রাষ্ট্রীয় সম্পদ হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, এই নৌযানগুলো ভাড়ায় দেওয়ার ক্ষেত্রে শুধু মুনাফা অর্জনের দিকে তাকালে চলবে না; বরং জাতীয় স্বার্থ রক্ষা এবং সংস্থার দীর্ঘমেয়াদী আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। চার্টারের এমন একটি ভারসাম্যপূর্ণ পদ্ধতি তৈরি করতে হবে যা সংস্থার আয় বাড়ানোর পাশাপাশি চার্টার গ্রহণকারীদের জন্য সহজ সেবা নিশ্চিত করবে।
সভায় উপস্থিত বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা অভিমত প্রকাশ করেন যে, নৌপরিবহন খাতের বর্তমান প্রেক্ষাপট ও চাহিদা আগের চেয়ে অনেক বদলে গেছে। এই পরিবর্তিত পরিস্থিতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হলে চার্টার ব্যবস্থাপনার বিদ্যমান কাঠামোকে আধুনিক রূপ দেওয়া জরুরি। রাষ্ট্রীয় সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিতের জন্য একটি নিয়মতান্ত্রিক ও সময়োপযোগী গাইডলাইন প্রণয়ন এখন সময়ের দাবি।
সভায় অংশগ্রহণকারী ও নীতিমালার মূল দিকসমূহ
নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এই পর্যালোচনা সভায় গুরুত্বপূর্ণ নীতি নির্ধারণী আলোচনা সম্পন্ন হয়। সভায় উপস্থিত ছিলেন
- নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. জাকারিয়া
- বিআইডব্লিউটিসির চেয়ারম্যান এ টি এম আব্দুল বারী ডেনি
- সংস্থার পরিচালক (বাণিজ্য) এস এম আশিকুজ্জামান
- বিআইডব্লিউটিসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং খসড়া প্রণয়ন কমিটির সদস্যগণ
সভায় নীতিমালার যে সকল প্রধান বিষয়ের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে, তার একটি তালিকা নিচে দেওয়া হলো
- নৌযানগুলোর অব্যবহৃত সক্ষমতাকে সম্পূর্ণ কাজে লাগিয়ে সংস্থার সার্বিক রাজস্ব বৃদ্ধি করা।
- গ্রাহকদের সেবার মান উন্নত করা এবং চার্টার নেওয়ার প্রক্রিয়াকে আমলাতান্ত্রিক জটিলতামুক্ত ও সহজ করা।
- জাতীয় স্বার্থ বজায় রেখে সরকারি নৌযানগুলোর নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
- সম্পূর্ণ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করে অংশীজনদের আস্থা অর্জন করা।
দ্রুত চূড়ান্তকরণের তাগিদ
নীতিমালাটি দ্রুত সময়ের মধ্যে বাস্তবায়ন করতে খসড়া পর্যালোচনা শেষে প্রয়োজনীয় সংশোধনী যুক্ত করার পরামর্শ দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে ‘বিআইডব্লিউটিসি নৌযান চার্টার নীতিমালা ২০২৬’ চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য দ্রুত পদক্ষেপ নিতে জোর তাগিদ দেওয়া হয়েছে। কর্মকর্তারা মনে করছেন, এই নীতিমালাটি কার্যকর হলে রাষ্ট্রীয় সম্পদ ব্যবহারের ক্ষেত্রে যেমন শৃঙ্খলা ফিরবে, ঠিক তেমনই বিআইডব্লিউটিসির বাণিজ্যিক কার্যক্রমেও নতুন গতিশীলতা তৈরি হবে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সভায় কর্মকর্তারা বলেন, নৌযানের অব্যবহৃত সক্ষমতা যথাযথভাবে কাজে লাগানো গেলে তা বিআইডব্লিউটিসির আয় বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখতে পারে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এ বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বিদ্যমান নীতিমালা পর্যালোচনা করে নতুন কাঠামো প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: নতুন নীতিমালায় এসব বিষয়কে সমন্বিতভাবে অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এতে একদিকে চার্টার গ্রহীতাদের জন্য প্রক্রিয়াটি সহজ হবে, অন্যদিকে বিআইডব্লিউটিসির বাণিজ্যিক কার্যক্রমও আরও গতিশীল হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।
সূত্র: দৈনিক এদিন
Social Media
Communication
Bookmarking
Developer
Entertainment
Academic
Finance
Lifestyle
নিউজটি শেয়ার করুন
-
সর্বশেষ সংবাদ
-
জনপ্রিয় সংবাদ
























